শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১

আমার আজকের প্রভাত

২৭/৮/'২১
খবর – 
১।কাবুলে জোড়া বিস্ফোরণ ।
মৃত শতাধিক, আহত বহু ।
নারী, শিশু দের সংখ্যাই বেশি ।
ছিন্নভিন্ন দেহগুলি ছড়িয়ে পড়েছে।

২। whatApp -য়ে লাল পাহাড়ী ফুলের ছবি পাঠিয়ে বন্ধু জানিয়েছে ,  'সুপ্রভাত' ।
৩। কাঁচের গেলাসে লাল
টলটলে চা ।
৪।টেবিলটায় 'সেঁজুতি' (রবীন্দ্রনাথ)।

বার্ধক্য- ভারে অবসন্ন‌ কবিমনে ভেসে উঠল একটিই বাক্যবন্ধ–
       
       রক্তস্নাত প্রভাত
     ...........................

আজ থেকে ঠিক আশি বছর আগে, অশীতিপর প্রবৃদ্ধ তাপস,
দেখেছিল 'সভ্যতার সঙ্কটের' ছবি–
মহা-নরমেধ, তার সঙ্কল্পের শুরু।
সিদ্ধি- শুদ্ধ ঋষিকল্প সে চেতনা
দিব্য চক্ষে দেখেছিল মানুষের
বিশ্বনীড়ে বর্বরের নিষ্ঠুর তান্ডব।
রক্তাক্ষরে লিখেছিল বেদনার
বাণী ,
           "লুব্ধ যারা , ক্ষুব্ধ যারা,
মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টি-হারা,শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনাকু্ণ্ড তব ঘেরি
বীভৎস চিৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি–
নির্লজ্জ হিংসায়  করে হানাহানি ।।"
 
হে ক্রূর সভ্যতা, শতাব্দী- শতাব্দীব্যাপী এই বর্বরতা !কবে হবে শেষ ? শ্যামল আঁচল ধরণীর,
হিমশীতল কোল,স্নেহ-ঝরা বুক নর-নারী-শিশুরক্তে,আর কতদিন
 কুৎসিৎ মলিন! নরকের কল্পদৃশ্য,
আরও কতকাল, আঁকা হবে মর্ত্য-আঙিনায় ?
সভ্যতার শর্ত রেখে যারা ,
জয় করে , ক্ষয় করে,অগ্নিঝরা অস্ত্র দিয়ে দগ্ধ করে প্রাণধাত্রী
এই বসুন্ধরা, কোন দায় নেবেনা কী
তারা, অর্থহীন শোণিত স্রোতের ?
হে বিশ্ববিবেক,
এবার তো জাগো , 
ফিরে এসো চেতনা প্রত্যুষে ।
ফুলের লালিমা হবে প্রেম- রঙে রাঙা ,লাল পানীয় হবে অনুরাগে ভরা, বাতাসে আসবে ভেসে হাফিজি গজল ,‌ অনুতাপ-অশ্রুজল –ঝরঝর ধারা
ধুয়ে দিবে রক্তরেখা,শুদ্ধ হবে ধরা ;
তা যদি না হয়,তবে এ রিক্ত সভ্যতা–
তার চেয়ে ঢের ভালো নগ্ন বর্বরতা।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭/৮/'২১
কলকাতা ।

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

গণেশের বায়না, উমার আশ্বাস


গণেশের বায়না, উমার আশ্বাস
......…............…......................
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

বাছা আমার, ওরে আমার ব্যাটা ,
নাইকো দেরি, কিন্তু সোনা 
          কতো যে সে ল্যাঠা ।
অনলাইনে টিকিট কাটা
       পারবে না তোর  বাপ ,‌
আবার বাবার দেশে অতিমারি
          ভীষণ অভিশাপ ।
কেতো, লক্ষ্মী, সরস্বতী
             পরবে না কেউ মাস্ক,
তোকে আবার তা  পরাণো
         অসম্ভব এক টাস্ক ।
টেস্ট -মেস্ট ঝামেলা গুলি
           করবো কেমন করে !
দেখি, কিছু উপায় করি ,
            মমতাদি ' কে ধরে ।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭/৮/'২১ ।

শব সাধনা

শব সাধনা

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

"Faustus in his study.
Studying  the Bible .
The reward of sin is death : that's hard .
( si peccasse negamus, fallimur,et mulla est in no is veritus .)– 'If We say that we have no sin , we deceive ourselves, and  there's no truth in us '.
Why, then,  belike we must sin, and so consequently die :
At , we must die an everlasting death .
What doctrine call you this , 'Che sera , sera ':
What will be , shall be ? 
Divinity, adiew ! 

   FAUSTUS closes the Bible and turns to bookes of Magic . 


These metaphysics off magicians, and necromantic bookes are heavenly; 
Lines ,circles ,scenes letters and characters;
Ay, these are those that Faustus most desires.
O, what a world of profit and delight,
Of power, of honour, of omnipotence,,
Is promised to the studious artizan !
All things that  move between the quiet poles
Shall be at my command : emperors and kings
Are but obeyed in their several provinces,
Nor can they raise the wind, or rend the clouds;
But his dominion that exceeds in this, 
Stretcheth as far as doth the mind of man;
A sound magician is a mighty god;
Here , FAUSTUS, tire thy brains to gain a deity ."

'Doctor Faustus'
       –Christopher Marlowe. 
__________________________________________

শব সাধনা 

 হে পাপ, তুমিই সর্বশক্তিমান


কাপালিকদের ধর্মই যদি সেরা
কেন তবে আর মন্দিরে ঘোরা ফেরা,
মসজিদে আর গীর্জায় কেন যাওয়া ,
অবনত হয়ে দেবতার বর চাওয়া ?
ছুরি তরবারী ত্রিশূল জোগাড় কর,
রক্তপতাকা একহাতে তুলে ধর,
বিশ্বদহন মশাল অন্য হাতে–
রক্তাম্বর চেলাদের -ও নাও সাথে।

কুরুক্ষেত্র হয়ে যাক্ পৃথিবীটা, 
শতসহস্র মুণ্ড পড়ুক কাটা –
অভিমন্যুর মরা মাথা রেখে কোলে,
শূণ্য আকাশে শূণ্য দৃষ্টি মেলে,
অন্তঃসত্ত্বা উত্তরা থাক চেয়ে–
মা সুভদ্রা মরুক আছাড় খেয়ে।

মন্ত্রণালয়ে, গোপন কক্ষে বসে
শকুনি মামারা মজুক অট্টহাসে।
দগ্ধ- মাংস, ফেনায়িত সুরা, চক্রান্তের পাশা –
উল্লাসে ঢাকে হাহাকার, ধংস সর্বনাশা ।
প্রেম -প্রীতি -স্নেহ ,শান্তি ও সান্ত্বনা,
বোধি-বিবেক , বিচার ও বিবেচনা,
মহা-নরমেধ যজ্ঞে পোড়াতে হবে–
 ধর্ম ও জাত নিকষিত হবে তবে ।

শিল্প -শিল্পী, কবি ও কাব্য‌ সব বিনাশের পরে।
"স্বর্গ আসিয়া দাঁড়াবে তখনই আমাদের কুঁড়েঘরে ।"

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৬/৮/'২১
কলকাতা ।

বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

নৈষ্কর্ম

নৈষ্কর্ম
––––
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।

একটি একাকী পাখি দিগন্তের পারে হোল লীন।
একখণ্ড মেঘ,গায়ে মেখে অস্ত -রবির আলো স্থির উদাসীন ।
সন্ধ্যাতারা –
উদ্বেগ -উৎকণ্ঠা -হারা ।
পূর্বাশার ওই দূর পারে
আধ খানা চাঁদ ওঠে ধীরে ।

এরাও তো আছে এই বিপুল সংসারে
অন্তহীন প্রশান্তির নিয়ে আশীর্ব্বাদ–
নির্বিরোধ নির্বিবাদ ।
কেন তবে আমি, রক্তের পিপাসা
নিয়ে বুকে ,
শান্ত সুখে 
দিয়ে জলাঞ্জলি
জীবনের অর্ঘ্য- উপচারে পূর্ণ করি'
মৃত্যুরূপা ছিন্নমস্তা করালীর
প্রসাদের থালি ?

এখন গভীর নিশা 
কোথায় হারালো দিক, কোথায় হারালো সব দিশা ।
দিনান্তের পাখি আর নাই,
সে সন্ধ্যার মেঘ ,সেই সন্ধ্যাতারা
আধফোটা চাঁদ,
বিরাট এ বিশ্বনীড়ে
পেয়েছে তো ঠাঁই ।
আমি তাই, আধাঁর রাত্রির কোলে
আছি বসে–
মহানীরবতার চিরমৌন শান্তিময়ী সুরের আবেশে ।।

কবিতার বাইরের কিছু কথা ২|

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর  ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সাল  এই‌ দশবছর রবীন্দ্রনাথ বহুবার ইউরোপীয় দেশগুলি পরিভ্রমন করেছেন ।
১৯২৫ এবং ১৯২৬ সালে তিনি ইটালি ভ্রমন করেন । প্রথমে বিভ্রান্ত হলেও   পরে তিনি The character of the Fascist movement –য়ের আসল রূপ চিনতে পারেন ।
"Tagore's letter to the Manchester Guardian, 
5 August 1926"
এই দীর্ঘ চিঠিতে সেই সময়েই তিনি আবারো রূঢ় রাষ্ট্রযন্ত্রের  বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য রাখেন। তিনি লিখেছেন, 

"I have said over and over again that the  aggressive spirit of nationalism and  imperialism, religiously cultivated by most of the nations of the West, is a menace to the whole world .
The demoralization that it produces in European politics is sure to have disastrous effects, especially upon the peoples of the East, who are helpless to exploit the western methods of exploitation. It would be  most foolish, if it were not almost criminal, to express my admiration for a political ideal  which openly declares its loyalty to brute force  as the motive power of Civilization. That barbarism is not altogether incompatible with material prosperity may be taken for granted, but the cost is terribly great ; indeed it is fatal . The work of unscrupulous force as the vehicle of nationalism keeps ignited the fire of international jealously, and makes for universal incendiarism, for a fearful orgy of devastation ."

কী ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণী ! 
সুচতুর ইউরোপীয় দেশগুলি, ব্যবসায়ী স্বার্থে বিশ শতকের সেই জাতিতাত্ত্বিক  রাষ্ট্রচিন্তার বিষ- মেশানো  মাদক  তাদেরই পুরাতন কলোনিগুলির মুখে ঢেলে চলেছে,সঙ্গে অস্ত্রের উন্মাদনা। বানিজ্য, বানিজ্য, শোষন শোষন ! 
পরোক্ষে আবারো অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ !

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
১৬/৮/'২১
কলকাতা ।
The quoted part of the letter has been taken from the book "'Bridging East and West , correspondence of Tagore and Rolland " by
Chinmoy Guha .(oblige indebtedness ).

কবিতার বাইরের কিছু কথা ১|

‌‌ইতিহাস জানা একান্ত প্রয়োজন, নইলে অবিচার হয়ে যাবে । জহরলাল নেহেরুর জীবন,  ১৯১৯ সাল থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত ভারতের বিশ্ব- রাজনীতির প্রাঙ্গণে অবস্থান  , ১ম বিশ্বযুদ্ধ থেকে ২য় বিশ্বযুদ্ধ–  এই কুড়ি বছরে সারা পৃথিবীজুড়ে  যে রাষ্ট্রতান্ত্রিক মতবাদগুলির দ্বন্দ্ব তা ভুলে গেলে
 ব্যক্তি বিশেষের উপর দোষারোপ
ছাড়া অন্য কোনও মন্তব্য থাকে না। 
A book has recently been published, 'Bridging East & West',  Ravindranath Tagore and Romain Rolland Correspondence (1919–1940) by Chinmoy Guna . ln this book you will have a fair conception about the then political atmosphere of the world .
Soviet Communism , Imperialism of France,The UK , the USA ,Japan  ,internal conflicts inside the Colonies of the Empirical Forces,  germination and growth of Fascism , Nazism and  above all Communalism as well as Racism/Racialism – these all brought about  unsolvable  consequences  not only  for the world as a whole but also  India  too .
An Independent India, what you have inherited , is not  being plundered by a  class of Indians  more than what The British did ? Is not there still working an Anti -Indian Psyche in India and within the Indinan ?
Study and self-analysis are also  necessary to detect why we are , even after seventy years of our Independence, suffering from the  same maladies
as those of pre- lndepedence 
period ?

