মুণ্ডক উপনিষদের একটি মন্ত্র
"যঃ সর্বজ্ঞঃ সর্ববিদ্ যস্যৈষ মহিমা ভুবি
দিব্যে ব্রহ্মপুরে হ্যেষ ব্যোম্ন্যাত্মা প্রতিষ্ঠিতঃ।
মনোময়ঃ প্রাণশরীরনেতা প্রতিষ্ঠিতোহন্নে
হৃদয়ং সন্নিধায় তদ্বিজ্ঞানেন পরিপশ্যন্তি
ধীরা আনন্দরূপংম্ অমৃতং যদ্বিভাতি ---"
যিনি সব জানছেন, সব দেখছেন, এই বিশ্ব তাঁর মহিমা। তার মহিমা শুধু বাহ্যপ্রকৃতিতে নয়, শুধু দেশ কালে ব্যাপ্ত প্রকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর মহিমা মানুষের অন্তরেও, মানুষের সত্তার গভীরেও বিকশিত। তিনিই আত্মা। সেই আত্মা, মানবের অন্তরে যিনি মানবাত্মা যা ব্রহ্মের জ্যোতির্ময় পুরী, সেখানেই বাস করেন। তিনি মন ও চিন্তারূপে অভিব্যক্ত হন, মানবের মন ও প্রাণের যে শক্তি তিনি তার মধ্যে বা মাধ্যমে, হৃদয়ে অবস্থিত থেকে, মানমানবের জড়দেহে কর্মের উদ্যোগ নিয়ে আসেন। বিবেকবান প্রজ্ঞাবান লোকেরা তাঁকেই ভিতরে বাইরে সর্বত্র উপলব্ধি করেন। তিনিই আনন্দস্বরূপ, অমৃতস্বরূপ, যার মহিমা দৃশ্যমান বিশ্বে উপচে পড়ছে।
সৃষ্টি এবং স্রষ্টার মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে। সেইটি যিনি উপলব্ধি করেন তিনিই ধার্মিক, তিনিই সাধক, তিনিই কবি। একথা ঠিক যে, ধর্মের মূলে দুটি বিভাগ আছে। একটি দর্শন বিভাগ, অন্যটি আচরণ বিভাগ। দর্শন বিভাগটিকে 'শ্রুতি' এবং 'আচরণীয়' ভাগটিকে 'স্মৃতি' বলাই যুক্তিযুক্ত।
শ্রুতি বিভাগটি সমস্ত ধর্মের ক্ষেত্রে প্রায় একই। ঈশ্বর এক, অদ্বিতীয়। তিনি এই সৃষ্টির স্রষ্টা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা এবং সংহারকর্তাও। বিশ্বে যত বড় বড় ধর্ম বা 'ঈশ্বরসংক্রান্ত' বা 'সৃষ্টি ও স্রষ্টা- কেন্দ্রিক' মতবাদের জন্ম হয়েছে, যেমন পারসিক, ইহুদী, খ্রীষ্টান, ইসলাম--- এই সকল ধর্মমতগুলির যাঁরা জন্মদাতা বা প্রবর্তক যেমন জরাথুষ্ট্র, মোসেস, যীশু খ্রীষ্ট, হজরত মোহম্মদ --- এঁরাই পরবর্তীতে 'ঈশ্বরপ্রমাণ' হয়ে গিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন তাঁরা ঈশ্বরের দূত বা ঈশ্বরের সন্তান বা ঈশ্বর-প্রেরিত পুরুষ --- পয়গম্বর বা অবতার বা ঈশ্বরের সন্তান। রবীন্দ্রনাথ এই সমস্ত 'ঈশ্বরপ্রমাণ' মানুষদেরকে স্বর্গের দূতরূপেই সম্বোধন করেছেন।
"ভগবান তুমি যুগে যুগে দূত পাঠায়েছ বারে বারে
দয়াহীন সংসারে।
তারা বলে গেল ক্ষমা করো সবে, বলে গেল ভালবাস,
অন্তর হতে বিদ্বেষবিষ নাশো ...."
এনাদের বাদ দিয়েও জৈনমুনি মহাবীর বর্ধমান, শাক্যমুনি তথাগত গৌতম বুদ্ধ, প্রেমাবতার মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব, সর্বধর্মসমন্বয়ী শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব --- তাঁরাও তো এই মাটির পৃথিবীতেই বিচরণ করে গিয়েছেন। তাঁরা কেউই এই বস্তুজগৎ ও প্রাণময় জগৎ-প্রপঞ্চকে অস্বীকার করে' আপন আপন মোক্ষলাভের আকাঙ্ক্ষায় সংসার-বিবিক্ত, মানবতা-নিরপেক্ষ জীবনাচরণ অবলম্বন করেন নি। গৃহত্যাগ করেছেন, সন্ন্যাস নিয়েছেন, কঠোর কঠিন সাধনায় মগ্ন থেকেছেন জীবনের উর্বর সময়কালে। সর্বস্ব ত্যাগ, অপার তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে, দু্ঃখময় সংসার থেকে মুমুক্ষুত্ব অস্বীকার করে সে সকল মহামানব মানুষকে মনুষত্ববোধে উদ্বোধিত করবার সাধনায়, মানুষের সঙ্গে থেকেই জীবনপাত করে গিয়েছেন। তাঁরা সকলেই 'একটিই' এবং বিশেষরূপে একটিই অমৃত বাণী, সাধনালব্ধ সত্য উচ্চারণ করেছেন, "হে মানব, দেখ, তুমিই ঈশ্বর, তোমার মধ্যেই স্রষ্টার ও তাঁর সৃষ্টির ঐশ্বর্য রয়েছে। উপলব্ধি কর।
_______________________________________
ছান্দোগ্য উপনিষদ থেকে উদাহরণ
ছান্দোগ্য উপনিষদে ব্রহ্মজ্ঞানী মহর্ষি আরুণি উদ্দালক পুত্র শ্বেতকেতুকে বার বার যেমন বলছেন,
"তৎ তম্ অসি"--তুমিই সেই শ্বেতকেতো।
উপনিষদ সমূহের চারটি মহাবাক্যের মধ্যে এটি অন্যতম। গুরু বা পিতা ব্রহ্মবিদ্ মহর্ষি আরুণি, যিনি নিজেই বলতে পারেন 'অহম ব্রহমাস্মি' (বৃহদারণ্যক উপনিষদের অপর একটি মহাবাক্য) তিনি সন্তান ও শিষ্য শ্বেতকেতুকে বলেছেন "তত্ত্বমসি"-- তিনি (সেই ব্রহ্ম) হও তুমি। 'আমি ব্রহ্ম' -- সাধনার পথে এই সিদ্ধি লাভ করবার পরে ব্রহ্মজ্ঞ ঋষি যখন বলেন, 'তুমিও সেই' তখন যে আত্মোন্মোচন ঘটে তাই জীবনের সর্বোত্তম চরিতার্থতা। বৈদান্তিক ঋষিগণের এমত মহাবাণী আমরা যখন শুনি তখন, বিকারগ্রস্ত, অজ্ঞানতাবশতঃ আত্মবিস্মৃতির মেঘ কেটে যায়, অন্তরাকাশে চিরজ্যোতির্ময় আত্মা, পরমাত্মার প্রতিবিম্ব উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। বেদান্ত এইভাবেই আমাদের অন্তরে, বিবেকে, সম্বিতে সত্যের অমোঘ বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, 'তুমিই ব্রহ্ম, তুমি নিত্য, তুমি জ্যোতির্ময় আত্মা। ব্রহ্মজ্ঞান কোন বাইরের বস্তু নয়, তুমি স্বরূপতঃ যা তাই -- অজর অমর নিত্য শুদ্ধ পরমাত্মার প্রতিরূপ।'
