বুদ্ধ পূর্ণিমা
Sir Edwin Arnold - য়ের লেখা The light of Asia -
বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে। গৌতমবুদ্ধের জীবন ও তাঁর প্রচারিত ধর্মদর্শনের উপর আধারিত এই পুস্তকটি বিশ্বসাহিত্যের আকাশে একটি উজ্বল নক্ষত্র বিশেষ। এই অমিত্রাক্ষর ছন্দে (blank verse) রচিত মহাকাব্যটি পৃথিবীর বহু পণ্ডিত, গবেষক, সাহিত্যস্রষ্টা
ও সাধন জগতের মানুষকে প্রভাবিত করেছে। তাঁদের মধ্যে নোবেলজয়ী স্রষ্টাও আছেন।
স্বামী বিবেকানন্দ, মাহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু, বাবাসাহেব আম্বেদকর, কিপলিং, এলিয়ট, ইয়েটস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রোমা রঁলা – এঁদের মতো অনেক মানবতাবাদী "এশিয়ার আলো"-য় আলোকিত।
আলোচনা দীর্ঘায়িত করবার অবকাশ আছে কিন্তু সেটি গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করবার ইচ্ছাটুকু রেখে শুধু সেই মহা আবির্ভাবের ('দিব্য আলোর', যা এখনও অকলঙ্ক, জ্যোতির্ময়) শুভক্ষণটির স্মরণ করি।
সদ্য রচিত কবিতাটি স্মরণের অন্তরালে বিস্মরণের প্রায়শ্চিত্ত।
___________________________________________
বুদ্ধ পূর্ণিমা
অহিংসার বাণী ভাসে অশ্রুজলে
এলো নববর্ষ, বৈশাখী পূর্ণিমা, পূর্ণ চাঁদ,
পরিপূর্ণ বসুন্ধরা সুশীতল জ্যোৎস্নার আলোয়।
এমনই আছে এ জগৎ নিরবধি, অনাদি অনন্তকাল।
কিন্তু পাপ আমার, পাপ তোমার জ্বালায়েছে চিতা,
মানুষের হাতে পোড়ে মানব চেতনা নিরন্তর –
সুনিশ্চিত লয় জেনে জয়ের কামনা,
মরীচিকা অন্বেষণে নির্জলা মরণ !
তবু কেন আজ প্রাণে জাগে মৃতুহীন আশা ?
আজ সেই বৈশাখী পূর্ণিমা। আকাশের নিঃসীম শূণ্যতা,
অসীম মন্দিরে জাগে নিশার দেবতা, বরণ প্রদীপ নিয়ে হাতে -
পুণ্য আবির্ভাব তিথি মৃত্যুঞ্জয়ী মানব আত্মার।
মহাতীর্থঙ্কর, সত্য-সাধনায় রত অনাদ্যন্ত কাল,
যুগ যুগান্তর পার হয়ে এমনই সে আত্মসৃজন –
শেষ জন্ম পরম সত্তার – বুদ্ধ নিরঞ্জন। তারপর --
হিংসাদীর্ণ পৃথিবীর বুক থেকে মহাপরিনির্বাণ।
শুধু সেদিনের স্মৃতি, জ্যোৎস্নাময়ী নিশীথিনী
স্মরণে রেখেছে বুকে বিষন্ন ব্যথায়।
মানুষ পায়নি খোঁজ আপনার অন্তর-সত্ত্বার।
ছায়া ছায়া দেবতার মায়াময় কুহকী ছলনা,
কামনার অতৃপ্তির ঘোর মোহমুগ্ধ করেছে চেতনা ;
তাই এত হিংসার তাণ্ডব, এত বিজিগীষা,
অনিত্য সন্ধান – প্রাণের পূ্র্ণতা ক্ষয়ে' মরণ বরণ।
ক্ষমা কর শাক্যমুনি, আত্মসংবিদ্-হারা চির অন্ধকারে,
রয়ে যাবে মানবসংসার, অশাশ্বত জীবনের ব্যর্থ অহংকারে।
তবু কোথা হতে আসে ভেসে অহিংসার মৃত্যুহীন বাণী,
করুণার শান্ত স্নিগ্ধ জ্যোতিঃ। বৈশাখী পূর্ণিমা রাত্রে
জ্যোৎস্নায় পরিপূর্ণ নিখিল দেউল। পাদপীঠতলে তার,
রাখি' দেব, অক্ষম প্রণতি।।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
৪ঠা বৈশাখ ১৪২৯
কোলকাতা।
________________(পরিমার্জিত ও পুনঃ প্রকাশিত)
_____________________________________________