শব্দ খুঁজি
একান্তে থাকি বসে, শব্দ খুঁজি দীর্ঘ প্রহর ধরে।
বুকভরা ব্যাকুলতা কণ্ঠে উঠে আসে দমকে দমকে,
প্রকাশ তার ইঙ্গিতে আভাসে। শব্দ খুঁজি দিনে রাতে,
শব্দ খুঁজি সকালে সন্ধ্যায়। সন্তানের জন্মদান কালে
জননীর বাৎসল্যের আর্ত সুখে, মৃতবৎসা গোমাতার
বিমূঢ় দৃষ্টিতে। হাসপাতাল --স্বজনের জীবন- মরণ,
উৎকণ্ঠা -- শব্দহীন পাষাণ সময় প্রতিক্ষার। বর্ষণ,
প্লাবন, জলোচ্ছ্বাস, -- ভাঙা ঘর -- নিরাশ্রয়, মূক,
শূন্যদৃষ্টি কিষান দম্পতি বসে আছে মুখোমুখী।
থানা থেকে বলছি, " মৃতদেহ পাওয়া গেছে অমুকের
হোগলার ঝোপে!" স্থবির, নিশ্চল বা অচেতন
বৃদ্ধ পিতা মাতা --- নৈঃশব্দের ডাক ডাকে টিকটিকি।
খবরে ভাসে খুন, ধর্ষণ, হনন পাঁচালী -- শব্দ খুঁজি।
হাঁটি পথে, গাছের হলুদ পাতা ঝরে পড়ে পায়ে,
আসে বসন্ত ফুলবনে, মরা ডালে ভরা ফুল অকস্মাৎ--
শব্দ খুঁজি আমি। খসা পাতা, হাসা ফুল ভাষাহীন।
সৌরভ প্রথম প্রেমের কিশোর বেলার 'কস্তুরীমৃগসম',
নিঃশব্দে বিবশ করে। বিহ্বলতা নবযৌবনের--
কোকিলের অক্লান্ত কুহুর মতোই, আছে সু্র শব্দহারা।
সন্তাপের দীর্ঘশ্বাস বার্ধক্যের, অপূর্ণতা খোঁজার প্রয়াশ
অপ্রকাশ্যে, পূর্ণ নীরবতায়। শব্দ নাই গভীর দুঃখের,
শব্দ নাই নিবিড় সুখের, সৃষ্টির, বিলয়ের। তবু অন্বেষণ।
গভীরের শব্দগুলি কেন যেন ভালোবাসে 'নীরবের' মায়ার বাঁধন !
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
০১/০২/২০২৪
কলকাতা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন