'চৈতালি' কাব্যে 'মানসী' কবিতায় বিশ্বকবি লিখছেন,
"শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী !" এই "নারী" অনাদি কালের কবি, শিল্পী, ভাস্কর – সকল স্রষ্টার সৃষ্টির জীবন্ত
প্রেরণা। জীবনের দিনান্তবেলায় সে 'মানসীর' বিরহবেদনা যেন চৈত্রশেষের বিধুরতা।
আজকের কবিতাটি 'আধুনিক' কবিতার অভিধান মানেনি সত্য কিন্তু সৃষ্টির 'সত্যটিকে' অস্বীকার করেনি।
_____________________________________________
বসন্ত বিলাপ
বসন্ত শেষের উষ্ণতামাখা বনের দীর্ঘশ্বাসে
মিশে গিয়েছিল বিরহী মনের স্বরলিপি বেদনার।
সে গানের সুর হয়ে গেল হারা,
আঁধারে যেমন ঝরে পড়ে তারা –
উপলখণ্ডে জীবনের ধারা ক্ষতলাঞ্ছনা সার।
নিশিডাক শুনে নিয়ত চলেছি,
মণি ভেবে কত নুড়ি কুড়িয়েছি,
অসার এসব সঞ্চিত ধন– নিঠুর নিয়তি হাসে।
চাওয়া-পাওয়াগুলি মিলাই যখন,
সব শেষে হাসে শূণ্য তখন –
পূর্ণ চাঁদের মুখের মতন একটি আনন ভাসে।
এতদিন আমি যে গান গেয়েছি,
অনুরাগ ফুলে যে মালা গেঁথেছি,
সব ভালো দিয়ে যে প্রেমপ্রতিমা মনোমন্দিরে গড়া –
আর তার দেখা পাব কি জীবনে ?
বাণী তার আমি শুনব কি গানে ?
বাসন্তী বসনে, দাঁড়াও সমুখে রূপসী কলস্বরা।।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
০৭/৪/২০২২
কলকাতা।
খুব সুন্দর
উত্তরমুছুন