বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪

নব মন্দির

নব মন্দির 


হাজার হাজার বছর ধরে গড়া হোল মন্দির,
কত অসংখ্য স্থপতি এল সে কে জানে।
(স্রষ্টা তাঁরা, চরণে তাঁদের প্রণাম শতকোটি)
উঠল চৃড়া নভো নিলীমা ভেদ করে।
প্রাঙ্গন সবই দিগন্তপার নিখিলের আঙিনায়,
বিশ্বজুড়ে বিপুল কোলাহল, দেবতার আগমনী।
তীর্থযাত্রী আসে দলে দলে নিশিদিন,
শঙ্খস্বর, বন্দনাগীতি, পূজামন্ত্রের ঘোষণা,
তুরী ভেরী শত বাদ্যযন্ত্রে অভিষেক-ক্ষণ যাপনা।

দেখে নাই কেউ দেবতার রূপ, কল্পমূর্তি আঁকে।
আপন মনের শ্রদ্ধা মিশায়ে গড়ে' নিজ দেবতাকে।
আপন সুখের, আপন দুখের নিত্য সঙ্গী করে,
দেবতার সাথে মানবের লীলা বিশ্ব ভূবন জুড়ে।
কিন্তু যে দেবতা-আলয় মানব হৃদয়ে রাজে,
পড়ে আছে সে যুগ যুগান্ত জীর্ণ মলিন সাজে।
ধোওয়া হয় নাই প্রাঙ্গন তার প্রেমের সিন্ধুজলে,
গাঁথা হয় নাই বরণের মালা ভক্তির শতদলে।
সমর্পণের মন্ত্রমন্দ্রে হয়নি অর্ঘ্য দান,
জগতের যত অমৃত পুত্র শোনেনি সে আহ্বান।
মহাকাল ধায় আপন গতিতে নিঠুর সর্বনাশা,
সৃজনের শত কীর্তি কাড়ে সে, খেলে' শকুনির পাশা।

মঠ মন্দির মসজিদ চার্চ -- যত দেবালয় আছে,
সেখানে আর্ত ভক্তের দল চতুর্বর্গ যাচে।
তবুও সকলই প্রবঞ্চনা, মোহ-মায়া-ঘেরা ঠাঁই,
বিরাম বিহীন পাশবিকতার ক্ষয় নাই, লয় নাই।
এসেছে এবার নূতন যুগের নবজাগ্রত চেতনা,
মানবতাবোধ-মাটি দিয়ে হোক্ বিশ্বদেউল রচনা।
সকল মতের সব স্রোতধারা মিলাবে মানব সাগরে,
সুচেতনা যিনি জাগিবেন তিনি মানুষের অন্তরে।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫- ০১-২০২৩
কলকাতা।

























শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪

ঠাঁই দাও

ঠাঁই-ঠিকানা-হারা

(শুধু ভারতবর্ষেই গৃহহীন অনাথ পথশিশুদের সংখ্যা 

প্রায় একুশ লক্ষ।) 


চিলের সাথে দূর আকাশে উড়ল অপু যেই 

 চিলটি হতেই চোখের আড়াল হারালো নিজেকেই। 
ভয় পেয়ে সে দৌড়ে এল ঢুকল মায়ের কোলে,
সর্বজয়া ভাবল বুঝি ভয় পেয়েছে ছেলে।
সকল অপু এমনি করেই বিশ্ব ভ্রমণ সেরে
হারিয়ে যাওয়ার আর্ত ভয়ে ত্বরায় ফেরে ঘরে।
শঙ্কাবিহীন গৃহাঙ্গনে স্নেহের মাতৃক্রোড়ে
জীবন লীলার নিত্য বিলাস নিখিল ভুবন জুড়ে।

ঘর ভেঙেছে যাদের আর হারিয়ে গেছে মা
দেব দেউল তো শূন্য তাদের, পাষাণ প্রতিমা।
ইষ্টিশনে, পথের ধারে লক্ষ অপুর বাস। 
ঘর হারা প্রাণ ভূতল শয়ান, নিত্য নরক ত্রাস। 
ভূবন জুড়ে বিবেক-আলয় সৃষ্টি হবে কবে, 
বে-ঘর হা-ঘর অপুরা সব বাঁচার সাকিম পাবে ? 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯/০১/২০২৪
কলকাতা





সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

পুণ্যস্নানের লগ্ন, পৌষ সংক্রান্তি।


পুন্য স্নানের লগ্ন, পৌষ সংক্রান্তি 


অতল শীতল সাগর জলের 
দুরন্ত আহ্বান। 
পুণ্যস্নানে পবিত্র হোক্ 
ভূবনজোড়া প্রাণ। 
মান-অপমান, হিংসা-দ্বেষের 
মলিনতা যাক্ ধুয়ে। 
তরঙ্গস্বরে মিলনের গান 
নব তানে, নব লয়ে। 
সাগরের তীরে মহাসঙ্গমে 
মানবতা প্রেমময়। 
সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে 
নবীন অভ্যুদয়। 

