শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩

কোজাগরী

কোজাগরী

 


চারিদিকে কোলাহল, যেন সমুদ্র মন্থন ! ওঠে বিষ। 

অমৃত কখনো বা ; কিন্তু তার ভাগ নাই সকলের।

  হলাহল আকাশে বাতাসে, শহরের গুহা হতে পল্লীর 

 উন্মুক্ত প্রান্তরে। 

চাও বা না চাও তুমি বিষপান নিয়তি নির্দেশ। 

আজ থাক্ সে সকল ক্লিন্ন খিন্ন কথা বেদনার। 
এসো আজ ভাসি গঙ্গায়, উজানে বা ভাটিতে ভাসাই 
ছেঁড়া পাল ভাঙা হাল পুরানো পানসি। দেখি বাঙলার 
স্বর্ণশীর্ষ আনমিত ধান অফুরান, দিগন্ত প্রসারী 
দুই তীরে -- 'গায়ে হলুদ'য়ের শাড়ি-পরা, লজ্জারুণ 
কন্যাটি যেমন। চেয়ে চেয়ে দেখি দিনভর অপলক। 
রঙ বদলায় এখন তখন -- জ্বল জ্বল করে ওঠে 
সাতরঙে সাতনরী হার তটিনীর, কী অপরূপ রূপ জাগে 
সূর্যঢলা দিনান্ত বেলায় ! অভিসিক্তা বঙ্গবালা 
বধূরূপে দাঁড়ায় অঙ্গনে, কাঁখে তার সোনার কলস। 

সন্ধ্যা নামে, চাঁদ ওঠে (যেমন সে উঠেছিল সৃষ্টির  আদিম প্রয়াসে), 
জ্যোৎস্নার বান-ডাকা বাংলার দুয়ারে দুয়ারে 
চির সাধনার জীবন্ত প্রতিমা, ঐ দেখ, রয়েছে  দাঁড়ায়ে। 
শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গান, "এসো মা লক্ষ্মী, বোসো ঘরে"। 

নবান্নের গন্ধমাখা শিশির শীতল বিভাবরী -- 
সোনার স্বপন-বোনা উজাগর থাকো কোজাগরী। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমা, ১৪৩০
কলকাতা।











বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

দুগ্গা গেল শ্বশুরবাড়ি

ফ্লাট নং -- ০০

"দুগ্গা গেল শ্বশুরবাড়ি'', মিথ্যা বলিসনে।
বলতো দেখি দুগ্গা মায়ের শ্বশুরমশাই কে ?
শ্বশুর নাই, শাশুড়ি নাই, ঘর সে পাহাড় চূড়া।
সোয়ামী আছে কিন্তু সে তো আদ্দিকালের বুড়া।
ছেলে মেয়ে আছে বটে, তারা আবার বেকার।
অন্নপূর্ণা জননী তাই অন্ন জুটে সবার।
বলতে পার ফ্লাটটা শিবের আকাশ ফোঁড়া ঘর,
সিদ্ধি খেয়ে বৌয়ের দয়ায় থাকেন দিগম্বর।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৬/১০/২০২৩


মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩

পোহায় নবমী নিশি


পোহায় নবমী নিশি 


নবমীর রাত্রি হোল শেষ, চাঁদ ডুবে গেছে বহুক্ষণ। 
বিষন্ন ভোরের তারা কুয়াশায় ম্লান, আছে চেয়ে 
কন্যা বিদায়ের কালে অশ্রুমতী জননী যেমন 
 থাকে চেয়ে বাঙলার দুয়ারের চৌকাঠ ধরে'। 
কখন সে এসেছিল প্রতীক্ষার আনন্দের বান ! 
উচ্ছ্বাসের তীরপ্লাবী ভরা সে কোটাল -- 
অকস্মাৎ কোথা হোল হারা ? বিদায়-ভাটির সু্রে 
 বাজে ঢাক, কাঁসরের করুণ কাঁদন মন্দিরে মন্দিরে। 

মৃণ্ময়ী প্রতিমা নয় উমা হৈমবতী, তনয়া সে প্রাণময়ী 
 আবেগের রক্তরাগে সৃষ্টি ওই মায়াভরা চাঁদমুখ, 
 প্রসন্ন-সুন্দর দৃষ্টি, চিরন্তনী জননীর বুকের বাসনা 
 মূর্ত হয়ে মূর্তি ধরে' ছিল তিন দিন। নয় স্বপ্ন, সত্য 
 ছিল ; তাই বিচ্ছেদের এত দুঃখ, এমন বেদনা 
ঊষার বাতাসে ভাসে বিজয়ার বিধুর সংগীত। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
৬ই কার্তিক (ভোর) ১৪৩০।





