ভগ্নস্তুপ (মহীশূর)
বিশাল সে ভগ্ন প্রাসাদ অশ্বত্থের বটের শিকড়ে ঝুরিতে
আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। অতীতের শাসন-শৃঙ্খল দেখি
নব অবতারে, প্রকৃতির প্রতিহিংসার জাজ্বল্য প্রমাণ।
জয় যেন পরাভূত, পরাভব জয়ের নিশান নিয়ে হাতে।
রক্ত করবীর তরু ভাঙা পরিখার ধারে ধারে সার বেঁধে আছে --
গুচ্ছ গুচ্ছ রাঙা রাঙা ফুল মাথায় মাথায় ---
নিষ্পেষিত দুর্বলের দাসত্বের সকরুণ শোণিত-স্বাক্ষর।
হেলে-পড়া পাঁচিলের ফাটলে ফাটলে সরীসৃপ ---
ক্রূরতার জন্মান্তর। গভীর অন্ধ খাত এক কোণে,
গলিত শবের পুঁতিগন্ধ আজও ওঠে ঊর্ধাকাশে
বিচারের প্রার্থনায় অসহায় দেবতার কাছে। ইতিহাস
মরেও মরেনা কেন ? পাপ কেন পড়ে থাকে কঙ্কালের পারা ?
কালের ভ্রূকুটিভঙ্গে শাসনের নির্লজ্জ গরিমা
শূন্যতায় করে হাহাকার ! কঠোর সত্যের এই পান্ডুলিপি
বিকীর্ণ রয়েছে চতুর্দিকে ; তাই ভরসার শেষের আশ্রয়
ওই বট, ওই অশ্বত্থের শিকড় কুণ্ডলী -- অতীতের
শবের উপর নূতনের প্রাণের নিশান, তাদের শীতল ছায়া
অনুতপ্ত প্রেতাত্মার সান্ত্বনার মায়া। করবীর রক্তরাগ
বন্দিনী রাজদুহিতার সংরক্ত হৃদয়ের ব্যর্থ পূর্বরাগ।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৬/০৬/ ২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন