শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

Day of despair


Oh ! My running is now slowing down ;
For yonder I see a lightless world.
A waveless sea of gloom invisible,
And irresistible for me to plunge In.
The worrisome path of life, burdened with
Illusions, my soul finds redemption at last.
Sufferings I love more than the joyous Heaven.
Ask not why, as you know my sweet heart,
For the whole humanity knows for sure
That the God Himself seeks assuagement
When His loving creature man holds out
His hands for a cup of blood nor of His'
But of his brother for the Last Supper.

Dulal Chandra Bandyopadhyay
December 25, 2o24/ May 23, 2026
              (Revised)
Kolkata.

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

২৫শে বৈশাখে

২৫শে বৈশাখে 


"দেবতার স্তবগীতে দেবেরে মানব করি আনে,
তুলিব দেবতা করি মানুষেরে মোর ছন্দে গানে।
ভগবন্, ত্রিভূবন তোমাদের প্রত্যক্ষে বিরাজে --
কহ মোরে কার নাম অমর বীণার ছন্দে বাজে।
কহ মোরে বীর্য কার ক্ষমারে করে না অতিক্রম,
কাহার চরিত্র ঘেরি সুকঠিন ধর্মের নিয়ম
ধরেছে সুন্দর কান্তি মাণিক্যের অঙ্গদের মতো
মহৈশ্বর্যে আছে নম্র, মহাদৈন্যে কে হয়নি নত,
সম্পদে কে থাকে ভয়ে, বিপদে কে একান্ত নির্ভিক,
কে পেয়েছে সব চেয়ে, কে দিয়েছে তাহার অধিক,
কে লয়েছে নিজ শিরে রাজভালে মুকুটের সম
সবিনয়ে সগৌরবে ধরামাঝে দুঃখ মহত্তম ---
কহ মোরে, সর্বদর্শী হে দেবর্ষি, তাঁর পুন্য নাম।"
নারদ কহিলা ধীরে, "অযোধ্যার রঘুপতি রাম।"
"জানি আমি জানি তাঁরে, শুনেছি তাঁহার কীর্তিকথা -

কহিলা বাল্মীকি, তবু নাহি জানি সমগ্র বারতা,
সকল ঘটনা তাঁর -- ইতিবৃত্ত রচিব কেমনে।
পাছে সত্যভ্রষ্ট হই এই ভয় জাগে মোর মনে।"
নারদ কহিলা হাসি, "সেই সত্য যা রচিবে তুমি,
ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি তব মনোভূমি
রামের জনমস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।"

যে কবির সঙ্গে দেবর্ষি নারদের আলাপন হয়েছিল, আর যে বঙ্গকবি সেই আলাপন পুনরুদ্ধার করছেন তাঁর অনুকরণীয় 'ভাষা ও ছন্দে' -- দুই ঋষিকবির কালের ব্যবধান প্রায় তিন চার‌ হাজার বছর। আর যে নরোত্তমের কথকথা রচনা করবার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছিল, সেই পুরুষোত্তম 'রাম' ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন ওই প্রথমোক্ত কবিগুরু বাল্মীকির 'মনোভূমিতে'। দেবর্ষি নারদের কথায়,
‌‌                 "সেই সত্য যা রচিবে তুমি
ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি
রামের জনমস্থান অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।" 


আদি মহাকবি ও সেই মহাকাব্যের নবভাষ্যকার স্মরণে আছেন, সে-মহাকাব্যও শত সহস্র সংস্করণের মধ্যে দিয়ে আজও জীবন্ত হয়ে আছেন, সেই মহাকবির মানসপুরুষ 'রামচন্দ্র' অযোধ্যায় নবরূপে, মানবরূপে নয় দেবতারূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। যোদ্ধৃবেশে তাঁকে দেখানো হয়নি, শাসক রূপেও তাঁকে দেখানো হয়নি, হিন্দুদের ঘরে ঘরে পূজিত লক্ষ্মী-নারায়ণ, শিব-পার্বতী, রাধা-কৃষ্ণ প্রভৃতি নিত্য পূজার্হ দেবদেবীরদের মতোও তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুসারে রামায়ণ রচিত হয়েছিল ১৫০০ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টপুর্বাব্দে। লোকায়তিক ধারণায় কল্পনা করাই যায় যে রাম রাবণের কাহিনী মহাকবি বাল্মীকি দ্বারা সুষম সঙ্কলনের বহুকাল পূর্ব থেকেই জনপদে জনপদে, জনসমাজে, ঘরে ঘরে, মুখে মুখে কথিত ও আলোচিত হয়ে আসছিল। ঐতিহাসিকতার মাপকাঠিতে রামচন্দ্রের জন্ম কোথায় হয়েছিল, কখন হয়েছিল তার বাস্তবতা বিচার্য হতেই পারে না। তাঁর জন্ম, অযোধ্যার রাজপুরীর, রাজপরিবারের জন্ম এবং সঙ্গে সঙ্গে লঙ্কার‌ রক্ষোরাজ রাবণ ও তাঁর একলক্ষ পুত্র আর সোয়া লক্ষ নাতির মহাপরিবারের অস্তিত্ব, ধর্ম-কর্ম-জীবনাচরণ -- সকলই ওই যুগ যুগ ধরে চলে আসা কাহিনীরই নবনির্মান। নবনির্মান এক অতিমানবীয় সৃজনপ্রতিভার চমৎকার। "কবি, তব মনোভূমি অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।" তবে কি রাজা, রাজপরিবার, রাজপুত্র- রাজকন্যা, সৈন্যসামন্ত, জনপদ ও জনপদগুলির নাম, বর্ণবিভাজিত জনসমাজ ছিল না ? ছিল বৈ কি ! এবং ছিল বলেই সেই সকল নাম, ধাম ও গণদেবতাদের নিয়েই মহাকাব্যের এক বিরাট বিপুল পশ্চাৎপদ রচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। রাম নামক অযোধ্যার এক রাজপুত্রের, মিথিলার রাজা জনকের এক রাজকন্যার বিবাহও হয়েছিল। বিদেশী কোন রাজা, নাম তার রাবণ, রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করেছিলেন, যুদ্ধও হয়েছিল। এবং সেই অতীতের স্মরণের, বিস্মরণের, বাস্তবের, অবাস্তবের সমস্ত ঘটনাগুলিকে কবিকল্পনার নবরসে পরিসিক্ত করে গড়ে উঠেছে রামায়ণ। ঠিক যেমন শত দিক থেকে শত জলধারা বহে আসে, বহন করে নিয়ে আসে নদীতীরের ভগ্ন দেউল, রাজকীয় কীর্তির ধ্বংসস্তূপের রাশি ; নিয়ে আসে অনাদিকালের অসংখ্য চিতার ভস্মরাশি, অর্ধদগ্ধ কাষ্ঠখণ্ডের সঙ্গে অনতিদগ্ধ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অস্থি-চর্ম --- সঞ্চিত হয় সরোবরের পঙ্কস্তরে। দীর্ঘ সঞ্চিত সেই পঙ্ককুণ্ড হতে জন্ম নেয় পঙ্কজ শতদল। বিশ্বে এমন সংখ্যাতীত মহান কাব্য, মহাকাব্য, পুরাণ, পাঁচালী -- সকল সাহিত্য- সৃষ্টিই এইরূপ অতীত-সরসীর পঙ্কজাত চির অম্লান সুরভিত শতদল।

 
বাল্মীকি রামায়ণের রাম দোষে গুণে পূর্ণ মানুষ, নরোত্তম, রাজর্ষি, কিন্তু আরাধ্য দেবতা নন। তিনি 'অবতার', দৈব ঐশ্বর্য তাঁর ছিল কিন্তু যখন মানবরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন তখন মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকেই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা পুরুষোত্তম শ্রীরামের প্রতি। শ্রীরামচন্দ্রের ত্যাগ, তিতিক্ষা, সত্যের সাধনা, প্রজাহিতৈষণা --- এমন সকল মানবতার পরাকাষ্ঠাস্বরূপ গুণাবলী যেমন ছিল, তেমনি বানররাজ বালি হত্যা, সীতাদেবীর প্রতি বার বার নির্মমতা প্রদর্শন, নিষ্কারণে নিষ্ঠুরভাবে শূদ্র তপস্বী শম্বুকের শিরশ্ছেদ ইত্যাদি কর্মগুলি করুণাময় নরচন্দ্রমা রামচরিত্রে কলঙ্কের চিহ্ন অঙ্কন করেছে। রামায়ণ মহাকাব্যের রামকে, সময়কালের বর্ণবিভাজিত সমাজের, একটি রাজ্যের সুমহান একটি রাজচরিত্রকে তিন, মতান্তরে পাঁচ হাজার বছর পরে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের আদর্শরূপে যদি প্রতিষ্ঠা করবার প্রয়াস হয় তবে সেখানে যুক্তি হার মানে, অন্ধ ভক্তি জয়লাভ করে। রামচন্দ্রের রামরাজ্যে রাজধর্ম ছিল 'এক আদর্শ রাজার করণীয় কর্তব্যের বিধান', তখন 'হিন্দু, হিন্দুত্ব বা হিন্দুধর্ম' শব্দগুলির না ছিল কোন অর্থ, না ছিল অস্তিত্ব। অবশ্য মহাকবি তুলুসীদাস, মহাকবি কীর্তিবাস প্রভৃতি ভক্তিবাদের প্রবক্তা ও সাধকদের দ্বারা নবদূর্বাদলশ্যাম রামচন্দ্র দেবতারূপে, বিষ্ণুর অবতাররূপে নয় বরং অনেকখানি স্বয়ং বিষ্ণুর স্থানেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, কিন্তু সে তো কবিদের কাব্যরসের তীর্থনীরে অভিষিক্ত হয়ে।

 
"জগদ্রাম সূত রাম প্রসাদেতে গায়।
সীতারাম খেলা কর আমার হিয়ায়।।" --


এমনিভাবেও  রামায়ণ রচয়িতাগণ (কবি জগদ্রাম রায় ও তাঁর পুত্র রামপ্রসাদ রায়) শ্রীরামচন্দ্রের বন্দনাগান গেয়েছেন ; কিন্তু 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনির মধ্যে দিয়ে যে রনহুংকার উদ্ঘোষিত হয় সেইটিই তাঁর প্রতি একমাত্র মঙ্গলাচরণের মন্ত্র হলে যোদ্ধৃবেশে রামচন্দ্রকে আমরা হয়তো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব কিন্তু 'রামরাজ্য' অধরাই থেকে যাবে।

যাই হোক্ রামায়ণের শ্রীরামচন্দ্রের সম্মন্ধে আমাদের ঋষিকবির মূল্যায়নটিকে মাথায় রেখে এই আলোচনা। আদিকবি ভারতের কবি বাল্মীকি ও বঙ্গের 'শতেক যুগের শতেক' কবিদের একাসনে আহ্বান করে, স্মরণ করি, বরণ করি আমাদের প্রাণের ঠাকুর, হৃদয়হরণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আজ ২৫শে বৈশাখে।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩।
_____________________________________________




Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...