সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনা নিরন্তর।
সকালে দিঘীর জলে পদ্ম ওঠে ফুটে –
কমলিনী, তরুণ অরুণ সোহাগিনী।
পাশে তারই চাঁদের প্রেয়সী কুমুদিনী,
দেখ দশা– ম্রিয়মাণ, পড়ে আছে লুটে,
জলে আধডোবা – এ বিধান বিশ্বপ্রকৃতির।
এ তো কাব্য – পেলব, মেদুর ;
অচল পয়সার মূল্য ঢের বেশী এর চেয়ে।
তবে আজ বাজুক দুন্দুভি, বাঁধ তার অগ্নিবীণার।
চল কবি, হিংসার আগুণ জ্বলে ওই, নরমেধ মহাযজ্ঞ।
পুড়ে রাজ্য, পুড়ে রাজা, ধনী ও ভিখারী,
শিশুসব – আফোটা কুঁড়িটির মতো গর্ভে বিলীন
এখনও যে, কিম্বা সদ্যোজাত – সামান্য সমিধ্।
পুরোহিত যন্ত্র পড়ে, – "সৃষ্টি লয় অনিবার্য,
নিরাশীঃ নির্মমঃ ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ –
কিসের সন্তাপ ? 'সাইরেন' শঙ্খরবে
ব্রহ্মাস্ত্র আসুক নেমে, কালান্তক মারণ-বিলাস
যুগান্ত কালের ধর্ম -- হে কোন্তেয়, তুমি ধর্মপাল।"
"বৃথা চেয়ে থাকো গো মা", উত্তরা জননী,
শোন নাকি দেব বাণী, তোমার সৃষ্টির মায়া
জানবে কি তারা, যারা "একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা",
পিশাচের শাস্ত্র পড়ে' তারা, "আত্মধ্বংসে নাই আত্মগ্লানি"।।
_____________________________________________
রচনাটিতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে একটি অসম্পূর্ণ শ্লোক(যার অর্থ ও ব্যঞ্জনা অত্যন্ত গভীর) এবং বিশ্বকবির সত্যদৃষ্টিসমুদ্ভাসিত কিছু আখর গ্রহন করা হয়েছে।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
০৫/০৪/২০২২
কলকাতা।
______________________________________________
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন