বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪

মাতৃবিরহ

মনে পড়ে মা'কে--- রয়েছে দাঁড়িয়ে উৎসুক, 
উদ্বেগের কায়াময়ী প্রতিমার মত, 
দুয়ারের চৌকাঠের ভাঙা কাঠ ধরে, 
আমার ফেরার পথ চেয়ে। 'মা'-- ডাক শুনে, 
নগ্ন পায়ে উঠানের দীর্ঘ পথ পাড়ি। চোখে জল, 
মুখে হাসি দাঁড়াল নীরবে, সম্মুখে আমার। 
যেন হারাধন এলো বুকে তাঁর। এমনি কত শত দিন, 
শত শত রাত মায়ার আঁচল দিয়ে রেখেছিল ঢেকে, 
শীতল-চন্দন স্নেহে দিয়েছিল মেখে সর্বাঙ্গ আমার। 
আমার মঙ্গল চেয়ে করেছিল কত উপবাসী ব্রত, 
অভুক্ত থেকেও বক্ষে রেখেছিল যে অমৃতধারা, 
সেই সঞ্জীবনী সুধা আজিও আমার প্রাণের গোমুখ। 
আজ ছাড়াছাড়ি, আমি তো দিয়েছি পাড়ি সুদূর বন্দরে 
বাসনার মণি মুক্তা খোঁজার সন্ধানে ; 'মা'ও ঘরছাড়া, 
বেতারে জেনেছি তার বৃদ্ধাশ্রমের ঠিকানা। 
ছানি-পড়া চোখে, খুপরি-ঘরের এক কোণে আছে চেয়ে 
পাল্লা-ভাঙা জানালার বিষন্ন আলোয় সেই প্রতীক্ষায়, 
সেই সে ব্যগ্রতা নিয়ে এখনো'বা, হয়তো বা তন্দ্রাচ্ছন্নতায় 
স্বপ্ন দেখে, অর্ধচেতনায় অস্ফুটে ওঠে ডেকে বার বার, 
"আয় বাবা, আয় ত্বরা, ফুরালো চোখের আলো ভর সন্ধ্যাবেলা।"

"ও মা, রত্নমোহে আমি আজ অতলান্ত সাগরের তলে, 
নিরবকাশের অক্টোপাসে ঘিরেছে আমাকে।" 

সুপ্তিহারা মুক্তিহারা উদ্বেগ আকুল চিত্ত চায় ছুটে যেতে 
যেখানে রয়েছে মা বন্দিনী একাকী, একান্তে নির্জীব। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৬/০৬/২০২৪
কোলকাতা।

২টি মন্তব্য:

  1. বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রকাশ

    উত্তরমুছুন
  2. কবিতাটি পড়ে এমন এক উপলব্ধি হলো যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আমি আমার শৈশবের মাকে দেখতে পেলাম ,উপলব্ধি করলাম মা শব্দটির অমোঘ টান।

    উত্তরমুছুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...