বাণীবন্দনা
(আজ সরস্বতী পূজা। বাগ্দেবী আরাধনার এই পুন্য লগ্নে তাঁর শ্রীচরণ বন্দনা করি। মহাকবি বাল্মীকি রচিত মূল রামায়ণের রামচরিত আলোচনা 'মানুষরূপী রামচন্দ্র' চতুর্থ পর্ব দু'দিন পর প্রকাশিত হবে।)
বাক দেবী
বৈতর্ণ নদীর পাড়ে, পৃথিবী শেষ প্রান্তে আছি বসে,
বধির, নির্বাক। মনে হয় নরকের দুঃশব্দের ঢেও
প্লাবিত করেছে আজ ধরণীর তপোবনাশ্রম --
এখানেই সৃষ্টির সে-প্রথম তমোহরা ঊষসী প্রকাশ, আদিধ্বনি,
আদিপিতা স্রষ্টার আনন্দিত মহা উচ্চারণ -- মহা-ওঙ্কার !
তুমি সেই বাক, সেই সুর, সেই স্বর, সেই বিদ্যা-জ্ঞান,
চেতনার ভোরের আলোক।
তপোসিদ্ধ কবি বাল্মীকি, বেদব্যাস, কলিদাস, ভবভূতি
-- এমনি অসংখ্য বাণীর সাধক দেশে ও দেশান্তরে --
তোমার ভাণ্ডার হতে করে আহরণ, স্বর্গ হতে তুলে যেন
মন্দার কুসুম,
অঞ্জলি অঞ্জলি কথা অর্ঘ্য দিয়ে গেল তারা মানুষের ঘরে।
মননের কুশ্রীতায় বিকৃত করেছি শব্দ, পঙ্কিল হয়েছে ভাষা ---
লালিত্য-মাধুর্য-হারা শ্বাপদ হুঙ্কার !
এসো মা ভারতী, শ্রী হ্রী নিষ্কলঙ্ক শ্বেতকায়া, শ্বেত আবরণে,
শ্বেতপদ্মে উপবিষ্ট শ্বেত বীণাধরা দেবী, শ্বেতহংস সাথে।
বাজুক চরণে মা নূপুর নিক্কন, বীণার ঝঙ্কারে তোল সুর,
শুচি, রুচি-শুদ্ধ বাণী ঝরুক ধরায়।
একটি প্রেমের গানে ভরুক জীবন, নরকের অন্ত হোক্ একটি কথায়।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৪/০২/ ২০২৪
কলকাতা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন