মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২

দীর্ঘ জীবন পথে

দীর্ঘ জীবন পথে 
কখনো চরণে, কখনো স্মরণে, কখনো মানস রথে 
অফুরান পথে পাড়ি দিতে দিতে ক্লান্ত হয়েছি আমি। 
অদৃশ্য রথের হে মহাসারথী, নিখিল ভূবন স্বামী, 
এবার তো থামো, থামাও এ-রথ, মনোরথ যাক্ থেমে,
নিভে যাক্ এই আলেয়ার আলো, আঁধার আসুক নেমে। 
নিবিড় আঁধার, ঢাকা চারিধার ভূমি ভূমাকাশ-হারা, 
নিরন্ধ্র খনি-গর্ভের কালো ডাক নাই, নাই সাড়া 
অর্থবিহীন মায়া মোহ আশা, নিষ্ফলা যশোগৌরব 
কুরুক্ষেত্র চিতাগ্নিশিখায় কেবা পাণ্ডব, কৌরব ? 
যতটুকু আমি, আমার যা কিছু কোথা থাকে তার চিহ্ন? 
অনন্ত পথ চারণার শেষে পথ ও পথিক ভিন্ন ! 
এ আলোক দীপ, এই মহাকাশ, শ্যামাসুন্দরী ধরণী, 
শুধু ক্ষণিকের মরীচিকা মায়া চিত্ত-চেতনা-হরণী। 

তবু কোথা হতে সহস্রধারায় অজস্র প্রাণ কণিকা 
আসে ভেসে ভেসে, অন্তরে জ্বলে কামনা নাগের মণিকা।
   স্বপ্নের ঘোরে কাটে এ জীবন স্বপ্নের ধন কুড়ায়ে -- 
নিশার স্বপ্ন ভেঙে যায় পাছে, থাকি স্বপ্ন-আঁধার জড়ায়ে। 
 
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩১/০৫/ ২০২২
শিলিগুড়ি।
  













শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

ঘুম থেকে উঠে দেখি

ঘুম থেকে উঠে দেখি
একটি অচেনা পাখী
ফটকের কাছে নারকেল গাছে বসে আছে একা একা। 
কোন বনে থাকে সে,
 সুদূর সে কোন্ দেশে, 
কিছু তো জানি না তবু মনে হয় কতবার হোল দেখা। 
 হেথা কেন পাখী তুমি
ছেড়ে ওই বনভূমি--
ফুল ফলে ভরা শ্যামলাঞ্চলে ছায়া সুশীতল বাসা ? 
এখানে তপ্ত নগরী, 
বসে আছে আশা শবরী 
ব্যর্থ প্রাণের দিন গুণে গুণে মরণের স্রোতে ভাসা। 
আজ মনে পড়ে পাখী
তুমি উঠেছিলে ডাকি' 
সৃষ্টির কালের নব প্রভাতের ঘুমভাঙা প্রত্যুষে। 
অনাদি অতীত হতে
সেই সুর প্রতি প্রাতে
জাগায় জগৎ, জাগায় জীবন তন্দ্রাজড়িমা নাশে। 
কোন্ সে প্রেমের টানে
ভরালে ভূবন গানে 
কেন বা আমায় দেখা দিলে পাখী রঙে রূপে অপরূপ -- 
অচল হয়েছে চরণ 
ম্লানিমায় ঢাকা নয়ন 
 হৃদয়ের কথা হৃদয়ে লুকানো কণ্ঠ যে নিশ্চুপ। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৮-০৫-২০২২ 
শিলিগুড়ি 
___________________________________________


 








                            ক্রমশঃ)

বুধবার, ২৫ মে, ২০২২

নজরুল ফিরে এসো

নজরুল ফিরে এসো 
(বিদ্রোহী কবির ১২৩তম জন্মদিনে 
             শ্রদ্ধাঞ্জলি)

কালাপাহাড়ের মন্ত্রশিষ্য দুখু মিঁয়া ফিরে এসো, 
বাংলার গীতিকাননের মালী নজরুল ফিরে এসো। 
মানবিকতার ধর্মযোদ্ধা মহারথী ফিরে এসো, 
অত্যাচারীর অস্ত্রবিনাশী বিদ্রোহী ফিরে এসো। 
কচি-কাঁচা পেটে ক্ষুধার🔥আজও জ্বলে ঘরে ঘরে, 
মূক রমনীর গোপন কান্না এখনও গুমরে মরে। 
হিন্দু, নাকি মুসলিম তুমি? আজিও প্রশ্ন ওঠে -- 
ভাঙে মন্দির, ভাঙে মসজিদ, হৃদয় সৌধ টুটে। 
পুরাণে কোরাণে এখনও দ্বন্দ্ব সত্য মিথ্যা একাকার, 
গলাগলি নয়, গালাগালি রোজ ধর্মজীবীর হুংকার। 
আত্মহনন ভ্রাতৃহনন স্বদেশ দহনকালে -- 
কাঁদ নাই তুমি বসে গৃহকোণে নিভৃত অন্তরালে। 
অসিতে তোমার বাজিয়েছ বাঁশী, কলমে মশাল জ্বালা, 
নিন্দার হার পরেছ গলায় ছিঁড়ে ফেলে ফুলমালা। 
"প্রার্থনা কর যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস
যেন লেখা হয় আমার রক্ত লেখায় তাদের সর্বনাশ।" 
এমনিই ছিল সে ছন্দ তোমার মন্দ্রিত যেন ভেরী -- 
উদাত্ত উদার সত্য সে ভাষা মরণ-শঙ্কাহারী। 
কপটতাশ্রয়ী ভণ্ড পূজারী, শঠ প্রতারক সমাজে 
তোমার সে চির উন্নত শির হিমাদ্রী গর্বে বিরাজে। 
বিদ্রোহী কবি নজরুল -- কতটুকু তার চিনি , 
সুরে বহে তার বিরহী যমুনা, প্রেমের মন্দাকিনী। 
মন্ত্রের ধ্বনি, আজানের স্বর, শ্যাম-শ্যামা কীর্তন -- 
সঙ্গীতে তাঁর অমরাবতীর মহামিলনের তান। 

রচে' গেলে তুমি, হে মহামানব, চির মানবের গান--
তুমি বাঙলার এপার ওপার -- একাত্ম অখণ্ড প্রাণ। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৫/০৫/২০২২
শিলিগুড়ি।

 





(ক্রমশঃ)

সোমবার, ২৩ মে, ২০২২

আকাশচারী

"তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর 
এখনি অন্ধ বন্ধ করো না পাখা।"
( সন্ধ্যা সঙ্গীত -- রবীন্দ্রনাথ)
আকাশ বিহারী
                                দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 

 মুক্তপক্ষ বলাকার দুর্লক্ষ্য উড়ান
কেন যেন মনে হয় নিখিলের প্রাণ 
ছিন্ন করে প্রকৃতির মারণ ভ্রুকুটি 
 নিত্য উর্দ্ধ্বচারী -- 
 আকাশ বিহারী। 
জরা, ব্যাধি, মৃত্যু নিয়ে আমি আছি বসে, 
জড়ত্ব আলসে। 
অনন্তের মাঝে অমৃতের পাত্র আছে ভরা, 
মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণের দিশারী, 
 হে বলাকা, 
তুমি তার পেয়েছ সন্ধান, 
আমার যা রইল অধরা।। 


দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৩/০৫/২০২২
শিলিগুড়ি।

শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২

বঙ্গে বর্ষা

সজল জলদ ঘন,  ঘন দেয়া গরজন,
ঘন বারি বরিষণ  বাদলের দিন। 
শ্যামল এ বাঙলার  মন মাটি একাকার 
সিক্ত, সুন্দর, শান্ত,   সতেজ, নবীন। 
মা ডাকে, ''বাছা আয়,  কালো মেঘে বেলা যায় 
বিদ্যুৎ ঝলে ওই   বুকে রাখি তোরে।''  
বহে নদী কল কল,  দীঘি জলে টলটল, 
ছল ছল আঁখি জল   মা'র চোখে ঝরে।
যেমন বাংলার মাটি  তেমনি বাংলার মা'টি --
''বাংলা আমার মা'',  ‌‌ বলি বারে বারে। 

কালো মেয়ে কালো চোখে  চেয়ে আছে অনিমিখে ; 
আকাশের কালো মেঘ  সহেলি যে তার।
অবিরল ঝরে জল,  হাসে বালা খলখল, 
 পুলকে নয়নে তার  অশ্রু আসার। 
নিবিড় আঁধার রাতে  বাদল বাতাস মাতে --
বিরহিনী বধূটির   বুকে ওঠে ঝড়। 
বৈরাগী কবির কাছে  এ-দুখেও সুখ আছে, 
কৃষ্ণ-রাধাকে নিয়ে   বাঁধে সে আখর। 
বাংলার বরষায়   বাঁধি ঘর ভরসায় 
সে ঘর কখনো হায়,  ভেসে যায় প্লাবনে ! 
তবু সে দুঃখের রাণী   শোনায় অমৃত বাণী 
অঘ্রানের স্বপ্নবীজ  ছড়ায় শ্রাবণে। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২১/০৫/২০২২
শিলিগুড়ি।


 



                        



বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

সুপ্রভাত

(কবিতাটি মন্দাক্রান্তা ছন্দে রচিত। ধীরে লয়ে পাঠ করলে এই রচনার মাধুর্য পূর্ণরূপে আস্বাদন করা যাবে।)

                          সুপ্রভাত

'সুপ্রভাত'-- প্রভাতী সুভেচ্ছা পেয়ে মনে জাগে আশা। 
আকাশে বাতাসে জলে স্থলে এখনো রয়েছে ভালোবাসা। 
ওই দূরে, কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া, সূর্যস্নাত অম্বরিষ, 
ধ্যানমগ্ন। সুপ্তোত্থিত ঝাওবন পেয়েছে আশিষ 
দ্যুলোকের। পাহাড়ের কোলে কোলে মেঘেদের খেলা। 
ত্যক্তনীড় পাখীদের সারি যেন মেঘখণ্ড মালা, 
কন্ঠভরা গান , ভৈরবীর তানে আলোক বন্দনা। 
 আলোর বর্ষণধারা ধরিত্রীর বুকে। উপাসনা -- 
ঘরে ঘরে দেবতার। জাগে প্রাণ বিশ্বময়, কল-কলরোল 
যেন ওই সুরধুনী, অলকানন্দা, জাহ্নবীর তরঙ্গ কল্লোল 
স্বর্গ হতে সহস্রধারায় --অনাদ্যন্তকাল চিরবহমান
ধরিত্রীর বক্ষ ভরে' বাৎসল্যধারায়। 
                                          রূপ একি মৌন মহান 
প্রভাতের! "মা শুচ", না শোক, না দুঃখ আছে 
জগৎ সংসারে। 
অবিনাশী চৈতন্যজ্যোতিঃ আদিগন্ত শান্তি পারাপারে।।

অম্বরিষ=শিব (প্রসঙ্গে ব্যবহৃত)।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৯/০৫/ ২০২২ 
শিলিগুড়ি।





 ‌        
 




রবিবার, ১৫ মে, ২০২২

উল্কা

জীবনের সীমান্ত রেখায় আজ অন্তিম বিরতি--
পথশ্রান্ত উদাস পথিক। 
ক্লান্তিভার অঙ্গে অঙ্গে, অহিফেন নেশার মতন। 
স্বপ্ন, কল্পনা, চিন্তা, রাতের নর্তকী যারা,
নিয়েছে বিদায়। 
শূণ্য প্রাণে বসে আছি একা। 

এতদিন কোলাহলে উন্মুখর ছিল এ জীবন। 
লক্ষ্যহীন পথে পথে দুর্লক্ষ্য প্রেমের খোঁজে 
ব্যর্থ পরিক্রমা। 
আজ সর্বনাশ হোক্ যা আছে আমার । 
মরণে মিলায়ে যাক্ আমার এই 'আমি' । 

সৃষ্টির আঁতুড় হতে, আকাশে আকাশে, 
সীমাহীন সঞ্চরণ ;  বহিরঙ্গ প্রজ্বলন শেষে 
ওই আছে পড়ে উল্কাপিণ্ড -- 
নিথর, নিষ্কম্প, নিরাবেগ। 
এমনিই অব্যর্থ হোক জীবনের মুক্তির প্রয়াস। 

কেউ নেই, কারেও চাইনা আমি। 
দেব, দেবী, দৈব-আশিষ কিংবা মোহ বিড়ম্বনা। 
আমিত্ব-হারা জীবনের অন্তিমে আমার 
আসুক ভূবনব্যাপী রাহুগ্রস্ত সবিতার নিরন্ধ্র আঁধার।

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৫/০৫/ ২০২২ 
শিলিগুড়ি। 




বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

কবিতা

ফুলের গন্ধ কলমেতে পুরে,
কুহু ও কেকার সুর চুরি করে, 
মনের রঙিন আবির মাখিয়ে 
             চলবে না লেখা কবিতা। 

তোমার সাধের কল্পনা সব,
স্বপ্ন, আবেগ, রাগ, অনুভব, 
নিত্য দিনের বাঁচার লড়াইয়ে 
           বে-দরকারি সবই তা। 

খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, চুরি,
এ-সব ঘটনা ঘটে ভুরি ভুরি --
নজর ঘোরাতে রাজ অনুচর,
             কবিতা কুঞ্জ সাজালে। 

কয়লা-পাথর খাদান ভিতরে 
চাপা পড়ে' কুলি-কামিনেরা মরে, 
তাদের ঘরের বুকফাটা শোক-- 
            তাই নিয়ে মাথা ঘামালে ? 

সভ্যতা নিয়ে গালভরা কথা ?
শিশু-নারী-লাশ পড়ে আছে হোথা --
মারণ অস্ত্রে নরসংহার 
                  চলেছে বিশ্বজুড়ে। 

শত শতাব্দীর শ্রম দিয়ে গড়া,
নগর, শহর, বন্দরে ভরা, 
নিত্য দগ্ধ হচ্ছে পৃথিবী 
            হিংসা 🔥 আগুনে পুড়ে। 
             
নাচ গান আর কবিতা আসর, 
নীল আলোয় মাখা সান্ধ্য বাসর,
তান্ত্রিক মতে পঞ্চ-'ম'কারে 
                ভোগের জলসা ঘরে -- 

অ-সাধারণ ভাব, দুর্বোধ ভাষা, 
সকল ছন্দ-বন্ধন নাশা 
গরীব দরদী, কঠোর কবিতা 
                   লেখ কবি দয়া করে'। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৩/০৫/২০২২ 
শিলিগুড়ি।





















          ‌‌(‌ক্রমশঃ)


মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২

স্বপ্ন সখা

স্বপ্ন সখা 

কতোদিন পরে বন্ধু এসেছে ঘরে।
 করেছি বরণ ফুলের মালায়, 
সেবা নিবেদন সোনার থালায়, 
যা ছিল আমার দিয়েছি উজাড় করে। 

জীবনের দুখ কয়েছি চোখের জলে, 
যে সুখ পেয়েছি তাওতো বলেছি,
পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব দিয়েছি,
ঢাকি নাই কিছু গোপনে অন্তরালে। 

মিলন বাসর ভাঙল দিনের শেষে। 
ইঙ্গিতে বলে বন্ধু আমার 
সময় হোল যে বিদায় নেবার --
ফিরালো সে মুখ ফিরবার পথে প্রসন্ন হাসি হেসে। 

 বিহ্বল আমি বসে আছি একা ঘরে। 
এতো সেবা, এতো সম্পদ দান, 
হে সখা, তোমার এই প্রতিদান ? 
নিষ্ঠুর এই বঞ্চনা আমি সইব কেমন করে ? 

আবেগের বশে সকলি করেছি ক্ষয় -- 
শূণ্য এ ঘরে সারারাত ধরে',
অনুতাপে মরি হাহাকার করে',
বৃথা হোল শেষে সারা জীবনের কষ্টের সঞ্চয়। 

ঊষার আভাস দেখা দিল পূব আকাশে। 
অবসন্ন দেহ, বিষন্ন মন -- 
বাইরে বেরিয়ে কী দেখি এখন !
পথ ঝাড়ু দিয়ে যত জঞ্জাল, ময়লা কুড়ায় সে ! 

বন্ধু আমার ! নিজের স্বরেই ভেঙে গেল ঘুম হঠাৎই ! 
একি এ স্বপ্ন বিষম প্রকার, 
তারেই দেখছি এখানে আবার ?
যা কিছু আমার ভাবি বার বার সকলি স্বপ্ন নেহাতই ? 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
১২-০৫-২০২২ 
শিলিগুড়ি।







  

















রবিবার, ৮ মে, ২০২২

তোমার ডাকে দি' নি সাড়া


"হরি হরি কি‌এ দৈব দুরাশা।
সিন্ধু নিকট যব কণ্ঠ শুকায়ব 
কো দুর করব পিয়াসা।।" 

সোনার তরী আনলে বেয়ে জীবন নদীর তীরে, 
ডাক দিলে, "আয়, নিয়ে যাব অকূল পারাবারে।" 
ক্ষুদ্র পরাণ, ভয়ে আকুল, দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভরা, 
কুল হারানো বাঁশীর স্বরে বিহ্বল দিশাহারা। 
গানের বাণী সুদূর দেশের, সুর অসীমের লীলা, 
নৃত্যের তালে বিশ্বেশ্বর নটরাজের খেলা। 
 হৃদয় মথিত কাব্য কাহিনী অমৃত গরল বেদনা, 
নিবন্ধে মন্দ্র মন্ত্রে‌ জাগাও নিখিল মানব চেতনা।
অন্তবিহীন রচনায় কবি রেখে গেলে মহাবাণী, 
মর্ত্য ভূমিতে শিব সুন্দর সত্যের সুরধুনী – 
তোমার সৃষ্ট‌ সে মহাবিশ্ব আলোকবর্ষ দূরে 
নন্দন বন – মর্মর তার, শুনি সঙ্গীতে সুরে। 
তোমারই কথার মালা গেঁথে,কবি, ছবিতে তোমার পরাই,
তোমা অর্ঘ্য সাজানোর ছলে তোমাকেই যেন হারাই। 

সোনার তরণী ফিরে যায়, দিন গুণি আমি ঘাটে বসে, 
 কখন তোমার জন্মের ক্ষণ আসে বৈশাখ মাসে । 

দুলাল বন্দোপাধ্যায় 
০৯/০৫/২০২২ 
শিলিগুড়ি 
______________________________________________












মাতৃদিবসে

        ‌‌      মাতৃবন্দনা

জন্ম যিনি দিলেন তিনি একদিনের কি মা ? 
জীবনদাত্রী, জীবনধাত্রী , প্রাণের প্রতিমা । 
মর্মে আমার কর্মে আমার ধর্মে আমার তিনি, 
জীবন জুড়ে বিরাজ করেন জীবন প্রদায়িনী। 
বিশ্বপ্রাণের ধারা‌ যেমন অসীম উৎস হতে , 
আমার প্রাণের সুধার ধারা মাতৃবক্ষস্রোতে। 
প্রেম-প্রীতি-স্নেহ, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি অনুভব 
জননী হৃদয়ে সঞ্চিত ভাব আমার হয়েছে সব। 
তাঁর দেওয়া চোখে জগৎ দেখেছি, তাঁরই মুখের বাণী, 
 কানে বাজে তারই সুর মূর্ছনা – চিন্ময়ী বীণাপাণি । 

একান্ন পিঠে পূজা দিয়ে ফিরি, ঘরে দি' জলধারা, 
বৃদ্ধাশ্রমে ‌কাঁদেন জননী যেন‌ সন্তান হারা। 
তবু শ্রবনেরা এখনো রয়েছে জনক-জননী পূজারী, 
তিমির-বিলাসী অন্ধজনের ধর্মপথের দিশারী। 

ভক্তিকুসুম দিতে পারি নাই যেদিন ছিলে গো প্রাণময়ী, 
সন্তাপে মরি, ঝরে আঁখিবারি তুমি মা এখন চিন্ময়ী। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৮/০৫/২০২২ 
শিলিগুড়ি।



বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

সুরভি

                            

(ঘর বাঁধার প্রেরণা নারী – তা সে মূর্ত হোক বা বিমূর্ত।)

প্রমত্ত ঝড় বয়ে গেল আজ সারাটি দুপুর জুড়ে, 
মেঘগর্জণ, বিদ্যুৎ বাণ, অবিরল ধারা ঝরে'। 
ডাল ভাঙা গাছ, চালা ভাঙা ঘর, সর্বনাশের শেষ। 
কে কোথায় গেল, কী যে হারালো,কী রইল অবশেষ ! 
উৎকণ্ঠিত, লাজে কুণ্ঠিত বসে আছি ভাঙা ঘরে – 
ফাটা মেঘে চাঁদ উঁকি মারে দেখি, যেন বিদ্রূপ করে। 
রেগে বলি, "ওরে ভগবান, তোর নাই কি ভরম শরম, 
যা ছিল আমার সবই ছারখার, এ কোন্ নিঠুর ধরম !" 

