হৈমন্তী
দিগন্তজোড়া হেমন্ত ক্ষেতে স্বর্ণ সুষমা দেখি
আর ভাবি মনে, কত অশ্রু, কত রক্তের ছিটা
প্রতিটি কণায় আছে। গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার ধারা,
অভাব জ্বালায় জ্বলে জ্বলে, গুলে গুলে কাদা মাটি
পাথরের ক্ষত পা'দুটোতে বয়ে গুছি গুছি চারা পুঁতে
সৃষ্টি করেছে বাঙলার মাঠে যারা এ সোনার ধান
নেপথ্যে কেন রয়ে যায় তারা উলঙ্গ অপমানে ?
ঘূর্ণীঝটিকা সাগরের জল চলোর্মি নাচ নাচে
তাণ্ডব তার ধূয়ে নিয়ে যায় যাদের মাটির ঘর,
বিদ্যুতে পোড়ে, বাজ পড়ে মরে, সাপের ছোবল খায়,
মানহারা যত দুর্দিন কাটে খোঁয়াড়ে খোঁয়াড়ে ঢুকে,
নবান্নে যাদের নূতন অন্নে ভরেনা টিনের থালা,
তাদের নিত্য মরণের দামে সোনা দিয়ে মাঠ মোড়া --
সোনালী আলোর স্বপ্নাভরণে প্রকৃতি স্বয়ম্বরা।
বাঙলার এক পল্লীপ্রান্তে ছোট এক নদী পাড়ে,
কনক আসনে কঙ্কন-পরা স্বর্ণাঞ্চলা কে গো ?
হেমন্ত দিনের বিমল সকালে লক্ষ্মী প্রতিমা জাগে।
চিত্ত আমার বিনত মুগ্ধ শিল্পীর অনুরাগে।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০৬/১১/২০১৩
কলকাতা।
খুব সুন্দর হয়েছে দাদা প্রনাম নেবেন।
উত্তরমুছুনদারুন লেখা
উত্তরমুছুন