বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

বর্ষা, অশ্রু হাসিতে মেশা

ঝর-ঝর-ঝর অবিরল ঝরে আষাঢ়ের জলধারা, 
পথ ঘাট মাঠ টইটুম্বুর, নদ নদী কূল হারা। 
মনে পড়ে আজ অতীতের কথা খড়ের ছাউনি ঘরে, 
দুগ্গাদিদি ঝাঁট দেয় জল অশ্রু আড়াল করে'। 

'লেবুর পাতায় করমচা এই বৃষ্টি থেমে যা।'
দুখের সে গান বুকে আছে কতো মুখে তার আসে না। 

হঠাৎ আবার হাসির ঝলক কালো মেঘে ক্ষণপ্রভা, 
"আয়রে অপু, ভরে গেছে দেখ্ সকল পুকুর ডোবা। 
কুঁড়োজালি দিয়ে ধরবো চিংড়ি দেখবি কেমন লাফায়, 
 ব্যাঙেদের গলা সব ফোলা ফোলা পাড়ে বসে শুধু চেঁচায়।"
 "মুখপুড়ি, তুই নিবি না অপুকে নিজে গিয়ে মর সেখানে, 
সাপ বিছে কত জলে জঙ্গলে ঘুরছে এখানে ওখানে।" 
জলে ভেজা চুল, ভিজা সে কাপড়, ভিজা ঘরে শুয়ে থেকে, 
জ্বরে ভুগে ভুগে দিদি গেল চলে 'অপুভাই'-য়ে ঘরে রেখে। 

দুগ্গাদিদিরা কোথা আজ হারা বিস্মৃত সাগর নীরে,
অপুদের ঘর আকাশে উঠেছে বেদনার বুক চিরে।
বাদল বাতাসে হু হু করে' আসে সে বিষাদ বরষার,
বারিধার আর নয়ন আসারে ঢেকে যায় চারিধার। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৯/০৬/২০২২
শিলিগুড়ি। 

(ভালো, মন্দ যেমন মনে হয় তেমনিই 'মন্তব্য' blog-য়ের 
 নীচে লিখুন। বই প্রকাশকালে  নামসহ তার উল্লেখ থাকবে।--লেখক।)










সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২

রং

রঙ 

মুছে দিতে চাও সব রঙ,  
সূর্যোদয়ের, সূর্যাস্তের, মেঘেদের, ইন্দ্রধনুর, 
নির্মেঘ নীলিমার, ফুলেদের, পাখীর ডানার ? 
কনেদেখা গোধূলির আলো, লজ্জাবস্ত্র নববধূটির, 
শুভদৃষ্টির আরক্ত সংরাগ, বিরহ-বিষাদঘন অশ্রুকণার  
জলরঙ, মেঠোপথে রাঙাবাঁক মেয়েবিদায়ের --- 
এত যে রঙের খেলা চরাচর জুড়ে, উৎস তার 
অন্তরের গভীরে, গোপনে। সেখানে হৃদয় সিংহাসনে
রাজা হয়ে আছে প্রেম, আলো তার দুচোখে আমার। 
প্রেমালোকে দেখি সৃষ্টি---বর্ণিল, সুন্দর, সত্য, চিদানন্দময়। 
                   তুমি তাকে পেয়েছো কি, দেখেছো কি 
বর্ণময় এ বিশ্বের অপরূপ রূপ --- শতরঙে নিত্যই রঙিন। 
তোমাদের অন্ধ লোলুপতা, চিতাবহ্নিশিখার মতন 
দহন করেছে নিত্য যত রূপ যত রঙ আকাশ ধরার। 
উঠেছে ঘূর্ণিঝড়, উড়ছে দহনশেষ চিতাভস্মরাশি। 
প্রেমহারা দুই চোখে তাই দেখ শুধু ছাই, একরঙা ধূসর জগৎ।  

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭/০৬/২০২২
শিলিগুড়ি।










শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০২২

কাঁঠালি চাঁপা

কাঁঠালি চাঁপার লতানে শাখার তলে
লুকিয়ে ফুটেছে ফুল। 
বাদল বাতাসে ভেসে আসে তার সৌরভ। 
সাথে নিয়ে এলো অলক্ষ্যে চুপিসাড়ে,
স্মৃতির তরণী বেয়ে, 
দূর অতীতের বিস্মৃত আষাঢ় সন্ধ্যা। 
বলেছিল কেও যেন, 
--দাও এনে দুটো ফুল 
কাঁঠালি চাঁপার সোনার বরণ ঝুমকো। 
পরবো 👂 কানে, দেখবে তুমি চেয়ে, 
বলবে আমায়, ‌'ওগো কুসুম বালা'। 
--কালকে নাহয় তোমায় দেবো গেঁথে
সিক্ত যুথীর মালা। 

সেই নদীপার, মাটির কুটীর, ভরা বরষার সন্ধ্যা, 
নদীর ভাঙনে অতল প্লাবনে হারা। 
আমার অশ্রুধারা মিশে যায় আজ অঝোর বৃষ্টিধারে। 
হায় গো আমার 'নিঠুর দরদী' আষাঢ়,
কত যে ভেঙেছ জীবন নদীর কূল।
ভেঙেছ যে ঘর তারি আঙিনায়
গোপনে ফুটেছে কাঁঠালি চাঁপার ফুল।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৪/০৬/২০২২





বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

বাবুইয়ের বাসা

এতদিন ঠিক ছিল, 
দুলছিল হাওয়ার দোলায় , 
এক তালগাছ উপরে , আকাশে। 
কতোদিনের স্বপ্নের সাধের,  
আনন্দ মাখা কষ্টের সে ঘর , 
জানিনা ছেলে পুলে ছিল কিনা, 
নাকি শুধুই বুড়া বুড়ি --- 
বেটা বিটি ছাড়া ছাড়ি, 
ঘর তারা বেঁধেছে প্রবাসে-- হয়তোবা। 
হঠাৎ জৈষ্ঠ্যের ঝড়ে 
অমন সুন্দর স্বর্গ ভবন
ভূমিসাৎ, গড়াগড়ি মাটিতে কাদায়। 
আমারও আকাশে বাড়ি, 
বাড়ি ঠিক নয়, নীড়, 
সাজানো গোছানো ছিমছাম পরিপাটি। 
সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে গড়া। 
মনে জাগে ভয় কখন কীর্তিনাশা 
প্রলয়ঙ্করী প্লাবনে আসবে ধেয়ে, 
কোলে টেনে নেবে চিহ্নবিনাশী প্রেমে। 
কোন তীরে তার 
আমার এই নভোনীড় 
যেন বিসর্জনের প্রতিমার কাঠামোটি, 
নীরবে রইবে পড়ে
কপালেতে আঁকা চিরবিদায়ের টিপ --- 
ভূমিশয্যায় শেষ শয়নের পূত গঙ্গার মাটি।। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৪/০৬/২০২২ 
শিলিগুড়ি। 














সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

অঝোরে বাদল ঝরেছিল কাল রাতে

অঝোরে বাদল ঝরেছিল কাল রাতে, 
দীপ্ত সূর্য উঠেছে সুপ্রভাতে, 
লুকায়েছে মেঘ, আলোর ঝর্ণা ঝরেছে, 
শ্যামল শোভন সজল ধরণী প্রাণ বন্যায় ভরেছে।

এমনি ভাবেই বইছে জীবন যুগ ও যুগান্তর,
আজ ছায়া, কাল আলোর আশিষ ঝরছে নিরন্তর। 
দুর্দিন আসে, নিভে যায় দীপ কুটীর অন্ধকার, 
আঙিনা বিদেশ, মাটি জল একাকার, 
হঠাৎই ক্বচিৎ জ্বলে বিদ্যুৎ রেখা, 
সে আলোয় দেখি দাঁড়ায়ে রয়েছে আমার প্রাণের সখা। 

যার ভরসায় রাত কেটে যায়, ঊষার অরুণোদয়ে 
চোখ মেলি বিস্ময়ে
কেন যে দেখিনা সেই চিরচেনা ছিল যে আমারই সাথে,
মনে মনে তাকে খুঁজেছি আলোয় পেয়েছি আঁধার রাতে।
সেকি শুধুই স্বপ্নমায়া, 
যার কথা ভেবে জীবন কাটাই তারই অলীক ছায়া ? 

জীবন রথের সারথি আমার এই বার দাও দেখা, 
জীর্ণ ঘরের আলো আঁধারের খেলাঘর ভাঙ্গো সখা। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২১/০৬/২০২২ 
শিলিগুড়ি। 






বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

প্রতীক্ষা

কেন যে এমন হয়, 
মাঝে মাঝে এ জগৎ দেখি শূণ্যময়। 
কোথায় ছিলাম আমি, যাবো বা কোথায়, 
কোথায় বা চিরন্তন প্রাণের কুলায়। 
জন্ম আর মৃত্যুর মাঝখানে 
দ্বন্দ্বময় জীবনের বিচ্ছেদ ও বেদনার অকাল প্লাবনে, 
ধরেছি সুখের খড়কুটো -- অস্তিত্বের মানস আশ্রয়। 
ওই বাদলের স্নেহধন্যা নদী তরঙ্গিনী, 
চলমান কালের ঘরণী, 
দুরন্ত তরঙ্গধারে নিয়ে যায় যতটুকু করেছি সঞ্চয়। 
এই আছে, এই নাই, মুহূর্তে বিলয়
ধন-মান-প্রতিষ্ঠা-বৈভব, পুণ্যের মোহ কিম্বা প্রেমের
বাসনা,  
অন্তহীন নিরর্থক চাওয়ার কামনা। 
কেন এত সাধ তবে, এত স্বপ্ন, কল্পনাবিলাস ? 
না পেয়ে সে মায়ামৃগ কেন দীর্ঘশ্বাস ? 
সবই বুঝি, তাও বাঁচি অমর আশায়। 
কিছুই রইবেনা জানি, তবু কার ব্যগ্র প্রতীক্ষায় 
বসে আছি গৃহকোণে উদাসীন,  শ্রাবণের সান্ধ্য অন্ধকারে ? 
ঝরে জল অবিরল, মেঘ ডাকে, মনে হয় এই বুঝি এলো সে, দাঁড়ালো দুয়ারে।। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৭/ ০৬/২০২২ 
শিলিগুড়ি। 
('শ্রাবণের' হবে)















মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

হড়পা






হে মহপ্লাবন, ধৌত কর ধরিত্রীর ক্লেদ, আবর্জনা, 
পবিত্র,নির্মল, শুদ্ধ প্রকৃতির প্রথম রচনা , 
আবার আসুক ফিরে আদিতম মানবের বিস্মিত দৃষ্টিতে 
যা ছিল ভীষণ -- নিষ্ঠুর, নির্মম, উগ্র, প্রলয়ে সৃষ্টিতে। 
উলঙ্গ জীবন ছিল নির্লজ্জ নির্ভয়,
নির্জ্ঞান প্রমত্ত প্রাণ মুক্ত নিরাশ্রয়,
জীবনের সাথে নিত্য মৃত্যু নিয়ে খেলা 
 ঈশ্বরের সঙ্গে যুদ্ধ পাপ পুণ্যে তীব্র অবহেলা, 
ধর্মাধর্ম দ্বন্দ্বহীন, বন্যপ্রেম, বিপুল উল্লাস 
নাই শ্রান্তি, নাই ক্লান্তি,  নাই নাই অপ্রাপ্তির ব্যর্থ দীর্ঘশ্বাস।।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৬/০৬/'২২
শিলিগুড়ি






রবিবার, ১২ জুন, ২০২২

ধর্ম

ধর্ম, সে তো সূর্যের মতো ঘুচায় অন্ধকার, 
ধর্ম, সে তো বর্ষার মেঘ ঝর ঝর বারিধার। 
ধর্ম, সেতো জননীর স্নেহ বিগলিত করুনায় , 
প্রাণেতে পূর্ণ রেখেছে ধরণী আপন বক্ষ-সুধায়। 
তোমার ভূবনে তোমার ধর্ম সত্য ও সুন্দর 
কেন তবে এত কোলাহল, এত দ্বন্দ্ব নিরন্তর। 
আমার ধর্ম প্রেমের ভিক্ষা তোমার হৃদয় দুয়ারে 
ফিরাবে আমায় অবমাননায় বেদনার উপহারে ? 
ধর্মের সাথে মর্ম মিলায়ে বিশ্ব যে চিরবহমান। 
মানুষের দ্বারে করে মাধুকরী প্রেমপিপাসিত ভগবান। 
আঁধারের পারে আলোর যে পথ সে পথের সন্ধানে, 
চলেছে মানুষ অনন্তকাল দুর্গম অভিযানে। 
সে-তীর্থপথের পাষাণ সোপানে এঁকো না রক্তরেখা, 
আকাশদেউল-শীর্ষে জেগেছে ঊষার জ্যোতির্লেখা। 
আত্মহনন  ভ্রাতৃহনন  ধর্মদহন  শেষে --- 
মহামিলনের তীর্থাঙ্গনে মিলতেই হবে এসে। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
১৩/০৬/২০২২













                          ‌

আজ সকালের শীতল বাতাসে

অনুভব 


আজ সকালের শীতল বাতাসে 
              কার বাণী এলো ভেসে, 
কার সোহাগের স্নিগ্ধ পরশ 
              অঙ্গ জুড়ালো এসে। 
দেখি নাই তাকে চিনি নাই তাকে
               বুঝি নাই তার ভাষা, 
তবু মনে মনে সারাটি জীবন 
          করেছি কি তারই আশা ? 
দুঃস্বপ্নের রাত্রি শেষের 
              সেই কি ঊষার মায়া ? 
 আঁধার সাগর মন্থনে পাওয়া 
            আলো দিয়ে গড়া কায়া ? 
এতো দিন পরে মানসী প্রতিমা 
               সমুখে দাঁড়ালো এসে, 
সাধনার ধন পেলাম আজিকে 
                  বহু সাধনার শেষে। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১২-৬-২০২২ 
শিলিগুড়ি।









মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২

যাত্রা পথে

                         অন্বেষণ

জীবনের যাত্রা পথে বাঁকে বাঁকে মানব মন্দির -- 
শঙ্খ বাজে, ঘণ্টা বাজে, সমুদ্গত মন্ত্রের সঙ্গীত, 
মসজিদে আজান গান, গীর্জায় প্রার্থনা, 
 আশ্রমে, মঠে অহোরাত্র ঈশ্বর আহ্বান। 
যত কিছু মন্ত্র তন্ত্র ভজন সাধন, পূজা আয়োজন, 
সকলি যে দেবতার নামে, তাঁকে আমি দেখিনি কখনো। 
আমার দুচোখ ভরা মানব মূরতি, প্রসন্ন চিত্তের নরনারী 
নৈবেদ্য নির্মাল্য হাতে প্রনত বা অবনত বিনম্র শ্রদ্ধায়। 

মানুষের এই ভাব, এই রূপ, এই পুণ্য আত্মনিবেদন 
নাই কি কোথাও তার কোন সার্থকতা ? কোন প্রাপ্তি ?  
  নিরুত্তর দিনের দেবতা !
                                     দিনান্তের ছায়া ঢাকে 
সম্মুখের পথ,  লুপ্ত হয় পশ্চাতের ক্লান্ত পথরেখা। 
অকস্মাৎ ভগ্ন ওই মন্দির প্রাঙ্গনে কে  দিল গো ডাক -- 
"ক্ষান্ত হও হে পথিক, শ্রান্ত সব চরণের এখানে আশ্রয়।" 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৯/০৬/২০২২ 
শিলিগুড়ি।












রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

বর্ষা বাণী

'বর্ষা আসে' -- এমনিই বার্তা ভাসে আকাশে বাতাসে। 
দিগন্তে ইঙ্গিত হানে বিজলীর হাসি, বাজের হুঙ্কার, 
প্রবৃদ্ধ বলরাম দাঁ হাল বাঁধে, কোদালে দেয় শান। 
নিজ হাতে গরুকে খাওয়ায়, তারা তার সৃজনের সাথী। 
মনে মনে ঠিক করে কোন্ জমি, হবে কি ফসল। 
স্বপ্ন দেখে হেমন্তের স্বর্ণালী সন্ধ্যার, লক্ষ্মী প্রতিমার। 

খবর সত্যি হোল, এলো মেঘ দিক দিগন্ত জুড়ে, 
আগমনী শঙ্খ বাজে মুহুর্মুহু, প্রদীপের দীপ্ত শিখা জ্বলে। 
অজয়ে হড়পা বান, সরসী উত্তাল, বাদলে মাতাল বনভূমি। 
রক্তে সাগরের ঢেও বলরাম দাঁ-র, শিরায় শিরায় বহে নদী। 
না ফুরাতে রজনী-আঁধার ছুটে যায় মাঠে বলরাম। 
দিতে হবে আলের বাঁধন, ফাটলেতে, ফাটা ক্ষেতে তালি। 
মাঠে জল টলটল, মাটি ভিজে গলগল, ছলছল 
আঁখি জল---ঋতুমতী মেদিনীর অপূর্ব সে রূপ--- 
 ঝলমল ভোরের আলোয়! দেখে আশা মিটে না রামের। 

 নিরক্ষর কবি যে সে, কাব্যগ্রন্থ তার তৃণাঞ্চলা বসুধা সুন্দরী। 
মাঠ মাটি কাদা জলে, দীপ্র রৌদ্রে, বর্ষণধারায় 
হাল চলে বলরাম দাঁ-র। বীজ পড়ে, ধরিত্রী গর্ভিনী হয়, 
হাসে রাম-- শস্যশ্যামলা ভূমি তারই তো রচনা। 

এই কাব্য বিগত বর্ষার, আজ তার নাই কিছু আর। 
মরা গাছে, পোড়া ঘাসে, ধূলি ধূমে ওঠে হাহাকার ! 
পাথর ভাঙার কান্না ভূমি গর্ভ হতে -- কালের বিধান! 
 সভ্যতার রথচক্রঘায়ে রামের সে কাব্য আজ পাথর খাদান। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৬/০৬/২০২২ 
শিলিগুড়ি।















শনিবার, ৪ জুন, ২০২২

কোথা যাও ?

কোথা যাও পাখি, 
এই তো ছিলে তুমি মালঞ্চে আমার। 
 আনন্দের দিনে গেয়েছিলে গান -- সপ্তসুরে, 
বিষাদে আমার পড়েছিল ঝরে 
তোমার কন্ঠের সুধা --প্রবোধ রাগিনী। 
স্মরণে মননে জাগে কতো কথা, 
তোমার পাখার ছায়া একান্ত দুর্লক্ষ্য, হে পাখি, 
তবু পুষ্পময় কাননের প্রতি কুঁড়ি জানে 
সে ছায়ার স্নেহের করুণা, বাৎসল্যের মায়া। 
নিজে তুমি সয়েছিলে দাবদাহ, সর্বনাশা ঝড়, 
 অবিরল ধারা শ্রাবণের, মর্মভেদী হিমানী বাতাস, 
ভেঙে গেছে নীড় বারে বারে, হয়ে গেছে হারা
কোলের শাবক, মরণ-নিষাদ হরণ করেছে সাথী ; 
তাও কেন উচ্ছলিত অতলান্ত মমতাসরসী ? 
কোথা হতে পেয়েছিলে মাতৃত্বের অমৃত ভাণ্ডার ? 

আজ সবই দিয়ে, শব হয়ে আছো শুয়ে 
চিহ্নহীন বিলয়ের শূণ্য প্রতীক্ষায় ! তবে হোক্ তাই --
অনাদি কালের ক্রৌঞ্চজায়া, খণ্ডকালের এই মায়া 
ছেড়ে দিয়ে যাও তুমি অনন্তের ঘরে।
তোমার স্মৃতির দীপখানি, নিবাত নিষ্কম্প শিখা-- 
আলোময়ী হয়ে থাক্ শোকের-শিশিরে-সিক্ত 
ফুলেদের অন্তরে অন্তরে। 

 মাতৃহারা
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৪/০৬/২০২২















Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...