নব মন্দির
হাজার হাজার বছর ধরে গড়া হোল মন্দির,
কত অসংখ্য স্থপতি এল সে কে জানে।
(স্রষ্টা তাঁরা, চরণে তাঁদের প্রণাম শতকোটি)
উঠল চৃড়া নভো নিলীমা ভেদ করে।
প্রাঙ্গন সবই দিগন্তপার নিখিলের আঙিনায়,
বিশ্বজুড়ে বিপুল কোলাহল, দেবতার আগমনী।
তীর্থযাত্রী আসে দলে দলে নিশিদিন,
শঙ্খস্বর, বন্দনাগীতি, পূজামন্ত্রের ঘোষণা,
তুরী ভেরী শত বাদ্যযন্ত্রে অভিষেক-ক্ষণ যাপনা।
দেখে নাই কেউ দেবতার রূপ, কল্পমূর্তি আঁকে।
আপন মনের শ্রদ্ধা মিশায়ে গড়ে' নিজ দেবতাকে।
আপন সুখের, আপন দুখের নিত্য সঙ্গী করে,
দেবতার সাথে মানবের লীলা বিশ্ব ভূবন জুড়ে।
কিন্তু যে দেবতা-আলয় মানব হৃদয়ে রাজে,
পড়ে আছে সে যুগ যুগান্ত জীর্ণ মলিন সাজে।
ধোওয়া হয় নাই প্রাঙ্গন তার প্রেমের সিন্ধুজলে,
গাঁথা হয় নাই বরণের মালা ভক্তির শতদলে।
সমর্পণের মন্ত্রমন্দ্রে হয়নি অর্ঘ্য দান,
জগতের যত অমৃত পুত্র শোনেনি সে আহ্বান।
মহাকাল ধায় আপন গতিতে নিঠুর সর্বনাশা,
সৃজনের শত কীর্তি কাড়ে সে, খেলে' শকুনির পাশা।
মঠ মন্দির মসজিদ চার্চ -- যত দেবালয় আছে,
সেখানে আর্ত ভক্তের দল চতুর্বর্গ যাচে।
তবুও সকলই প্রবঞ্চনা, মোহ-মায়া-ঘেরা ঠাঁই,
বিরাম বিহীন পাশবিকতার ক্ষয় নাই, লয় নাই।
এসেছে এবার নূতন যুগের নবজাগ্রত চেতনা,
মানবতাবোধ-মাটি দিয়ে হোক্ বিশ্বদেউল রচনা।
সকল মতের সব স্রোতধারা মিলাবে মানব সাগরে,
সুচেতনা যিনি জাগিবেন তিনি মানুষের অন্তরে।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫- ০১-২০২৩
কলকাতা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন