আজ মহালয়ার "শারদপ্রাতে" মঙ্গলশঙ্খের ধ্বনি,পিতৃপক্ষের অবসান।পরলোকগত পিতা-পিতামহ-প্রপিতামহদের আত্মার চিরশান্তি কামনা করে ,পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গার ঘাটে ঘাটে পিতৃতর্পণ।
আমাদের মরণোত্তর সংস্কার সবই
পিতা-কেন্দ্রিক। "পিতা নোহসি পিতা নোবধি।" এই বিধিবিধান বেদপরবর্তী উপনিষদ্ ও ব্রাহ্মণ যুগেরও বহু পরবর্তীকালের।
মাণ্ডুক্য উপনিষদ্-য়ের তর্পণ-মন্ত্র
কিন্তু বিশ্বজনীন:
"ময়া দত্তেন তোয়েন তৃপ্যন্তু ভূবনত্রয়ম্।"
অতৃপ্তির আগুণে দগ্ধ (মৃত) বিশ্বভূবনের সকল আত্মা পরিতৃপ্ত
হোক আমার প্রদত্ত জলের দ্বারা।
আত্মার শান্তিকামনার এই সৎকার ক্রিয়ার মধ্যে (বৈদিক ক্রিয়া) নর ও নারী-র পৃথক উল্লেখ নেই।কিন্তু ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রে পিতার গুরুত্ব অধিকতর। যেমন :
"পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা পুত্রপিণ্ড প্রয়োজনম্।"
ভার্যার প্রয়োজন শুধু পুত্রহস্তের পিণ্ড প্রাপ্তি। নারীত্বের প্রতি কী অমানবিক প্রবঞ্চনা! মরণের পরেও!
তাই যে ব্রাহ্মণ পুরোহিতগণ আজ পিতৃ-তর্পণ-মন্ত্র পাঠ করছেন বা করাচ্ছেন তাঁরা অবশ্যই ইহলোক পরিত্যক্তা পরমারাধ্যা মাতা-প্রমাতাদের উদ্দেশেও যেন কোষাকুষির ডগায় দু'ফোঁটা গঙ্গাজলে, দু'ফোঁটা চোখের জল মিশিয়ে দিয়ে উচ্চারণ করেন:
"তৃপ্যন্তু মাতা প্রাণ প্রদায়িনীম্।"
............................................
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন