বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩

শালুক বনের উপকথা। 

শালুক ফোটে রাতের বেলা,
পদ্ম ফোটে দিনে। 
রাতে-কানা ভ্রমরগুলো 
সে কথা ঠিক জানে। 

"A thing of beauty is a Joy forever." 
                              Endymion, -- Keats. 
______________________________________________

শালুক বনের উপকথা 

লাল নীল সাদা শালুকের মেলা 
দেখি নাই কতো দিন, 
বন্ধু আমায় ছবি পাঠিয়েছে -- 
স্বীকার করেছি ঋণ। 
ঘট পুকুরের স্বচ্ছ সলিলে 
জল থৈ থৈ শরতে, 
দেখার নেশায় ছুটে ছুটে গেছি 
পাখি-ডাকা ভোর বেলাতে। 
ধুয়ে মুখ তারা শিশির ফোঁটায় 
হেসে হেসে মাথা দোলাতো, 
ঘুম-ভাঙা চোখে বিমল রূপের 
স্নিগ্ধ মাধুরী বিলাতো। 
আলো ফুটতেই ভ্রমরের দল 
গান শোনাবার ভানে, 
পাপড়ি পিঁড়িতে বসতো, আসলে 
মধুর গোপন টানে। 
যাবার বেলায় হুলের আঘাতে 
কোরক চূর্ণ করে' 
কমলিকা খোঁজে বনের পুকুরে 
বেমালুম যেতো উড়ে। 
বিক্ষত বুক শাপলার দুখ 
দেখেছি নিজের চোখে -- 
জলতলে ঢলে' লুকাতো শ্রীমুখ 
গভীর বিষাদে শোকে। 
হায়, তারা যেন ব্রজগোপীকুল, 
প্রেমবঞ্চিতা বালা ! 
কৃষ্ণ-কাঁটায় বিদীর্ণ হিয়া-- 
মধুপুরে গেছে কালা।। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২২/১১/২০২৩ 
কলকাতা। 






শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩

স্বপ্ন বিলাস

স্বন বিলাস 

ভোরের বেলা এলো 🐦 পাখি 
খোকনকে সে বলল ডাকি', 
আমি এখন যাচ্ছি বনে 
যাবি আমার ঘরে ? 


বলে খোকন বলেছে মা 
বনে আছে  🐅 বাঘমামা 
আমায় যদি রাখে ধরে 
ফিরব কেমন করে ? 


ডানার উপর তুলে তোমায় 
নিয়ে যাব আমার বাসায়, 
বনের ফল পাবে তুমি, 
দেব নদীর জল। 


ভাবছে খোকন বেশ হবে তা, 
খুঁজে আমায় পাবেনা মা, 
"দাদা দিদি বকা খাবে, 
খোকন কোথায় বল।" 


জানলা খুলে ডাকল যে কে, 
হঠাৎ আলো পড়লো চোখে 
দেখে খোকন দুচোখ খুলে 
উড়ছে একটি পাখি। 


হোল না তার বনে যাওয়া, 
বনের মিষ্টি ফল খাওয়া
স্বপ্ন দেখার সময়টিতেই 
এমন ডাকা ডাকি ! 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৮/১১/২০২৩
কলকাতা।
____________________________________________











বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৩

ভাইফোঁটা

ভাইফোঁটা 

ঘরে ঘরে আজ উলুধ্বনি আর শঙ্খস্বর শুনে
বলে সকলে আজ সকালে ভাইফোঁটা দেয় বোনে।
এত সুন্দর, পবিত্রতম উৎসব দেখি নাই, 
ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয় বোন, 'তুমি সুখে থাকো ভাই।" 
শীতল শিশিরে চন্দন বাঁটে মঙ্গল কামনায়।
মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্র বলে সে জীবন জুড়ানো ভাষায় --
"যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দি' ভাইকে ফোঁটা,"
-- নিরলঙ্কার বাণীর মন্দ্রে যেন পারিজাত ফুল ফোটা।
সব দুখ শোক অপনিত হোক্ ধান দূর্বার ছোঁয়ায়,
আমার আয়ু তোমায় দিলাম "শতজীবী হও ভাই।"
আজ ভ্রাতা ভগিনীর মিলনমেলায় সংসার গীতিময়,
মঙ্গলময়ী ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া যুগে যুগে অক্ষয়।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া,১৪৩০।








মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৩

Children's day

 Children's day 

The stars that shine and the moon that smiles
Are of less use than your giggles.
The dew that falls and the rain 🌧️ that showers
Scarcely as soaking as your 😿 tears.
Pranks you play and shout you cry in vain,
You lose nothing but lots ❤️ I gain.
When, of a sudden, run away with my spakes
You find nothing but I can catch the hakes.
Be with me Sir, or l'll teach such a lesson
That you can't even to your parents mention.

Thank you & your company'
The grandpa
Dulal Chandra Bandyopadhyay.
14/ 11/2023


সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

হৈমন্তী

হৈমন্তী 


দিগন্তজোড়া হেমন্ত ক্ষেতে স্বর্ণ সুষমা দেখি 
আর ভাবি মনে, কত অশ্রু, কত রক্তের ছিটা 
প্রতিটি কণায় আছে। গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার ধারা, 
অভাব জ্বালায় জ্বলে জ্বলে, গুলে গুলে কাদা মাটি 
পাথরের ক্ষত পা'দুটোতে বয়ে গুছি গুছি চারা পুঁতে 
সৃষ্টি করেছে বাঙলার মাঠে যারা এ সোনার ধান 
নেপথ্যে কেন রয়ে যায় তারা উলঙ্গ অপমানে ? 
ঘূর্ণীঝটিকা সাগরের জল চলোর্মি নাচ নাচে 
তাণ্ডব তার ধূয়ে নিয়ে যায় যাদের মাটির ঘর, 
বিদ্যুতে পোড়ে, বাজ পড়ে মরে, সাপের ছোবল খায়, 
মানহারা যত দুর্দিন কাটে খোঁয়াড়ে খোঁয়াড়ে ঢুকে, 
নবান্নে যাদের নূতন অন্নে ভরেনা টিনের থালা, 
তাদের নিত্য মরণের দামে সোনা দিয়ে মাঠ মোড়া -- 
সোনালী আলোর স্বপ্নাভরণে প্রকৃতি স্বয়ম্বরা। 

বাঙলার এক পল্লীপ্রান্তে ছোট এক নদী পাড়ে, 
কনক আসনে কঙ্কন-পরা স্বর্ণাঞ্চলা কে গো ? 
হেমন্ত দিনের বিমল সকালে লক্ষ্মী প্রতিমা জাগে। 
চিত্ত আমার বিনত মুগ্ধ শিল্পীর অনুরাগে। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৬/১১/২০১৩
কলকাতা।








হৈমন্তী

দিগন্তজোড়া হেমন্ত ক্ষেতে স্বর্ণ সুষমা দেখি
আর ভাবি মনে, কত অশ্রু, কত রক্তের ছিটা
প্রতিটি কণায় আছে। গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার ধারা,
অভাব জ্বালায় জ্বলে, গুলে গুলে মাটি ধূলা,
পাথরের ক্ষত পা'দুটোতে বয়ে গুছি গুছি চারা পুঁতে
সৃষ্টি করেছে বাঙলার মাঠে যারা এ সোনার ধান
নেপথ্যে কেন রয়ে যায় তারা উলঙ্গ লজ্জায় ?
ঘূর্ণীঝটিকা সাগরের জল চলোর্মী নাচ নাচে
তাণ্ডব তার ধূয়ে নিয়ে যায় যাদের মাটির ঘর,
অসহায় যারা দুর্দিন কাটে খোঁয়াড়ে খোঁয়াড়ে ঢুকে,
নবান্নে যাদের নূতন অন্নে ভরেনা টিনের থালা,
তাদের নিত্য মরণের দামে সোনা দিয়ে মাঠ মোড়া।

বাঙলার এক পল্লীপ্রান্তে ছোট এক নদী পাড়ে,
কনক আসনে কঙ্কন-পরা স্বর্ণাঞ্চলা কে গো ?
হেমন্ত দিনের বিমল সকালে লক্ষ্মী প্রতিমা জাগে।
চিত্ত আমার বিনত মুগ্ধ শিল্পীর অনুরাগে।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৬/১১/২০১৩
কলকাতা।








শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৩

জীবন লীলা

জীবন লীলা


কোন সে কিশোর কালে ফেলে আসা দিনে
কুয়াশার ঘোমটা-পরা শীতল সকালে
স্বচ্ছ নীল ক্ষীণস্রোত অজয়ের পাড়ে
বসে আছি একা। নৌকাটি রয়েছে বাঁধা
বালির চড়ায়, মাস্তুলে তার আছে বসে
মাছরাঙা, কী অপূর্ব রঙ ! গাঢ় নীল ডানা,
নীল পুচ্ছ জ্বল জ্বল প্রভাতী আলোয়।
নীল জলে ছায়া নাচে, নীলাকাশে মায়া
ভাসে তার।
                অকস্মাৎ ঝুপ করে ঝাঁপ, ডুব,
চঞ্চুপুটে মীন ছানা -- উড়ে গেল 'সুন্দর'
ওপারের শ্যাওড়ার ঝোপে। ভেবেছি সেদিন
কত ভালো হোত যদি ও 🐦 পাখির মতো
হতে পারি আমি। আজ মনে জাগে শিহরণ ---
কি করুণ ছবি জীবনের মরণের এক পটে বাঁধা !
সৃষ্টির নিষ্ঠুর সত্য প্রকৃতির অমোঘ বিধান
এক প্রাণ লুপ্ত হয় জাগে অন্য প্রাণ।

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৩/১১/২০২৩
কলকাতা।









Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...