শুম্ভ-নিশুম্ভ-দম্ভনাশিনী, মহিষাসুরমর্দিনী মহাচণ্ডী কিভাবে গিরিরাজ-মেনকা-কন্যা উমা হয়ে সনাতন বাঙলার চিরন্তন মাতৃত্বের স্নেহের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হোল সেকথা পুরাণকারগণ অনেক লিখেছেন, লিখছেন এবং লিখবেন। আমি বরং আমাদের মেয়ে-উমার পতিগৃহবাসে মা মেনকার নিত্যদিনের উৎকণ্ঠা,বৎসরান্তে মেয়ের জন্য পথ চেয়ে থাকা, মেয়ের আগমনে স্বল্পকালের সান্ত্বনা আর তার পতিগৃহ পুণর্যাত্রায় বাঙলার 'মা মেনকাদের' মনের মর্মবিদারী বিষাদের রূপটি দেখে নি "আগমনী ও বিজয়ার" পালাকীর্তনে।
শাক্ত পদাবলীর সকল কবি, পদকর্তাদের অপূর্ব সব "আগমনী ও বিজয়া" বিষয়ক সঙ্গীত স্রস্টা ও শিল্পী যেমন রামপ্রসাদ, নিধুবাবু(রামনিধি গুপ্ত)দাশরথী রায়, নীলকন্ঠ ঠাকুর, কমলাকান্ত,এন্টনি ফিরিঙ্গী, ভবানী চরণ দাস প্রভৃতি, তাঁদের সৃষ্টির গভীর আবেগের অতলান্ত সমুদ্রে ডুব দিলে আজ, এই নবমী সন্ধ্যায় আমার (কবি)সত্ত্বার অকাল বিসর্জন হয়ে যাবে। তাই আলোচনাটি আগামীকাল সকালে আগিয়ে নিয়ে যাব।
_________________________________________________ আজ বিজয়া দশমী
এই ফাঁকে আমার সকল প্রণম্য ও প্রেমের মানুষদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আবার ধারাবাহিকটি আরম্ভ করবো।
শুভবিজয়ার শুভকামনা
"বিদায় করেছ যারে নয়ন জলে
এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে (গো)?"
(রবীন্দ্রনাথ)
রয়েছে এখনো যারা এই বুক জুড়ে
শান্তি সমৃদ্ধি থাক্ সবাকার ঘরে,
পূর্ণ হোক্ হৃদয়ের সকল বাসনা,
সত্য হোক্ জীবনের সকল সাধনা,
বাঁধা থাক্ আত্মপর প্রেমের মালায়,
'মানবতা' ধর্ম থাক্ পূজার থালায়।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
১৫/১০/'২১
______________________________________________
__ধারাবাহিক আলোচনাটির পুনরারম্ভ__
______________________________________________
গতকাল আলোচনার শেষের দিকে একটি শব্দবন্ধ ছিল 'আবেগের অতলান্ত সমুদ্র'।
এইটিই আবহমান বাংলার হৃদয়ানুভূতির সত্য পরিচয়।এই হৃদয়ানুভব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মধারণাকে আশ্রয় করে নয়, নয় কোন দেবতার জন্য আকুলতা। শ্রীকৃষ্ণ বৈষ্ণব- পদাবলীতে যশোদা-দুলাল গোপাল, রাধিকারমন শ্যামরায়,গোপিবল্লভ বংশীধারী। মহিষাসুরমর্দিনী মহাচণ্ডী গিরিরাজ-মেনকা তনয়া উমা,চণ্ডমুণ্ড-বিনাসিনী চামুণ্ডা রামপ্রসাদের শ্যামা(মেয়ে হয়ে বেড়া বাঁধে বাপের সঙ্গে)।
আজ এখন উমা,পর্বতরাজ-কন্যা পার্বতীর পতিগৃহ থেকে পিতৃগৃহে আগমন এবং পতিগৃহে প্রত্যাবর্তন --এই লোকায়ত কাহিনীর বঙ্গহৃদয়-রঙ্গমঞ্চে জীবন্ত উপস্থাপনা । 'আগমনী বিজয়া'-র প্রাতঃস্মরণীয় পদকর্তা(তাঁদের কয়েকজনের নাম আরম্ভেই স্মরণ করেছি)ছাড়াও আরো অসংখ্য অনামী
