বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

শান্তি-২

শান্তি -২

"উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নূতন সৃষ্টিকে বার বার করছিলেন বিধ্বস্ত..."

ঋগ্বেদের রচনাকাল স্মরণে রাখলে স্বীকার করে নিতেই হবে যে সেই সুদূর অতীতের বাধাবন্ধনহীন প্রকৃতির দৌরাত্ম্যের দিনরাত্রিগুলিতে মানুষের বাঁচার উপায় কি ছিল ঘন ঘন রুষ্ট হওয়া জল, স্থল, আকাশকে তুষ্ট করা ছাড়া ? নিরন্ধ্র অন্ধকারে আচ্ছন্ন, হিংস্র শ্বাপদসঙ্কুল অরণ্যানী, সেখানে কখনো প্রলয়ঙ্করী ঝঞ্ঝা, কখনো সর্বদাহী সর্বগ্রাসী দাবানল ! উর্ধাকাশে ঘোর ঘনঘটা, বিরামবিহীন ধারাবর্ষণ, মহাপ্লাবন, অগ্নুৎপাত, ভূকম্পন, তুষারপাত ! জীবনে, জগতে মৃত্যুভীষণা নিশীথিনীর অন্ধকারে একমাত্র আশা রাত্রিশেষের ঊষা আর 'প্রথম দিনের সূর্য'। এবার ঋগ্বেদের উপাস্যদের নাম নিলেই এই সত্য উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে যে আধিদৈবিক 'শক্তি' সমূহ তখন দেবতা হয়ে উঠেছিলেন। অগ্নি, বরুণ, বিষ্ণু, রুদ্র, সাবিত্রী (সূর্য), বায়ু, ঊষা, পৃথিবী, সরস্বতী (বাগ্দেবী), অশ্বিনীকুমারদ্বয় (চিকিৎসার দেবতা)। ঋগ্বেদের মন্ত্র রচয়িতাগণ (মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি) জগতকে ত্রিস্থানিক বিভাজন করে সেই সেই স্থানের অধিকারী দেবতাদের উপাসনা করবার জন্য ঋকগুলি উচ্চারণ করতেন। 'ভূলোক' অর্থাৎ পৃথিবী স্থানের অধিকারী দেবতা অগ্নি, ধরিত্রী, সোম। ভূবর্লোক বা অন্তরীক্ষ (আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থিত স্থান) এবং স্বলোক বা দ্যুলোকের অধিকারী দেবতা বিষ্ণু, রুদ্র মিত্র প্রভৃতি। এইভাবে ঋগ্বেদে মোট ৩৩ প্রকারের দেবতার উল্লেখ আছে।
এই সমস্ত দেবতাদের উদ্দেশে প্রার্থনা, বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের আয়োজন ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের আবাহন, ঘৃতাহুতি সহ সুভক্ষ্য পশু ও সুরা (সোমরস) উৎসর্গ করা হোত নিত্য নিয়মিত যজ্ঞানুষ্ঠানে। যজ্ঞের প্রকারভেদ ছিল। অগ্নিহোত্র (প্রতিদিনের যজ্ঞানুষ্ঠান) থেকে রাজা মহারাজাদের, স্বরাট-সম্রাটদের রাজসূয়, অশ্বমেধ প্রভৃতি বৎসরব্যাপী --এমনকি দ্বাদশ বৎসরব্যাপী যজ্ঞের আয়োজনও করা হোত। উদ্দেশ্য  পূর্বোক্ত দেবতাদের সন্তুষ্ট করে পার্থিব চতুবর্গ (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) লাভ করা। যজুর্বেদসংহিতাসহ ব্রাহ্মণসংহিতা, স্মৃতিশাস্ত্র প্রভৃতি শত শত গ্রন্থরাজী রচিত হয়েছে এ-সকল হোম, যজ্ঞ, যাগ, হবন ইত্যাদি বহুবিধ নামের বৈদিক ধর্মাচরণের ক্রিয়া ও অনুষ্ঠানের উপর। ভারতবর্ষের ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্মীয় সংস্কারে এই প্রকার ক্রিয়াচার হাজার হাজার বছর ধরে চলে এসেছে এবং এখনও সে সব ক্রিয়াকল্প অব্যাহতও আছে। আর বৈদিককালের সেই তেত্রিশজন দেবতা এখন বংশবিস্তার করে তেত্রিশ কোটিতে কোথাও রূপান্তরিত, কোথাও বিবর্তিত হয়ে বিরাজ করছেন। বৈদিক দেবতা ও দেবীগণ (ইন্দ্র, বরুণ, কিংবা ঊষা সরস্বতী), যাঁদের অস্তিত্ব বিমূর্ত ছিল এখন তাঁরাও মূর্তিমন্ত হয়ে আমাদের কাছে পূজা চাইছেন বা পূজিত হচ্ছেন। "মানুষই দেবতা গড়ে / তাহার কৃপার 'পরে / করে দেব মহিমা বিস্তার।"

আলোচনাটিকে বর্তমান যুগের সীমানা পর্যন্ত আনা হোল এইটিই প্রমাণ করবার জন্য যে আমাদের ভারতীয় 'সনাতন' ধর্মধারণা একেশ্বরবাদী নয়। কিন্তু তবুও এই কথাটি বিচার্য যে মূল ভারতীয় ধর্মধারণায় বলা হয়েছে সমস্ত দেবতা এক পরমেশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন রূপ বা জগৎচরাচরের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা এক পরমশক্তি। ঋগ্বেদের প্রথম রচনায় যে বহুদেবতার উপাসনা হোত,  তা কালের গতি ও জ্ঞানের প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে 'এক ব্রহ্ম, দ্বিতীয় নাস্তি'-তে পর্যবসিত হয়ে এসেছিল। (স্মরণীয়, আমরা আগেই বলেছি যে ঋগ্বেদ প্রকটিত হয়েছিলেন প্রায় দুই হাজার বছর ধরে, প্রথম মণ্ডল এবং দশম মণ্ডলের মধ্যে ব্যবধান দু'হাজার বছর)। 

আমাদের রবীন্দ্রনাথ বেদ-উপনিষদ, কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলম্, রঘুবংশ প্রভৃতি ও অপরাপর সংস্কৃত সাহিত্য এবং রামায়ণ-মহাভারতের বিস্তর ও বিক্ষিপ্ত অংশ অনুবাদ করে গিয়েছেন। সে-সকল অনুবাদ রঙে, রূপে, রসে কোথাও কোথাও মূল রচনাকেও ছাড়িয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবের ঋদ্ধতায় মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১২১ সূক্তের দশটি ঋকের মধ্যে ছ'টির অনুবাদও আছে। সেই ঋক্-ষটক্-এর একটি উদ্ধার করেছি ওই 'এক ব্রহ্ম' চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণতার মীমাংসা করার জন্যইঃ

"যা আত্মজা বলদা যস্য বিশ্ব উপাসতে প্রশিষং যস্য দেবাঃ।
যস্য ছায়ামৃতং যস্য মৃত্যুঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম।।"
রবীন্দ্রনাথ এই মহামন্ত্রের দুটি অনুবাদ করেছেন। প্রথমটি---
"আত্মদা বলদা যিনি ; সর্ব বিশ্ব, সকল দেবতা
বহিছে শাসন যাঁর ; মৃত্যু ও অমৃত যাঁর ছায়া ;
           আর কোন দেবতারে দিব মোরা হবি ?"
(১৮৯৪সালের ফাল্গুনে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত)।

দ্বিতীয়টি আরো পনের বছর পর ---
"আপনারে দেন যিনি,
     সদা যিনি দিয়েছেন বল,
বিশ্ব যাঁর পূজা করে,
   পূজে যাঁরে দেবতা সকল,
অমৃত যাঁহার ছায়া,
    যাঁর ছায়া মহান্ মরণ,
সেই কোন্ দেবতারে
    হবি মোরা করি সমর্পণ !"
          (১৯০৯ সালের ২২শে অগ্রহায়ণ)।

অনুদিত ছয়টি মন্ত্রেই এই প্রশ্ন যে দেবতাদের দেবতা, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা, নিয়ন্ত্রক ও সমস্ত ভূতজগতের 'আত্মা' ও বল-প্রদায়ক এক অবিভাজ্য মহাশক্তি ছাড়া আর কোন্ দ্বিতীয় সত্ত্বা আছে যাকে 'হবি' উৎসর্গ করা যায় ? এই 'আত্মদা' শব্দার্থের যুগে যুগে, অসংখ্য পণ্ডিত, গবেষক বিভিন্ন ধরণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু আমাদের ঋষিকবি যখন বলেন 'আপনারে দেন যিনি' তখন যেন শব্দটির প্রকৃত অর্থ আমাদের বোধগম্য হয়ে ওঠে।  যিনি 'আত্ম',-- সহজার্থে অহং বা আপন সত্ত্বা, বা আপন চৈতন্যসত্ত্বা জগৎসংসারের সবার মধ্যে বিতরণ করেন।
আরো একটি মন্ত্রে আদিপ্রজ্ঞা ঋগ্বেদ বলছেন,
"যং ক্রন্দসী অবসা তস্তভানে অভ্যৈক্ষেতাং মনসা রেজমানে।
যত্রাধি সূর উদিতো বিভাতি কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম।।"
"মহাশক্তি-প্রতিষ্ঠিত দীপ্যমান দ্যুলোক ভূলোক
যাঁরে করে নিরীক্ষণ ; সূর্য যাঁহে লভিছে প্রকাশ ;
                আর কোন্ দেবতারে দিব মোরা হবি ?"

এখানেই নির্ধারিত হয়ে গেছে আমাদের প্রাচীন ভারতীয় ধর্মধারণার প্রকৃত রূপ। এক অনন্ত অসীম অনির্বচনীয় সত্ত্বা, আমাদের অজ্ঞাত, বোধাতীত মহাশক্তিকে আমরা জানবার চেষ্টা করে গিয়েছি যুগ যুগান্তর, অনাদি অতীত থেকে বর্তমান--- বিগত, আগত, অনাগত কালের তিনিই ভারতীয় ধর্মচিন্তার আধার ও আধেয়।  এই ধর্মবোধ কোন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অনুসরণ বা অনুশীলন নয়। এটিকেই শাশ্বতকালের, সনাতন ধর্ম‌-অন্বেষুদের সাধনার লক্ষ্য ও পথ। (এখানে 'সনাতন' শব্দটি বর্তমানের উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদীরা যে অর্থে ব্যবহার করেন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন --  বিকৃত, সংকীর্ণ, স্বার্থপরতাসর্বস্ব)। ভারতবর্ষের বেদ ও উপনিষদের কোনখানে 'ঈশ্বর' (পাশ্চাত্যের God অর্থে) শব্দটি নেই ; প্রাচীন শাস্ত্রগ্রন্থ- সমুদ্রের কচিৎ কোথাও তার দেখা গেলেও তা ব্যবহৃত হয়েছে ঐশ্বর্যবান অর্থে। 'ঈশ্বর' (ভগবান) এসেছেন শঙ্করাচার্যের বৈদিক ও উপনিষদীয় ভাষ্য থেকে। কিন্তু এখানেও 'ঈশ্বর' কোন সম্প্রদায়গত আরাধ্য দেবতা নন। তিনি 'একমেবাদ্বিতীয়ম্' পরমাত্মা, পরম চৈতন্য যাঁর দ্বারা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি স্থিতি এবং বিলয় সম্ভাবিত হয়। ভারতবর্ষের ধর্মদর্শনের শঙ্করাচার্যই ব্যাসদেব, তৎপুত্র শুকদেবের উত্তরসূরী, শ্রেষ্ঠ ধর্ম- ব্যখ্যাতা।

(ভগবান শঙ্করাচার্য (৭৮৮-- ৮২০ খ্রিঃ) পরম বেদজ্ঞ, ও দার্শনিক। তিনি প্রধান দশ'টি উপন্যাসের ভাষ্য রচনা করেছেন। ঈশা, কেন, কঠ, প্রশ্ন, মুণ্ডক, মাণ্ডুক্য, তৈত্তিরীয়, ঐতরেয়, ছান্দ্যোগ্য এবং বৃহদারণ্যক)।
ঈশা উপনিষদের প্রথম মন্ত্রের বলা হয়েছে,
"ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যৎ কিঞ্চ জগতাং জগৎ।"
তিনি এই অদ্বৈতবেদান্তের প্রবক্তা, অদ্বৈতবাদ এবং ভক্তিবাদের প্রতিষ্ঠাতা। বেদান্ত সৃষ্টিতত্ত্বের অনুসন্ধানে নিরন্তর সাধনা কর-চলা পথের নির্দেশ দেন। কখনও এই মহাসৃষ্টির স্রষ্টাকে পুরুষরূপে স্বীকার করেছেন ---

শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ।
আ যে দিব্যানি ধামানি তস্থুঃ
বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তং
আদিত্যবর্ণ তমসঃ প্ররস্তাত।।
                     ----- শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ।

হে বিশ্বের অমৃতের পুত্রগণ, শোন, তোমরা তাঁর সন্তান (এই 'পুত্র' উচ্চারণে নর বা নারী আলাদা করা হয় নি) যিনি দিব্যধামে, সমস্ত 'তমসা' -- অন্ধকারের পারে, বাস করেন, যিনি আদিত্য বর্ণের (সূর্যসন্নিভ), যিনি 'পরম এবং এক' -- পরাহমেকং।
এই মন্ত্রের ভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে। হে দিব্যধামবাসী অমৃতের পুত্রগণ, তোমরা শোন, মহাতমশার পরপারে আদিত্যের মত জ্যোতির্ময় মহান যে পুরুষ (স্রষ্টা) তাঁকে আমি জেনেছি -- বেদাহমেতং।
'তমসা' এখানে 'জ্ঞানান্ধকার' ; 'আদিত্যবর্ণ' এখানে 'জ্যোতিস্যাং জ্যোতিঃ' আলোর আলো- বা প্রজ্ঞা। উপনিষদ বলছেন 'প্রজ্ঞানম্ ব্রহ্ম'।

এই যদি প্রাচীন ভারতীয় ধর্মধারণা হয় তবে তার মধ্যে তো বিভেদের, বাদ বিসম্বাদের, জাতি বা বর্ণবৈষম্যের কোন কলঙ্ক, কোন অমানবিক নৃশংসতার অবকাশ নেই। প্রজ্ঞার আলোকিত পথে যদি এই বিশ্বচরাচরের স্রষ্টা 'আলোর আলো'-র সঙ্গে আমাদের চেতনার আলো একাত্মতা অনুভব করতে পারে তবে আলাদা করে 'ভগবান বা ঈশ্বরের' শরণাপন্ন হবার প্রয়োজন কোথায় ? উপনিষদ কোন ঈশ্বর নয়, সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে যে গভীর আলোচনা করেছেন তা মানবকেও স্রষ্টার সঙ্গে একাত্ম করে দিয়েছে।
ঈশা উপনিষদ এবং অন্যান্য যজুর্বেদীয় উপনিষদের শান্তিপাঠ আরম্ভ হয়েছে এমন এক মন্ত্র দিয়ে যা মানবপ্রাণের বিশ্বৈকানুভবের চূড়ান্ত প্রকাশ। এই ব্রহ্মাণ্ডের শান্তিময় স্বরূপ কি ?
"ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে।।
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ... " 
যা এখানে নেই, অর্থাৎ দৃশ্য নয় (অদৃশ্য মহান সত্ত্বা) তিনি পূর্ণ, যা এখানে দৃশ্যমান তাও পূর্ণ, পূর্ণ থেকে (অদৃশ্য মহাসত্ত্বা) থেকে পূর্ণ এই দৃশ্য জগৎ সৃষ্ট হয়েছে,  পূর্ণ জগৎব্যপ্ত মহাসত্ত্বা (যিনি ব্রহ্ম) অপরিবর্তিত (অক্ষর) থাকেন। ওই পূর্ণ থেকে এই পূর্ণ অদৃশ্য বা বিনষ্ট হলেও পূ্র্ণ অক্ষয় থাকে।
"হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে
যাহা কিছু সব আছে আছে আছে।
নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই
নিশিদিন কাঁদি তাই।।"

ঈশ্বরে বিশ্বাসী মানুষ 'আস্তিক' এবং ঈশ্বরে অবিশ্বাসী মানুষ 'নাস্তিক' -- দুই জনই কিন্তু স্বীকার করেছেন ঈশ্বরের অস্তিত্বে, প্রতক্ষে বা পরোক্ষে। যিনি বলছেন 'God is not Great', যিনি বলছেন 'God is Dead' -- তাঁরা কি বলছেন না 'ঈশ্বরের মহান হওয়া' উচিত ছিল, বা 'ঈশ্বরের বেঁচে থাকার' প্রয়োজন ছিল ? এসকল কথা নিরর্থক কেননা ঈশ্বর বা God থাকুন বা না থাকুন এই 'সৃষ্টি' তো আছে। আছে এই প্রাণময়ী, শ্যামলাঞ্চলা পৃথিবী, ওই সূর্য-চন্দ্র-গ্রহ-নক্ষত্র নীহারিকার আলোকোদ্ভাসিত নভোমণ্ডল। আছে আলো, আছে কাল। আছে জন্ম, আছে মৃত্যু -- সৃজন প্রলয়ের নিরন্তর বহমান ধারা।
"মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে
আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে, ভ্রমি বিস্ময়ে।।
তুমি আছ, বিশ্বনাথ, অসীম রহস্যমাঝে
নীরবে একাকী আপন মহানিলয়ে।।"

প্রশ্ন করি, খুঁজি  স্রষ্টাকে এবং দ্রষ্টাকে ? সেই বিস্ময়কর সত্ত্বাকেই মানুষ ঈশ্বরের মহাসিংহাসনে প্রতিষ্ঠা করে ভিন্ন ভিন্ন নামে আরাধনা করেছে। ঈশ্বর, আল্লাহ, God, অহুরা মাজদা -- এমনই শত সহস্র ভাষায়, শত সহস্র নামে। এই বিস্ময়বোধ, এই অন্বেষণ মানুষের ধর্মধারণার আদি সুর, আদি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের উৎস।
"My religiosity consists in a humble admiration of the infinitely superior spirit that reveals itself in the little that we, with our weak and transitory understanding, can comprehend of reality. Mortality is of the highest importance -- but for us, not for God."
                        --- Albert Einstein.
এই পর্যন্ত, এমনটিই হোত যদি, তবে কোন দ্বন্দ্ব নেই ; কিন্তু যখন 'আমার ঈশ্বরকে' শ্রেষ্ঠ আসন দান করবার নির্বোধ অহংকারে 'ওদের God-কে' আমরা আক্রমণ করি তখনই ঈশ্বরও নিহত হন এবং সাথে সাথে আমরাও। তখন ধর্ম আর মানুষের সমাজকে, মানুষের প্রাণকে ধারণ করতে পারে না। মানবতা বা মানুষের চেতনা অন্ধ হিংসা ও প্রতিহিংসায় উন্মাদ হয়ে যায়।
       পরবর্তী পর্বে
              (ক্রমশঃ)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২২/৩/২০২৬
কলকাতা।
__________________________________










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...