মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

অমূল্য

He (Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed. 
                      ----Jawerlal Nehru.  

Individuality is a cage

When I'm in me and shut the door
And bar descant and light and air
From the vaster world, in my thoughts
Enters the Inferno. A huge flame of
Murderous envy rages up, burns up
The soul ;
O, my Soul, that was once illuminated.
By the first Light of the first revelation --
First Morning's Sun was bestowed love ;
Love of Light -- Love that congugated
Heaven and earth, the sky and the ocean
That created me and in me gave birth to
That Light, the light of sentience and virtue
Those proclaimed the Oneness with all 

That unknowable being and that even now Exists. 

My love, live a short while in bliss and in peace. 

And sink in the Eternity of the One. 

Nowhere you find void between floating  Islands.

Dulal Chandra Bandyopadhyay
16/06/2026
Kolkata.

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

রানার জন্মদিন

রানার জন্মদিন 


এ 'বিস্ময়' মূর্তি ধরে নামে পৃথিবীতে,
অন্তহীন আকাশের আলোর কণিকা--
চেতনার দীপ্ত দীপ আছে যাঁর হাতে
তিনিই গড়েন এই প্রাণের মণিকা --
আপন মাধুর্য পান করেন আপনি। 

বিশ্বচৈতন্যের সাথে একাত্ম বিলাস

জীবনের সাধনার মহামন্ত্রধ্বনি ;

যে জেনেছে সে পেয়েছে সত্যের আশ্বাস। 

জন্মদিনে জন্মদিনে নবজন্ম আসে,
যেমন ঊষার আলো অনন্ত আকাশে।

 
‌                          ---বাবা-মা 
                     ২১শে জ্যেষ্ঠ, ১৪৩৩।









শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

Day of despair


Oh ! My running is now slowing down ;
For yonder I see a lightless world.
A waveless sea of gloom invisible,
And irresistible for me to plunge In.
The worrisome path of life, burdened with
Illusions, my soul finds redemption at last.
Sufferings I love more than the joyous Heaven.
Ask not why, as you know my sweet heart,
For the whole humanity knows for sure
That the God Himself seeks assuagement
When His loving creature man holds out
His hands for a cup of blood nor of His'
But of his brother for the Last Supper.

Dulal Chandra Bandyopadhyay
December 25, 2o24/ May 23, 2026
              (Revised)
Kolkata.

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

২৫শে বৈশাখে

২৫শে বৈশাখে 


"দেবতার স্তবগীতে দেবেরে মানব করি আনে,
তুলিব দেবতা করি মানুষেরে মোর ছন্দে গানে।
ভগবন্, ত্রিভূবন তোমাদের প্রত্যক্ষে বিরাজে --
কহ মোরে কার নাম অমর বীণার ছন্দে বাজে।
কহ মোরে বীর্য কার ক্ষমারে করে না অতিক্রম,
কাহার চরিত্র ঘেরি সুকঠিন ধর্মের নিয়ম
ধরেছে সুন্দর কান্তি মাণিক্যের অঙ্গদের মতো
মহৈশ্বর্যে আছে নম্র, মহাদৈন্যে কে হয়নি নত,
সম্পদে কে থাকে ভয়ে, বিপদে কে একান্ত নির্ভিক,
কে পেয়েছে সব চেয়ে, কে দিয়েছে তাহার অধিক,
কে লয়েছে নিজ শিরে রাজভালে মুকুটের সম
সবিনয়ে সগৌরবে ধরামাঝে দুঃখ মহত্তম ---
কহ মোরে, সর্বদর্শী হে দেবর্ষি, তাঁর পুন্য নাম।"
নারদ কহিলা ধীরে, "অযোধ্যার রঘুপতি রাম।"
"জানি আমি জানি তাঁরে, শুনেছি তাঁহার কীর্তিকথা -

কহিলা বাল্মীকি, তবু নাহি জানি সমগ্র বারতা,
সকল ঘটনা তাঁর -- ইতিবৃত্ত রচিব কেমনে।
পাছে সত্যভ্রষ্ট হই এই ভয় জাগে মোর মনে।"
নারদ কহিলা হাসি, "সেই সত্য যা রচিবে তুমি,
ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি তব মনোভূমি
রামের জনমস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।"

যে কবির সঙ্গে দেবর্ষি নারদের আলাপন হয়েছিল, আর যে বঙ্গকবি সেই আলাপন পুনরুদ্ধার করছেন তাঁর অনুকরণীয় 'ভাষা ও ছন্দে' -- দুই ঋষিকবির কালের ব্যবধান প্রায় তিন চার‌ হাজার বছর। আর যে নরোত্তমের কথকথা রচনা করবার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছিল, সেই পুরুষোত্তম 'রাম' ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন ওই প্রথমোক্ত কবিগুরু বাল্মীকির 'মনোভূমিতে'। দেবর্ষি নারদের কথায়,
‌‌                 "সেই সত্য যা রচিবে তুমি
ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি
রামের জনমস্থান অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।" 


আদি মহাকবি ও সেই মহাকাব্যের নবভাষ্যকার স্মরণে আছেন, সে-মহাকাব্যও শত সহস্র সংস্করণের মধ্যে দিয়ে আজও জীবন্ত হয়ে আছেন, সেই মহাকবির মানসপুরুষ 'রামচন্দ্র' অযোধ্যায় নবরূপে, মানবরূপে নয় দেবতারূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। যোদ্ধৃবেশে তাঁকে দেখানো হয়নি, শাসক রূপেও তাঁকে দেখানো হয়নি, হিন্দুদের ঘরে ঘরে পূজিত লক্ষ্মী-নারায়ণ, শিব-পার্বতী, রাধা-কৃষ্ণ প্রভৃতি নিত্য পূজার্হ দেবদেবীরদের মতোও তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুসারে রামায়ণ রচিত হয়েছিল ১৫০০ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টপুর্বাব্দে। লোকায়তিক ধারণায় কল্পনা করাই যায় যে রাম রাবণের কাহিনী মহাকবি বাল্মীকি দ্বারা সুষম সঙ্কলনের বহুকাল পূর্ব থেকেই জনপদে জনপদে, জনসমাজে, ঘরে ঘরে, মুখে মুখে কথিত ও আলোচিত হয়ে আসছিল। ঐতিহাসিকতার মাপকাঠিতে রামচন্দ্রের জন্ম কোথায় হয়েছিল, কখন হয়েছিল তার বাস্তবতা বিচার্য হতেই পারে না। তাঁর জন্ম, অযোধ্যার রাজপুরীর, রাজপরিবারের জন্ম এবং সঙ্গে সঙ্গে লঙ্কার‌ রক্ষোরাজ রাবণ ও তাঁর একলক্ষ পুত্র আর সোয়া লক্ষ নাতির মহাপরিবারের অস্তিত্ব, ধর্ম-কর্ম-জীবনাচরণ -- সকলই ওই যুগ যুগ ধরে চলে আসা কাহিনীরই নবনির্মান। নবনির্মান এক অতিমানবীয় সৃজনপ্রতিভার চমৎকার। "কবি, তব মনোভূমি অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।" তবে কি রাজা, রাজপরিবার, রাজপুত্র- রাজকন্যা, সৈন্যসামন্ত, জনপদ ও জনপদগুলির নাম, বর্ণবিভাজিত জনসমাজ ছিল না ? ছিল বৈ কি ! এবং ছিল বলেই সেই সকল নাম, ধাম ও গণদেবতাদের নিয়েই মহাকাব্যের এক বিরাট বিপুল পশ্চাৎপদ রচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। রাম নামক অযোধ্যার এক রাজপুত্রের, মিথিলার রাজা জনকের এক রাজকন্যার বিবাহও হয়েছিল। বিদেশী কোন রাজা, নাম তার রাবণ, রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করেছিলেন, যুদ্ধও হয়েছিল। এবং সেই অতীতের স্মরণের, বিস্মরণের, বাস্তবের, অবাস্তবের সমস্ত ঘটনাগুলিকে কবিকল্পনার নবরসে পরিসিক্ত করে গড়ে উঠেছে রামায়ণ। ঠিক যেমন শত দিক থেকে শত জলধারা বহে আসে, বহন করে নিয়ে আসে নদীতীরের ভগ্ন দেউল, রাজকীয় কীর্তির ধ্বংসস্তূপের রাশি ; নিয়ে আসে অনাদিকালের অসংখ্য চিতার ভস্মরাশি, অর্ধদগ্ধ কাষ্ঠখণ্ডের সঙ্গে অনতিদগ্ধ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অস্থি-চর্ম --- সঞ্চিত হয় সরোবরের পঙ্কস্তরে। দীর্ঘ সঞ্চিত সেই পঙ্ককুণ্ড হতে জন্ম নেয় পঙ্কজ শতদল। বিশ্বে এমন সংখ্যাতীত মহান কাব্য, মহাকাব্য, পুরাণ, পাঁচালী -- সকল সাহিত্য- সৃষ্টিই এইরূপ অতীত-সরসীর পঙ্কজাত চির অম্লান সুরভিত শতদল।

 
বাল্মীকি রামায়ণের রাম দোষে গুণে পূর্ণ মানুষ, নরোত্তম, রাজর্ষি, কিন্তু আরাধ্য দেবতা নন। তিনি 'অবতার', দৈব ঐশ্বর্য তাঁর ছিল কিন্তু যখন মানবরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন তখন মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকেই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা পুরুষোত্তম শ্রীরামের প্রতি। শ্রীরামচন্দ্রের ত্যাগ, তিতিক্ষা, সত্যের সাধনা, প্রজাহিতৈষণা --- এমন সকল মানবতার পরাকাষ্ঠাস্বরূপ গুণাবলী যেমন ছিল, তেমনি বানররাজ বালি হত্যা, সীতাদেবীর প্রতি বার বার নির্মমতা প্রদর্শন, নিষ্কারণে নিষ্ঠুরভাবে শূদ্র তপস্বী শম্বুকের শিরশ্ছেদ ইত্যাদি কর্মগুলি করুণাময় নরচন্দ্রমা রামচরিত্রে কলঙ্কের চিহ্ন অঙ্কন করেছে। রামায়ণ মহাকাব্যের রামকে, সময়কালের বর্ণবিভাজিত সমাজের, একটি রাজ্যের সুমহান একটি রাজচরিত্রকে তিন, মতান্তরে পাঁচ হাজার বছর পরে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের আদর্শরূপে যদি প্রতিষ্ঠা করবার প্রয়াস হয় তবে সেখানে যুক্তি হার মানে, অন্ধ ভক্তি জয়লাভ করে। রামচন্দ্রের রামরাজ্যে রাজধর্ম ছিল 'এক আদর্শ রাজার করণীয় কর্তব্যের বিধান', তখন 'হিন্দু, হিন্দুত্ব বা হিন্দুধর্ম' শব্দগুলির না ছিল কোন অর্থ, না ছিল অস্তিত্ব। অবশ্য মহাকবি তুলুসীদাস, মহাকবি কীর্তিবাস প্রভৃতি ভক্তিবাদের প্রবক্তা ও সাধকদের দ্বারা নবদূর্বাদলশ্যাম রামচন্দ্র দেবতারূপে, বিষ্ণুর অবতাররূপে নয় বরং অনেকখানি স্বয়ং বিষ্ণুর স্থানেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, কিন্তু সে তো কবিদের কাব্যরসের তীর্থনীরে অভিষিক্ত হয়ে।

 
"জগদ্রাম সূত রাম প্রসাদেতে গায়।
সীতারাম খেলা কর আমার হিয়ায়।।" --


এমনিভাবেও  রামায়ণ রচয়িতাগণ (কবি জগদ্রাম রায় ও তাঁর পুত্র রামপ্রসাদ রায়) শ্রীরামচন্দ্রের বন্দনাগান গেয়েছেন ; কিন্তু 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনির মধ্যে দিয়ে যে রনহুংকার উদ্ঘোষিত হয় সেইটিই তাঁর প্রতি একমাত্র মঙ্গলাচরণের মন্ত্র হলে যোদ্ধৃবেশে রামচন্দ্রকে আমরা হয়তো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব কিন্তু 'রামরাজ্য' অধরাই থেকে যাবে।

যাই হোক্ রামায়ণের শ্রীরামচন্দ্রের সম্মন্ধে আমাদের ঋষিকবির মূল্যায়নটিকে মাথায় রেখে এই আলোচনা। আদিকবি ভারতের কবি বাল্মীকি ও বঙ্গের 'শতেক যুগের শতেক' কবিদের একাসনে আহ্বান করে, স্মরণ করি, বরণ করি আমাদের প্রাণের ঠাকুর, হৃদয়হরণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আজ ২৫শে বৈশাখে।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩।
_____________________________________________




শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

শান্তি--৩

শান্তি-৩
বেদ হতে বেদান্তদর্শন -- শত সহস্র বছরের সাধনায় আহৃত ও লব্ধ জ্ঞান --- তার মধ্যে কোথাও মানুষ (শুধু কি মানুষ ? সমস্ত ভূতজগৎ)-কে বাদ দিয়ে ব্রহ্ম বা পরমাত্মা বা 'মহান পুরুষ'-অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় নি।  প্রকৃতিকে মায়া বলে বিচ্ছিন্ন করে পুরুষ এবং পুরুষকে অজ্ঞেয় বলে প্রকৃতিকে জগৎ সৃষ্টির কারণরূপে সিদ্ধ করা হয়নি। এমনকি আদি যে নাস্তিক্যবাদী বা নিরীশ্বরবাদী কপিলের সাংখ্যদর্শন, সেখানেও প্রকৃতি ও পুরুষের মহাসংগমের (এই ঘোর জটিল সৃষ্টিতত্ত্বের অবতারণা অন্যত্র করবার বাসনা রইল) স্বীকৃতি আছে যেখানে একদিকে যেমন দৃশ্যমান বিশ্বজগতের উপর, অন্যদিকে অদৃশ্য চৈতন্যজগতের উপর সমান মহিমা অর্পিত হয়েছে। অদৃশ্য যে চৈতন্য এই বিশাল বিপুল অনন্ত সৃষ্টির উৎস এবং সৃষ্টিকে ধারণ করে আছে তার কণিকারূপ মূর্ত মূর্তি মানুষ। মানুষই জ্ঞানের সাধনার পথ ধরে ব্রহ্ম হয়ে উঠতে পারে, বলতে পারে 'অহম্ ব্রহ্মাস্মি', বলতে পারে 'অয়ম আত্মা ব্রহ্ম', বলতে পারে 'প্রজ্ঞানম্ ব্রহ্ম' এবং 'তৎ তম্ অসি'।
"এই ত্রাণকারী আত্মজ্ঞান প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের পবিত্র ও সংযত হৃদয়ে প্রতিভাত হয়েছিল। তাঁরা মানবের প্রতি ভালোবাসা ও করুণাপরবশ হয়ে জ্ঞানের অধিকার, সম্ভাবনা ও শক্তির ঐতিহ্যের মতো, জ্ঞান-গঙ্গার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের মতো -- বংশপরম্পরায় রক্ষা করার ব্যবস্থা করে গিয়েছেন।"
          ----- স্বামী রঙ্গনাথানন্দ মহারাজ।

উপনিষদের বাণীগুলি মানব প্রাণের শান্তির, শক্তির, নির্ভয়তার চিরন্তন প্রেরণা। নিয়ত মৃত্যুভয়, রোগ-শোক-জরা ও একাকিত্বের ভয় থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষকে প্রকৃত সত্যের অন্বেষণে নিরত করে।" এই কারণেই ভারতীয় সনাতন (বৈদান্তিক) ধর্মকে চিরন্তন দর্শন বা Aldous Huxley-র ভাষায় 'দর্শনের অনন্ত প্রবাহ' বলা হয়। ঈশা উপনিষদের সুন্দর শান্তিপাঠেই আমরা আশ্বাস পাই যে, মানবের অনুসন্ধান ব্যর্থ যাবে না ; ঋষিগণ শুদ্ধ দৃষ্টিতে যা উপলব্ধি করেছিলেন, আমাদের দৃষ্টি শুদ্ধ হলে আমরাও তা (পরম অবিনাশী সত্যকে) উপলব্ধি করতে পারব।"
                                     --- তদেব।
কি সেই সত্য, যা মানবজগৎ যুগ যুগান্তর ধরে অনুসন্ধান করে চলেছে ? মিথ্যা মায়ার ছায়া ঘুচিয়ে একটি 'সত্যের আশ্রয়' যা তাকে ভয় থেকে --- বিনাশের ভয় থেকে মুক্ত করে 'চিরন্তন জীবনের' (বংশপরম্পরায় বহমান প্রাণকে না হারানোর) ভরসার আশীর্বাদ বহন করে আনবে। এমন এক সত্যের উপলব্ধি এসেছে, বৈদান্তিক জ্ঞানের ভিতর দিয়ে। কঠোপনিষদের একটি মহামন্ত্রেই আমরা সেই সত্যের আলোকিত জগতে পোঁছাতে পারি, --

"নিত্যোহনিত্যানাং চেতনশ্চেতনানাম্
একো বহুনাং যো বিদধাতি কামান।
তমাত্মস্থং যেহনুপশ্যন্তি ধীরাঃ
তেষাং শান্তিঃ শাশ্বতী নেতরেষাম্।।"

এই মন্ত্রটি বার বার, একাগ্রতাসহকারে পাঠ করলে এক প্রদীপ্ত সত্যের আলোকে, শান্তির সান্ত্বনায় আমাদের অন্তর প্রসন্নতায়, জ্যোৎস্নাময়ী শারদাকাশের মত, অপরিম্লান পূর্ণতায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মন্ত্রটি বলছেন,
সকল অনিত্য বস্তুর মধ্যে 'তিনি'ই নিত্য। সচেতন প্রাণের তিনি চৈতন্যস্বরূপ। তিনি 'এক', তবু বহু সকাম জীবের মধ্যে বাস করেন, জীবের কামনার ও কর্মের ফল প্রদান করেন। যেসব 'ধীঃ'যুক্ত জীব (প্রজ্ঞাবান মানুষ) নিজ আত্মায় তাঁর অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন, তাঁরাই শাশ্বত শান্তি লাভ করেন -- আর কেউ নয়।
লক্ষ্যণীয় এখানে 'নিজ আত্মায়', সেই 'নিত্য' এবং 'চৈতন্যস্বরূপ' --- এই মহাসৃষ্টির চৈতন্যসত্ত্বাকে অনুভব করতে পারলেই শাশ্বত শান্তির, ভ্রান্তিহীন সত্যের আশ্রয় লাভ করা সম্ভব হবে। তখন মৃত্যুর মধ্যে মৃত্যুহীনকে, বিকৃতির মধ্যে অবিকারীকে, বহুর মধ্যে 'এক'কে আত্মস্থ করতে পারলেই ভয় থাকবে না। 'বহুর মধ্যে এক',  একই চৈতন্যের প্রকাশ ওই দূরাতিদূর আলোকপথের সীমান্তহারা প্রান্তসীমায়  জ্যোতিষ্ক-মণ্ডলের একটি নক্ষত্রের মধ্যে দিয়ে যেমন প্রতিভাসিত, ব্রহ্মাণ্ডের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণাসদৃশ এই পৃথিবীর প্রাণকণিকা--- আমার মধ্যেও তাইই প্রকাশিত-- এই বোধ অর্জিত হয় যে সাধনার দ্বারা তা প্রেম, বিশ্বজয়ী প্রেম যা শুধু জীবের, বিশেষ করে  পূর্ণচৈতন্যের অধিকারী মানুষের অন্তরে বিরাজ করে। এই প্রেমে দৃষ্টি দিয়ে সে যখন জগৎসংসারকে দেখে তখন কোথাও তার শত্রু নেই, নেই তার বিনাশের ভয়।
"চেতনার অনন্ত বিস্তারের ফলেই এরূপ ভয়হীনতা আসে। যখন সৎরূপের (সৃষ্টির উৎস পরম সত্ত্বা) সঙ্গে আমাদের একত্ববোধ হবে, একমাত্র তখনই মৃত্যুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। যখন জ্ঞানস্বরূপের (প্রজ্ঞা-ব্রহ্মের) সঙ্গে আমাদের একত্ববোধ হবে, একমাত্র তখনই অজ্ঞানের অস্তিত্ব লোপ পাবে। যখন আনন্দস্বরূপের ("আনন্দাদ্ধ্যেব খল্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে..") সঙ্গে আমাদের একত্ববোধ হবে, তখনই দুঃখের অস্তিত্ব লোপ পাবে। বেদান্ত মতে মানবাত্মা অনন্ত অস্তিত্বস্বরূপ, অনন্ত জ্ঞানস্বরূপ এবং অনন্ত আনন্দস্বরূপ।"
                    ---- স্বামী রঙ্গনাথানন্দ মহারাজ।

মানবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার, অর্থাৎ মহাসৃষ্টির আকারবিশিষ্ট ভৌতিক অস্তিত্বের বিপরীত রূপহীন বিমূর্ত চৈতন্যময় সত্ত্বার একাত্মতা অনুভব করবার যে জ্ঞানমার্গীয় ধর্মধারণা তাই সমস্ত ধর্মমতের, (একেশ্বরবাদী আব্রাহামিক, বহুদেবতাবাদী  প্যাগানিজম ও বেদবাদী আর্যধর্মাবলম্বীদের) মূল আদর্শ। তবুও এই মূল ধর্মাদর্শ থেকে, শুধুমাত্র ধর্মীয় স্মৃতিশাস্ত্রের ভিন্নতার জন্য পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী আত্মহননে লিপ্ত হয়, কেন 'বিশ্বনিয়ন্তার' শুভ ও মঙ্গলময় ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করে' পরোক্ষে বিশ্বধংসের তান্ডবে, আপন আত্মার ঐশ্বর্য বিস্মৃত হয়ে, মানুষ তার পশুপ্রবৃত্তিগুলিকেই জাগিয়ে প্রথিবীটাকে নরকে পরিণত করেই চলেছে বার বার ? এর কারণ অসংখ্য ; কিন্তু মূল কারণ ঐ 'পশুপ্রবৃত্তি' ! সম্রাটের সাম্রাজ্য বিস্তারের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা থেকে 'বাবু কর্তৃক উপেনের দুইবিঘা জমি দখল' ; গ্রাম্য পরিবারের ক্ষুদ্র সম্পত্তির লালসাসম্ভূত ভ্রাতৃহনন থেকে বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যা এবং  নিত্যদিনের যত খুন, লুণ্ঠন, শোষণ, পেষণ, বলাৎকার, ধর্ষণ --- সবই ওই পশুপ্রবৃত্তিসঞ্জাত। আরও ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক হয়ে ওঠে যখন এই নরকসৃষ্টির প্রয়াসগুলিকে ধর্মীয় সংস্কারের 'কর্তব্য'রূপে গণ্য করা হয়। বর্ণাশ্রমী 'ব্রাহ্মণদের' অমানবিক কুসংস্কার স্বীকার করে রামচন্দ্রের শম্বুক (শূদ্র তপস্বী) হত্যার মতই বর্তমানের দলিতনিধন -- একই রকমের 'ধর্মে'র বিকৃত ব্যভিচার। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ধর্মাবতারের মূর্ত প্রতীক শ্রীকৃষ্ণ নিজেই অর্জুনকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করেছিলেন এই বলে যে যুদ্ধ ক্ষত্রিয়ের 'ধর্ম'-- এষঃ ধর্মঃ সনাতন। আবার মহাভারতের স্ত্রীপর্বে, শান্তিপর্বে কুরুক্ষেত্রের মহাশ্মশানে স্বামী-সন্তান-হারা নারীদের হাহাকারের মাঝে তিনি ছিলেন কখনো নীরব, কখনো'বা নিরুত্তর। বিশ্বজনীন মানব সভ্যতায়, সামাজিক উপপ্লব, সে যত বড় বা ছোটই হোক্ -- তা সে রাবণের সীতা অপহরণ, দ্রৌপদীর লাঞ্ছনা বা ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস কর্তৃক স্পার্টার রাণী হেলেনকে অপহরণ থেকে আরম্ভ করে মানব সভ্যতার মহাকাব্যের ইতিহাস জুড়ে এমন লক্ষকোটি অপরাধের কলঙ্কিত অধ্যায় পার হয়ে আজ যখন কোন নিভৃত গৃহাভ্যন্তরে, কোন সেবা-শুশ্রূষাদায়িনী, প্রাণধাত্রী অবলা অসহায় নারী ধর্ষণ ও নৃশংস নিধনের শিকার হন তখন মানুষ নামক জাতিটির পশুপ্রবৃত্তির উপর আর কোন সন্দেহ থাকে না। বন্য সর্পশ্বাপদদের যা প্রাকৃতিক ও স্বভাবজ প্রবৃত্তি, মানুষের মধ্যে তার প্রকাশ যদি ঘটে, এই ধরিত্রীর মানবসমাজে কোনদিনও, কোথাও ধ্বনিত হবে না শান্তির 'মহাওঙ্কারধ্বনি'।

কিন্তু চেতনাহীন পাশবিকতার পাশাপাশি চৈতন্যময় মহামানবতার ---  নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রেমের, হিংস্রতার পরিবর্তে অহিংসার, নিপীড়নের বিপরীতে সেবার সাধনা কি হয়নি, হয়না ? হয়, হয়ে আসছে এবং হবেও। মনুষত্বের সাধনায় আত্মোৎসর্গীকৃত মহামানবগণ ---সুদূর প্রাচীনকাল থেকে, পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে-থাকা বিভিন্ন, বৈচিত্র্যময় জাতির মধ্যে জন্ম গ্রহণ করেছেন। শুধু ভারতবর্ষের মানবতীর্থেই যে যুগে যুগে অসংখ্য ঋষি, মুনি, মণীষী, মহাকবিগণ ---  বাল্মীকি, ব্যাসদেব, বুদ্ধ, জৈনমুনি, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য, শ্রীরামকৃষ্ণ প্রভৃতি দেবতা নয় --- মানব চেতনার বিগ্রহদের আবির্ভাব ঘটেছিল এমনও নয় --- গ্রীস থেকে চীন, রোম থেকে শ্যামদেশ ---- জরাথুষ্ট্র, মুশা, ইশা, মুহম্মদ, কনফুসিয়াস -- তাঁরাও এই ধরিত্রীর বুকেই বিচরণ করে গিয়েছেন ; "তাঁরা বলে গেল ক্ষমা কর সবে, বলে গেল ভালবাসো, / অন্তর হতে বিদ্বেষবিষ নাশো" ; কিন্তু তাঁদের বাণীর দোহাই দিয়েই বিদ্বেষের নরমেধযজ্ঞের অগ্নিশিখা লক্ লক্ জ্বলে উঠেছে দেশে দেশে, কালে বিরামহীন নিরবচ্ছিন্নতায়।
"তোমার বাণীর আড়াল টানি তোমায় ঢাকি ..."।
পরিশেষে এ-কথাই বলার যে যতদিন না মানুষ -- ক্ষমতাবান এবং ক্ষমতালোভী মানুষ -- তার দুঃখের সাধনার মধ্য দিয়ে আত্মোপলব্ধির ঐশ্বর্যে আপনার অন্তরের ঈশ্বরকে লাভ করবে ততদিন আত্মা-আত্মীয়-আত্মহননের নরকবাস থেকে তার মুক্তি নেই, ততদিন শান্তির ঠাঁই থাকুক শ্মশানে আর  শান্তির মন্ত্র ধ্বনিত হোক্ মানবতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শ্রাদ্ধবাসরে।
"বায়ুরনিলমমৃতম্ অথেদং ভস্মান্তং শরীরম্।
ওঁ ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মর কৃতং স্মর।" 
                                (ঈশা উপনিষদ, মন্ত্র ১৭)
অন্তিম মুহূর্ত, আমার জীবনের শক্তিতরঙ্গ (ধীরে ধীরে) অমৃত সাগরে বিলীন হতে চলেছে (ঐ বিশ্বপ্রাণের সঙ্গে আমার প্রাণবায়ু মিলিত হবে!) !
ওঁ! এখনিই এই নশ্বর দেহ ভস্মে পরিণত হবে !
ওঁ ! তাই হোক্, এই শরীর ভস্মীভূতই হয়ে যাক্ তবে !
"অথ ইদং শরীরং ভস্মান্তং ভূয়াৎ। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।।
হে আমার চিত্ত, (আসন্ন মৃত্যুর এই মহালগ্নে) স্মরণ কর ; তোমার সৎকর্মগুলি স্মরণ কর ; তোমার অসৎ কর্মগুলিও স্মরণ কর ! 

"ধর্ম, ঈশ্বর বা পরকালের ধারণা কোথা থেকে এল ? মানুষ ঈশ্বর ঈশ্বর করে বেড়ায় কেন ?
.................................................................
............. ......... ......................... ............. এখানে সেখানে, মন্দিরে গির্জায়, স্বর্গে মর্তে, নানা স্থানে এবং নানা উপায়ে অন্বেষণ করবার পর অবশেষে আমরা যেখান থেকে আরম্ভ করেছিলাম অর্থাৎ আমাদের আত্মাতেই বৃত্তপথে ঘুরে আসি এবং দেখতে পাই--- যার জন্য সমগ্র জগতে অন্বেষণ করেছিলাম, যার জন্য আমরা মন্দির, গির্জা প্রভৃতিতে কাতর হয়ে প্রার্থনা এবং অশ্রুবিসর্জন করেছিলাম, যাঁকে আমরা সুদূর আকাশে মেঘরাশি দিয়ে ঢাকা --- অব্যক্ত রহস্যময় বলে মনে করেছিলাম, তিনি আমাদের নিকট থেকেও নিকটতর, প্রাণের প্রাণ; তিনিই আমার দেহ, তিনিই আমার আত্মা। তুমিই আমি--- আমিই তুমি। এই তোমার স্বরূপ --- একে প্রকাশ কর। তোমাকে পবিত্র হতে হবে না ---- তুমি পবিত্রস্বরূপই আছ। তোমাকে পূর্ণ হতে হবে না, তুমি পূর্ণস্বরূপই আছ। প্রকৃতিই পর্দার ন্যায় আড়ালে সত্যকে ঢেকে রেখেছে। তুমি যে কোন সৎ-চিন্তা, সৎ-কার্য কর, তা জেনো, শুধু সেই তমসার আবরণকে ধীরে ধীরে ছিন্ন করছে, আর সেই প্রকৃতির আড়ালে শুদ্ধস্বরূপ অনন্ত ঈশ্বর প্রকাশিত হচ্ছেন।"

অনাদিকালের ঈশ্বর-অন্বেষণের যে সাধনা তার মূল, লক্ষ্য ও পথ, ঋদ্ধি ও সিদ্ধি এবং অন্তিম অনুভব এই কথাগুলির মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ; প্রকাশ করেছেন স্বামী বিবেকানন্দ যিনি সর্বধর্মের মূলিভূত একত্বের, মানবতাবাদের জীবন্ত বিগ্রহ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ভাববসন্তান -- ঠিক তেমনি যেমন ছিলেন ব্যাসদেবের পুত্র শুকদেব। আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মজ্ঞান, আত্মোপলব্ধি এবং সকলের ভিতর আত্মদর্শন --- এই সাধনার ধর্মক্ষেত্রেই জ্যোতির্ময় মূর্তি ধারণ করে দন্ডায়মান আছেন মানুষের ঈশ্বর --আত্মবিস্মৃত আত্মহননের কুরুক্ষেত্রে নয়।

 
            " .... ‌নক্ষত্রের অক্ষৌহিণী হতে
অরণ্যের পতঙ্গ অবধি, মিলাইছে এক স্রোতে
সঙ্গীতের‌ তরঙ্গিণী বৈকুণ্ঠের শান্তিসিন্ধুপারে।"
‌‌                    'ভাষা ও ছন্দ', -- রবীন্দ্রনাথ।

বিশ্বের সকল দেশে, সকল সমাজে, সকল ঘরে, প্রতিটি মানুষের অন্তরে 'শান্তি' বিরাজ করুক।

                           (সমাপ্ত)

শ্রী দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫/০৩/২০২৬
কলকাতা।
____________________________________




বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

শান্তি-২

শান্তি -২

"উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নূতন সৃষ্টিকে বার বার করছিলেন বিধ্বস্ত..."

ঋগ্বেদের রচনাকাল স্মরণে রাখলে স্বীকার করে নিতেই হবে যে সেই সুদূর অতীতের বাধাবন্ধনহীন প্রকৃতির দৌরাত্ম্যের দিনরাত্রিগুলিতে মানুষের বাঁচার উপায় কি ছিল ঘন ঘন রুষ্ট হওয়া জল, স্থল, আকাশকে তুষ্ট করা ছাড়া ? নিরন্ধ্র অন্ধকারে আচ্ছন্ন, হিংস্র শ্বাপদসঙ্কুল অরণ্যানী, সেখানে কখনো প্রলয়ঙ্করী ঝঞ্ঝা, কখনো সর্বদাহী সর্বগ্রাসী দাবানল ! উর্ধাকাশে ঘোর ঘনঘটা, বিরামবিহীন ধারাবর্ষণ, মহাপ্লাবন, অগ্নুৎপাত, ভূকম্পন, তুষারপাত ! জীবনে, জগতে মৃত্যুভীষণা নিশীথিনীর অন্ধকারে একমাত্র আশা রাত্রিশেষের ঊষা আর 'প্রথম দিনের সূর্য'। এবার ঋগ্বেদের উপাস্যদের নাম নিলেই এই সত্য উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে যে আধিদৈবিক 'শক্তি' সমূহ তখন দেবতা হয়ে উঠেছিলেন। অগ্নি, বরুণ, বিষ্ণু, রুদ্র, সাবিত্রী (সূর্য), বায়ু, ঊষা, পৃথিবী, সরস্বতী (বাগ্দেবী), অশ্বিনীকুমারদ্বয় (চিকিৎসার দেবতা)। ঋগ্বেদের মন্ত্র রচয়িতাগণ (মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি) জগতকে ত্রিস্থানিক বিভাজন করে সেই সেই স্থানের অধিকারী দেবতাদের উপাসনা করবার জন্য ঋকগুলি উচ্চারণ করতেন। 'ভূলোক' অর্থাৎ পৃথিবী স্থানের অধিকারী দেবতা অগ্নি, ধরিত্রী, সোম। ভূবর্লোক বা অন্তরীক্ষ (আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থিত স্থান) এবং স্বলোক বা দ্যুলোকের অধিকারী দেবতা বিষ্ণু, রুদ্র মিত্র প্রভৃতি। এইভাবে ঋগ্বেদে মোট ৩৩ প্রকারের দেবতার উল্লেখ আছে।
এই সমস্ত দেবতাদের উদ্দেশে প্রার্থনা, বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের আয়োজন ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের আবাহন, ঘৃতাহুতি সহ সুভক্ষ্য পশু ও সুরা (সোমরস) উৎসর্গ করা হোত নিত্য নিয়মিত যজ্ঞানুষ্ঠানে। যজ্ঞের প্রকারভেদ ছিল। অগ্নিহোত্র (প্রতিদিনের যজ্ঞানুষ্ঠান) থেকে রাজা মহারাজাদের, স্বরাট-সম্রাটদের রাজসূয়, অশ্বমেধ প্রভৃতি বৎসরব্যাপী --এমনকি দ্বাদশ বৎসরব্যাপী যজ্ঞের আয়োজনও করা হোত। উদ্দেশ্য  পূর্বোক্ত দেবতাদের সন্তুষ্ট করে পার্থিব চতুবর্গ (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) লাভ করা। যজুর্বেদসংহিতাসহ ব্রাহ্মণসংহিতা, স্মৃতিশাস্ত্র প্রভৃতি শত শত গ্রন্থরাজী রচিত হয়েছে এ-সকল হোম, যজ্ঞ, যাগ, হবন ইত্যাদি বহুবিধ নামের বৈদিক ধর্মাচরণের ক্রিয়া ও অনুষ্ঠানের উপর। ভারতবর্ষের ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্মীয় সংস্কারে এই প্রকার ক্রিয়াচার হাজার হাজার বছর ধরে চলে এসেছে এবং এখনও সে সব ক্রিয়াকল্প অব্যাহতও আছে। আর বৈদিককালের সেই তেত্রিশজন দেবতা এখন বংশবিস্তার করে তেত্রিশ কোটিতে কোথাও রূপান্তরিত, কোথাও বিবর্তিত হয়ে বিরাজ করছেন। বৈদিক দেবতা ও দেবীগণ (ইন্দ্র, বরুণ, কিংবা ঊষা সরস্বতী), যাঁদের অস্তিত্ব বিমূর্ত ছিল এখন তাঁরাও মূর্তিমন্ত হয়ে আমাদের কাছে পূজা চাইছেন বা পূজিত হচ্ছেন। "মানুষই দেবতা গড়ে / তাহার কৃপার 'পরে / করে দেব মহিমা বিস্তার।"

আলোচনাটিকে বর্তমান যুগের সীমানা পর্যন্ত আনা হোল এইটিই প্রমাণ করবার জন্য যে আমাদের ভারতীয় 'সনাতন' ধর্মধারণা একেশ্বরবাদী নয়। কিন্তু তবুও এই কথাটি বিচার্য যে মূল ভারতীয় ধর্মধারণায় বলা হয়েছে সমস্ত দেবতা এক পরমেশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন রূপ বা জগৎচরাচরের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা এক পরমশক্তি। ঋগ্বেদের প্রথম রচনায় যে বহুদেবতার উপাসনা হোত,  তা কালের গতি ও জ্ঞানের প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে 'এক ব্রহ্ম, দ্বিতীয় নাস্তি'-তে পর্যবসিত হয়ে এসেছিল। (স্মরণীয়, আমরা আগেই বলেছি যে ঋগ্বেদ প্রকটিত হয়েছিলেন প্রায় দুই হাজার বছর ধরে, প্রথম মণ্ডল এবং দশম মণ্ডলের মধ্যে ব্যবধান দু'হাজার বছর)। 

আমাদের রবীন্দ্রনাথ বেদ-উপনিষদ, কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলম্, রঘুবংশ প্রভৃতি ও অপরাপর সংস্কৃত সাহিত্য এবং রামায়ণ-মহাভারতের বিস্তর ও বিক্ষিপ্ত অংশ অনুবাদ করে গিয়েছেন। সে-সকল অনুবাদ রঙে, রূপে, রসে কোথাও কোথাও মূল রচনাকেও ছাড়িয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবের ঋদ্ধতায় মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২১ সূক্তের দশটি ঋকের মধ্যে ছ'টির অনুবাদও আছে। সেই ঋক্-ষটক্-এর একটি উদ্ধার করেছি ওই 'এক ব্রহ্ম' চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণতার মীমাংসা করার জন্যইঃ

"যা আত্মজা বলদা যস্য বিশ্ব উপাসতে প্রশিষং যস্য দেবাঃ।
যস্য ছায়ামৃতং যস্য মৃত্যুঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম।।"
রবীন্দ্রনাথ এই মহামন্ত্রের দুটি অনুবাদ করেছেন। প্রথমটি---
"আত্মদা বলদা যিনি ; সর্ব বিশ্ব, সকল দেবতা
বহিছে শাসন যাঁর ; মৃত্যু ও অমৃত যাঁর ছায়া ;
           আর কোন দেবতারে দিব মোরা হবি ?"
(১৮৯৪সালের ফাল্গুনে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত)।

দ্বিতীয়টি আরো পনের বছর পর ---
"আপনারে দেন যিনি,
     সদা যিনি দিয়েছেন বল,
বিশ্ব যাঁর পূজা করে,
   পূজে যাঁরে দেবতা সকল,
অমৃত যাঁহার ছায়া,
    যাঁর ছায়া মহান্ মরণ,
সেই কোন্ দেবতারে
    হবি মোরা করি সমর্পণ !"
          (১৯০৯ সালের ২২শে অগ্রহায়ণ)।

অনুদিত ছয়টি মন্ত্রেই এই প্রশ্ন যে দেবতাদের দেবতা, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা, নিয়ন্ত্রক ও সমস্ত ভূতজগতের 'আত্মা' ও বল-প্রদায়ক এক অবিভাজ্য মহাশক্তি ছাড়া আর কোন্ দ্বিতীয় সত্ত্বা আছে যাকে 'হবি' উৎসর্গ করা যায় ? এই 'আত্মদা' শব্দার্থের যুগে যুগে, অসংখ্য পণ্ডিত, গবেষক বিভিন্ন ধরণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু আমাদের ঋষিকবি যখন বলেন 'আপনারে দেন যিনি' তখন যেন শব্দটির প্রকৃত অর্থ আমাদের বোধগম্য হয়ে ওঠে।  যিনি 'আত্ম',-- সহজার্থে অহং বা আপন সত্ত্বা, বা আপন চৈতন্যসত্ত্বা জগৎসংসারের সবার মধ্যে বিতরণ করেন।
আরো একটি মন্ত্রে আদিপ্রজ্ঞা ঋগ্বেদ বলছেন,
"যং ক্রন্দসী অবসা তস্তভানে অভ্যৈক্ষেতাং মনসা রেজমানে।
যত্রাধি সূর উদিতো বিভাতি কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম।।"
"মহাশক্তি-প্রতিষ্ঠিত দীপ্যমান দ্যুলোক ভূলোক
যাঁরে করে নিরীক্ষণ ; সূর্য যাঁহে লভিছে প্রকাশ ;
                আর কোন্ দেবতারে দিব মোরা হবি ?"

এখানেই নির্ধারিত হয়ে গেছে আমাদের প্রাচীন ভারতীয় ধর্মধারণার প্রকৃত রূপ। এক অনন্ত অসীম অনির্বচনীয় সত্ত্বা, আমাদের অজ্ঞাত, বোধাতীত মহাশক্তিকে আমরা জানবার চেষ্টা করে গিয়েছি যুগ যুগান্তর, অনাদি অতীত থেকে বর্তমান--- বিগত, আগত, অনাগত কালের তিনিই ভারতীয় ধর্মচিন্তার আধার ও আধেয়।  এই ধর্মবোধ কোন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অনুসরণ বা অনুশীলন নয়। এটিকেই শাশ্বতকালের, সনাতন ধর্ম‌-অন্বেষুদের সাধনার লক্ষ্য ও পথ। (এখানে 'সনাতন' শব্দটি বর্তমানের উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদীরা যে অর্থে ব্যবহার করেন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন --  বিকৃত, সংকীর্ণ, স্বার্থপরতাসর্বস্ব)। ভারতবর্ষের বেদ ও উপনিষদের কোনখানে 'ঈশ্বর' (পাশ্চাত্যের God অর্থে) শব্দটি নেই ; প্রাচীন শাস্ত্রগ্রন্থ- সমুদ্রের কচিৎ কোথাও তার দেখা গেলেও তা ব্যবহৃত হয়েছে ঐশ্বর্যবান অর্থে। 'ঈশ্বর' (ভগবান) এসেছেন শঙ্করাচার্যের বৈদিক ও উপনিষদীয় ভাষ্য থেকে। কিন্তু এখানেও 'ঈশ্বর' কোন সম্প্রদায়গত আরাধ্য দেবতা নন। তিনি 'একমেবাদ্বিতীয়ম্' পরমাত্মা, পরম চৈতন্য যাঁর দ্বারা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি স্থিতি এবং বিলয় সম্ভাবিত হয়। ভারতবর্ষের ধর্মদর্শনের শঙ্করাচার্যই ব্যাসদেব, তৎপুত্র শুকদেবের উত্তরসূরী, শ্রেষ্ঠ ধর্ম- ব্যখ্যাতা।

(ভগবান শঙ্করাচার্য (৭৮৮-- ৮২০ খ্রিঃ) পরম বেদজ্ঞ, ও দার্শনিক। তিনি প্রধান দশ'টি উপন্যাসের ভাষ্য রচনা করেছেন। ঈশা, কেন, কঠ, প্রশ্ন, মুণ্ডক, মাণ্ডুক্য, তৈত্তিরীয়, ঐতরেয়, ছান্দ্যোগ্য এবং বৃহদারণ্যক)।
ঈশা উপনিষদের প্রথম মন্ত্রের বলা হয়েছে,
"ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যৎ কিঞ্চ জগতাং জগৎ।"
তিনি এই অদ্বৈতবেদান্তের প্রবক্তা, অদ্বৈতবাদ এবং ভক্তিবাদের প্রতিষ্ঠাতা। বেদান্ত সৃষ্টিতত্ত্বের অনুসন্ধানে নিরন্তর সাধনা কর-চলা পথের নির্দেশ দেন। কখনও এই মহাসৃষ্টির স্রষ্টাকে পুরুষরূপে স্বীকার করেছেন ---

শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ।
আ যে দিব্যানি ধামানি তস্থুঃ
বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তং
আদিত্যবর্ণ তমসঃ প্ররস্তাত।।
                     ----- শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ।

হে বিশ্বের অমৃতের পুত্রগণ, শোন, তোমরা তাঁর সন্তান (এই 'পুত্র' উচ্চারণে নর বা নারী আলাদা করা হয় নি) যিনি দিব্যধামে, সমস্ত 'তমসা' -- অন্ধকারের পারে, বাস করেন, যিনি আদিত্য বর্ণের (সূর্যসন্নিভ), যিনি 'পরম এবং এক' -- পরাহমেকং।
এই মন্ত্রের ভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে। হে দিব্যধামবাসী অমৃতের পুত্রগণ, তোমরা শোন, মহাতমশার পরপারে আদিত্যের মত জ্যোতির্ময় মহান যে পুরুষ (স্রষ্টা) তাঁকে আমি জেনেছি -- বেদাহমেতং।
'তমসা' এখানে 'জ্ঞানান্ধকার' ; 'আদিত্যবর্ণ' এখানে 'জ্যোতিস্যাং জ্যোতিঃ' আলোর আলো- বা প্রজ্ঞা। উপনিষদ বলছেন 'প্রজ্ঞানম্ ব্রহ্ম'।

এই যদি প্রাচীন ভারতীয় ধর্মধারণা হয় তবে তার মধ্যে তো বিভেদের, বাদ বিসম্বাদের, জাতি বা বর্ণবৈষম্যের কোন কলঙ্ক, কোন অমানবিক নৃশংসতার অবকাশ নেই। প্রজ্ঞার আলোকিত পথে যদি এই বিশ্বচরাচরের স্রষ্টা 'আলোর আলো'-র সঙ্গে আমাদের চেতনার আলো একাত্মতা অনুভব করতে পারে তবে আলাদা করে 'ভগবান বা ঈশ্বরের' শরণাপন্ন হবার প্রয়োজন কোথায় ? উপনিষদ কোন ঈশ্বর নয়, সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে যে গভীর আলোচনা করেছেন তা মানবকেও স্রষ্টার সঙ্গে একাত্ম করে দিয়েছে।
ঈশা উপনিষদ এবং অন্যান্য যজুর্বেদীয় উপনিষদের শান্তিপাঠ আরম্ভ হয়েছে এমন এক মন্ত্র দিয়ে যা মানবপ্রাণের বিশ্বৈকানুভবের চূড়ান্ত প্রকাশ। এই ব্রহ্মাণ্ডের শান্তিময় স্বরূপ কি ?
"ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে।।
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ... " 
যা এখানে নেই, অর্থাৎ দৃশ্য নয় (অদৃশ্য মহান সত্ত্বা) তিনি পূর্ণ, যা এখানে দৃশ্যমান তাও পূর্ণ, পূর্ণ থেকে (অদৃশ্য মহাসত্ত্বা) থেকে পূর্ণ এই দৃশ্য জগৎ সৃষ্ট হয়েছে,  পূর্ণ জগৎব্যপ্ত মহাসত্ত্বা (যিনি ব্রহ্ম) অপরিবর্তিত (অক্ষর) থাকেন। ওই পূর্ণ থেকে এই পূর্ণ অদৃশ্য বা বিনষ্ট হলেও পূ্র্ণ অক্ষয় থাকে।
"হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে
যাহা কিছু সব আছে আছে আছে।
নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই
নিশিদিন কাঁদি তাই।।"

ঈশ্বরে বিশ্বাসী মানুষ 'আস্তিক' এবং ঈশ্বরে অবিশ্বাসী মানুষ 'নাস্তিক' -- দুই জনই কিন্তু স্বীকার করেছেন ঈশ্বরের অস্তিত্বে, প্রতক্ষে বা পরোক্ষে। যিনি বলছেন 'God is not Great', যিনি বলছেন 'God is Dead' -- তাঁরা কি বলছেন না 'ঈশ্বরের মহান হওয়া' উচিত ছিল, বা 'ঈশ্বরের বেঁচে থাকার' প্রয়োজন ছিল ? এসকল কথা নিরর্থক কেননা ঈশ্বর বা God থাকুন বা না থাকুন এই 'সৃষ্টি' তো আছে। আছে এই প্রাণময়ী, শ্যামলাঞ্চলা পৃথিবী, ওই সূর্য-চন্দ্র-গ্রহ-নক্ষত্র নীহারিকার আলোকোদ্ভাসিত নভোমণ্ডল। আছে আলো, আছে কাল। আছে জন্ম, আছে মৃত্যু -- সৃজন প্রলয়ের নিরন্তর বহমান ধারা।
"মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে
আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে, ভ্রমি বিস্ময়ে।।
তুমি আছ, বিশ্বনাথ, অসীম রহস্যমাঝে
নীরবে একাকী আপন মহানিলয়ে।।"

প্রশ্ন করি, খুঁজি  স্রষ্টাকে এবং দ্রষ্টাকে ? সেই বিস্ময়কর সত্ত্বাকেই মানুষ ঈশ্বরের মহাসিংহাসনে প্রতিষ্ঠা করে ভিন্ন ভিন্ন নামে আরাধনা করেছে। ঈশ্বর, আল্লাহ, God, অহুরা মাজদা -- এমনই শত সহস্র ভাষায়, শত সহস্র নামে। এই বিস্ময়বোধ, এই অন্বেষণ মানুষের ধর্মধারণার আদি সুর, আদি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের উৎস।
"My religiosity consists in a humble admiration of the infinitely superior spirit that reveals itself in the little that we, with our weak and transitory understanding, can comprehend of reality. Mortality is of the highest importance -- but for us, not for God."
                        --- Albert Einstein.
এই পর্যন্ত, এমনটিই হোত যদি, তবে কোন দ্বন্দ্ব নেই ; কিন্তু যখন 'আমার ঈশ্বরকে' শ্রেষ্ঠ আসন দান করবার নির্বোধ অহংকারে 'ওদের God-কে' আমরা আক্রমণ করি তখনই ঈশ্বরও নিহত হন এবং সাথে সাথে আমরাও। তখন ধর্ম আর মানুষের সমাজকে, মানুষের প্রাণকে ধারণ করতে পারে না। মানবতা বা মানুষের চেতনা অন্ধ হিংসা ও প্রতিহিংসায় উন্মাদ হয়ে যায়।
       পরবর্তী পর্বে
              (ক্রমশঃ)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২২/৩/২০২৬
কলকাতা।
__________________________________










Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...