(চন্দননগরের রাণীর ঘাটে এই দৃশ্যটি দেখেছি। ওই গঙ্গাতীরের ভ্রমনবিলাসী সকলেই তাঁদের জানেন কিন্তু 'চেনেন' না। দেবী পক্ষের পুন্য তিথিতে সেই মায়েদের চরণে প্রণাম নিবেদন করে, এই গাথাটি তাঁদেরই উদ্দেশে উৎসর্গিত।)
অভিন্ন জননী-- অন্য গাথা
নব আনন্দে জাগ্রত প্রাণ মুখরিত সংগীতে।
নভোনীলিমায় শঙ্খস্বর, বাতাসে বাঁশরী সুর,
স্বর্গে মর্ত্যে মঙ্গলগান , স্তবগাথা সুমধুর।
নৃত্য ছন্দে বহিছে তটিনী, চলৌর্মি সরসীতে,
বন উপবন মালঞ্চ বিতান মুখর কাকলি গীতে।
হরিৎ শস্যে, শ্যাম তৃণদলে নবযৌবনা ভূমি
প্রভাত সূর্য সপ্রেম সোহাগে আলগোছে যায় চুমি'।
নব আবরণ, নব আভরণ, কন্ঠে কুসুম মালিকা,
কাশফুলে ঢাকা ভরানদী তীরে দাঁড়ায়ে শরৎবালিকা।
সেদিন এমন বিমল সকালে নদী পাড়ে গিয়ে দেখি
ঘাটের দু পাশে বৃদ্ধার দল বসে আছে মুখোমুখি।
সমুখে তাদের এবড়ো-থেবড়ো, ছোট-বড় বাটি মেলা'
কোনটিতে বেশি, কোনটিতে কম খুচরো পয়সা ফেলা।
নিরাভরণ শীর্ণ শরীরে জীর্ণ বসন জড়ানো,
কারো বা রয়েছে জটপাকা চুল, মাথাটি কারো বা মুড়ানো।
ঘোলাটে চোখের উদাস চাহনি মাঝে মাঝে ডাকে, "বাবা রে" !
জানে উত্তর পাবে না সে ডাক, ডাকে ডাকবারই বেঘোরে।
নিষিদ্ধ পাড়ার অশুদ্ধ জীবনে রোজ রজনীতে বিষ খেয়ে,
মা হওয়ার সাধ মিটেছে যাদের, 'মা' হতে পারেনি মা হয়ে।
ফুল ফুটাবার, ফল ফলাবার উর্বর ঋতু হারিয়ে,
স্বামী সন্তান গৃহাঙ্গনের মায়া মরীচিকা পেরিয়ে,
বাঁচার লালসে রূপ-যৌবন তিলে তিলে ক্ষয়ে ক্ষয়ে,
ভিখারিনী আজ বসে আছে ঘাটে 'সৎ-ছেলেদের' মুখ চেয়ে।
হে মা দুর্গা, আসবার কালে এই ঘাটে বেঁধে তরণী,
হারা-সংসার 'মেনকা মা'দের দিয়ে যেও শেষ পারাণী।।
('সৎ-ছেলে' =সপত্নী-সন্তান -- সমাসবদ্ধ পদটি প্রণিধানযোগ্য)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১২ই আশ্বিন, ১৪২৯
(২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২)
দেবী পক্ষের চতুর্থী সন্ধ্যা