 









সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৩

নবমী নিশার শেষে

নবমীর রাত্রি হোল শেষ, চাঁদ ডুবে গেছে বহুক্ষণ। 
বিষন্ন ভোরের তারা কুয়াশায় ম্লান, আছে চেয়ে 
কন্যা বিদায়ের কালে অশ্রুমতী জননী যেমন 
থাকে চেয়ে বাঙলার দুয়ারের চৌকাঠ ধরে। 
এই তো সে এসেছিল -- প্রতীক্ষার আনন্দের বান ! 
উচ্ছ্বাসের তীরপ্লাবী ভরা সে কোটাল -- 
অকস্মাৎ কোথা হোল হারা ? বিদায়-ভাটির সু্রে  বাজে ঢাক, কাঁসরের করুণ কাঁদন মন্দিরে মন্দিরে। 

মৃণ্ময়ী প্রতিমা নয় উমা হৈমবতী, তনয়া সে প্রাণময়ী।  আবেগের রক্তরাগে সৃষ্টি ওই মায়াভরা চাঁদমুখ,  প্রসন্ন-সুন্দর দৃষ্টি ; চিরন্তনী জননীর বুকের বাসনা 
মূর্ত হয়ে মূর্তি ধরে' ছিল তিন দিন। নয় স্বপ্ন, সত্য  ছিল, তাই বিচ্ছেদের এত দুঃখ, এমন বেদনা। 
ঊষার বাতাসে ভাসে বিজয়ার বিধুর সংগীত। 


দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৬ই কার্তিক (ভোর) ১৪৩০।











শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৩

আলী সাহেব -- মৃৎশিল্পী জীবনশিল্পী।

আলী সাহেব -- মৃৎশিল্পী জীবনশিল্পী



ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে। আমরা বুড়ো হয়েছি। সন্তানদের সংসার হয়েছে। আমরা তাদের সংসারে আত্মসমর্পণ করে দিয়েছি। ছেলেদের, বৌমাদের, নাতি নাতনীদের সেবা পাই, বকাঝকা খাই, দেখি শুনি সবই কিন্তু 'মন নাই মোর কিছুতেই'। কাজ কম্ম, দায় দায়িত্ব কিছুই নাই। এসব নাই বলেই শরতের শ্যামল সতেজ তৃণ-প্রাচুর্য-পরিপূর্ণ চারণভূমি পরিভ্রমণ করার পর কৃষকের বৃদ্ধ বলদ যেমন দিনান্ত বেলায় গাছের ছায়ায় বসে থাকে, রোমন্থন করে আধবোজা চোখে, আমার আজকের অবস্থা তেমনি। স্মরণের পথ পাড়ি দিয়ে মন চলে গেল সুদূর অতীতে, সত্তর বছর আগে, উনিশ শ' বাষট্টি তেষট্টি সালে, এমনি এক দুর্গোৎসবের ষষ্ঠীর দিনের পড়ন্ত বিকাল বেলায়।
অজয় নদের (আমরা নদীই বলি) উজান বেয়ে যতই পশ্চিমে যাবে ততই ছোটনাগপুরের আদিমতামাখা মালভূমির রূপ -- পাথুরে পাহাড়, ঢিপি, টিলা, ঝোঁপ- ঝাড়, বন-জঙ্গল। এমন এক রুক্ষ শুষ্ক দেশে, অজয় নদীর পাড়ে আমার জন্ম। বাল্য, কৈশোর কেটেছে সেখানেই। আমাদের গ্রাম, 'পাথর ডিহি', ছিল ছোট একটি বসত। চাষা ভুষাদের বাস। মাঝখানে আমাদের পাঁচঘর বামুন। সামনে নদী, ডাইনে বাঁয়ে শাল মহুয়ার বন, পিছনে দিগন্তজোড়া মাঠ, পাথুরে পাহাড়ের সীমানা দিয়ে খণ্ডে খণ্ডে বাঁধা। চাষের জমির ধান ছিল, পুকুর ডোবার মাছ যৎসামান্য হলেও ছিল কিন্তু বিদ্যার বালাই মোটেও ছিল না। একটি পাঠশালা ছিল। একজন মাষ্টারও ছিল। একটি ভাঙা কাছারি ঘরে তিনি থাকতেন, সেখানেই পড়াতেন। সে পাঠশালায় গেলে যাও, না গেলে না যাও। বর্ষাকালে সেও থাকত বন্ধ।
হঠাৎই গ্রামজুড়ে কী যেন চঞ্চলতা, কানাকানি। ''খুব ভালো, খুব ভালো", "না না ঠিক নয়, ঠিক নয়" -- এমনি নানা কথা বলাবলি। কারণটা জানতে পারলাম যখন একদিন সন্ধ্যা বেলায় একজন নূতন মানুষ আমাদের উঠোনে এসে দাঁড়ালেন। অনেক লম্বা। যেমন লম্বা তেমন ঝোলা সাদা জামা, মাথায় সাদা টুপি। বাবা এগিয়ে গেলেন। কি সব কথা হোল। তারপর জোড়হাত। মাথা নোয়ালেন, চলে গেলেন।
বাবা মায়ের কথাবার্তার সমস্তটা সেদিন বুঝতে পারি নি, তবে জেনেছিলাম তিনিও একজন মাষ্টার। নূতন এসেছেন। এখানকার পাঠশালা আর থাকবে না। ইস্কুল হবে। বড় ইস্কুল। গ্রামের সকল ছেলেদের পড়তে যেতেই হবে। মেয়েদেরও।
মা বলেছিল,
--- তবে আর বিবেককে বীণপুর পাঠিয়ে কি লাভ ?
--- এখানে পড়াশুনার চাষ কোনদিনও হবে না। কলু, বাউরি আর মুসলমান ছেলেরা করবে লেখাপড়া ?

বলেছিলেন বাবা।

সে বছরই, আমাকে, আমার মামাবাড়ি, বর্ধমান জেলার দামোদর নদের পাড়ে বীনপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হোল। বড় গ্রাম, বড় ইস্কুল। আমি যেহেতু বাবার কাছে বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ পড়েছিলাম, যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ শিখেছিলাম, তাই আমি দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে গেলাম। এখানে শুধু নিয়মিত ইস্কুলে যাওয়া, পড়া আর পড়া। মেজ মামার ভয়ে পুতুলের মত থাকা। একা একা বাইরে যাওয়া মানা।
এমনি চলতে থাকে। বছর বছর কেটে গেল। আমার পাথর ডিহিতে ফেরা হয়নি। মা আর বোন মাঝে মাঝেই আসে, থেকেও যায় বেশ কিছুদিন ধরেই। চার বছর পর, ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছি, পূজার সময় খুব জিদ ধরলাম, আমি পাথর ডিহি যাবই। মেজ মামার কি জানি কি হোল, বলল,
--- চল, আমিও যাই। শুনছি নাকি তোদের গ্রামেও গত বছর থেকে দুর্গা পূজা হচ্ছে।
অস্থির হয়ে উঠলাম ভিতরে ভিতরে। দিন আর কাটে না। রাতে ঘুমাতে পারি না। কতদিন পর অজয় নদী দেখব, বন্ধুদের দেখব। আর ওই যে নূতন মাষ্টার !

