রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩

২০২৩ ও ২০২৪ – সন্ধিক্ষণ ।

স্মরণে থাকুক ২০২৩ 
___________________

আশা-ভাষা-ভালোবাসা অপূর্ণ রেখে তেইশে ছেড়ে গেল 
 যারা, তারা 'নাই' হোল কি চিরতরে, অতীতের নীরব 
 অন্ধকারে ? হায় স্মৃতি, তুমি কি শুধু বেদনার ? 

কবিতাটি মুক্তদল ছন্দে, বিলম্বিত লয়ে রচিত। একান্তে 
 পড়ুন। পরিচিত জনদের পড়ান। স্মরণীয়দের স্মরণ 
 করুণ। শুধু দুটি বছরের নয়, বিগত ও আসন্ন দিনের 
 সন্ধিক্ষণ। শুভায়ঃ ভবতু ।

ভুলো না, ভুলায়ো না 
----------------------------

ভুলায়ো না, আমায় ভুলায়ো না,
সাঁঝের আঁধারে যারা গেল ডুবে স্মৃতি তাদের পোড়ায়ো না। 

কত সুখে-দুখে, কান্না হাসিতে, 
এক সুরে বাঁধা এক সঙ্গীতে, 
পেয়েছি যাদের জীবনের পথে - 
হে অতীত, তুমি বিস্মৃতি সাগরে তাদের সে গীতি হারায়ো‌ না। 

কিছু কথাকলি, সবে ফুটেছিল, 
কিছু কিছু তার ফুটি ফুটি ছিল, 
সে প্রেমের বাণী, সেই গানখানি 
সন্ধ্যা তারার আলোকের সাথে গহন নিশীথে দিও‌ রেখে। 


   বিনিদ্র রাতের স্বপ্ন আভাষে 
হৃদয়ে আমার তারা যেন ভাসে, 
শেষ সুখহাসি যায় যেন হেসে, 
যে ফোঁটা-দুই বাকী ছিল চোখে সেই জলটুকু যাবো
দেখে। 

হয়েছ বিগত,  হয়েছে কি গত ? 
কিছু কি রাখেনি‌ চির অক্ষত ? 
যে ভালোবাসা দি‌য়েছিল তারা 
চিহ্ণটি তার রেখে দিও নিশা জ্যোৎস্নার আলো-চন্দনে। 

ধরার ধূলায় যদিও অধরা, 
তারাদের সাথে জেগে থাক্ তারা, 
বুকের আবেগ পাবো বরষায় – 
 আনন্দ বিষাদে‌ প্রাণের পরশ, অথবা বিরহ ক্রন্দনে ।। 

(কবিতাটি পুনঃপ্রকাশিত) 

 দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
৩১/১২/২০২৩ 
রাত্রি ১২টা 
কলকাতা। 







 

শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩

বৎসরান্ত

বৎসরান্ত 
                                বৎসরান্ত 


কত যে বছর এল, ফিরে গেল বিস্মৃত অতীতে। 
সূর্যস্নাত নব ঊষা ঢলে পড়ে বিষন্ন সন্ধ্যায়। 
জীর্ণ জরা প্রত্যাশার ভার বয়ে বয়ে ফুরায় জীবন। 
যখনই হাতে আসে কামনার ধন, আসে সুখের 
জোয়ার কূলপ্লাবী ; অকস্মাৎ ভাটার প্রবল টান 
টেনে নেয় খরস্রোতে প্রিয়তমা প্রেয়সী প্রতিমা ! 
স্বপ্নভাঙা ভোরে উঠে দেখি আমারই সে লালসার 
কাদা মেখে পড়ে আছে বাঁশ দড়ি খড়ের কাঠামো। 
দুদিনের বিলাপ দেখাই -- আত্মপ্রবঞ্চনা। তারপর 
আগামী বছর। আবারো সংগ্রহ দুরাশার, আবারো 
অতৃপ্তির সেই বিবমিষা। 

অনাগ্রহ অবশেষে, ভোগান্তি বা ভোগ-অক্ষমতা। 
অনাসক্তি, শ্রান্তি, ভ্রান্তি -- সব নিয়ে অসহায় 
আত্মসমর্পণ নিয়তির পদপ্রান্তে। এই তো জীবন ! 
উপেক্ষায় রয়ে গেল ঐশ্বর্য বিপুল আপনারই 
হৃদয়ের গোপন ভাণ্ডারে, অবরুদ্ধ দ্বারে। 
হারিয়ে ফেলেছি চাবি তার মহামোহঘোরে। 
আজও অন্ধকারে লুপ্ত হোল আরেকটি বছর। 
নিয়ে গেল যা নেবার, দিয়ে গেল দুরাশার 
মায়া মরীচিকা। আবারও অশ্রান্ত যাত্রা 
বিভ্রান্তির পথে ; ওই বুঝি পারাবার--তৃষ্ণা মিটাবার ! 

(কবিতাটি  পরিমার্জিত ও‌ পুনঃপ্রকাশিত)

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৪ 
কলকাতা। 

বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

ফিরায়ো না

ফিরায়ো না


যদি বল তবে বাকি দুটো দিন থেকেই যাই 
তোমার সাথেই। ভালোবাসার কথা দুটো বলি, 
তুমি সাড়া না দিলে মুক্তি আমার শূন্যতায়। 
ফিরে যাব আবার নির্জন পথে দিয়ে পাড়ি 
নির্বান্ধব পুরে। ছিল চেনা, ছিল জানাশোনা 
যে দেশ, যে ভূবন-ভবন এতকাল, আজ পরবাস। 
নাড়ি-বাঁধা জন, মুঠি-বাঁধা ধন একান্তই আপনার 
ছড়িয়ে, হারিয়ে গেছে কোথায় কখন ! 

ফিরে  পাওয়া  নিতান্তই -- 'না'। 

মঞ্চের প্রস্থানদ্বারে নাটকের অন্তিম সংলাপ ! 

তাইতো তোমার কাছে মিতা। 

তোমার এ ঘর আমার জীবন পথের শেষ পান্থশালা। 
এসেছে ঘনায়ে সন্ধ্যা, পশ্চিম দিগন্তের পারে 
ক্ষীণ রশ্মিরেখা, মনে হয়, তোমারই আশ্বাস। 
এখনও বিশ্বাস তোমার প্রেমেই -- নিষ্প্রশ্ন শরণ। 
তোমাতেই সমর্পণ এখনো যা কিছু রয়েছে সঞ্চয় 
আমার 'আমি'র অহমিকায়, হোক্-না তারও বিলয়। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭/১২/২০২৩
কলকাতা।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৬/১৩/২০১২
কলকাতা।
_______________________________________________



সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

La Pieta


                    La Pieta            


Incomparable Marble sculpture of Jesus Christ and Mother Mary at mound Golgotha which represents the 'Sixth sorrow' of the blessed Virgin Mary, by Michel Anjelo Buonarroti. This great creation is now in Saint Peter's Basilica, Vatican City.

La Pieta, one of the greatest works of the Renaissance in Italy. The lifeless body of Christ  which Virgin Mary cradling on her lap. The sculpture reflects the classical principle and balance and harmony with a compelling and naturalistic portrayal of both fingers.
This portrayal is of the Mother's Sixth  Sorrow.  When the Crucification ended Jesus was pierced  in the side with a spear, outletting  stream of blood and then placed in the arms of His Mother who endured such deadly pain as she had no tears to shade. This stonified tears is the (La Madona della Pieta) Pieta.

Today, 25th December is the holy Christmas. We remember the Divine Arrival of Jesus, embodiment of love and forgiveness. But we must not forget The Holy Mother's pain which was borne not only by the Virgin Mary but also is , till being endured by the "Universal Famine that holds us above." 

Dulal Chandra Bandopadhyay
25th December, 2023
Kolkata.
_______________________________________________

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

লা পিয়েতা

লা পিয়েতা 
পুঞ্জীভূত অশ্রুজল 
____________________

মাইকেলেঞ্জেলো, স্বয়ং স্রষ্টার অবতার, 
কোথা তুমি এ দুর্দিনে ? পৃথিবীটা ভালো নেই। 
আজও অজস্র মা, জমাট শোকের প্রতিমা। 

সহস্র শিশু যীশুর মতন বিদ্ধ হয় অগ্নিবর্ষী তীরে!

হতভাগ্য শিশুরা শুধু কি ?  যুবক ঈশারই মতো 
ক্ষতবক্ষ হতপ্রাণ নিথর সেনারা ফিরে আসে 
মা'র  কোলে। হিংস্রতার হয়নি অবসান। 
যুগ যুগান্তর ধরে 
শোণিত পিয়াসী অমানবিকতার শেষ পরিণাম, 
জন্মদাত্রী জননীর গাঢ় অশ্রুবারি অঞ্জলী ভরে 
ধারণ করেছো কতকাল ? নিরালায় ? একান্ত সাধনে 
পাষাণে দিয়েছ রূপ? অসহ সে ব্যথা ! 
হৃদয় পোড়ানো শোক তোমার পিয়েতা। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৪/১২/২০২৩ 
কলকাতা।




মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

পথের মা ও পথশিশু

(কলকাতার রাস্তায় হেঁটে হেঁটে যাই। যত রাত বাড়ে ততই ফুটপাথগুলোর  দৃশ্য পাল্টে যায়। শিশু কিশোরদের বুকে জাপটে ধরে মায়েরা যেভাবে শুয়ে থাকে তা দেখি। একটি অসহায় কষ্টের অনুভূতি বুকে বয়ে ঘরে ফিরে আসি। অক্ষমতা ঢাকি কাগজে কলমে। )

পথের মা ও পথশিশু 

ফুটপাথে দেখি ঘুমিয়ে রয়েছে 
মায়ের বুকে ছেলে। 
নিঃসাড় ঘুম শিশুর চোখে 
মায়ের পাঁজর জ্বলে। 
এই শিশুকাল পেলি ওরে বাপ্ -- 
পায়ের তলায় ঘর, 
ভিড় রাস্তায় বুকে ধরে রাখি 
নিত্য মরণ ডর। 
তন্দ্রায় দেখি হোগলার কুঁড়ে, 
ছেঁড়া-কাপড় দোলনা, 
কেমনে গেল, কোথায় হারালো 
ভাঙা-ফুটো দুটো খেলনা। 
কোথায় সে জনা, কেন বা উধাও 
আমি কেন বাঁচি প্রাণে, 
যমের অরুচি হয়ে বেঁচে আছি 
কুকুরে কাপড় টানে। 
নাই পরিবার, নাই পরিজন 
নাই স্নেহ মায়া দয়া। 
এত যে মানুষ, এত বাড়ি গাড়ি 
চোখে দেখি কালো ছায়া। 

এমনি লক্ষ হারা-ঘর মা'রা 
পড়ে আছে পথে পথে, 
রেলপথ ধারে, মরা-নদী পাড়ে 
বাদলে হিমেল রাতে। 
হয়তো কোথাও ঝুপড়ি করেছে 
ছিন্ন চটের গুহা, 
তাও প্লাস্টিক -- ঠান্ডা গরম 
কিছুই যায়না সহা। 
সেখানেই মরে, মরে' মরে' বাঁচে 
জীবন তাদের নাই। 
শুধু দিনে রাতে উদর ভরাতে
এঁটো কাঁটা খুঁটে খায়। 
হায় রে এ দেশ, মা-শিশুদের 
জীবন্ত নরকবাস। 
কোথাও বিলাস, কোথাও যুদ্ধ 
বিপুল নিরাশ্বাস ! 
বুকে ক্ষয়রোগ, চোখেতে পিচুটি
নগ্ন জীর্ণ দেহ, 
নাইকো শিক্ষা, নাইকো পুষ্টি, 
নাই সমাদর স্নেহ। 
শুধু চেয়ে দেখে ভিখারিনী মা-কে 
ন্যাকড়ার  কঙ্কাল, 
মৃত জীবনটা রাখার তাগিদে 
ঘেঁটে মরে জঞ্জাল। 

লেখায় ভাষণে, সভা, সেমিনারে 
সহানুভূতির ঝুড়ি, 
রাস্তার ধারে পড়ে থাকে তারা 
--- সুতো ছেঁড়া ফাটা ঘুড়ি। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯/১২/২০২৩
কলকাতা

_______________________________________________





শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

Happy Birthday to Shivaom

From breakfast to dinner
You're having great pleasure.
But nobody knows
That the wind 🍃 that blows
Directly from there to here
Brings the flavour of the gigantic cake
Which your tongue is waiting for and
watering to take.