Dulal ch. Banerjee .
15/8/'21
Kolkata .

প্রণাম

"আমি  সেই পূরাতন প্রাণ যিনি  জ্যোতির্ময় দেবতাগণের  আগে এই সৃষ্টিতে পদার্পণ করেছেন "

উপনিষদ্ -য়ের এই বাণীর  ,এই বোধের সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ।তাই তাঁর শেষ উচ্চারণ:
"তোমাদের চৈতন্য হোক ।"
এই চৈতন্যের জাগরণ ঘটলে মানুষ   বিশ্বৈক্যানুভূতির কোন্ মার্গে , কোন্ গন্তব্যস্হলে পৌঁছাতে পারে‌–মানব সাধক  শ্রীরামকৃষ্ণ তার ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন ।

তাঁর মহাপ্রয়াণ দিবসে  এই বোধটিই‌ শুধু অণুধাবন করবার ।

"জননী সারদা দেবী রামকৃষ্ণ জগতগুরু: ।
পাদপদ্মে তয়োশ্রিতা প্রণমামি মুহুর্মুহু ।।"
 চৈতন্য প্রত্যাশী-
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
১৭/৮/'২১
কোলকাতা ।

Some Collections and a creation

Truth of life 


The Sea or The River, A vast mass of  water , Voyage , a Ship or Boat, Embarking –these all have a call .
And that call, calls in my mind the Call of the Eternal journey.
I remember The Sawan Song of the great Victorian poet, Lord Tennyson :

                     1
"Sun set and evening star
And a clear call for me ,
And may there be no moaning of the  bar
When l put out to sea .
    ..............,............         
              Iv
For though out our borne of time and place
The flood may bear me far,
I hope to see my Pilot face to  face
When I have crossed the bar."

The poets of the world, all, in my view ,  
Unexceptionally, are positively pessimistic about life . Even Tagore heaving a sigh, utters , 
"হাল ভাঙা পাল ছেঁড়া ব্যথা
চলেছে নিরুদ্দেশে।।" 
                  --------------Rabindranath. 

"My boat,with sail tattered, helm broken ,
finds an yowning Nothingness ."
                  (Translated by D. C. Banerjee)
.............,.......................................................
             
       Encounter with Nothingness

Dulal Chandra Bandyopadhyay


O my Life, dear Life, hold yourself, hold !
 For a brief period of your allotted Time,
And be in a musing mood.
What 're you running after ?
The deer, made of gold,
The treasure, made up of mirage,
Pleasure that sinks down in mire,
Nymph –an embodiment of dream?

And what 're you giving up for them?
Love? Alas ! what could've been
Your fortune divine ; but that too 
Would sink into oblivion with you.

Dulal chandra Bandyopadhyay.
14/7/'21
Kolkata .

চাঁদ

চাঁদ
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

গত কাল ছিল রাখী পূর্ণিমা।
সোনার থালার মতো চাঁদ,
ফিনফিনে মেঘের আস্তরণে
মুখ ঢেকে বসল এসে 
পূব আকাশের ছাদনাতলার প্রান্তটিতে –
যেন লাজরাঙা কণেবৌ, লজ্জাবস্ত্রে মুখ ঢাকা,
জীবনের গোধূলী -বেলার মানসী সুন্দরী।
শুধু চেয়ে ‌দেখা , চেয়ে থাকা কিছুক্ষণ । 
কথা তো হোল না তার সাথে ।
 হবেই বা কেন ? কিন্তু হয়েছিলো ,একদিন নয় –
বহুদিন ধরে' , অস্তিত্বের প্রথম প্রহরে । 
ছিল না সে একা ,
আমিও না – দুজনার মাঝে ছিল
দূতী , হেমাঙ্গনা প্রেম ,সুর হয়ে বিনা তারে 
হৃদয় বীণায় তার সঙ্গীত- ঝঙ্কার।
উন্মনা,আনমনা সেই আমি
আজ আর নেই –তাই অকস্মাৎ,
অচেনার ছলে গেল চলে 
উড়ে-আসা মেঘের আড়ালে ।

আমার 'আমি'র এই জগত- সংসারে, 
বিশ্ব চরাচরে ,অন্ধকারে
 দাঁড়ায়ে রয়েছি আমি একা ।
যার পেতে দেখা 
এতো পথ দেওয়া হোল পাড়ি, 
 কামনার শিখা যেন আলেয়া-আগুন  
নিত্য জ্বালায়ে দুই চোখে,
মরীচিকা তৃষ্ণা নিয়ে বুকে , 
কোথায় সে হয়ে গেল হারা ! 
জীবনের সব চাওয়া ,
যতকিছু পাওয়া  শূণ্য করে'  লুকালো সে 
তামসী মায়ায় , কোথাও কী আছে
তার রাজসিংহাসন ? নাকি প্রবঞ্চনা নিয়তির ? 
নির্দয় ছলনা ! ভার বয়ে যার – 
পরিক্লান্ত  পথিকের মতো
পথ ও পাথেয়-হারা, দীন  – 
পথের বঞ্চনা সয়ে'  পথেই বিলীন ! 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
২২/৮/'২১
কলকাতা ।

রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১

মিলাও আমায় তোমার সাথে

মিলাও আমায় তোমার সাথে 

বুকের খাঁচায় প্রতিদিন আসে যারা 
আনে তারা 
ফুল , কথা ,গীতি,
অতীতের সুরভি-মাখা স্মৃতি ।
যারা সবে মিলে 
প্রতিক্ষণে, পলে পলে 
হৃদয়ে জাগিয়ে রাখে প্রেমের সংরাগ ,
রাগ-অনুরাগ ,
কামনা কিছুবা,বাসনা,প্রত্যাশা ।
নিরন্তর এই  যাওয়া আসা
জগৎ-তরঙ্গ মাঝে ভাসা,
কীর্তিনাশা কাল-সর্বনাশা
নিয়ে যায় যা কিছু আমার
 স্বল্পতম ভাগ থেকে যায় তার
প্রভাতের না-দেখার মিলনমেলায়।
হে ব্ন্ধু , হে প্রিয়তম , তাই
বিরহ তোমার
বড় বেদনার ।
মুক্তি ‌নাই , মোক্ষলাভ? তাও নাই
একান্তের আত্মসাধনায় ।
এসো, গাই গান
মহামিলনের সুরে , মহা - ঐকতান। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯/৮/'২১
কলকাতা

ব্যথার পূজা

ব্যথার পূজা

মেঘের ছায়ায় ঢাকা বাঙলায়–
আলোর পিপাসা বুকে ,
যূথী জাতি আর মালতী টগর
কেও ছিল নাকো সুখে ।
হঠাৎ যেইনা শরতের আলো
ছড়ালো কানন জুড়ে–
মধুলোভী যতো মধুপের দল 
ঝাঁকে ঝাঁকে এলো উড়ে ।
প্রজাতিদের পাখনার রঙ
উঠলো ঝলক দিয়ে ,
অমনি তখন ফুল -কন্যারা
মুখভরা হাসি নিয়ে
লতা স্নেহ -কোল ভরে দিল তারা 
সোহাগের উল্লাসে ।
কি যে সে রূপ,বর্ণ,সুরভি –
আকাশে বাতাসে ভাসে!
কানন কোণায় শিউলীর ডাল
কলিতে কলিতে ভরা ,
ঊষার আলোর আশায় আশায়
রাত জেগেছিল তারা ।

আলোর আঘাত এত নিষ্ঠুর
জানতে পারেনি হায় !
ঝরে গেল তারা তৃণশয্যায়
নিরাশার বেদনায় ।
মাধবী নামের খুকুমণি তার
মালঞ্চ নামের ঘর ,
শ্যামল কিশোর ছিল তার বর
বাঁশুরিয়া মনোহর ।
সাজি ভরে' ফুল আনতো সে বালা
সাজাতো শ্যামলে সকালে ,
আজ কোন ফুল তোলেনি সে রাণী
শুধুই শিউলী   আঁচলে ।
ঝরা শিউলীর গাঁথা হোল হার–
পরেছে সে হার শ্যামরায় ।
অনাদৃত ফুল কিশোরীর প্রেমে
ঠাঁই পেল শেষে  অমরায় ।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২০/৮/'২১
কলকাতা ।

শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

Beauty at heart

"Deep in your  wounds are
 Seeds waiting to grow
 Beautiful flowers ."--- 
------------------------------------------------
Should I then believe that 
'It is true' !
But those unnumbered  droplets of tears
Of unfathomable pain,
Oozing out from countless hearts
Sink unsung and drift down the streams ,
Seen by none, neither allayed
And flow until they find,
The Deep to be concealed. 

There, in absolute Silence
They remain mute and mum
In endless grief till the Dooms Day.

O my Love, you do say, 
They become Pearls moulded
By Him, from the Holiest
Of tears of the lassitude .
But no mortal beings know
That , alas ! They blaze and 
Burn in The Inferno -
Find neither the 'Purgatorio'
Nor the 'Paradiso' .
             
          -Dulal Chandra Bandyopadhayay
              5th August 2021


The quoted words are taken from  'Divina Commedia',
–Dante Alighieri

ভরসা

লক্ষ্যশূণ্য আধাঁর-সঘন পথ,
সারথি বিহীন অচল জীবন-রথ,
তখনো সুদূরে আলোক দিশারী 
                করুনা-নয়নে জাগে ।                      
এই ভরসায় কাটে ঘোর নিশা-
অন্ধ আতুর পায় খুঁজে দিশা,
ভীতি- বিহ্বল তামসী ধরণী-
         আলোক-প্রসাদ মাগে ।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
০৫/৮/'২১

শালুক বনের উপকথা

"A thing of beauty i
s a joy for ever". –Keats, 'Endymion' .


লাল নীল সাদা শালুকের মেলা
    দেখি নাই কতদিন ।
ভালোই করেছ ছবি পাঠিয়েছ–
     স্বীকার করেছি ঋণ ।
ঘটপুকুরের স্বচ্ছ সলিলে
    জল থৈ থৈ শরতে–
দেখার নেশায় ছুটে ছুটে গেছি
     ‌‍পাখী-ডাকা ভোরবেলাতে।
ধুয়ে মুখ তারা শীতল শিশিরে
      হেসে হেসে মাথা দোলাতো,
ঘুমভাঙা চোখে বিমল রূপের
    স্নিগ্ধ সোহাগ বোলাতো ।

আলো ফুটতেই ভ্রমরের দল
     গান শোনাবার ভানে'
পাপড়ি পিঁড়িতে বসতো, আসলে
      মধুর গোপন টানে ।
যাবার বেলায় হুলের আঘাতে
      হৃদয় ছিন্ন করে'–
কমলিকা খোঁজে বনের পুকুরে
       বেমালুম যেতো উড়ে'।
বিক্ষত-বুক শাপলার দুখ
       দেখেছি নিজের চোখে–
জল-তলে ঢলে' লুকাতো শ্রীমুখ
       বিরহ-বেদনা শোকে।
হায় তারা যেন ব্রজগোপী বালা
       প্রেম-বঞ্চিতা কিশোরী –
   কৃষ্ণ -কাঁটায় দীর্ণ হৃদয়
       মধুপুরে গেছে শ্রীহরি ।।

৩/৮/'২১. দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা

শ্যামলাঞ্চলা ধরণী


ওগো স্নেহময়ী জননী,
বক্ষ তোমার সুধার আধার,
শোক দুখ তাপ হরণী ।

জন্ম আমার কোলেতে তোমার
ভুলেছি সে কথা আমি বারবার
অবহেলে পায়ে দলেছি ।
অমৃত-ভাণ্ড করেছ শূন্য
আমার ক্ষুধায় জোগতে অন্ন
ভিখারিনী তোরে করেছি ।
উদর‌ খুঁড়েছি নখর-দন্তে,
আগুন দিয়েছি বনে বনান্তে,
জল-স্থল‌ বিষে ভরা ।
তোমারি‌ রক্তে পেয়েছি জীবন,
সে-রক্ত‌ আমি করেছি শোষণ–
(আজ) মারণ ব্যাধিতে মরা ।

তবু তোর স্নেহ এখনো ছড়িয়ে
ফল-জল ভরা মাঠে, নদীতীরে,
মায়া-ছায়া করুণার–
ক্ষমা কোরো মাগো,ধাত্রী আমার,
অপূর্ণ সাধ,সন্তাপই সার –
(শুধু) শ্রান্ত মনের ক্লান্ত নমস্কার ।।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়.     
কলকাতা
২/৭/২১

ছিন্ন সে-তার



'অভিমান ,তাই ফোন করি নাই 
      কেটে গেল কতদিন–
গলাগলি নাই, নাই গালাগালি
     দেহ-মন হোল ক্ষীণ ।
এই‌ তো সেদিন গত বছরেই
     বন্ধু-দিবস পেলেছি –
খালাসি টোলায় দু-জনায় মিলে
    প্রাণভরে 'দেশি' গিলেছি ।
মুখোমুখি 'সুখী' বন্ধু-মিথুন
    মাঝে 'অ-মৃত' পেয়ালা–
কতো কথা, কতো প্রগল্ ভরা 
      সুর-হারা গান বেতালা ।

"পিয়া গেছে কবে পরদেশ
      হিয়া যে গিয়েছে শুকায়ে–
তাই তারে ছেড়ে হয়েছি বিবাগী
      'আপদ' দিয়েছি চুকায়ে ।"
"তরলা সোহাগ ছাড়িস নি বলে'
      পারু তো গিয়েছে চলে –
তার দোষ দিলি? রয়েছে সময়
      পড়গে চরণ -তলে।"

এমনি কতো-কি বাদ প্রতিবাদ
    অবাধে দুজনে সেরে'
ঢুলু ঢুলু চোখ, জড়াজড়ি হাত
     ফিরেছি যে যার ঘরে।

আজ মনে হোল বছর তো গেল
     মিলনের-ও দিন বটে 
দেখি করে ফোন আছে সে কেমন
     খারাপ খবরও রটে।
সংখ্যা মিলাই বারবার আর
     বারে বারে কেটে যায় ,
ভুল তো হয়নি, স্ব-বশেই আছি
    তবে কেন 'যোগ' নাই ?

দিন যে ‌ফুরালো, রাত্রি ঘনালো–
       মুঠি-যন্ত্রের 'জপ',
যাকে ডাক তার 'উত্তর' নাই ,
    সুইচড্ অফ্, সুইচড্ অফ্ ।।

  কলকাতা 
৩০/৭/২০০১

ভাগ্য

মনের সঙ্গে ‌খেলা
সকাল সন্ধ্যা বেলা ।
প্রভাতের আলো যখন ফুরালো তখন তীব্র তাপে 
মন পুড়ে ছাই
শান্তি হারাই
সান্ত্বনা পেতে ঘুরি পথে পথে কামনার অভিশাপে ।

আধাঁর সন্ধ্যা  ঢাকে সংসার নিভু নিভু দীপশিখা –
সব হারানোর নিঠুর বেদনা ভাগ্যে রয়েছে লিখা ।
        
                           দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় , ৩০/৭/'২১ ।

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...