দুর্গা পূজার ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় পোঁছে গেলাম। মনে হচ্ছিল তখনি বেরিয়ে পড়ি গ্রামের এ-প্রান্তে, ও-প্রান্তে। বাবা আর মেজ মামার ভয়ে তা হোল না। রান্না ঘরে মায়ের কোলের কাছে গিয়ে বসলাম। মা বুকে ধরে এক হাতে জড়িয়ে রইল আমাকে, অন্য হাতে খুন্তি। মা আপন মনে কত কিছুই যে বলে গেল। সারা গাঁয়ের খবর। আমি আর থাকতে না পেরে ওই চার বছর আগের দেখা মাষ্টারের কথা জানতে চাইলাম।
বলছি সে গল্প। তুই তো এখন বড় হয়েছিস, বুঝবি।
ওই মাষ্টারকে নাকি সরকার পাঠিয়েছিল। এক বছর ধরে ছেলে মেয়ে জোগাড় করে পড়াতে হবে। তবেই সরকার ইস্কুল করে দেবে। মাষ্টার সে কথা বলেছিল। মুসলমান পাড়ার লোকেরা ছেলেদের পাঠালো না। তারা তাদের পাঠশালা, মাদ্রাসা খুলেছিল আগেই।
বাকিরা --- বামুন, বাউরি, কলু, গোয়ালা , সকলে বলে দিল মুসলমান মাষ্টারের কাছে তারা ছেলে মেয়ে পড়াবে না।
মাষ্টার কিন্তু গেল না।
মাষ্টার কি করল, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতে আরম্ভ করল। সবার ঘরে যায়। উঠানে গিয়ে বসে। খাবার চেয়ে খায়। মুসলমানদের পাড়ায় গিয়ে নামাজ পড়ে, আজান হাঁকে। আমাদের ঘরে এসে সত্য নারায়ণ পূজার সিন্নি, বাতাসা খায়। যেন ঘরের মানুষ। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, গলা ছেড়ে গান গায়। মাটি দিয়ে একটি ঘরও বানাতে লাগল নিজে নিজেই। এমনি করে অনেক দিন কাটানোর পর গত বছর, একদিন  সবাইকে ডেকে বলল,
--- আপনাদের গাঁয়ে তো দুর্গাপূজা হয় না। দুর্গাপূজা করুন। আমি প্রতিমা গড়তে জানি।
'না' বলতে পারল না কেউ। অল্প বয়সের ছেলেরা আনন্দে লাফাতে শুরু করল। বামুনদের বুড়োরা খুব রেগে গেল। বলতে লাগল,
--- এবার কি ম্লেচ্ছ দুগ্গার পূজা করতে হবে ?
--- তাই হবে, তাই হবে', বলে চিৎকার করে উঠল সবাই।
মাষ্টার কী সুন্দর ঠাকুর গড়েছিল বাবু ! তোর দাদুই তো পূজার সমস্ত অনুষ্ঠান করেছিলেন পরে। মাষ্টার কত যে খরচ করেছিল। শহর থেকে কিনে এনেছিল  এতো এতো গেঞ্জি আর গামছা। গাঁয়ের সকল ছেলেদের একটি করে গেঞ্জি, মেয়েদের একটি করে গামছা বিলি করেছিল নিজের হাতে। মুসলমান পাড়ার ছেলেরাও এসেছিল। খুব আনন্দ হয়েছিল।
এ বছর আরো জমকালো পূজা হচ্ছে শুনছি। ধুতি শাড়িও দেওয়া হচ্ছে। কাল ভোর বেলা সপ্তমী পূজা। তোদেরও নিয়ে যাব।
হ্যাঁ, পরের দিন খুব সকালবেলায়, ভাঙা নয় এখন,  সাজানো গোছানো নিকানো কাছারি ঘরের উঠানে গিয়ে দেখি মা দুর্গা, সঙ্গে কার্তিক গণেশ লক্ষ্মী সরস্বতী। অসুর হাঁটু গেড়ে বসে আছে নিচে। এক হাতের কনুই তার সিংহের মুখে, অন্য হাতে তলোয়ার। দুর্গা মায়ের ত্রিশূল তার বুকে বিঁধে আছে। পেট ফাটা মহিষ। রক্ত ঝরছে, রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। এসব গুলো মনে ধরেছে না। চোখ চলে যাচ্ছে দুর্গা মায়ের মুখের দিকে। কি সুন্দর, কি যে সুন্দর। আমার মায়ের মতই। হঠাৎই চমকে উঠলাম। পেছনে কার হাতের ছোঁওয়া। পেছনে ফিরে দেখি লম্বা জামা গায়ে, মাথায় সাদা টুপি একটি আমার বয়সের ছেলে।
--- এসো আমার সঙ্গে।
কাছারি ঘরের পিছনেই নতুন ঘর। রঙ দিয়ে লেখা, পাথর ডিহি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখনো পুরোটা হয় নি। তার বারান্দার শেষে গিয়ে দেখি মাষ্টার। অমনি ঝোলা জামা, সাদা টুপি মাথায়, বুক পর্যন্ত লম্বা ছুঁচলো দাড়ি। দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে, বড় একটি চৌকিতে গাদা-করা নূতন কাপড়।
---- বিবেক বাবু, (আমার ভালো নাম বিবেকানন্দ), কাল সন্ধ্যায় এসেছো ? শুনেছি। এসো, তোমাদের পাওনাগুলি নিয়ে যাও।
এই বলে আমার হাতে এক থাক কাপড় তুলে দিলেন।

আয়ুষ্কাল থেকে সাড়ে তিন কুড়ি বছর বিদায় নিয়েছে। উৎসভূমি অগম্য, দুরত্যয়া। জীবনের পাকদন্ডী পথ বেয়ে আজ ক্ষণকালের আরো এক পান্থশালায় আশ্রয় পেয়েছি, যেখান থেকে আমার ওই পাথরডিহি গ্রাম হাজার যোজন দূরে। মা বাবা আত্মীয় স্বজন, সে গাঁয়ের সেদিনের সে সকল প্রাণ, ভালো মন্দ, সুখ দুঃখ, কথা ও কাহিনী আজ শুধুই স্মৃতি। যে কয়েকটি মুখ, শরতের নির্মল আকাশে প্রভাত কিরণে সমুজ্জ্বল খণ্ড খণ্ড মেঘের মত ভাসে তাঁদেরই একটি ওই আলী মাষ্টার--- শামসুর  আলী। মাটির ঘর, মাটির মূর্তি গড়েছিলেন অপূর্ব।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২১/১০/২০২৩
মহাসপ্তমী,১৪৩০।















সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

বিনা মেঘে বজ্রপাত

বিনা মেঘে বজ্রপাত 


বিনা মেঘে বজ্রপাত 


(যুদ্ধ বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের আহত নিহত শিশুদের স্মরণে।) 


হাজার পদ্ম ফুটে আছে পদ্মদীঘির জলে, 
প্রভাত আলোর কোমল ছোঁয়ায় খুশির হাওয়ায় দোলে। 
কালো ভ্রমর এসে বলে' "বন্ধ কর দোলা, 
মধু খাওয়ার সময় আমার, 'ব্রেক ফাস্টের' বেলা।" 
মৌমাছিরা গান ধরেছে, প্রজাপতি নাচে, 
উতল ঢেউয়ের নাচন দেখে কেউ আসে না কাছে। 
মধুর লোভে যে যার মত শাসন তোষণ করে। 
দ্যুলোক ভূলোক উঠলো মেতে জলতরঙ্গ সুরে। 
ফুল পাখি শিশুর ভূবন আনন্দ সরোবর  ; 
অবোধ হৃদয়, নিষ্পাপ প্রাণ জানে না আত্মপর। 

অকাল মেঘে ঢাকলো হঠাৎ স্নিগ্ধ সকাল বেলা, 
বজ্রপাতে ঝলসে গেল ফুল্ল ফুলের মেলা। 


দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৬/১০/২০২৩
কলকাতা।








শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩

তর্পণ

তর্পণ 


"ময়া দত্তেন তোয়েন তৃপ্যন্তু ভূবনত্রয়ম্।"

ক্ষণিকের আলয় ছেড়ে মহালয়ে চলে গেল যারা
বুকে নিয়ে পিপাসার মহামরুভূমি, জল দাও।
শান্ত হোক্ কামনার চিরবহ্নিজ্বালা।
এমত কি আছে কোন এ মর্তের প্রাণ,
পরিতৃপ্ত জীবনের করে' সুধা পান মরণের কোলে
সে নিয়েছে আশ্রয় ? যোগী, ভোগী, অনুরাগী,
বিবাগী বিলাসী -- না-পাওয়ার তৃষ্ণা বুকে নিয়ে
ফিরেছে সবাই দেশশূন্য, কালশূন্য অজ্ঞাত আলয়ে।
আর যারা পেয়েছিল অমৃতের স্বাদ পৃথিবীতে,
ঈর্ষা হিংসা জিঘাংসার অস্ত্রাঘাতে ব্যর্থপ্রাণে
নিয়েছে বিদায়। আছে আছে আছে কিংবা নাই নাই,
যা সত্য তাই, আজ এই প্রভাতের সূর্যকরস্নাত
আকাশের মত থাকে যেন সুনির্মল প্রশান্ত সুন্দর।
আমার অঞ্জলি-জলে তৃপ্ত হোক বিশ্বচরাচর।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
মহালয়া, ১৪৩০।







শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৩

তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে

 তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে 

একটি মর্মান্তিক মৃত্যু ! জীবন-বাঁচানোর সেবা-মন্দিরে তরুণী জীবনধাত্রীকে পৈশাচিক ধর্ষণ ও‌ খুন। ভীতি, বিমূঢ়তা গ্রাস করল জাতিকে, সমাজকে, দেশকে, এমনকি বিশ্বকেও। কিন্তু এ তো শুরু বা শেষ নয়। এ-যে সারা দেশে, জনপদে জনপদে নিত্য নিয়ত সংঘঠিত বিকৃত-মনন, অর্থলিপ্সু, নির্বিবেক মানুষরূপী শ্বাপদদের পশ্বাচারের অসংখ্য উদাহরণের একটি এবং বিশেষ একটি। সাময়িক শোকচ্ছ্বাসের বিহ্বলতা কাটিয়ে মানুষ জেগেছে। কিন্তু সেই হঠাৎ জাগরণের দিশাহীনতাও এতটাই প্রকট যে সমাজচেতনা আজ উদভ্রান্ত, বিভ্রান্ত। বিশ্বাসহীনতার অন্ধকারে সবই যেন বিলুপ্ত। সরকার, বিচার ব্যবস্থা, নীতি আদর্শ গুলি -- যা সমাজবন্ধনের, মৈত্রী সম্মন্ধের বন্ধনডোর -- সেগুলি যেন বেহালার (বে-হাল) ছিন্ন তার। 

এদিকে শরৎ এসেছে আবার। সমাসন্ন দুর্গোৎসব। সচ্ছল যাঁরা তাঁদের আনন্দের প্রত্যাশা, অসচ্ছল যাঁরা তাঁদের রুজি রোজগারের আশা। বিপণি-পণ্য- বিপণন, শিল্প-শিল্পী সম্পর্কের সন্ধিকালও এই সময়। 

 কিন্তু তুমুল বর্ষা অকস্মাৎ। বাঙলার বুকে দর্গতির, দুর্ভাগ্যের, প্রতি বছরের মত এবারও, মারণ আঘাত। নদীর পাড়ের গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে, বাঁধ ভাঙা প্লাবনে ডুবে গেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের শত শত জনবসতি। ধ্সে  পড়ছে গাঁয়ের, শহরতলীর কাঁচা ঘর। বাঁকুড়া বিষ্ণুপুরের ঘটনা তো সহ্য করা যায় না -- মর্মবিদার। মনে হয় আমি বা আমরাও কেন বেঁচে আছি এখনও। ঘরের দেওয়াল ধসে তিনটি ঘুমন্ত শিশুর জীবন্ত সমাধি। কোথাও বা বৃদ্ধ বৃদ্ধারাও ভেঙে-পড়া ঘরের ধংস স্তুপের ভিতরে শেষ নিঃশ্বাসটুকুও নিয়ে যেতে পারেনি। দক্ষিণ বঙ্গের আটখানা জেলার, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও শহরতলি কোথাও হাঁটু, কোথাও গলা পর্যন্ত বন্যার দূষিত, আবর্জনাক্লিন্ন জলে নিমজ্জিত। উত্তরবঙ্গে, সিকিমে কী ঘটছে বা ঘটবে তা জানেন শৃঙ্খল-ছিন্ন উন্মত্ত প্রকৃতি। 

প্রতিবিধান ?

বাঙলার এবং ভারতেরও ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে তারা শ্মশান শ্বাপদের লালাসিক্ত রসনায় আত্মকলহে উন্মাদ। ওই নিরপরাধ, অবোধ-নির্বোধদের হাহাকার-য়ের, অকাল মৃত্যুর হাতে-পাওয়া মূলধন কে কতখানি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে কাজে লাগাবে তারই জন্য ছোটাছুটি। কেও যদি এক টুকরো 'শোক', মৃত শবের শরীর থেকে ছিঁড়ে-নেওয়া মেদখণ্ডের মত ছিনিয়ে নিয়ে স্থলপথে পালিয়ে গেল, অমনি আরেকজন আরেক টুকরো আহরণ করে, রক্তনয়নে  হুঙ্কার ছেড়ে আকাশে লাফ দিয়ে পোঁছে গেল কাপালিক গুরুর গুহায়। মানুষের দারিদ্র্য, বিপর্যয়, দুর্গতি -- এগুলি রাজনীতির নির্মম ব্যবসায়ীদের কাছে Sustainable and substantial Capital. 

বছরের পর বছর পেরিয়ে জীবনের শেষ ধাপে আজ পৌঁছেছি, বহু রাজনৈতিক নেতাকে দেখেছি, যাদেরকে দেখিনি তাদের জীবনী পড়েছি --- মাত্র কয়েকজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব ছাড়া বেশীর ভাগই ওই (Julius Caesor.) মার্কাস ব্রুটাসের সেই বিখ্যাত উক্তির মূর্ত মূর্তি। 


"The abuse of greatness is young ambition's ladder ;
Whereto the climber upward turns his face,
But when he attains the upmost round,
He then unto the ladder turns his back
Looks in the clouds scoring the base degrees
By which he did ascend." 


স্বভাব-সরল সাধারণ মানুষকে সিঁড়ির মত ব্যবহার করে সদ্যজাত 'উচ্চাকাঙ্ক্ষা' (উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতা) যখন শাসন ক্ষমতার উচ্চতম মঞ্চে নিজেকে অধিষ্ঠিত করে তখন তার দৃষ্টি মেঘেদের উপর। সিঁড়ির দিক থেকে শুধু যে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাই নয়, তার ওই ক্ষমতার উৎসের প্রতিও তার ঘৃণা, তার বিতৃষ্ণা প্রদর্শন করে।
জগৎ ও জীবনের মহা নাট্যকার, মহাকবির এই উচ্চারণ সত্যের আলোয় চির ভাস্বর। বিদেশ বিভূঁইয়ের কথা থাক্, আজ আমাদের দেশের রাষ্ট্র-  যন্ত্রের, রাষ্ট্র তন্ত্রের দিকে তাকিয়ে দেখলেই এই ছবি সুস্পষ্ট। 

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মরোক্কো, তুরস্কের ধ্বংসস্তূপে কিংবা মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেনীয় যুদ্ধে বিধ্বস্ত নগর শহরে চাপাপড়া নর-নারী-শিশুদের শেষ আর্তনাদ দূরাগত বলে কানে আসে না ঠিকই, কিন্তু আমার দেশের শহরগুলি থেকে দু-পা দূরের গ্রাম, গঞ্জ, বস্তি --যেগুলি দেশনায়কদের ঈশ্বর্য, দম্ভ, অপ্রতিহত শক্তির উৎস সেইসব অকুস্থলে যখন জীর্ণ ঘরগুলো ধসে ধসে পড়ছে, জীবন্ত চাপা পড়েছে ঘুমন্ত শিশু, বৃদ্ধ বাবা মা ঠাকুমা দিদিমা তখনও দেখি তারা হয় অন্ধ, নয় বধির ; অথবা অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার মত্ত বাসনায় সমগোত্রীয়দের সাথেই নির্লজ্জ বিতন্ডায় অবতীর্ণ। তখন তাদের নখ দন্তের উলঙ্গ আস্ফালন কলহে-লিপ্ত, শবভুক  শ্মশানচারী চতুস্পদেরও লজ্জা দেয়।
দুঃখে দারিদ্র্যে, রোগে শোকে, প্রকৃতির বিপর্যয়ে যে অসহায় প্রাণ অকালেই ঝরে যায়, ধ্সে চাপা পড়ে, প্লাবনে ভেসে যায় -- 

"জানে না সে কোথা যাবে,
কার দ্বারে দাঁড়াইবে বিচারের আশে,
দরিদ্রের ভগবানে বারেক ডাকিয়া দীর্ঘশ্বাসে
মরে সে নীরবে...." 

এই মানবসমাজ চিত্র দিনে দিনে আরো দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে সকলের চোখের সামনেই। অপর দিকে ধরিত্রীর প্রাকৃতিক সম্পদের লুণ্ঠন চলছে অব্যাহত গতি। শুধু আমাদের দেশে নয়, পৃথিবী জুড়ে। ভারতসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার ভূগর্ভ, পর্বত-অরণ্য, নদী-হ্রদ এমনকি মানুষের শরীরের, নারীদের গর্ভস্থ ভ্রূণেরও রেহাই নেই --- লুণ্ঠন লুণ্ঠন। বাধা পড়লেই সশস্ত্র তান্ডব। পরিণাম -- যুদ্ধ, মৃত্যু, মহামারী। তা হোক্। ভোগের সর্বগ্রাসী লালসার মুখে সভ্যতা যেন তান্ত্রিকের হাঁড়িকাঠে পোরা ছাগশিশু। আরো চাই, আরো আরো ! মিলিয়নিয়ার, বিলিয়নিয়ার, ট্রিলিয়নিয়ার, জিলিয়নিয়ার.... হওয়ার জন্য যা কিছু করবার করে চলেছে ভোগসর্বস্ব ধনবাদ। এ যেন ছিন্নমস্তার রক্তপিপাসা ! 

আজ থেকে প্রায় পঁচাশি বছর আগে, আসন্ন শেষ বিদায়ের আগে, মানবধর্মের দেবদূত রবীন্দ্রনাথ ভগ্ন-  বিশ্বাসে আর্তনাদ করে উঠেছিলেন,
                    " ...... শুনি তাই আজি
মানুষ জন্তুর হুহুঙ্কার দিকে দিকে উঠে বাজি।"
"লুব্ধ যারা, ক্ষুব্ধ যারা, মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা" --সেই "একান্ত আত্মার দৃষ্টি হারা" নরপশুদের যে ভাষায় তিনি ধিক্কার দিয়ে গিয়েছেন তা তাঁর আজন্ম লালিত জীবনধর্ম ও সাধিত সংস্কারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী -- সন্দেহ নেই ; কিন্তু আমরা ভেবে শিহরিত হয়ে উঠি, ত্রিকালজ্ঞ ঋষিকবির এহেন উচ্চারণ উদ্ঘোষিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নরমেধ যজ্ঞারম্ভের প্রাক্  মুহূর্তে।

সেই পৈশাচিক নরমেধ যজ্ঞে আজও পূর্ণাহুতি  পড়েনি। খনিগহ্বরে-জ্বলা নরকাগ্নির মত ভোগবাদের অন্তরে লোভের সেই আগুন অনির্বাণ। কখনো অদৃশ্য, কখনো উপরিতলে ধূমায়িত, কখনো বা খনিমুখ থেকে বেরিয়ে আসে তার লেলিহান শিখা। ইউরোপখণ্ডের আভ্যন্তরিণ ফাটলে দাও দাও জ্বলে উঠেছে সেই শিখা --- সমাপ্তির পূর্ণাহুতি হয়তো বা হতে পারে পরমাণু ঘৃতপিণ্ডে।
ভাবনার পথে অনেক দূর চলে গিয়েছি ঠিকই কিন্তু তা অপ্রাসঙ্গিক নয়। একটি দেশের বা একটি রাজ্যের প্রত‌্যন্ত কোন গ্রামের কিছু জীর্ণ ঘরে দরিদ্র, সহায়-সম্বলহীন মানুষ মাথা গুঁজে থাকেন। সে গ্রামের যে মাথা, ওই হতদরিদ্র মানুষদের সমর্থনে যে শাসক --  গ্রামপ্রধান, তার নিজস্ব ভোগস্পৃহা, তার স্বার্থপরতা, তার প্রবঞ্চনায় যদি জীর্ণ ঘরের দেওয়াল চাপা পড়ে শিশুদের মরতে হয় তবে তার অপরাধ, আর যুদ্ধবাজ, নির্মম রাষ্ট্রপ্রধানদের অপরাধ একই। লালসার জিভ লম্বায় ছোট বড় হতে পারে কিন্তু শোষণে সমান পারদর্শী। অগ্নিশিখার দহনক্ষম আগ্রাসন ততখানি প্রসারিত যতখানি তার আয়ত্বাধীন, ভাগাড়ে গৃধ্রের চঞ্চু ততখানিই যায় মৃত পশুর যতখানি অংশ সে ছিঁড়তে পারে। যেমন ছেঁড়া চটের আস্তানা থেকেও চুরি হয়ে যায় ভিক্ষুক, হারিয়ে যায় বেমালুম (কেননা তার দেহেও রত্ন আছে --- দশ বিশ লক্ষ টাকা মূল্যের), ঠিক তেমনি রাজকোষ থেকে উধাও হয়ে যায় রাষ্ট্রের মূলধন যে 'মূলধন' কোষাগারে পৌঁছায় দেশের বৃহত্তম জনসম্পদ কৃষিজীবী, শ্রমজীবী মানুষের অশ্রু ঘাম রক্তের নিরন্তর চলমান স্রোতধারায়। এসব কথায় রাজনীতির রঙ লেগে আছে -- এমন একটি ধারণা গড়ে তোলা যেতে পারে কিন্তু তা সত্য নয়। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যদি রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং সমাজবন্ধনের সমস্ত আদর্শের ভিত্তি না হয় তবে কোন সংবিধান, কোন 'মেনিফেস্টো', কোন 'ডিক্লেয়ারেশন' সর্বজনীন কল্যাণ প্রতিষ্ঠার 'বিশ্বাস' সৃষ্টি করতে সমর্থ হবে না --- অব্যর্থভাবে ব্যর্থ হবে। সভ্যতার ঘনঘোর সঙ্কটের মাঝখানে দাঁড়িয়েও যিনি মৃত্যুহীন আশায় বুক বেঁধে বলেছিলেন, "মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ'', তিনিও বিদায়বেলায় প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন এই 'বিশ্বাস' য়ের উপর। আজ 'বিশ্বাস' শব্দটি তার অর্থ হারিয়েছে। সে প্রবঞ্চনার নামান্তর। তাই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রেমের সম্পর্ক যতক্ষণ না সাধিত হবে, যতক্ষণ না সহমর্মিতা বোধ জাগ্রত হবে, যতদিন হিংস্রতা, ক্রূরতা, স্বার্থপরতা  সমাজে বিরাজ করবে এবং সর্বোপরি ভোগসর্বস্ব জীবনের প্রতি লালসার প্রশমন যতদিন না হবে ততদিন বিপুল নৈরাশ্যের ভার বহন করে যেতেই হবে। 

ঈশ্বর, ভগবান বা কোন দৈব বিধান ( Providential Dispensation), কোন গনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, জনগণতান্ত্রিক, সশস্ত্র বা নিরস্ত্র আন্দোলন সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণ সাধনে সফল হবে না যতদিন না মানুষের চেতনা, সমাজের বিবেক জাগ্রত হবে। 

(লেখাটি পরিমার্জিত ও পুনঃপ্রকাশিত।) 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 

২৬/০৯/২০২৪ 

কলকাতা।
 








Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...