My good wishes to you and your company.
Dadubhai. 

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩

"কাঁদালে তুমি মোরে" গানটির ইংরেজি ভাবানুবাদ।

"কাঁদালে তুমি মোরে" গানটির ইংরেজি ভাবানুবাদ। 

আমার অন্তরের নিত্য প্রয়াস থাকে, আমি যতটুকু পড়ি
যা ভাবি, যে ভাব কিংবা আবেগ অনুভব করি, লেখা দিয়ে বা আলোচনা করে আমার পাঠকদের সে সকল কথা বলি। তাঁদের  ভালো মন্দ বিচার আমাকে ঋদ্ধ করে, সান্ত্বনা দেয়। তাঁদের অজান্তেই তাঁরা আমার জানার পিপাসা বাড়িয়ে তোলেন। আবার হৃদয়ে সুহৃদের নৈকট্যও  সাধন করেন।
আজ রবীন্দ্রনাথ। যিনি আমার কাছে সেই অতলান্ত রসসমুদ্র এবং 'প্রাণঘাতী' সৌন্দর্য যে, তাঁর কাছে এলেই আমি William Somerset Maugham-সৃষ্ট Thomas Wilson - য়ের মত 'Lotus Eater' হয়ে যাই। রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে শুনতে ওই যে গান "কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে" -- শুনলাম এবং আবারও পড়লাম।
ই গানটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে আপনাদের কাছে পাঠানোর ইচ্ছা হোল। পড়ুন পড়ান আর আলোচনা করুন। 

_____________________________________________

কাঁদালে তুমি মোরে 

কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে -- 
নিবিড় বেদনাতে পুলক লাগে গায়ে।। 
তোমার অভিসারে   যাব অগম পারে --- 
চলিতে পথে পথে বাজুক ব্যথা পায়ে।। 
পরাণে বাজে বাঁশি   নয়নে বহে ধারা -- 
দুঃখের মাধুরীতে করিল দিশাহারা। 
সকলই নিবে কেড়ে   দিবে না কিছু ছেড়ে, 
মন সরেনা যেতে ফেলিলে এ কি দায়ে।। 


For Your Love 

Your love wounds me
Brings tears to my eyes. 
I feel pain unbearable -- yet 
A sense of Joy stirs my self. 

I'll trudge the way infinite 
With my feet bleeding to see your face. 
My heart hears your flute and weeps. 

Sorrow, as if, has its beauty soul ravaging 
Know I, 'Me' 'll die when l meet You, though ! 
Yet, I can not but respond to your call --- 
O, My Dear, My Friend, My Love and My All
______________________________________________

স্বপ্নকেনা

 স্বপ্ন কেনা


বিনি পয়সায় স্বপ্ন কুড়ায় সবাই। 
পয়সা দিয়ে স্বপ্ন কেনে নিমাই। 
সাতটা বছর হয়েছে সবে বড়, 
এর মধ্যেই করেছে সে জড়ো 
সাতটি রাজার ধন-রত্নগুলি। 
দুটো বাক্স, দুটো মোটা থলি, 
একটি খাট পুরো, অর্ধেকটা ঘর 
সোফা টেবিল আছেই এরপর। 
শ'খানেক টেডি, শ'তিনেক 'কার' 
চিড়িয়াখানার সমস্ত জানোয়ার 
এরোপ্লেন, রকেট গড়াগড়ি, 
বন্দুক ? তাও আছে কাঁড়ি কাঁড়ি। 
বলাবলি করে কিছুবা নিন্দুকে, 
হীরা, নীলাও আছে নাকি সিন্দুকে। 
হতে পারে মার্বেল বা রাঙাগুলি, 

রাখা  আছে গোপনে সকলই। 

থাকে নিমু এ সবেরই সাথে, 
বিড় বিড় বকে দিনে রাতে। 
জীবন্ত বান্ধব এরা তার-- 
দুঃখ সুখ আনন্দ অপার। 
এ বিপুল ঐশ্বর্য সম্ভার 
দাম দিয়ে কেনা স্বপ্ন তার। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

১৩/১২/২০২৩ 

কলকাতা। 

______________________________________________












শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩

প্রাণধাত্রী ধরিত্রী

প্রাণধাত্রী ধরিত্রী 


(প্রাণের প্রথম ও আদি জন্মদাত্রী জননী বসুন্ধরা। মাতৃগর্ভচ্যুত প্রাণকণিকার প্রথম ধাত্রীও এই ধরিত্রী মাতা। আন্তর্জাতিক নারীদিবসে তারই উদ্দেশে এই কবিতাটি)। 


অন্তহারা সে সুদূর অতীত হবে 
বসুধার মুখে আলো পড়েছিল যবে, 
প্রাণের প্রদীপ জ্বালালো বসুন্ধরা 
বিশ্বভূবনে বন্ধ্যা পাষাণে ঝর ঝর জলধারা 
প্রাণের অমৃতে ভরা। 
কত যুগ কত যুগান্ত অবসান 
স্ফটিক পাথরে মৃত্যুগরল নিত্য করিয়া পান 
শাশ্বত প্রাণের মহিমা উঠেছে জ্বলে 
আকাশে বাতাসে মরুময় দেশে ভূধরে জলে স্থলে। 
যুগসন্ধির রহস্য আলোর সাজে 
অপাপবিদ্ধ নর নারী এলো বিধাতার দেওয়া কাজে। 
দেহমন্দিরে তার 

আনন্দময় মানবমূর্তি বিমূর্ত চেতনার। 

তারপর ? ইতিহাস কথা কয় -- 
যুগে যুগে এলো কত সভ্যতা, শত সভ্যতা লয়। 
লয় শুধু নয়, প্রকৃতির শাপে সঞ্চিত যত শৌর্য, 
ক্ষয়ে ক্ষয়ে হারা কীর্তিস্তম্ভ, দম্ভের মাৎসর্য। 
পশুত্ব-স্বভাব পশুরা তো ছিল, এখনো কিছুবা আছে। 
পাখীরা রয়েছে, গান গেয়ে বাঁচে, প্রকৃতির তালে নাচে। 
তারা পৃথিবীর ভালোবাসা বোঝে, জ্ঞানের গরিমা-হারা 
শুধু মানুষের লালসা আগুনে দগ্ধ বসুন্ধরা। 
যুগে যুগে সে জ্বেলেছে আগুন, নিজেও জ্বলেছে চিতায় 
দ্যুলোকের বাণী ধ্বনিত নিয়ত শোনেনি অহমিকায়। 
মহাকবি বলে, "হে অতীত, তুমি কথা কও কথা কও"-- 
আমি বলি, "ওগো গতকাল, তুমি বিস্মৃত হয়ে রও।" 
ভালো যত আছে তার চেয়ে কালো দেখি সহস্রগুণে, 
অবোধ অবুঝ নিহত নিত্য কুটিল রণাঙ্গনে। 
বিদ্যুৎ ঝলে ঝঞ্ঝার মেঘে তারেও অভয় মানি। 
অসহায় বুকে হাহাকার আনে অস্ত্রের ঝলকানি। 
সাগরের কূলে, মরুপ্রান্তরে শ্যামল সজল ধরায় 
মৃত নরনারী, শিশুদের দেহ শোণিত পঙ্কে লুটায়। 
মনে করে দেখ কুরুক্ষেত্র, -- মহাযুদ্ধের অবসানে 
অস্তসূর্য স্থির অপলক নিষ্প্রাণ প্রাঙ্গনে। 
কুরুপাণ্ডব আরো যত শব আঠারো অক্ষৌহিনী -- 
রথী মহারথী কুশলী সারথি অশ্ব-হস্তিবাহিনী, 
সব যবে শেষ শুধু অবশেষ মূর্ত শোকের হাহারব -- 
ছুটে সুভদ্রা পাগলিনী মাতা খুঁজে খুঁজে ফিরে কার শব ! 
হঠাৎ যেখানে দাঁড়ালেন এসে -- বাহ্য-চেতন হারা -- 
অভিমন্যুর মৃতদেহ কোলে বসে আছে উত্তরা ! 
শূন্য দৃষ্টি শূন্যের দিকে, গর্ভে রয়েছে প্রাণ ! 
মরণের পায়ে জীবনকে রেখে নারীত্ব বলিদান ! 

এমনি নিযুত ভ্রাতৃহনন আত্মহনন শেষে 
আজিও মানুষ নির্বিণ্ণ নয় আত্ম-সর্বনাশে। 
ঝটিকা, প্লাবন, দাবানল যত প্রকৃতির তাণ্ডবে 
ভেঙেছে আলয় আবার গড়েছি নব নব অনুভবে। 
যে বিশ্বমারি মড়কে মরেছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ 
মানুষেরই জ্ঞানে, দুঃসাধ্য সাধনে তারও হবে অবসান।

 কিন্তু যে পাখি বুকে-বেঁধা তীর আফগানি গুলবাগে 

থামালো গজল হঠাৎ মরণে 'সোমেতে' ফেরার আগে। 
নির্বোধ শিশু প্রাণহীন যীশু মধ্য সাগর তীরে 
কোথা তার গৃহ, পিতা মাতা স্নেহ, দেখল না কেউ ফিরে। 
কার পাপে হেন, কোন্ অভিশাপে নির্মম পরিণাম ? 
'ফরিস্তা' চুকাবে জীবন মূল্যে অমানবিকতার দাম ? 

আঁধি ব্যাধি আর দৈব বিধান সমস্ত জয় করে' 
স্বকৃত পাপের তরবারি নিয়ে মানুষ মরে ও মারে। 
নূতন নূতন ধর্ম-সৃজন, সেই ধর্মের অজুহাতে 
দেশে দেশে যত ঘাতকের দল রক্ত-সিনানে মাতে। 
মুনাফার ঘোরে উল্লাসে নাচে অস্ত্রের কারবারি 
ধরাধামে সুখ স্বপ্নের ইতি, ভিন্ গ্রহে দিবে পাড়ি। 
নেশাখোর আশা হয়েছে দুরাশা অন্তিম আসে ঘনায়ে -- 
অবলুণ্ঠিতা কুণ্ঠিতা ধরা সে কথা দিয়েছে জানায়ে। 
সভ্যতা, তুমি রোগাক্রান্ত -- এখন এবার থামো। 
প্রাণধাত্রী ধরিত্রী জননী, বল তারে, "নমো নমো"। 
ক্ষমা কোরো মাগো সর্বংসহা, এ বিশ্ব সংসারে 
তুমিই রয়েছ প্রাণদীপ জ্বেলে লোকে ও লোকান্তরে। 
সকল জীবের শ্রেষ্ঠ মানব --  জন্মদাত্রী তুমি, 
তোমার বিপুল স্নেহভরা কোল সবার জন্মভূমি। 
যুগে যুগে এল শান্তির দূত অমৃত মন্ত্র নিয়ে, 
বরণ করেছে অকাল মরণ আমাদের পাপ ধুয়ে। 
শোণিত-পিয়াসী যে অসুর জাগে মানুষের অন্তরে -- 
মানবতাহীন ধর্ম সাধন কাপালিক উপচারে। 
নরবলিদান হবেনা বন্ধ ? হবেনা কি প্রেমদান ? 
নব প্রভাতের রবিকর-দীপ, নব রাগ, নব তান ? 

একই পৃথিবী, এক মহানীড়, এক সুরে গান গাই। 

সবার উপরে জননী সত্য তাহার উপরে নাই ।। 


(পরিমার্জিতরূপে পুনঃপ্রকাশিত 

০৮/০৩/২০২৪)


দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০২/১২/ ২০২৩
কলকাতা।




Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...