শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বসন্ত এসেছে

আজি‌ এ বসন্তে 



প্রিয়ংবদা, ভালো আছো ? 
আজ অন্তত ভালো থেকো, কথা বল--- 
দুষ্মন্তকে যা বলেছিলে শকুন্তলা-কথা 
হাজার বছর আগে মালিনীর তীরে, বনাশ্রমে। 
দেখ, লুকিয়েছে শীত ছায়ায় ছায়ায়, 
মরেছে কুয়াশা আলোর মায়ায়, 
ঝলমল রোদে পাখনা ভিজিয়ে উড়ছে পায়রাগুলো। 
মুকুলে মুকুলে আকুল আমের গাছ, 
শাল পিয়ালের শাখাগুলো নত নব মঞ্জরী ভারে ; 
তারা যুবতী ধরম দিয়েছে জলাঞ্জলি 
মধুখেকোদের নিলাজ ছেনালীপনায়। 

"------------------সুগন্ধবহ বহিল চৌদিকে। 
সুস্বনে সবার কাছে কহিলা বিলাসী
কোন্ কোন্ ফুল চুম্বি' কি ধন পাইলা।" 

এমন করে তো হবে না বলা মহাকাব্যের ভাষায়, 
ছোট হয়ে গেছি আমরা এখন অনু লেখনীর শাপে। 
বড় বড় সব আবেগগুলোকে ছেঁটে করি বনসাই, 
ম্যাগাজিন সব ঠাসা কবিতায় ঠিকই ‌; 
কিন্তু তাদের গতি হয় শেষে মুড়ি বেগুনির ঠোঙায়। 
 যাগ্গে সে-সব খেজুর আলাপি কথা, আজ তুমি গান গাও। 
বইছে যেমন ফাগুন বাতাস উতলা এলোমেলো ; 
বাণী বন্যায় হয়ে যাও প্রগল্ ভ-- অনবগুন্ঠিতা।  
কুন্ঠিত যত কথা আছে বুকে আমি শুনি তুমি বল। 
যুগের ধর্ম, স্বাধীন হয়েছে প্রেমও, ঠিক যেন প্রজাপতি, 
ফুলে ফুলে তার অবাধ আমন্ত্রণ, নির্বাধ গতিবিধি। 
ধর তুমি কাঞ্চনা, বিশাখা সন্ধ্যামনি --নিশীনিকুঞ্জে তার 
অলস বিলাসে চোরা সে ভ্রমর ঊষার প্রথম আলোয় 
বসেছে তোমার বিকচ বুকের মাঝে ; অনাহূত হোক
কিংবা সে রূপাহত -- একেই তো বলে বসন্ত উৎসব। 
আনন্দ- ঋতু কম পড়ে গেছে নিত্য দিনের জীবনে। 
পুরানো যা ছিল ঝরে গেছে আজ ঝরাপাতাদের সাথে, 
নব বসন্ত আনন্দ মুখর নব নবীনের গানে।। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৩/০২/২০২৩। 

(কবিতাটি গভীর একটি ভাবের বাহন। পড়ুন, মতামতগুলি লিখে দিবেন।)


                                  



বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বিপর্যয়

 আমার বসন্ত ও তুরস্ক 

                                      দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 



বেশ ছিলাম। শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে 
 কেটে যাচ্ছে। বাতাসে বসন্তের উষ্ণতা, কাঞ্চন 
পলাশের বর্ণোচ্ছ্বাস, আমের মুকুল, শাল পিয়ালের 
নব মঞ্জরীর সুরভী-সুবাস, নিকটে দূরে সানাইয়ের
 সুর। প্রেম দিবস, প্রেমের গান, প্রেমের কাব্য 
কবিতা,চন্দ্রালোকে চন্দ্রাহত কোকিলের নিশীথ বিড়ম্বনা--- 
রাত্রি-জাগরণ-শ্রান্ত কোন বিরহীর বিরহ বেদনায় 
 মাড়োয়ার সুর দিতেই হবে। বেশ ছিলাম। বার্ধক্যের 
সর্বজন স্বীকৃত আলস্য নিয়ে জীবনটাকে ভোগ না 
হলেও উপভোগ করছিলাম ভালো মতোই। 

হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাত ! সুদূর পৃথিবীর একখণ্ড  ভূমি উঠল কেঁপে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল খবর।  খবর তো নয় সিরিয়া তুরষ্কের আর্তনাদ ভেসে এলো  পাহাড় সাগর মরুভূমির বাধা পেরিয়ে। শেষ পাওয়া  খবর ধ্বংস স্তুপে অভ্যন্তরে পঁচে যাওয়া, গলে- যাওয়া  মানুষের সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে।  আনুমানিক হিসাব। গলিত লাশের গন্ধে জীবন্ত  মানুষেরাও মৃতপ্রায়। এতো গেল উপরিতলের  নারকীয় ছবি ; কিন্তু ভগ্নস্তুপের ভিতরে ! হাজার  হাজার টন ডেব্রিসের তলায় পিষ্ট, অঙ্গছিন্ন, অর্ধমৃত  নর নারী শিশু মরণ যন্ত্রনায় ধুঁকে ধুঁকে মরে মরে  'বেঁচে' গিয়েছিল ? 
এই বীভৎস পরিনামের কোন প্রতিবিধান আছে ? 
নেই নেই নেই ! নগরায়ন, অপ্রয়োজনীয় শিল্পায়ন, 
জন বিস্ফোরণ ! নদী, গিরি, ভূমি, অরণ্যের  উৎসাদন। এমনকি সমুদ্র, আকাশের বুকে বুকে  যুদ্ধাস্ত্রের মারণ তান্ডব। ভার্টিক্যাল বসতি গড়ে  তোলার দুর্দমনীয় দনুজ প্রয়াস। 
দৈব দুর্যোগ, প্রকৃতির বিপর্যয় পৃথিবীর অসংখ্য প্রাণ  অনন্তকাল ধরে অকালে ধংস করেছে, একথা সত্য ;  কিন্তু সভ্যতাগর্বী, জ্ঞান-বিজ্ঞানে দেবতার প্রতিস্পর্ধী  মানুষ যদি বিবেক বিবেচনাহীন হয়ে আত্মহননের,  মহাপ্রস্থানের পথ বেছে নেয়, (ধসপ্রবন, ভূমিকম্প প্রবণ) চোরাবালির উপরে আকাশ-ফোঁড়া অট্টালিকা তোলে তাহলে সেই আত্মনাশা  উন্মত্ততা থেকে কে বাঁচাবে তাকে ? 

                                        দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৫/০২/২০২৩

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ঝরা পাতা


                        ঝরা পাতা 


"ঝরা পাতা গো, আমি তোমারি দলে।" 

                                   _____রবীন্দ্রনাথ  



                                     ঝরা পাতা 


জীর্ণ যে পাতা ঝরে গেল আজ হিমেল আঁধার রাতে, 

নববসন্ত সোহাগে শ্যামলী তরু কি খুঁজবে তাকে ? 

পত্রগুচ্ছ আবরণ তার পুষ্পপুঞ্জ আভরণ

সূর্য চন্দ্র প্রাণের বন্ধু আলোকের সাথে আলাপন। 

মধুপের দল অতিথি কুটুম পাখীরা গায়ক গায়িকা, 

মলয়ানিলে নাচে সে তরুণী বনসভা তলে নায়িকা।

খসে পড়া পাতা উড়ে গেছে ঝড়ে অথবা পুড়েছে আগুনে, 

বৃদ্ধ নীরস বিবর্ণ মুখ-- কোন দাম নাই ফাগুনে। 

এমনি ছন্দে লেখা হয়ে আছে জীবন পথের পাঁচালী; 

এক তিল তার হবে না ভিন্ন ওঠে প্রাণ তবু আকুলি।।

মরে গেল যারা, ঝরে গেল যারা এতকাল ছিল  কাননে; 

বৈশাখী তাপ, শ্রাবণ শিহর সহেছিল স্মিত আননে। 

দ্যুলোকের আলো, ভূলোকের রস নিয়ে নিজ মুঠিতলে

মহাজীবনের অমৃতের ধারা ঢেলেছে সৃষ্টিমূলে। 

নূতন কালের কেতন ওড়ায় নূতন পান্থদল। 

বৈতালিকের ভৈরবী তানে ছন্দিত চঞ্চল। 

নিঃশেষে ক্ষয়ে দিয়ে যেতে হবে যা আছে তোমার আপনার, 

সঞ্চিত যত সম্পদ সব সারা জীবনের সাধনার। 

এই দান তবু যায় না হারায়ে বিস্মরণের অতলে ; 

নূতন কালের পাতায় পাতায় নূতন মুকুলে মুকুলে 

বর্ণ গন্ধ রূপের মাধুরী ফিরে আসে মধুমাসে । 

নূতন জীবন নূতন আবেগ ছড়ায় আকাশে বাতাসে। 

তবু হৃদয়ের অদেখা বৃন্তে থেকে যায় ক্ষতচিহ্ন, 

ঝরাপাতাদের শেষ মর্মরে চৈতালি চাঁদ 🌒 ক্লিন্ন। 


দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩।















শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বই মেলা


বই মেলা  
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 


লক্ষ চরণ-পতন ছন্দে বিচিত্র স্বরে সুরে 
মিলায়ে প্রাণের মত্ত আবেগ আমি মরি ঘুরে ঘুরে। 
বইয়ের পসরা রয়েছে সাজানো যেদিকে তাকাই সেদিকে, 
গলি গলি চলি--- মুগ্ধ নয়ন বেপথু এদিকে ওদিকে। 
বিপণির সারে, বই থরে থরে বিচিত্র তাদের আবরণ, 
শীর্ণ, পৃথুলা যেমন গতর তেমনই চিত্র আভরণ। 
ভিতরে সবার প্রবেশাধিকার হবেনা শতেক জনমে, 
হাতে তুলে নেব, পাতা ওল্টাব ? আড়ষ্ট হই শরমে। 

কোটি মানুষের মানস-তটিনী দিক দিগন্ত হতে 
কথা কাহিনীতে, কাব্য ও গীতে মিলে' অজস্র স্রোতে 
সৃজন মেলার মহামোহনায় তোলে ধ্বনি, তোলে সুর-- 
মিলনানন্দে, বিরহ-ব্যথায়, হাসি গানে সুমধুর। 
ভগীরথ যাঁরা এসেছেন তাঁরা সৃষ্টিশঙ্খ বজায়ে, 
জ্ঞানের সাগর তীর্থাঙ্গনে রাখেন অর্ঘ্য সাজায়ে। 
অজ্ঞান-তিমির-অন্ধ আমার বহু সাধনার পুন্য -- 
গ্রন্থ-কমল-সুরভী-সুধায় জীবন হয়েছে ধন্য। 
মনে সাধ জাগে লিখি দুটি বাণী মানস সিন্ধুকূলে, 
বালুকা বেলায় তরঙ্গ রেখায় বেদনা অশ্রু জলে। 
যে রসোচ্ছ্বাসে শ্লোকের স্ফুরণ আসেনা সে ঢেও বুকে, 
তমসার তীরে ব্যর্থ জীবন কাঁদে আলোকের শোকে। 

                                 দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 

('গতর' শব্দটি ব্রাত্য নয়, শব্দটি 'গাত্র' শব্দের অপভ্রংশ। 
লৌকিক প্রয়োগ।)


৩রা ফেব্রুয়ারী,২০২৩। 
কলকাতা বইমেলা।

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...