আমার বসন্ত ও তুরস্ক
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
কেটে যাচ্ছে। বাতাসে বসন্তের উষ্ণতা, কাঞ্চন
পলাশের বর্ণোচ্ছ্বাস, আমের মুকুল, শাল পিয়ালের
নব মঞ্জরীর সুরভী-সুবাস, নিকটে দূরে সানাইয়ের
সুর। প্রেম দিবস, প্রেমের গান, প্রেমের কাব্য
কবিতা,চন্দ্রালোকে চন্দ্রাহত কোকিলের নিশীথ বিড়ম্বনা---
রাত্রি-জাগরণ-শ্রান্ত কোন বিরহীর বিরহ বেদনায়
মাড়োয়ার সুর দিতেই হবে। বেশ ছিলাম। বার্ধক্যের
সর্বজন স্বীকৃত আলস্য নিয়ে জীবনটাকে ভোগ না
হলেও উপভোগ করছিলাম ভালো মতোই।
হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাত ! সুদূর পৃথিবীর একখণ্ড ভূমি উঠল কেঁপে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল খবর। খবর তো নয় সিরিয়া তুরষ্কের আর্তনাদ ভেসে এলো পাহাড় সাগর মরুভূমির বাধা পেরিয়ে। শেষ পাওয়া খবর ধ্বংস স্তুপে অভ্যন্তরে পঁচে যাওয়া, গলে- যাওয়া মানুষের সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে। আনুমানিক হিসাব। গলিত লাশের গন্ধে জীবন্ত মানুষেরাও মৃতপ্রায়। এতো গেল উপরিতলের নারকীয় ছবি ; কিন্তু ভগ্নস্তুপের ভিতরে ! হাজার হাজার টন ডেব্রিসের তলায় পিষ্ট, অঙ্গছিন্ন, অর্ধমৃত নর নারী শিশু মরণ যন্ত্রনায় ধুঁকে ধুঁকে মরে মরে 'বেঁচে' গিয়েছিল ?
এই বীভৎস পরিনামের কোন প্রতিবিধান আছে ?
নেই নেই নেই ! নগরায়ন, অপ্রয়োজনীয় শিল্পায়ন,
জন বিস্ফোরণ ! নদী, গিরি, ভূমি, অরণ্যের উৎসাদন। এমনকি সমুদ্র, আকাশের বুকে বুকে যুদ্ধাস্ত্রের মারণ তান্ডব। ভার্টিক্যাল বসতি গড়ে তোলার দুর্দমনীয় দনুজ প্রয়াস।
দৈব দুর্যোগ, প্রকৃতির বিপর্যয় পৃথিবীর অসংখ্য প্রাণ অনন্তকাল ধরে অকালে ধংস করেছে, একথা সত্য ; কিন্তু সভ্যতাগর্বী, জ্ঞান-বিজ্ঞানে দেবতার প্রতিস্পর্ধী মানুষ যদি বিবেক বিবেচনাহীন হয়ে আত্মহননের, মহাপ্রস্থানের পথ বেছে নেয়, (ধসপ্রবন, ভূমিকম্প প্রবণ) চোরাবালির উপরে আকাশ-ফোঁড়া অট্টালিকা তোলে তাহলে সেই আত্মনাশা উন্মত্ততা থেকে কে বাঁচাবে তাকে ?
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৫/০২/২০২৩

খুবই ভাল
উত্তরমুছুনSamai hoeache...abar bolte habe " Dao fire se aronno , lao e nagar"
উত্তরমুছুনAnupam mondal Bangalore
উত্তরমুছুন