মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২

আত্মক্ষয় কি দৈববিধান ?

সংসারের অসীম ভূমিতে 
সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনা নিরন্তর। 
সকালে দিঘীর জলে পদ্ম ওঠে ফুটে – 
কমলিনী, তরুণ অরুণ সোহাগিনী। 
পাশে তারই চাঁদের প্রেয়সী কুমুদিনী, 
দেখ দশা– ম্রিয়মাণ, পড়ে আছে লুটে, 
জলে আধডোবা – এ বিধান বিশ্বপ্রকৃতির। 
এ তো কাব্য – পেলব, মেদুর ; 
অচল পয়সার মূল্য ঢের বেশী এর চেয়ে। 

তবে আজ বাজুক দুন্দুভি, বাঁধ তার অগ্নিবীণার। 
চল কবি, হিংসার আগুণ জ্বলে ওই, নরমেধ মহাযজ্ঞ। 
পুড়ে রাজ্য, পুড়ে রাজা, ধনী ও ভিখারী, 
শিশুসব – আফোটা কুঁড়িটির মতো গর্ভে বিলীন
এখনও যে, কিম্বা সদ্যোজাত – সামান্য সমিধ্। 
পুরোহিত যন্ত্র পড়ে, – "সৃষ্টি লয় অনিবার্য, 
নিরাশীঃ নির্মমঃ ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ – 
কিসের সন্তাপ ? 'সাইরেন' শঙ্খরবে 
ব্রহ্মাস্ত্র আসুক নেমে, কালান্তক মারণ-বিলাস 
যুগান্ত কালের ধর্ম -- হে কোন্তেয়, তুমি ধর্মপাল।" 

"বৃথা চেয়ে থাকো গো মা", উত্তরা জননী, 
শোন নাকি দেব বাণী, তোমার সৃষ্টির মায়া 
জানবে কি তারা, যারা "একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা",
 পিশাচের শাস্ত্র পড়ে' তারা, "আত্মধ্বংসে নাই আত্মগ্লানি"।। 

_____________________________________________

রচনাটিতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে একটি অসম্পূর্ণ শ্লোক(যার অর্থ ও ব্যঞ্জনা অত্যন্ত গভীর) এবং বিশ্বকবির সত্যদৃষ্টিসমুদ্ভাসিত কিছু আখর গ্রহন করা হয়েছে। 

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৫/০৪/২০২২ 
কলকাতা। 
______________________________________________








কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...