শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

শান্তি--৩

শান্তি-৩
বেদ হতে বেদান্তদর্শন -- শত সহস্র বছরের সাধনায় আহৃত ও লব্ধ জ্ঞান --- তার মধ্যে কোথাও মানুষ (শুধু কি মানুষ ? সমস্ত ভূতজগৎ)-কে বাদ দিয়ে ব্রহ্ম বা পরমাত্মা বা 'মহান পুরুষ'-অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় নি।  প্রকৃতিকে মায়া বলে বিচ্ছিন্ন করে পুরুষ এবং পুরুষকে অজ্ঞেয় বলে প্রকৃতিকে জগৎ সৃষ্টির কারণরূপে সিদ্ধ করা হয়নি। এমনকি আদি যে নাস্তিক্যবাদী বা নিরীশ্বরবাদী কপিলের সাংখ্যদর্শন, সেখানেও প্রকৃতি ও পুরুষের মহাসংগমের (এই ঘোর জটিল সৃষ্টিতত্ত্বের অবতারণা অন্যত্র করবার বাসনা রইল) স্বীকৃতি আছে যেখানে একদিকে যেমন দৃশ্যমান বিশ্বজগতের উপর, অন্যদিকে অদৃশ্য চৈতন্যজগতের উপর সমান মহিমা অর্পিত হয়েছে। অদৃশ্য যে চৈতন্য এই বিশাল বিপুল অনন্ত সৃষ্টির উৎস এবং সৃষ্টিকে ধারণ করে আছে তার কণিকারূপ মূর্ত মূর্তি মানুষ। মানুষই জ্ঞানের সাধনার পথ ধরে ব্রহ্ম হয়ে উঠতে পারে, বলতে পারে 'অহম্ ব্রহ্মাস্মি', বলতে পারে 'অয়ম আত্মা ব্রহ্ম', বলতে পারে 'প্রজ্ঞানম্ ব্রহ্ম' এবং 'তৎ তম্ অসি'।
"এই ত্রাণকারী আত্মজ্ঞান প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের পবিত্র ও সংযত হৃদয়ে প্রতিভাত হয়েছিল। তাঁরা মানবের প্রতি ভালোবাসা ও করুণাপরবশ হয়ে জ্ঞানের অধিকার, সম্ভাবনা ও শক্তির ঐতিহ্যের মতো, জ্ঞান-গঙ্গার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের মতো -- বংশপরম্পরায় রক্ষা করার ব্যবস্থা করে গিয়েছেন।"
          ----- স্বামী রঙ্গনাথানন্দ মহারাজ।

উপনিষদের বাণীগুলি মানব প্রাণের শান্তির, শক্তির, নির্ভয়তার চিরন্তন প্রেরণা। নিয়ত মৃত্যুভয়, রোগ-শোক-জরা ও একাকিত্বের ভয় থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষকে প্রকৃত সত্যের অন্বেষণে নিরত করে।" এই কারণেই ভারতীয় সনাতন (বৈদান্তিক) ধর্মকে চিরন্তন দর্শন বা Aldous Huxley-র ভাষায় 'দর্শনের অনন্ত প্রবাহ' বলা হয়। ঈশা উপনিষদের সুন্দর শান্তিপাঠেই আমরা আশ্বাস পাই যে, মানবের অনুসন্ধান ব্যর্থ যাবে না ; ঋষিগণ শুদ্ধ দৃষ্টিতে যা উপলব্ধি করেছিলেন, আমাদের দৃষ্টি শুদ্ধ হলে আমরাও তা (পরম অবিনাশী সত্যকে) উপলব্ধি করতে পারব।"
                                     --- তদেব।
কি সেই সত্য, যা মানবজগৎ যুগ যুগান্তর ধরে অনুসন্ধান করে চলেছে ? মিথ্যা মায়ার ছায়া ঘুচিয়ে একটি 'সত্যের আশ্রয়' যা তাকে ভয় থেকে --- বিনাশের ভয় থেকে মুক্ত করে 'চিরন্তন জীবনের' (বংশপরম্পরায় বহমান প্রাণকে না হারানোর) ভরসার আশীর্বাদ বহন করে আনবে। এমন এক সত্যের উপলব্ধি এসেছে, বৈদান্তিক জ্ঞানের ভিতর দিয়ে। কঠোপনিষদের একটি মহামন্ত্রেই আমরা সেই সত্যের আলোকিত জগতে পোঁছাতে পারি, --

"নিত্যোহনিত্যানাং চেতনশ্চেতনানাম্
একো বহুনাং যো বিদধাতি কামান।
তমাত্মস্থং যেহনুপশ্যন্তি ধীরাঃ
তেষাং শান্তিঃ শাশ্বতী নেতরেষাম্।।"

এই মন্ত্রটি বার বার, একাগ্রতাসহকারে পাঠ করলে এক প্রদীপ্ত সত্যের আলোকে, শান্তির সান্ত্বনায় আমাদের অন্তর প্রসন্নতায়, জ্যোৎস্নাময়ী শারদাকাশের মত, অপরিম্লান পূর্ণতায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মন্ত্রটি বলছেন,
সকল অনিত্য বস্তুর মধ্যে 'তিনি'ই নিত্য। সচেতন প্রাণের তিনি চৈতন্যস্বরূপ। তিনি 'এক', তবু বহু সকাম জীবের মধ্যে বাস করেন, জীবের কামনার ও কর্মের ফল প্রদান করেন। যেসব 'ধীঃ'যুক্ত জীব (প্রজ্ঞাবান মানুষ) নিজ আত্মায় তাঁর অস্তিত্ব উপলব্ধি করেন, তাঁরাই শাশ্বত শান্তি লাভ করেন -- আর কেউ নয়।
লক্ষ্যণীয় এখানে 'নিজ আত্মায়', সেই 'নিত্য' এবং 'চৈতন্যস্বরূপ' --- এই মহাসৃষ্টির চৈতন্যসত্ত্বাকে অনুভব করতে পারলেই শাশ্বত শান্তির, ভ্রান্তিহীন সত্যের আশ্রয় লাভ করা সম্ভব হবে। তখন মৃত্যুর মধ্যে মৃত্যুহীনকে, বিকৃতির মধ্যে অবিকারীকে, বহুর মধ্যে 'এক'কে আত্মস্থ করতে পারলেই ভয় থাকবে না। 'বহুর মধ্যে এক',  একই চৈতন্যের প্রকাশ ওই দূরাতিদূর আলোকপথের সীমান্তহারা প্রান্তসীমায়  জ্যোতিষ্ক-মণ্ডলের একটি নক্ষত্রের মধ্যে দিয়ে যেমন প্রতিভাসিত, ব্রহ্মাণ্ডের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণাসদৃশ এই পৃথিবীর প্রাণকণিকা--- আমার মধ্যেও তাইই প্রকাশিত-- এই বোধ অর্জিত হয় যে সাধনার দ্বারা তা প্রেম, বিশ্বজয়ী প্রেম যা শুধু জীবের, বিশেষ করে  পূর্ণচৈতন্যের অধিকারী মানুষের অন্তরে বিরাজ করে। এই প্রেমে দৃষ্টি দিয়ে সে যখন জগৎসংসারকে দেখে তখন কোথাও তার শত্রু নেই, নেই তার বিনাশের ভয়।
"চেতনার অনন্ত বিস্তারের ফলেই এরূপ ভয়হীনতা আসে। যখন সৎরূপের (সৃষ্টির উৎস পরম সত্ত্বা) সঙ্গে আমাদের একত্ববোধ হবে, একমাত্র তখনই মৃত্যুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। যখন জ্ঞানস্বরূপের (প্রজ্ঞা-ব্রহ্মের) সঙ্গে আমাদের একত্ববোধ হবে, একমাত্র তখনই অজ্ঞানের অস্তিত্ব লোপ পাবে। যখন আনন্দস্বরূপের ("আনন্দাদ্ধ্যেব খল্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে..") সঙ্গে আমাদের একত্ববোধ হবে, তখনই দুঃখের অস্তিত্ব লোপ পাবে। বেদান্ত মতে মানবাত্মা অনন্ত অস্তিত্বস্বরূপ, অনন্ত জ্ঞানস্বরূপ এবং অনন্ত আনন্দস্বরূপ।"
                    ---- স্বামী রঙ্গনাথানন্দ মহারাজ।

মানবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার, অর্থাৎ মহাসৃষ্টির আকারবিশিষ্ট ভৌতিক অস্তিত্বের বিপরীত রূপহীন বিমূর্ত চৈতন্যময় সত্ত্বার একাত্মতা অনুভব করবার যে জ্ঞানমার্গীয় ধর্মধারণা তাই সমস্ত ধর্মমতের, (একেশ্বরবাদী আব্রাহামিক, বহুদেবতাবাদী  প্যাগানিজম ও বেদবাদী আর্যধর্মাবলম্বীদের) মূল আদর্শ। তবুও এই মূল ধর্মাদর্শ থেকে, শুধুমাত্র ধর্মীয় স্মৃতিশাস্ত্রের ভিন্নতার জন্য পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী আত্মহননে লিপ্ত হয়, কেন 'বিশ্বনিয়ন্তার' শুভ ও মঙ্গলময় ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করে' পরোক্ষে বিশ্বধংসের তান্ডবে, আপন আত্মার ঐশ্বর্য বিস্মৃত হয়ে, মানুষ তার পশুপ্রবৃত্তিগুলিকেই জাগিয়ে প্রথিবীটাকে নরকে পরিণত করেই চলেছে বার বার ? এর কারণ অসংখ্য ; কিন্তু মূল কারণ ঐ 'পশুপ্রবৃত্তি' ! সম্রাটের সাম্রাজ্য বিস্তারের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা থেকে 'বাবু কর্তৃক উপেনের দুইবিঘা জমি দখল' ; গ্রাম্য পরিবারের ক্ষুদ্র সম্পত্তির লালসাসম্ভূত ভ্রাতৃহনন থেকে বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যা এবং  নিত্যদিনের যত খুন, লুণ্ঠন, শোষণ, পেষণ, বলাৎকার, ধর্ষণ --- সবই ওই পশুপ্রবৃত্তিসঞ্জাত। আরও ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক হয়ে ওঠে যখন এই নরকসৃষ্টির প্রয়াসগুলিকে ধর্মীয় সংস্কারের 'কর্তব্য'রূপে গণ্য করা হয়। বর্ণাশ্রমী 'ব্রাহ্মণদের' অমানবিক কুসংস্কার স্বীকার করে রামচন্দ্রের শম্বুক (শূদ্র তপস্বী) হত্যার মতই বর্তমানের দলিতনিধন -- একই রকমের 'ধর্মে'র বিকৃত ব্যভিচার। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ধর্মাবতারের মূর্ত প্রতীক শ্রীকৃষ্ণ নিজেই অর্জুনকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করেছিলেন এই বলে যে যুদ্ধ ক্ষত্রিয়ের 'ধর্ম'-- এষঃ ধর্মঃ সনাতন। আবার মহাভারতের স্ত্রীপর্বে, শান্তিপর্বে কুরুক্ষেত্রের মহাশ্মশানে স্বামী-সন্তান-হারা নারীদের হাহাকারের মাঝে তিনি ছিলেন কখনো নীরব, কখনো'বা নিরুত্তর। বিশ্বজনীন মানব সভ্যতায়, সামাজিক উপপ্লব, সে যত বড় বা ছোটই হোক্ -- তা সে রাবণের সীতা অপহরণ, দ্রৌপদীর লাঞ্ছনা বা ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস কর্তৃক স্পার্টার রাণী হেলেনকে অপহরণ থেকে আরম্ভ করে মানব সভ্যতার মহাকাব্যের ইতিহাস জুড়ে এমন লক্ষকোটি অপরাধের কলঙ্কিত অধ্যায় পার হয়ে আজ যখন কোন নিভৃত গৃহাভ্যন্তরে, কোন সেবা-শুশ্রূষাদায়িনী, প্রাণধাত্রী অবলা অসহায় নারী ধর্ষণ ও নৃশংস নিধনের শিকার হন তখন মানুষ নামক জাতিটির পশুপ্রবৃত্তির উপর আর কোন সন্দেহ থাকে না। বন্য সর্পশ্বাপদদের যা প্রাকৃতিক ও স্বভাবজ প্রবৃত্তি, মানুষের মধ্যে তার প্রকাশ যদি ঘটে, এই ধরিত্রীর মানবসমাজে কোনদিনও, কোথাও ধ্বনিত হবে না শান্তির 'মহাওঙ্কারধ্বনি'।