নদ নদী তীরে, কত সরোবরে 
মহা জনতার মেলা -- 
বিভেদ বিরাগ নাই কোনখানে 
আনন্দমুখর খেলা। 
এই ভারতের মহামানবের 
সুবিপুল আঙিনায়, 
আত্ম পরের সীমানা টুটেছে 
কোন ভেদাভেদ নাই। 
পৌষের পিঠে খাও লুটেপুটে 
দিকে দিকে পৌষালি, 
শীতল সমীর, সুশীতল জল 
শান্তির অঞ্জলি। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
পৌষ সংক্রান্তি, ১৪৩০ । 
কলকাতা।










শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৪

প্রেম সর্বপাপঘ্ন

প্রেম সর্বপাপঘ্ন


যদি আকাশে মেঘের দম্ভ না থাকে,
যদি কুয়াশায় আড়াল না করে পূর্বাশা,
ধোঁয়ায় যদি দৃষ্টি দূষণ না ঘটায়,
তবেই ঊষায় সূর্যোদয়টা দেখে নিও।

দ্যুলোক আলোর ঐশ্বর্যকে ধরে নিও, 
পবিত্র তাপ সর্ব অঙ্গে মেখে নিও।
দেখো তারপর জীবনটা কেমন ভরে যায়,
সে পূর্ণতা ভোগ করো আর আমার জন্য রেখে দিও।

যদি গোধূলির ধূলি মলিনতা দূরে যায়,
যদি বোশেখের কালো মেঘখানা সরে যায়,
যদি পেছনের না-পাওয়া বিলাপ থেমে যায়,
তবে সন্ন্যাসী-বেশ সূর্যাস্তটা দেখে নিও।

শেষ আশীষের জ্যোতিঃ-কণাটি হাতে নিয়ে
আঁধার ঘরের প্রদীপ শিখাটি জ্বেলে নিও।
ক্ষমাসুন্দর সে মণিদীপ যে প্রেম দেয়
কিছুটা তার আমারও জন্য রেখে দিও।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২১/১২/২০২৩
কলকাতা।


বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৪

Birthday of my grandson Krishiv

Birthday of my grandson Krishiv 

Crossing 10

As dawn gets older and older,
At eleven o'clock
It becomes brighter and brighter,
Enlightens the world and brings hopes to all
that live under the sky resplendent.
You are that shining morning and glowing light,
That washes away all the gloom and plight.
Your smile enlivens, your tears saddens
The world we live in,  you're now at blessed eleventh.
Be a Ronaldo or Ronaldinho or as you like be so,
But don't jump too high or leap down too low.
                                                                Dadubhai
10th January, 2023
Calcutta.






বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৪

নূতন বছরের প্রার্থনা


নূতন বছরের প্রার্থনা 



আজ আত্মোদবোধন, বন্ধন যুক্তির দিন নূতন বছর। 
সংকীর্ণ ধর্ম হতে, নিষ্ফলা কর্ম হতে প্রাণের উদ্ধার। 
মনের উন্মুক্ত গতি বিশ্বচরাচরে। স্থিত হোক্ প্রেম, 
ভালোবাসা পৃথিবীর আন্তর প্রেরণা, মন্ত্র জীবনের। 
অনেক হয়েছে যুদ্ধ। রক্তে ভেজা শ্যামল অঞ্চল 
ধাত্রী ধরণীর, হাহাকার দুর্বলের, ধ্বংসস্তূপে লীন 
সভ্যতার সহস্র সৃজন --- বিলুপ্তির আঁধারে বিলীন 
শত মহামানবের মহাবাণী,ব্যর্থ যত সাধনার ব্রত 
সত্য শিব সুন্দরের । চৈতন্যের জ্যোতির্ময়রেখা 
প্রত্যুষের, সায়াহ্নের আলোক সম্পাতে, রাত্রির 
চন্দ্রমায়, নক্ষত্রের অক্ষরে অক্ষরে আছে লেখা -- 
হয় নাই দেখা হিংস্রতার অন্ধ মূঢ়তায়। মানবতার  

অবক্ষয়ে শক্তির নিষ্ঠুর অপব্যয় দিকে দিকে। 

নববর্ষ, নব রবিকিরণে উদ্ভাসিত জগত সংসারে 
বাজুক মঙ্গলতান, ঝরুক শান্তির বাণী অজস্র ধারায় 
উদার মানবধর্মে, উদাত্ত আহ্বান গীতে, পরম ক্ষমায়। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩রা জানুয়ারী, ২০২৪
কলকাতা।
_____________________________________________












Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...