ত্যাগ
"তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জিথা " -- ঈশোপনিষদের এই অনুশাসনটির ভাবার্থ অবলম্বন করে আজকের কবিতাটি।
বাতাসে স্নেহের ছোঁওয়া,
পাখীর কণ্ঠে অসীমের সুর,
সুশীতল জলে নাওয়া।
পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্নার মায়া,
আঁধার রাতের তারা,
মা'র মুখশশী, শিশুমুখে হাসি,
ফুলদল মনোহরা।
প্রেয়সীর প্রেম 'নিকষিত হেম',
মর্ত লীলার সার,
বন্ধু সখার প্রীতি-বন্ধন
পারিজাত ফুলহার।
এত বৈভব, রাজৈশ্বর্য,
তবু অতৃপ্ত চিত্ত !
মরুপিপাসায় ছুটেছো কোথায়--
কোন্ সে অধরা বিত্ত ?
নিত্য চলার পথটির ধারে
দেখোনি কি মরা শৈশব,
জীর্ণ-বসনা মাতৃমূর্তি,
অকাল জরার অবয়ব ?
ভগ্ন প্রাচীর নিরালোক ঘর,
জীবন্ত ক্ষুধার রসনা,
উলঙ্গ দেহ, মরণ বাসনা,
ক্রন্দনসার বেদনা ?
পৃথিবীর এই পান্থশালায়
আমি তুমি পথযাত্রী
কাটাবো শ্রান্ত দুটো দিন,
দুটো স্বপ্নিল রাত্রি।
তারপর কোথা যাব তা জানিনা
পান্থসখার বাঁশী
বাজবে সুদূরে, যাবো কোন্ ঘরে
বিলায়ে রত্নরাশী।
বিশ্বভূবনে যা কিছু বা আছে
সুন্দর মধুময়,
ভোগের লালসে পরিনত বিষে---
ত্যাগে হয় অক্ষয়।।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২২শে জানুয়ারী, ২০২৩ ।