বিদায়ের পাত্রখানি
বিদায়ের ক্ষণ আসন্ন যখন
তখনই সন্ধ্যা বেলা,
তখনই তপন হারায় আপন
আলোর বর্ণমালা।
পুষ্পবিতান বিষন্ন ম্লান,
পাখী কলতান হারা,
শ্রান্ত চলন পথিক চরণ
খুঁজে ফিরে ধ্রুবতারা।
দিশাহীনতার মর্মবেদনা
জীবনের শেষপ্রান্তে,
অন্তর জুড়ে স্মৃতির বেদনা
ক্লান্ত দিবস অন্তে।
পথে পথে কত কুড়ায়েছি ফুল
গেঁথেছি প্রেমের হার,
ছিন্ন হয়েছে কখন কোথায়
চিহ্নও নাই তার।
অবমাননার যাতনায় যারা
কেঁদে কেঁদে গেছে চলে,
চির বিদায়ের বিষন্ন পথ
ভিজায়ে চোখের জলে।
বিস্মরণের ছায়ালোকে ঢাকা
স্নেহলতাদের স্মৃতি,
অশ্রুত লোকের মৌন আঁধারে
আবেগের কলগীতি।
ফুলশয্যার লজ্জার কুঁড়ি
বসন্ত বাতাসে ফুটে'
চৈত্রের চিতা-ভস্মরাশীতে
কখন পড়েছে লুটে'।
তারি মাঝে কিছু বেদনার বাণী
আনন্দ-মদির সুর
স্মরণ শিলায় স্বরলিপি লেখা
ব্যথাময় সুমধুর।
অস্ত রবির সোনার থালায়
প্রভাত শিশির কনা,
থাকে না কখনো, রেখে যায় দাগ
মরণের আলপনা।
জীবন-দিনের এত ভালোবাসা,
মায়াময় আবেদন,
উদাসী ধরণী, বইবে না কিছু --
সবই কি বিস্মরণ ?
তাই হোক্ তবে ; ঝরা ফুলদলে
গাঁথি বসে প্রেম-হার---
চির বিদায়ের আঁধার প্রহরে
দিয়ে যাব উপহার।
দীর্ঘ দিনের মধুর ক্ষণের
হাসি বা অশ্রুরাশি,
মানব চরণে নিবেদন করে'
বলে যাবো, "ভালোবাসি।।"
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১১-০১-২০২৩
ব্যাঙ্গালোর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন