সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩

কেন ?


কেন ? 

কেন তোমরা এমন কর -- মার অথবা মর ?
ভালো কি লাগেনা সুখে বেঁচে বর্তে থাকা,
হাতে হাত রাখা, নগ্ন-ভগ্ন বুকে রেখে বুক
লাঞ্ছনার লজ্জাটুকু ঢাকা ? চেয়ে চেয়ে দেখা
শিশুদের লালাঝরা অসহায় মুখ, কত সুখ
মায়েদের, মাসীদের আঁচলের ছায়ে বসে থাকা
কর্মশ্রান্ত সান্ধ্য অবসরে ? সহবাসী, প্রতিবেশী,
আত্মীয় স্বজন ডাকা উৎসবের আনন্দ-প্রাঙ্গনে,
কিংবা ধর, শ্মশান-বন্ধু হওয়া পাড়ার দাদুর ?
চাটাই মাদুর পেতে বসে বটতলে গাওয়া তালকাটা
মুর্শেদী, বাউলের গান পাকাধান অনুষ্ণ অঘ্রানে ?
পরিবর্তে তার কেন এই শ্বাপদ হুংকার ? কেন --
ছুরি-ছোরা-তরবারি, রক্ত আঁখি, বারুদ আগুন ?
আঁখিজল অবলার, নির্বলা কনাদের করুণ কাঁদন,
বার্ধক্যের হাহাকার ! কেন আন অকাল মরণ
অকারণে ? মন্দির দুয়ারে মালা ছিন্নমস্তার !
                       কেন ?

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১লা আগষ্ট, ২০২৩
ব্যাঙ্গালোর।






শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

ভোর

ভোর হয়, রাত্রির আঁধার চিরে আলো আসে, 
ফুলেরা পাপড়ি মেলে, পাখী মেলে ডানা, 
আশার বাতাস খোলে ঘরের দুয়ার। 
হাটে মাঠে নৌকা ঘাটে ষ্টেশনে বাজারে, 
গলি থেকে রাজপথে ঢেও ওঠে জেগে 
জীবনের। মানুষের সংসারের এই ছবি 
বহু পুরাতন -- ব্যপ্ত বর্তমানে, সত্য ভবিষ্যতে। 
মাঝে মাঝে ছেদ পড়ে, দীর্ঘ হয় নিশি বিভীষিকা। 
জ্যোতির্ময়ী ঊষা অন্ধ হয়ে বন্ধ করে চোখ। 
প্রতিপদে দ্বিপদীরা মরে, মুহূর্তের জন্মান্তরে 
চতুষ্পদ শ্বাপদ হুঙ্কারে মেতে ওঠে রক্তের নেশায়। 
ক্ষণিকের ? সত্য হয়ে ওঠে যেন তাই। সে-আশায় 
 বাঁধি হাল, তুলি পাল, প্রাণের তরঙ্গে দিই পাড়ি। 
শাশ্বতী সংসার ভাস্বতী প্রভাতী সুরে যায় বয়ে 
অবিচ্ছিন্ন নিরন্তর, ছিন্ন ক্ষত ফেলে রেখে পাড়ে। 
তবু ভাবি, এও তো মিথ্যা আত্মপ্রবঞ্চনা ! 
ঊষসীর অশ্রুবারিরেখা স্মৃতির কপোলে রাখে 
দুর্মোচ্য লাঞ্ছনা। হায়রে ভৈরবী ভোর, হায় গো সান্ত্বনা।। 

   দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়  
২২/০/ ২০২৩ 
ব্যাঙ্গালোর  







শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩

অনুভূতি

জীবন, তুমি বিস্ময় 


 (অসামান্য প্রতিভা, সুগভীর মননশীলতার অধিকারী
চেক -ফরাসী লেখক মিলান কুন্দেরার স্মৃতির 
উদ্দেশে । তাঁর বিশ্ববরেণ্য উপন্যাস  "দ্য আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং "-য়ের অন্তর্নিহিত ভাব অবলম্বনে। ১১ই জুলাই ২০২৩, ৯৩ বছর বয়সে এই মহান জীবনশিল্পী ‌ প্রয়াত হলেন।)

অনুভূতি

পিছল পথে হড়কে যাব বুঝতে পারি, 
চিকন পথের খন্দ খানা ধরতে নারি। 
কালো ধলো যেমনটি হোক মুখটি চিনি, 
মুখোস পরে থাকলে মানুষ প্রমাদ গণি। 
কালো মেঘে বাজের তরাস সবার প্রাণে, 
বিনা মেঘে বাজ পড়লে মরণ জানে। 
তবু তো এই জগৎটাতে রইতে হবে। 
ভালো মন্দের হর্ষ বিষাদ সইতে হবে। 

মৃত্যু-কাঠের বোঝাটাকে বইতে হবে। 

জীবন নামের ফাঁদে তোমায় কাঁদতে হোল। 

অচেনা এই বিশ্বটাকে বাসলে ভালো। 
স্বদেশ থেকে নির্বাসনে পরের দেশে, 
মুক্তি বিহীন মুক্তি খোঁজা বাঁধন পাশে। 
আবার তুমি চাইলে না যা তাই-ই পেলে, 
মরণরূপী আঁধার এলো -- হারিয়ে গেলে। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৪ই জুলাই,২০২৩
কলকাতা।





বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩

শান্তি




রক্ত দেখে ক্লান্ত শান্তি গেল বনবাসে। 
দু্র্যোধন দুঃশাসন হাসে। ভীম গেল তাল ঠুকে 
বুঝে নেব সুসময় এলে, রক্তপান শপথ আমার। 

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...