কবি (কবিগান ও তরজা গানের তাৎক্ষণিক পদ রচনা করতেন তাঁরা), বাউল,ঝুমরগায়ক,কথকথা-বলা, পাঁচালী-পাঠক , বর্ষার প্রকোপ সামান্য কম হতেই বেরিয়ে পড়ত গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।
পিতৃপক্ষের অবসান, মহালয়ার তর্পণ শেষ হতেই , গৃহস্থের গৃহপ্রাঙ্গনে তাঁদের আবির্ভাব।পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল হয়ে পুরুলিয়া যাবার পথে দামোদর নদের ডিসেড়গড় ঘাট পার হতে হয়।এই ঘাটের কয়েক-পা উজানে সত্যপীরের মাজার। হিন্দু ধর্মের সত্যনারায়ণ মুসলমানদের পীর -- মিলিত তীর্থক্ষেত্র। এখানে যাঁরা
সাধন ভজন করেন তাঁরা সকলেই ফকির। মুরশেদরাও
আছেন। এঁরা হলেন সুফি, উদার মানবতাবাদী চিন্তা-চেতনার মানুষ। এঁরা ভিক্ষাজীবী - গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে', ঘরে ঘরে ভিক্ষা করে' এনাদের দি কাটত। কিন্তু এই সম্প্রদায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সর্বধর্মসমন্বয়ের বার্তা প্রচার করা।যেমন তাঁরা মহান নবীর মহিমা কীর্তন করতেন তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য দেব দেবীদের গুণকীর্তনও করতেন।হাতে মন্দীরা বা খঞ্জনী।
দুর্গা পূজার আগে গাইতেন আগমনী আর নবমী থেকে বিজয়ার গান। আগমনী বিজয়ার বহু মর্মস্পর্শী সঙ্গীত আমাদের শোনা, বিষয়বস্তুও জানা, কিন্তু আজ থেকে অর্ধশতাধিক বছর আগের আমাদের ঝাড়খণ্ডী(বৃহত্তর বাঙলা) অঞ্চলের,দারিদ্র-লাঞ্ছিত সেই আধভাঙা মাটির ঘরের আঙিনায় সেই ফকিরী, মুর্শেদী গান , আজও আমার বুকে "কী-হারানোর" বেদনা বয়ে আনে । সেই সব গানের সুর জাগে মনে, কিছু কিছু ভাঙা কলিও স্মৃতির আকাশে ভাসে।
যেমন :
___আগমনী___
ফর্সা পাঁকে ঘর লেপিস্ না মা,
তুর গৌরী আসছে না ....
যেই না এতোটা গাওয়া হয়েছে,অমনি মা, জেঠি,খুড়ি, ঠাকুমারা সব রে রে করে আসতেন। বয়স্কারা চিৎকার করে উঠতেন,
--চুপ কর মুখপোড়া, বাইরে যা, বাইরে যা, কিছুই দিব নাই, যা।
গায়কের কী হাসি,--না গো মা,ইট লয় ।
--আসল গানটি শুন এখন, তবে ,মনে শান্তি পাবে।
এই বলে, খঞ্জনীতে ঝঙ্কার তুলতো আর গাইতো,
গৌরী রাণী গো,
ঘর লেপা হোল সারা,খই মুড়ি হাঁড়িতে ভরা
নাড়ু পিঠা, তুই এলেই,মা, হবে।
বলে দে চাঁদ 🌙, চাঁদবদনী
(আমার) আসবে কবে, গো।
প্রতিপদে না হয় দেখা,
দ্বিতীয়ায় তুমি মেঘে ঢাকা,
তৃতীয়াতে কাস্তা পারা রবে।
চতুর্থীতে মন ভরে না,
পঞ্চমীতে তর সয়না--
জেগে জেগে রাত ফুরায় না,
ষষ্ঠী কখন হবে গো, ষষ্ঠী কখন হবে।
ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের একটি ছোট ভীড় তখন উঠান জুড়ে।মা,ঠাকুরমাদের চোখভরা জল। তাদেরই মধ্যে কেউ একজন কুলো কিংবা পাঁশুলি --পাঁচ সেরের ডালা --ভর্তি খই, মুড়ি-মুড়কি,লাড্ডু, পিঠে ফকিরদের ঝোলায় ঢেলে দিত। ছেলে মেয়েরাও হাত বাড়িয়ে দিত, পেতোও কিছু কিছু।
জীবনের প্রভাত-বেলার এসব হৃদয়াবেগের রক্ত-রেখায় আঁকা স্মৃতি চিহ্নগুলি কি ভোলা যায় ?
(আগামী কাল আবার)
যাদের ঘরের মেয়ে সত্যি সত্যি আছে শ্বশুর ঘরে, আসবে --এই আশায় পথ চেয়ে আছে যে পরিবার, তারা তো সেই ফকিরদের ভাবে দেবতার দূত, বয়ে এনেছে কন্যা আগমনের মঙ্গল সংবাদ।আর সে উৎকণ্ঠা নেই যাদের তারাও মেনকার মেয়ে উমাকেই দেখে আপন ঘরের কন্যা-রূপে।
কেন ছিল এমন উদ্বেগের প্রতীক্ষা? তাঁর সামাজিক কারণগুলি ছিল মর্মবিদারী।কৌলিন্য প্রথার "বল্লালীবালাই"।
--সেই অনুসৃত সংস্কারের ফলস্বরূপ বহুবিবাহ,সতীন-কলহ বহুপত্নীকদের মৃত্যুতে একসাথে বহু অপরিনত-বয়সের অবোধ নারীর শুধু কপাল পুড়তো তাই নয়, সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবন্ত দেহগুলিও মৃত স্বামীর চিতা-শয্যায়, 'জ্বলন্ত প্রেমের লেলিহান অগ্নিশিখায়' ঝলসে ঝলসে "সাবিত্রী সমতুলেষু"হয়ে যেতো। ঢাক-ঢোল, কাড়া-নাকাড়া,সিঙা-ঝাঁঝরের অম্বরভেদী নিনাদের সঙ্গে সমতালে উচ্চনাদী , পৈশাচিক মন্ত্রের কর্ণবিদারী মহারবে ঢেকে যেত অবলা নারীর নরক যন্ত্রণার মরণ-কান্না। নারীমেধ যজ্ঞের সেই বিজয়-উৎসব থিতিয়ে যাবার বহুদিন পর ,"অনুমরণে বা সহমরণে" যাওয়া কণ্যাটির বাপের বাড়িতে পৌঁছাতো সেই খবর। বাপ গর্ব করে ঘোষণা করতো "মেয়ে সতী হয়েছে", (এর কারণও ছিল--তিন, চারটি মেয়ের বিয়ে এখনো বাকি, এদের সঙ্গে আবার ওই হতভাগী? সর্বনাশ! ভালোই হয়েছে, গলগ্রহ ওখানেই মরেছে।)
আর (মেনকা রূপিনী) মা তখন অন্ধকার অন্দরমহলে বুক ঠুকতো ... মাথা কুটত ...চুল ছিঁড়ত !
যাই হোক, আমি আবার ফিরে আসি ওই 'আগমনী বিজয়ার' পালাগানের আসরে।কেননা এতক্ষণে আমার
সংবেদনশীল পাঠগণ আভাস পেয়ে গিয়েছেন মা মেনকাদের উৎকণ্ঠিত প্রতীক্ষার হেতু, কেনই বা 'নবমী নিশিকে সম্বোধন করে বলতেন,
"বার মাস তিতি, সতী, নিত্য অশ্রুজলে
পেয়েছি উমায় আমি,.........।"
সোনার বাংলার এই নারী-নিধন-কাণ্ডের উপাখ্যান 'স্বর্ণাক্ষরে' লেখা আছে শত শত গ্রন্থে, মণীষীদের গবেষণা পত্রে, কবিতায় (সহমরণ--সত্যেন্দ্র নাথ দত্ত), প্রবন্ধে (নারীর মূল্য--শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।প্রাতঃ- স্মরণীয় রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দানবীর, শিক্ষা-সম্প্রচারক কালী প্রসন্ন সিংহ এবং সমকালের বিদেশী শাসক এই নারীঘাতী প্রথার অসম-সাহসিকতায় বিরুদ্ধাচরণ না করলে আরও কতদিন যে মহাশ্মশান ত্রিবেণীর ঘাটে (প্রতি বৎসর সহস্র সতী-দহনের 'পুন্যে পবিত্র' তীর্থক্ষেত্র), বাংলার আরও শত নদীর চড়ায়, প্রকাশ্যে এমন বালিকাবধূ পোড়ানোর 'পবিত্ৰ দায়' সংঘঠিত হোত, কে জানে ! বন্ধ হয়েছে একথা বলিনা,('প্রকাশ্যে' শব্দটির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ) তবে এদেশে এখন বৃহত্তর রমনীকুল 'কৌলিন্য-কলঙ্কের অভিশাপ' থেকে মুক্ত হয়েছে --একথা সত্য। কিন্তু অপ্রকাশ্যে, গোপনে, গৃহাভ্যন্তরে নারী নির্যাতনের অভিযোগ মাঝে মাঝেই ঘোলা জলের উপরে-উঠে -আসা, মড়ক-লাগা মাছের মতো তঞ্ছট করতে করতে সংবাদের শিরোনাম হয়ে যায় ।
কন্যাসন্তানের বিবাহ-পরবর্তী পর্বে গর্ভধারিণী মায়ের বুকে উৎকণ্ঠার যন্ত্রনাটি দেশের সমাজজীবন থেকে সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হবে কি কোনো দিনও ? জানি না,
কেও জানে না ।
"হোক ", এই প্রার্থনা করে ফিরে আসি প্রসঙ্গে :
তা, সেই ফকির বাবারা মহালয়ার পর থেকে রোজই আসে,রোজ দিন নূতন নূতন গান বাঁধে, নূতন নূতন গান গেয়ে শোনায়। এমনি চলে অষ্টমী পর্যন্ত, নবমী থেকে বিজয়ার গান। বিজয়ার একটি এমনি গান আজও ভুলতে পারিনি,
সকাল বেলা যায়ে(গিয়ে)দেখি মা
নদীর ঘাটে নাইকো বাঁধা না'(নাও=নৌকা)।
উমারাণী গেইছে উজানে।
আসে নদী যার জটা বেয়ে,
ছিল কি উমার পথ চেয়ে,
দয়া তার নাই পরাণে,গো ।
কাঁদিস না গো মা মেনকা,
ঘুরলে বছর পাবি দেখা,
জামাই তাকে রাখবেন সম্মানে।
ওমা মেনকা,
কত জল আছে তুর নয়ানে ,গো
কত জল আছে তুর নয়ানে ।
সেদিন আর আজ। দীর্ঘ পথ, ততোধিক দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসেছি আমি,আমরা,আমাদের বাঙলা। দেশভাগ-পরবর্তী
খণ্ডিত বাংলা। পঞ্চাশের মহা-অনটন, মাইলো-ভক্ষণ, ষাটের চিনা আক্রমণ, রেশন বিপর্যয়। সত্তরের বাঙলা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ,আবার উদ্বাস্তু-স্রোত।এইভাবে আন্তর্জাতিক,
জাতীয় ও সামাজিক উপপ্লবের মধ্য দিয়ে কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে এসেছে ---বেরিয়ে এসেছে আজকের ভৌগোলিক পশ্চিম বাংলা। কিন্তু 'বাঙালীর প্রাণ, বাঙালীর ভাষা, বাঙালীর পণ, বাঙালীর আশা' খণ্ডিত হয়নি, ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের কোণায় কোণায়। উত্তর গোলার্ধের কানাডা থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের অষ্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যাণ্ড, পশ্চিমের আয়ারল্যান্ড থেকে পূর্ব দেশের মায়ানমার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ-উপদ্বীপে "অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়" বিভূষিত বাঙালী যখন সে-সকল দেশে দুর্গা পূজার আয়োজন করে, সমবেত হয় বাঙলার সনাতন ঐতিহ্য,কৃষ্টি, সংস্কৃতি নিয়ে,কথা বলে, গান গায় আপনার মাতৃভাষায়,তখন এই বিশ্বব্যাপ্ত বাঙালিত্বের জন্য গর্বে বুক ভরে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি-কাতর হয়ে পড়ি সেই সব ভীক্ষান্ন-সম্বল, মানবপ্রেমের বিগ্রহগুলির অন্তর্ধানে।
'কাল'বৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে-পড়া বনস্পতির শাখা উড়ে যায়,পড়ে গিয়ে নদীর জলে,ভেসে যায় নিরুদ্দেশ, অদৃশ্য হয়ে যায় নদীর বাঁকে। ঠিক তেমনি বৃহত্তর বঙ্গসমাজের ফুল-ফোটানো, ফল-ধরাণো ডাল-পালার মতোই ছিল যারা
তারা হারা হয়ে গিয়েছে আজ। কিন্তু তাদের নিষ্পাপ হৃদয়- কুসুমের সৌরভ, নিষ্কলঙ্ক প্রেমধর্ম-সাধনের অমৃত-ফলের
রস,প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, আবহমান বাংলার জনমানসটিকে
সুরভিত , রসসিঞ্চিত করে রেখেছে এই নিরস,বস্তুসর্বস্ব অত্যাধুনিক পৃথিবীতে।
অমানবিকতার ছবি আজও যখন দেখি, নারীত্বের অমর্যাদা, অসম্মান আজও যখন চোখে পড়ে, আজও যখন ধর্মোন্মাদদের তাণ্ডব চলে গঙ্গা-পদ্মা, মেঘনার ঘাটে ঘাটে, ধানসিঁড়ি নদীটির তীরে, তখন আবার সেই ফকিরদের
প্রেমময় মূর্তিগুলি মনের আকাশে ভেসে ওঠে, তাদের গানের সুর বুকের ভিতরে ঐ "কী হারানোর" বেদনা জাগায়।
তারা নাই কিন্তু তাদের গানের সুর রয়ে গেছে বাংলার আকাশে,বাতাসে,নদ-নদীর তরঙ্গে তরঙ্গে। বাংলায় গান থাকবে যতদিন ততদিন 'নাহি ভয়' ।
বাংলা সাহিত্যের আদি প্রকাশ কাব্যে, কবিতায়। এখনও সে ধারা অব্যাহত, অপ্রতিরোধ্য অপ্রতিহত। তাই কাব্য করেই এই আলোচনাটির সমাপ্তি :
আগমনী বিজয়ার পালা হোল শেষ,
এখনো রয়েছে অবশেষ,
কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা, জগদ্ধাত্রী, কালী আরাধনা,
নয় দূর ভারতীরও পুষ্পার্ঘ্য রচনা।
স্বর্গ হতে অবতীর্ণ চিন্ময়ী সকলে , মৃন্ময়ী রূপ ধরে'
এ বাঙলার ঘরে ঘরে
পূজা পান ভক্তি ও ভীতির উপচারে।
কিন্তু হায়! রক্ত দিয়ে যারা গড়ে মানব সন্তান,
বক্ষরসের ধারে রক্ষা করে প্রাণ,
তাদেরই বলি দিয়ে কতদিন আর,
ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাবে এ সংসার ?
দুলাল বন্দোপাধ্যায়
২০/১০/'২১
ব্যাঙ্গালোর ।