শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪

ফুরায় খেলার বেলা, ফুরায় না আলো

ফুরায় খেলার বেলা, ফুরায় না আলো 


কিশোরের দল ফিরে গেল ঘরে 
দিবসের খেলা শেষে, 
আমি আছি বসে মাঠে এক কোণে 
অফুরান অবকাশে। 
জীবনের খেলা হয়ে গেছে সারা 
জয় পরাজয় একাকার, 
সঙ্গী সুজন বন্ধুর মাঝে 
আজ বিচ্ছেদ পারাবার। 
এই নির্জন সান্ধ্য লগন 
কামনা বাসনা শূন্য, 
হৃদয়ে জেগেছে শান্ত ক্ষান্ত 
আকাশের ঔদাসীন্য। 
এতকাল ধরে বিপুল প্রয়াসে 
খেলাঘর গড়ে জীবনে  
যে খেলা খেলেছি, যে সুখ পেয়েছি 
নাই তাও আজ স্মরণে। 
নবতর খেলা, নব সঞ্চয়, 
নূতন প্রণয় বাসনা, 
কিছু নাই নাই ভাবে ভাবনায়, 
নাই সপ্নিল এষণা। 
নাই সংসারে কর্মের ভার, 
 নাই ডাক আগে পিছে। 
না আছে ঊর্ধে স্বপ্ন উড়ান 
না নামার টান নীচে। 
নিষ্প্রাণ এই স্থবিরতা যেন 
নিয়তির ইঙ্গিত --- 
দিক-দিশা মুছে কালো নিশা ঢাকে 
 জীবনের সংগীত। 
ভয়ে বিস্ময়ে দু-হাত বাড়াই 
শূন্যে দৃষ্টি মেলি --- 
কে ঢালো হোথায় তিমিরাঙ্গনে 
 আলোকের অঞ্জলি ? 

দুলাল চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় 
২৮-০৬-২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।
____________________________________






















বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪

ভিখারি

ভিখারি 

  দিবসের শেষে এ-দুয়ারে এসে 
                 চাইল ভিক্ষা আনজন, 
    তখন আমার যা ছিল দেবার 
              ফুরায়ে গিয়েছে সব ধন। 
ছিল প্রেম, ছিল প্রীতি ও প্রণয় 
            আবেগ-ভিজানো ভালবাসা -- 
সবই ক্ষয়ে ক্ষয়ে হয়েছে বিলয় 
            পড়ে আছে এই ভাঙাবাসা। 
ভিখারিকে বলি, "কি দিব তোমায় ?" 
      বারে বারে বলে, "কিছুই কি নাই ?" 
- "আমি শুধু আছি, একা একা বাঁচি, 
             বাঁচি আর মরি ভাঙা খাঁচায়।" 

ভিখারির ঠোঁটে মৃদু হাসি ফোটে 
            লজ্জায় আমি মরে যাই। 
বিপুল ভূবনে বিরাট জীবনে 
               সঞ্চয় তবে কিছু নাই ? 
ভিখারির তবু রয়েছে যে পথ 
          এই দেশ হতে সেই দেশে -- 
আমি কোথা যাই, কিবা পেতে চাই 
           এ কী শূন্যতা চারিপাশে ! 
 অস্ত অচলে দিনমণি ঢলে, 
    নেমে আসে কালো অন্ধকার। 
  মনে হোল ওই ভিক্ষুক নয় 
            আমিই পাত্র করুণার। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৯/০৬/ ২০২৪ 
ব্যাঙ্গালোর। 


রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

ভগ্নস্তুপ




ভগ্নস্তুপ (মহীশূর) 

 

বিশাল সে ভগ্ন প্রাসাদ অশ্বত্থের বটের শিকড়ে ঝুরিতে 

আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। অতীতের শাসন-শৃঙ্খল দেখি 

নব অবতারে, প্রকৃতির প্রতিহিংসার জাজ্বল্য প্রমাণ। 

জয় যেন পরাভূত, পরাভব জয়ের নিশান নিয়ে হাতে। 

রক্ত করবীর তরু ভাঙা পরিখার ধারে ধারে সার বেঁধে  আছে -- 

গুচ্ছ গুচ্ছ রাঙা রাঙা ফুল মাথায় মাথায় --- 

নিষ্পেষিত দুর্বলের দাসত্বের সকরুণ শোণিত-স্বাক্ষর। 

হেলে-পড়া পাঁচিলের ফাটলে ফাটলে সরীসৃপ --- 

ক্রূরতার জন্মান্তর। গভীর অন্ধ খাত এক কোণে, 

গলিত শবের পুঁতিগন্ধ আজও ওঠে ঊর্ধাকাশে 

বিচারের প্রার্থনায় অসহায় দেবতার কাছে। ইতিহাস 

মরেও মরেনা কেন ? পাপ কেন পড়ে থাকে কঙ্কালের পারা ? 

কালের ভ্রূকুটিভঙ্গে শাসনের নির্লজ্জ গরিমা 

শূন্যতায় করে হাহাকার ! কঠোর সত্যের এই পান্ডুলিপি 

বিকীর্ণ রয়েছে চতুর্দিকে ; তাই ভরসার শেষের আশ্রয় 

ওই বট, ওই অশ্বত্থের শিকড় কুণ্ডলী -- অতীতের  

শবের  উপর নূতনের প্রাণের নিশান, তাদের শীতল ছায়া 

অনুতপ্ত প্রেতাত্মার সান্ত্বনার মায়া। করবীর রক্তরাগ 

বন্দিনী রাজদুহিতার সংরক্ত হৃদয়ের ব্যর্থ পূর্বরাগ। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৬/০৬/ ২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।



Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...