ঝড় গেছে থেমে, জল গেছে নেমে, নগ্ন জীবনপুর, 
ধন-মান-হারা ভিখারীর পারা বসে আছি ব্যথাতুর। 
শীতল বাতাসে ভেসে ভেসে আসে সুবাস রজনীগন্ধার, 
নিয়ে এলো স্মৃতি দূর অতীতের সেই রাত ফুলশয্যার। 
সেদিনের চাঁদ, ফুলের সুরভি, নববধু প্রিয়তমা – 
ফিরবে না আর কামনার ঘর, কাঙ্ক্ষিত প্রেম-প্রতিমা ; 
তবুও জীবন চাইছে আবার ভাঙা এ কুটীর গোছাতে ? 
হৃদয় আকাশে রয়েছে যে তার মন্দির হবে সাজাতে ?
রাতে-ফোটা ফুল, গন্ধে তোমার এ কোন্ মরমী মায়া, 
বিস্মরণের ছায়াময়ী রাত আবারও ধরেছে কায়া ? 

স্বপ্নের ঘর বার বার ভাঙে বারে বারে ঘর বাঁধা – 
জীবনবাসরে স্মৃতির সুরভি তাই নিয়ে হাসা কাঁদা। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
০৬/০৫/ ২০২২ 
শিলিগুড়ি।






সূর্যাস্ত

আমার গ্রাম 

 অবসন্ন সূর্যালোক, 
গোধুলির অস্পষ্টতা, 
ক্লান্ত মেঘছায়া পড়ে ধীরে 
আলয়ে কুলায়ে, হাটে-মাঠে-গোঠে, 
দূরে নদীপারে নগরীর রাজপথে জ্বলে ওঠে আলো। 
এমন প্রশান্তিময় সান্ধ্য অবকাশ ছিল – 
নেই আজ আমার এই‌ গ্রামে। 
শহর এসেছে এইখানে নিয়ে তার সামান্যই ভালো, 
কিন্তু তার অপর্যাপ্ত কালো – ভোগেচ্ছার উদগ্র কামনা, 
ভুক্তাবশেষ বর্জ্য যত, লালসার অতৃপ্তির লালা, 
ঊর্দ্ধশ্বাস দুর্লক্ষ্য ধূমকেতু গতি, যাত্রা অনিশেষ। 

কীর্তনের সুর ছিল যে‌ হরিসভায়, শীর্ষে তার ওড়ে দেখ সমর কেতন। 
লাল, নীল, সবুজের দ্বন্দ্বময় বস্তুবাদ – সশস্ত্র সংগ্রাম।
অসহায় পল্লীমাতা রক্ত মোছে শ্যামল আঁচলে। 
সান্ধ্যঘুম কমলের, চাঁদ আর শালুকের রাতের ছেনালি, 
বৈরাগিনী বিশাখার 'রাই জাগো রাই জাগো'– 
 উঁকি দেয় বার্ধক্যের স্মৃতির অতলে। 

কতো ভালো, কতো মন্দ জানে ভবিষ্যৎ ,
দুর্ণিবার বেগে ধায় সভ্যতার রথ। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৪/০৫/২০২২ 
শিলিগুড়ি।

________________________________________




সোমবার, ২ মে, ২০২২

সাবিত্রী,


সাবিত্রী 

মৃত্যুদেবতার সাথে নিরস্ত্র বিদ্রোহ ? 
নাকি, মর-জীবনের কূল হতে 
কূলহারা মরণের পারাবারে ভাসা 
মৃত্যুহীন প্রেমের ভেলায়, অমরার খোঁজে ? 
 মরণ আঁধার থেকে প্রাণের আলোককণা, 
বিজয়িনী, জয় তুমি করেছ একাকী ! 
দুশ্চর, দুস্তর সে পথ ; সুদুঃসহ শোকবহ্নিজ্বালা  
সইতে পারেনা কোন স্বর্গের উর্বশী ! 
মাতৃত্বের অধিকার চেয়ে নারীত্বের বিজয় গৌরবে 
ধন্য তুমি, ধন্য হয়েছে তাই ধরিত্রীর সূতিকা আগার।
সাবিত্রী ব্রতের ব্রতী ধরণীর আলয়ে কুলায়ে–
প্রাণের গোমুখী ধারা তাই বহমান। 
জীবনমন্থনজাত অমৃতের কুম্ভ নিয়ে বুকে 
পৃথিবীতে রেখে গেলে মৃত্যুহীন প্রাণ।। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৩/০৪/'২২ 
শিলিগুড়ি।








Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...