মহর্ষি আরুণি দেখালেন অশ্বত্থ বৃক্ষের একটি ফল, ফলের মধ্যে বীজ, বীজ ভাঙলে আর তো কিছু নাই। তাহলে এই 'নাই'-এর ভিতরে কি এমন আছে যে ঐ অতি ক্ষুদ্র একটি অশ্বত্থ ফলের বীজ থেকে এক বিপুল মহীরুহর জন্ম হোল ? এখানেই চৈতন্যরূপ পরমাত্মার অবস্থিতির সত্য অসন্দিগ্ধ রূপে প্রতিষ্ঠিত, যা সর্বত্র, সর্বভূতে বিরাজমান। "তোমার মধ্যেও সেই চৈতন্যময় পরমাত্মা, তুমি নিজেই সেই, শ্বেতকেতো।" তোমার মধ্যেই সেই বীজনিহিত আছে। অদৃশ্য, অজ্ঞেয় চৈতন্যসত্ত্বা যা কায়া লাভ করে 'মহীরুহ' হয়েছে, মহীরুহ হয়। 'মহী' শব্দের অর্থ পৃথিবী, রূহ শব্দের অর্থ জন্ম হওয়া। (দুইটি শব্দ সমাসবদ্ধ (বহুব্রীহি) হওয়ার ফলে পরবর্তী শব্দ 'উ'-কার।) মহীতে অর্থাৎ মাটির পৃথিবীতে যদি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বীজের মধ্যে লুপ্ত-সুপ্ত, অচিন্ত্য চৈতন্যকণা বিপুল বনস্পতির জন্ম দিতে পারে তবে অনাদ্যন্ত এই মহাবিশ্বের জন্মও দিয়েছেন সেই অব্যক্ত, অনির্বচনীয় 'মহাচৈতন্য' ; যাঁকে বেদান্ত বলছেন 'ব্রহ্ম', বলছেন 'পরমাত্মা'।
___________________________________
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বাণীতেও মাণ্ডুক্য উপনিষদের ঐ মহামন্ত্রের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই আমরা। নরেন ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি ভগবান দেখেছেন ?" ঠাকুরের তাৎক্ষণিক উত্তর, "দেখেছি তো ; এই যেমন তোকে দেখছি।" নরেন স্তম্ভিত, কত সহজেই, কত অনায়াসে পুঁথিগত-বিদ্যাহীন দক্ষিণেশ্বরের 'পাগল' ঠাকুর প্রাচীন ভারতভূমির তপোবনের মহর্ষিদের তপস্যালব্ধ মহাসত্যকে জীবন্তরূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন, যেমন অবলীলায় তিনি বলতে পেরেছিলেন, মা ভবতারিণী যে প্রাণময়ী, "কথা কয় যে!" ঠাকুরের সঙ্গে মা ভবতারিণীর "কথাবার্তা" আর তো কেউ শুনতে পেতেন না। এটিই সাধনা। সারা জীবনের নিষ্কাম সাধনায়, অনন্যা ভক্তির অশ্রুজলে, কাম-কামনা-বিবিক্ত পরাচিন্তার ধ্যানে নিমগ্ন থেকে পাষাণ প্রতিমায় তিনি ব্রহ্মময়ীকে প্রাণময়ী জননীরূপে লাভ করেছেন। তাঁর কাছে তখন 'আসল নকল একাকার।' ('নিমাইসন্ন্যাস'পালা দেখে নটী বিনোদিনীকেও ঠাকুর এ-কথা বলেছিলেন।)
মানুষের মধ্যেই স্রষ্টার ও সৃষ্টির সমস্ত গুণ যে বিদ্যমান তা উপলব্ধি করেন 'বিবেকবান ও প্রজ্ঞাবান' যাঁরা ; কিন্তু তাঁদের স্তরের বাইরে যারা আছে, আমাদের মত জৈবিক জীবনের ক্ষু্ৎপিপাসা নিয়েই নিরন্তর সংগ্রামরত, তাদের আত্মোপলব্ধি উপায় কি ? তাদের উপায় তাই করা যা তাদের জীবনধারণের সহায়ক। এবং তাই মানুষ করে। বিশ্বপরিব্যপ্ত মানবসংসারে নিত্যদিনের যে কর্মধারা তা ওই জীবনধারণের জন্যেই। কিন্তু এখানেই একটি সূক্ষ্ম ব্যতিক্রম আছে। বেঁচে থাকার জন্য যে যে কাজ মানুষ করে -- কৃষিকাজ, পশুপালন, আবাস ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নির্মাণ (ঘরামী, কুম্ভকার, কর্মকারদের কাজ) ছাড়াও এমন অনেক সৃজনশীল কাজ মানুষ করে, যা শুধুমাত্র জৈবিক জীবনের প্রয়োজনে নয়, আত্মিক সত্তার আনন্দ লাভের তাগিদে। এই 'তাগিদ' প্রাণরক্ষার কর্মপ্রবনতার চাইতেও তীব্রতর এবং তাই বা তার জন্যেই প্রকৃতির দেওয়া পৃথিবীটাকে মানুষ নিজের মত করে গড়ে নিয়েছে, গড়ে নিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে দেহাতিরিক্ত যে মননজগৎ, আবেগময় হৃদয়পুর সেখানেও তার অহেতুক লীলাবিলাস -- অরূপের সাধনা। শিল্প সাহিত্য স্থাপত্য ভাস্কর্যের সৃজনপ্রয়াস।
এইখানেই মানুষ আর ঈশ্বরের একত্বের ভাব। তবে এই 'একত্ববোধ' সাধনসাপেক্ষ। এই সাধনার পথ যিনি দেখান, জ্ঞানরূপ পাথেয় যিনি দান করেন তিনিই ঈশ্বরের দূত, তিনিই অবতার বা 'ঈশ্বরপ্রমাণ' মানুষ। তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে অজ্ঞান-তিমিরে আচ্ছন্ন চৈতন্যসত্তাটিকে জাগিয়ে তোলেন। কিন্তু তাই কি মানবসমাজে হয়েছে বা হয় ? হয় নি এবং হয় না।
এমন 'পত্রপাঠ' অস্বীকার 'নির্বিচারের' সমার্থক মনে হলেও এই 'অ-স্বীকৃতি' সত্য। কেননা মানুষের অন্তরের ভিতরকার সুপ্ত দেবত্বকে জাগ্রত করবার শিক্ষা থেকে আমরা আলোকবর্ষ দূরে রয়েছি। যে শিক্ষা শুধুমাত্র জৈবিক জীবনধারণের 'উপায়গুলির' সন্ধান দেয়, জীবনাচরণের, জীবনানুসন্ধানের অনুসন্ধিৎসায় প্রাণিত করে না, তেমন শিক্ষাব্যবস্থা রূঢ় বাস্তবতার পক্ষেই সওয়াল করে, দৃশ্যমান জগতের কথা বলে। কিন্তু কঠোর বাস্তবতা নিরপেক্ষ, দৃষ্ট-জগতের অতীত এমন কিছু স্বপ্ন-কল্পনা, আবেগ-অনুভূতি আছে যেগুলি না থাকলে মানুষ ও মনুষ্যেতর প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য থাকে না। স্বপ্ন ও কল্পনাই মানুষের সৃজনশীলতার উৎস যা সভ্যতার পথে মানুষকে উত্তরোত্তর ক্রমোত্তরণের সীমান্তপারে পোঁছে দিয়েছে এবং অন্তরের আবেগ ও হৃদয়ের অনুভূতি মানুষের সেই অদৃশ্য চিত্তধর্ম যা মানুষকে বিশ্বমানবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে, জৈবিক দেহাতিকা বোধের গন্ডীবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছে। বাস্তবানুগ শিক্ষায় আজ মানুষ জল-স্থল-আকাশ-বিজয়ী, কিন্তু অদৃশ্য চিত্তধর্মের শিক্ষায় আমরা আত্মজয়ী হতে পারিনি। যে আত্মজয়ের দ্বারা মানুষ তার সমস্ত হীনতা, দীনতা, সংকীর্ণতার নাগপাশ ছিন্ন করে বলতে পারবে,
শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ।
আ যে দিব্যানি ধামানি তস্থু ।।
পরাহমেকং পুরুষং মহান্তং।
আদিত্যবর্ণং তমস পরস্তাৎ।।
হে বিশ্বের অমৃতের পুত্রগণ, তোমরা শোন ; সমস্ত তমসার (অন্ধকারের) পরপারে আদিত্য বর্ণের যে জ্যোতির্ময় মহান পুরুষ বিরাজমান, তোমরা তাঁরই সন্তান।
জগৎসংসারের সকল মানুষ 'অমৃতস্য পুত্রাঃ' --- তপোবন-ভারতের ঋষিমুখ-নিঃসৃত এমন শিক্ষার দ্বারা যদি এই বোধ জাগ্রত হয় তবে তো বর্তমান (সভ্যতাকে যিনি সংকটাপন্ন দেখে গিয়েছেন) ভারতের ঋষিকবিকে এমন ভর্ৎসনার বাণী উচ্চারণ করতে হোত না,
"ক্ষুব্ধ যারা, লুব্ধ যারা
মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা,
শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনা-কুণ্ড তব ঘেরি
বীভৎস চীৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি,
নির্লজ্জ হিংসায় করে হানাহানি।"
আমাদের 'উপনিষদগুলি' এমন শিক্ষা দান করেন যা মানুষকে পশুত্বের প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি দেয়, তার অন্তরের দেবত্বকে জাগ্রত করে। 'মাণ্ডুক্য' উপনিষদ এতদূর পর্যন্ত বলেছেন যে মানুষ তার মনুষত্বের সাধনায় স্বয়ং ঈশ্বরের 'ঐশ্বর্য' লাভ করতে পারে। সে বলতে পারে,
"অয়ম্ আত্মা ব্রহ্ম।" (অপর একটি মহাবাক্য)।
'আমার এই আত্মাই ব্রহ্ম' -- এই কথাটি বলবার জন্য সাধনা চাই। নিজেকে জানা চাই। এই নিজেকে জানা বড়ই দুরূহ।
ছান্দ্যোগ্য উপনিষদও এমন কথা বলছেন। বলেছেন,
"ওঁ, অথ যদিদম্ অস্মিন ব্রহ্মপুরে যদিদম্ দহরম্ পুণ্ডরিকম্ বেস্ম দহরোহস্মিন্ অন্তরাকাশঃ যৎ অন্তঃ তৎ অন্বেষ্টব্যম্ তৎ বাব বিজিজ্ঞাসিতব্যম্ ইতি।।"
--- খণ্ড ১/১।
ওঁ, এই যে 'ব্রহ্মনগর' (প্রাণময় দেহ), এর অভ্যন্তরে পদ্মের মতো রাজপুরীর মত গৃহ আছে। এই গৃহ হৃদয়। তাঁর ভিতরে এক ক্ষুদ্র আকাশ আছে। সেই আকাশের ভিতরে কি আছে তাঁকে খুঁজতে হবে ; এবং তাঁকেই জানবার চেষ্টা করতে হবে।
আলোচনার প্রারম্ভে 'মুণ্ডক' উপনিষদের ওই যে "দিব্য ব্রহ্মপুরের চিন্তা" পরমব্রহ্মের দৈব করুণায় আমাদের অজ্ঞান-তিমিরান্ধ চিত্তে অকস্মাৎ উদ্ভাসিত হয়েছিল, এতক্ষণে সেই অমর্ত্য চিন্তার কণাতিকণার হৃদয়ঙ্গম হয়েছে বোধ হয় -- আমার এবং সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরানুরক্তপ্রাণ সুধী পাঠকবৃন্দেরও।
ওঁ আসতো মা সদ্গময়
তমসো মা জ্যোতির্গময়
মৃত্যোর্মা অমৃতংগময়।।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি হি।।
_____________________________________
দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
২০ মে ২০২৫
কলকাতা।