রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

বন্ধু মহল

"It makes us think of what we had 
And what we now deplore.
We almost wish those siren throats
Would go and sing no more ."

(The saddest noise and The sweetest noise . EMILI DIKINSON .)

                             বন্ধু মহল
হেমন্ত-হিম সইতে পারেনা কুমারী কমলকলিকা ,
চৈত্রের তাপে পুড়ে ঝরে যায় সোহাগী চম্পা বালিকা ,
আবার কিন্তু ফিরে ফিরে আসে শরৎ -বসন্ত সন্ধ্যা 
ফুল্ল কানন , মায়াভরা ‌রূপ কত ফুল মধূগ্ন্ধা ।

গত মধুমাসে যে ঘরে আমার ছিল হাসি রাশি রাশি ,
বৈঠকী ঘর বন্ধু-বাসর কথা গান বানভাসি ।
স্তব্ধ ভবন, কড়ি -কাঠ গুণে সময় কাটে না আর 
বাতাসের শ্বাসে কার আসার-আশে চেয়ে দেখি বারবার ।

মুক্ত দুয়ার ধূলা উড়ে আসে, নির্জন পথরেখা –
চরণচিহ্ন-হারানো সে পথে পথিকের নাই দেখা ।
নিশাচর পাখী দিনমানে উড়ে শ্বাপদ ‌শকুন ডাকে,
ভীতি পাণ্ডুর মনের ছায়ায় চন্দ্র সূর্য ঢাকে ।

যারা গেছে তারা আর আসে নাই হারা হোল চিরতরে –
আমি বসে একা , কাঁদে নিশীথিনী ঝাড়বাতি-নেভা ঘরে ।
শূণ্য এ ঘর খুলবো না আর বন্ধই  থাক্  তবে –
নূতন জীবন আসুক ধরায় নূতন মহল হবে ।।

কলকাতা      
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৪-৭- '২১

A Platformer

A platformer



Now I'm old and  a permanent platformer .
I've traversed long from here to there , from nowhere to somewhere ;
For my nativity has sunk into oblivion .
The path I've trodden down is shadowed .
And  memories are , by myself ,slaughtered  to get forgotten,
Excepting a piercing wailing, in a blackout night ,
From the shade across ,of the boisterious girl ,
I'd known since the evening, l laid my rag on this  shelter of "pilgrim".
My worrying, awaited night retreated
With glimmering of dawn and clamoring of the platformes.
A babe was born of , might not you call,
The Virgin ;
But I blessed The Newcomer,
The Liberator .
My true successor, a homeless , " I hail your birth ! 
For everyone is born somewhere
And his Birthday heralds his Holly Crucification-Anywhere  ."

 Kolkata
23/7/2021

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

আমার জন্মদিন

পূর্ব দিগন্তপারে,দূরে বহুদূরে-
জীবনের ঊষালগ্ন বিস্মৃত অতীত ।
কী‌ ছিল চাওয়ার ,পেয়েছি যা 
সবই কি তা প্রাপ্য ছিল,
ছিল প্রয়োজন ?

মনে হয় আজ,কিছু মিথ্যা সাজ ,
তুচ্ছ ‌অসার কিছু প্রাণহীন বস্তুর সম্ভার, কিছু ছায়া, কিছু মায়া,
রাগ- বিরাগ -সংরাগ মাখানো 
কিছু কায়া–হৃদয়ের কাছাকাছি
এসে,কখন যে মিলালো কোথায়!
হেসেছি সুখের হাসি, ভেসেছি
চোখের জলে সে-সবের মিলনে-
বিরহে । সে-জীবন মরীচিকা ,
গেছে সরে সরে দূর হতে দূরে
বছরে বছরে ।
আজ আমার আরো এক 
জন্মদিন । শ্রাবণ ধারায় সিক্ত
সজল বাতাস বয়ে আনে পুরাতন
প্রহরের সুপ্ত দীর্ঘশ্বাস ।জাগরণে
গেছে যত নিশা –শোকে  তাপে
অশ্রুজলে মেশা , তারাও তো হারা
বিস্মরণে । কেন যেন মনে হয়
সে দুখের রাত,তার-ও তো ছিল প্রাণের
আবেগ । 
আজ জন্মদিনে
হারানো কালের যত হারানো বেদনা–
স্রস্টার পূজার অর্ঘ্য করুক রচনা ।"

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
কলকাতা
৩রা শ্রাবণ ,১৪২৮

রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

রবীন্দ্র সুর-ব্যঞ্জনা

Niরবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর‌ সঙ্গীত- প্রেমীদের কাছে মুগ্ধতার । হৃদয় ,মন আবিষ্ট করে দেয়।
কিন্তু সেই সব গানের বাণী যে কী‌ গভীর ব্যঞ্জনায় ঋদ্ধ তা জানতে হলে বাঙলা ভাষাটি ভালোভাবে জানা চাই । যাঁরা বাঙলা ভাষাটি কম জানেন , ইংরেজিতে পারদর্শী  তাঁদের জন্য কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীত  ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ :

I have versified into English a few incomparably romantic lyrics of Tagore for the music lovers who are not familiar with Bengali tongue, Bengali vocabulary but versed and proficient in English .

'যেদিন সকল মুকুল গেল ঝরে'
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  (গীতবিতান)

যেদিন সকল মুকুল গেল ঝরে
আমায় ডাকলে কেন গো এমন করে?
যেতে হবে যে পথ বেয়ে
শুকনো পাতা আছে ছেয়ে
হাতে আমার শূণ্য ডালা
কী‌ ফুল দিয়ে দেব ভরে?

গান হারা মোর হৃদয় তলে
তোমার ব্যকুল বাঁশী কী যে বলে।
নেই আয়োজন নেই মম ধন,
নেই আভরণ, নেই আবরণ--
রিক্ত বাহু এই তো আমার 
বাঁধবে তোমায় বাহুর ডোরে ।।


'
'The spring of my life has left me long'.

The spring of my life has left me long .
I, dry and deserted,can no longer respond
To your lusty call,my sweet -heart,
As l could in those bygone days.
The path that leads to you, my love, is covered 
With lifeless leaves and petals
Of faded memories –those too, are too frivolous, 
My dear, to offer to your alluring charm .

Your enticing winking like an enchanting flute

Longing long for enlivening my insensitive heart ; 
Yet l remain mute ,for, you know not 
I ,bereft of all adornments of youth,
Can scarcely reciprocate with your beckoning–
 Rapturous, irresistible.
       

                                                       Translated by 
                          Dulal Chandra Bandyopadhyay.

শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

শৈশব

জাতি-হারা,ধর্ম -হারা, শৈশবের কাল, 
প্রস্ফুটিত কমলের বিমল সকাল, 
বিহঙ্গের কল কণ্ঠে প্রভাতের গান, 
নহবতী সানাইয়ের ভৈরবীর তান,
আলোক -চন্দন টিপ হেমগিরি চূড়া,
সুপ্তিভাঙা নববধূ লজ্জা বস্ত্র- জোড়া, 
ঝরে -পড়া শিউলীর করুণ সুবাস,
আলোঘায়ে ঢল ঢল রাশী রাশী কাশ, 
'উঠ বাছা' মা ডাকে ,'খেয়ে নিবি আয়', 
ঐ দেখ, গোপালেরা পাঠশালা যায়।' 

এমন প্রভাতগুলি স্মৃতির পাতায়, 
লেখা আছে সযতনে স্বর্ণলেখায়,
সে পাতা খুলবো বলে' ওগো দরদিয়া, 
খুজেঁ ফিরি সমব্যাথী সখা মরমিয়া। 

                          -দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 

শেষ ভিক্ষা

শেষ ভিক্ষা ' কবিতাটি যখন  মনে দানা বাঁধছিল তখন আমি অতিমারিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে । জীবনের সকল চাওয়া, সকল পাওয়া অবসন্নতার  গাঢ় ছায়ায় ঢাকা । হঠাৎ অনুভব করি একটি সুতীব্র কামনা , ঘনায়মান মেঘের বিদ্যুৎ দীপ্তির মতো, যা সমস্ত জীবনকালের একমাত্র সত্যরূপ ,আমার মুমুর্ষু সত্ত্বা জুড়ে উদ্ভাসিত । কামনা–ভালোবাসার ।

শেষ ভিক্ষা

কাল সন্ধ্যা, পশ্চিম দিগন্তজোড়া রক্ত-ভেজা ছায়া,
কালিমা -কলঙ্ক মাখা পূবের আকাশে বিদ্যুৎ ইঙ্গিত,
জেনেছি তো , জীবনের বেলা হোল শেষ ।
 আজন্মের আহরণ আনন্দের বাষ্পোছ্বাস -
জমাট বেঁধেছে ঐ সন্তাপের মেঘে ।
সোনার পাতায় ছিল মোড়া অস্থাবর -
 মাটিমাখা স্থাবরের অন্ধ কোণায় 
 কেটে গেল এ-প্রাণের বসন্তের কাল–
মেনেছি -তো যাত্রা হোল শেষ ।

তবু কেন শ্লথ হস্তে শূণ্য পাত্র ধরা ?
কোন্ মাধুকরী ? বাসনার পরপারে যার বাসা ,
যার আশা জেগে থাকে বুকের গভীরে– 
শয়নে-স্বপনে-ঘুমে জাগরণে ,
নিশায় -ঊষায় দিনমানে অলক্ষ্যে আমার –
মূর্তি তার হবে কি হারা আসন্ন ‌আধাঁরে? 

ব্যর্থতার হাহাকার পাঁজরে পাঁজরে ,
অদৃশ্য সারথি ওই দাঁড়ায়ে দুয়ারে ।
সান্ধ্য অবসরে দেখা দাও,
দাও দেখা সত্যরূপ আমার সত্বার, 
আজন্ম সাধনধন ,ওগো ভালোবাসা।   
তারপরে ,অন্ধকারে লুপ্ত হোক  কুহকিনী আশা ‌।।

শিলিগুড়ি
২১/৯ / '২০

রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

ছোট প্রাণ ছোট ‌ব্যথা


টুকরো কথা , টুকরো হাসি , এক টুকরো পাওয়া 

একটি রেখা ঊষার কিরণ , একখণ্ড চাওয়া 

একটুকরো ছেঁড়া মেঘে অস্তরবির সোনা,

হাজার ঝিনুক খোঁজার পরে একটি মুক্তা দানা,

বর্ষা রাতে বিপথ পথে হঠাৎ তড়িৎ আলো–

তপ্ত দিনের দহন জ্বালায় ঈষাণ কোণের কালো ।

মান মাথুরের ‌পালার শেষে অভিসারের আশ–

হোক না শুধু একটি রাতের রাধার অভিলাষ ।

ঝড়ে-জলে ঘর ভেঙেছে , ভাঙা দেওয়াল ফাঁকে/

সন্ধ্যামণি ফুল ফুটেছে কেই বা দেখে তাকে–

একটি মেয়ে তুললো ‌তাকে রাখল আঁচল কোণায় 

গাঁথবে মালা, দেবে তাকে গান গেয়ে যে শোনায়।

তুচ্ছ এসব মূল্য- বিহীন অর্থহীন -ও বটে –

বড় যারা তাদের কাছে নিন্দামন্দ জোটে।

শিউলী তবু ফুটেই ঝরে, শিশির বিন্দু মরে

অন্ধ বধূর অশ্রুকণা লুকায় আধাঁর ঘরে।

অনাদরের বিন্দু দিয়েই সিন্ধু ‌আছে‌ ভরা–

আকাশজোড়া আলোর ভূবন মাটির বসুন্ধরা।

তোমার আমার জীবনগুলি বরং স্বপন- প্রায়

সুখের ‌ সাধের কাণাকড়ি আজ আছে কাল নাই ।


দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 

কোলকাতা

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...