শেষ ভিক্ষা ' কবিতাটি যখন মনে দানা বাঁধছিল তখন আমি অতিমারিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে । জীবনের সকল চাওয়া, সকল পাওয়া অবসন্নতার গাঢ় ছায়ায় ঢাকা । হঠাৎ অনুভব করি একটি সুতীব্র কামনা , ঘনায়মান মেঘের বিদ্যুৎ দীপ্তির মতো, যা সমস্ত জীবনকালের একমাত্র সত্যরূপ ,আমার মুমুর্ষু সত্ত্বা জুড়ে উদ্ভাসিত । কামনা–ভালোবাসার ।
শেষ ভিক্ষা
কাল সন্ধ্যা, পশ্চিম দিগন্তজোড়া রক্ত-ভেজা ছায়া,
কালিমা -কলঙ্ক মাখা পূবের আকাশে বিদ্যুৎ ইঙ্গিত,
জেনেছি তো , জীবনের বেলা হোল শেষ ।
আজন্মের আহরণ আনন্দের বাষ্পোছ্বাস -
জমাট বেঁধেছে ঐ সন্তাপের মেঘে ।
সোনার পাতায় ছিল মোড়া অস্থাবর -
মাটিমাখা স্থাবরের অন্ধ কোণায়
কেটে গেল এ-প্রাণের বসন্তের কাল–
মেনেছি -তো যাত্রা হোল শেষ ।
তবু কেন শ্লথ হস্তে শূণ্য পাত্র ধরা ?
কোন্ মাধুকরী ? বাসনার পরপারে যার বাসা ,
যার আশা জেগে থাকে বুকের গভীরে–
শয়নে-স্বপনে-ঘুমে জাগরণে ,
নিশায় -ঊষায় দিনমানে অলক্ষ্যে আমার –
মূর্তি তার হবে কি হারা আসন্ন আধাঁরে?
ব্যর্থতার হাহাকার পাঁজরে পাঁজরে ,
অদৃশ্য সারথি ওই দাঁড়ায়ে দুয়ারে ।
সান্ধ্য অবসরে দেখা দাও,
দাও দেখা সত্যরূপ আমার সত্বার,
আজন্ম সাধনধন ,ওগো ভালোবাসা।
তারপরে ,অন্ধকারে লুপ্ত হোক কুহকিনী আশা ।।
শিলিগুড়ি
২১/৯ / '২০
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন