লক্ষ চরণ-পতন ছন্দে বিচিত্র স্বরে সুরে
মিলায়ে প্রাণের মত্ত আবেগ আমি মরি ঘুরে ঘুরে।
বইয়ের পসরা রয়েছে সাজানো যেদিকে তাকাই সেদিকে,
গলি গলি চলি--- মুগ্ধ নয়ন বেপথু এদিকে ওদিকে।
বিপণির সারে, বই থরে থরে বিচিত্র তাদের আবরণ,
শীর্ণ, পৃথুলা যেমন গতর তেমনই চিত্র আভরণ।
ভিতরে সবার প্রবেশাধিকার হবেনা শতেক জনমে,
হাতে তুলে নেব, পাতা ওল্টাব ? আড়ষ্ট হই শরমে।
কোটি মানুষের মানস-তটিনী দিক দিগন্ত হতে
কথা কাহিনীতে, কাব্য ও গীতে মিলে' অজস্র স্রোতে
সৃজন মেলার মহামোহনায় তোলে ধ্বনি, তোলে সুর--
মিলনানন্দে, বিরহ-ব্যথায়, হাসি গানে সুমধুর।
ভগীরথ যাঁরা এসেছেন তাঁরা সৃষ্টিশঙ্খ বজায়ে,
জ্ঞানের সাগর তীর্থাঙ্গনে রাখেন অর্ঘ্য সাজায়ে।
অজ্ঞান-তিমির-অন্ধ আমার বহু সাধনার পুন্য --
গ্রন্থ-কমল-সুরভী-সুধায় জীবন হয়েছে ধন্য।
মনে সাধ জাগে লিখি দুটি বাণী মানস সিন্ধুকূলে
বালুকা বেলায় তরঙ্গ রেখায় বেদনা অশ্রু জলে।
যে রসোচ্ছ্বাসে শ্লোকের স্ফুরণ আসেনা সে ঢেও বুকে,
তমসার তীরে ব্যর্থ জীবন কাঁদে আলোকের শোকে।
(কবিতাটি পুনঃপ্রকাশিত)
৩১ শেষ জানুয়ারি ২০২৪
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩রা ফেব্রুয়ারী,২০২৩।
কলকাতা বইমেলা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন