মনিকা
(১)
নিমীলিত তার আয়ত নয়ন দুটি,
ওষ্ঠ অধরে সমর্পনের ভাষা ;
ভ্রমরের ভরে ভ্রষ্ট কমল যেমন
দেহ মন লুটে পড়েছিল কাল বেলাতে।
এমনি ভাবেই সুতনু অতনু প্রেমময়
পেয়েছিলো তার মনিকে,
সাঁঝের তারার আলোতে
সেদিন নিভৃতে কবিকুঞ্জের বিতানে।
'আমি তোমারই সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ',
সুর জেগেছিল বিশ্ব ভুবন জুড়ে।
চরাচর ঢাকা মায়াভরা বনছায়ে,
কেতকী সুবাস এনেছিল বায়ু ত্বরিতে,
প্রেমের কুসুম হৃদয় বৃন্ত হতে,
বিনষ্ট-দল ভ্রষ্ট-কোরক যেমন
কীটদষ্ট নষ্টসুরভী মণিকা
ঝরে পড়েছিল প্রণয়ের পদ প্রান্তে।
দুই
কত গান হল গাওয়া দিবসে এবং নিশীথে
নাওয়া হল কত জ্যোৎস্নার চন্দনে,
বৃষ্টিতে-ভেজা কুসুম কানন পথে
হাঁটা হল কত ঝর ঝর বরষাতে,
কত না গল্প শেষ হল ঘন আঁধারে,
বাঁধা হল ঘর ভরসার চোরা বালিতে।
গোধূলির ধূলি নগ্ন চরণে মেখে
প্রেমের ফসল বয়ে অন্তরে মনি
ফিরে এলো কেন একা
চোখ খোলা মুখ ঢাকা
বিমূঢ় পিতার পুরাতন রূঢ় আলয়ে।
অবশেষে ঠাঁই নিরুপায় মা'র আঁচলে।
তিন
সুতনু প্রবাসে
কেটেছে সময় কী ভাবে কেইবা জানে ?
বিবশ মনের বাঁচার তাগিদ শুধুই স্নেহ।
মাতৃত্বের দায়ে জীবনের ক্লান্তি বয়েই চলা।
বছর দশেক পর
আবার দুজনে মুখো-মুখী
অতনু মনিকা --
টেবিলের এপারে ওপারে,
মাঝখানে নত-মুখ বৃদ্ধ অ্যাডভোকেট ---
কোর্টের কাগজে সহি -- হবে ছাড়া ছাড়ি।
দাদুর নিভেছে চিতা এই তো সেদিন,
তারই এক আধ-পোড়া কাঠ
দিদিমার হাত ধরে আছে
অষ্টম বর্ষীয় ব্রাত্য একান্ত অবুঝ।
বোধদয় পড়েনি এখনো।
জান কী কেমন হবে তার পূর্ণ নাম ?
মনিকার ব্রাত্য নাকি ব্রাত্য সত্যকাম ?
(পুনঃপ্রকাশিত)।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৪-১২-২০২৩
কলকাতা।
___________________________________________
Khub bhalo
উত্তরমুছুনজবাব নাই
উত্তরমুছুন