কিন্তু চেতনাহীন পাশবিকতার পাশাপাশি চৈতন্যময় মহামানবতার ---  নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রেমের, হিংস্রতার পরিবর্তে অহিংসার, নিপীড়নের বিপরীতে সেবার সাধনা কি হয়নি, হয়না ? হয়, হয়ে আসছে এবং হবেও। মনুষত্বের সাধনায় আত্মোৎসর্গীকৃত মহামানবগণ ---সুদূর প্রাচীনকাল থেকে, পৃথিবীর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে-থাকা বিভিন্ন, বৈচিত্র্যময় জাতির মধ্যে জন্ম গ্রহণ করেছেন। শুধু ভারতবর্ষের মানবতীর্থেই যে যুগে যুগে অসংখ্য ঋষি, মুনি, মণীষী, মহাকবিগণ ---  বাল্মীকি, ব্যাসদেব, বুদ্ধ, জৈনমুনি, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য, শ্রীরামকৃষ্ণ প্রভৃতি দেবতা নয় --- মানব চেতনার বিগ্রহদের আবির্ভাব ঘটেছিল এমনও নয় --- গ্রীস থেকে চীন, রোম থেকে শ্যামদেশ ---- জরাথুষ্ট্র, মুশা, ইশা, মুহম্মদ, কনফুসিয়াস -- তাঁরাও এই ধরিত্রীর বুকেই বিচরণ করে গিয়েছেন ; "তাঁরা বলে গেল ক্ষমা কর সবে, বলে গেল ভালবাসো, / অন্তর হতে বিদ্বেষবিষ নাশো" ; কিন্তু তাঁদের বাণীর দোহাই দিয়েই বিদ্বেষের নরমেধযজ্ঞের অগ্নিশিখা লক্ লক্ জ্বলে উঠেছে দেশে দেশে, কালে বিরামহীন নিরবচ্ছিন্নতায়।
"তোমার বাণীর আড়াল টানি তোমায় ঢাকি ..."।
পরিশেষে এ-কথাই বলার যে যতদিন না মানুষ -- ক্ষমতাবান এবং ক্ষমতালোভী মানুষ -- তার দুঃখের সাধনার মধ্য দিয়ে আত্মোপলব্ধির ঐশ্বর্যে আপনার অন্তরের ঈশ্বরকে লাভ করবে ততদিন আত্মা-আত্মীয়-আত্মহননের নরকবাস থেকে তার মুক্তি নেই, ততদিন শান্তির ঠাঁই থাকুক শ্মশানে আর  শান্তির মন্ত্র ধ্বনিত হোক্ মানবতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শ্রাদ্ধবাসরে।
"বায়ুরনিলমমৃতম্ অথেদং ভস্মান্তং শরীরম্।
ওঁ ক্রতো স্মর কৃতং স্মর ক্রতো স্মর কৃতং স্মর।" 
                                (ঈশা উপনিষদ, মন্ত্র ১৭)
অন্তিম মুহূর্ত, আমার জীবনের শক্তিতরঙ্গ (ধীরে ধীরে) অমৃত সাগরে বিলীন হতে চলেছে (ঐ বিশ্বপ্রাণের সঙ্গে আমার প্রাণবায়ু মিলিত হবে!) !
ওঁ! এখনিই এই নশ্বর দেহ ভস্মে পরিণত হবে !
ওঁ ! তাই হোক্, এই শরীর ভস্মীভূতই হয়ে যাক্ তবে !
"অথ ইদং শরীরং ভস্মান্তং ভূয়াৎ। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।।
হে আমার চিত্ত, (আসন্ন মৃত্যুর এই মহালগ্নে) স্মরণ কর ; তোমার সৎকর্মগুলি স্মরণ কর ; তোমার অসৎ কর্মগুলিও স্মরণ কর ! 

"ধর্ম, ঈশ্বর বা পরকালের ধারণা কোথা থেকে এল ? মানুষ ঈশ্বর ঈশ্বর করে বেড়ায় কেন ?
.................................................................
............. ......... ......................... ............. এখানে সেখানে, মন্দিরে গির্জায়, স্বর্গে মর্তে, নানা স্থানে এবং নানা উপায়ে অন্বেষণ করবার পর অবশেষে আমরা যেখান থেকে আরম্ভ করেছিলাম অর্থাৎ আমাদের আত্মাতেই বৃত্তপথে ঘুরে আসি এবং দেখতে পাই--- যার জন্য সমগ্র জগতে অন্বেষণ করেছিলাম, যার জন্য আমরা মন্দির, গির্জা প্রভৃতিতে কাতর হয়ে প্রার্থনা এবং অশ্রুবিসর্জন করেছিলাম, যাঁকে আমরা সুদূর আকাশে মেঘরাশি দিয়ে ঢাকা --- অব্যক্ত রহস্যময় বলে মনে করেছিলাম, তিনি আমাদের নিকট থেকেও নিকটতর, প্রাণের প্রাণ; তিনিই আমার দেহ, তিনিই আমার আত্মা। তুমিই আমি--- আমিই তুমি। এই তোমার স্বরূপ --- একে প্রকাশ কর। তোমাকে পবিত্র হতে হবে না ---- তুমি পবিত্রস্বরূপই আছ। তোমাকে পূর্ণ হতে হবে না, তুমি পূর্ণস্বরূপই আছ। প্রকৃতিই পর্দার ন্যায় আড়ালে সত্যকে ঢেকে রেখেছে। তুমি যে কোন সৎ-চিন্তা, সৎ-কার্য কর, তা জেনো, শুধু সেই তমসার আবরণকে ধীরে ধীরে ছিন্ন করছে, আর সেই প্রকৃতির আড়ালে শুদ্ধস্বরূপ অনন্ত ঈশ্বর প্রকাশিত হচ্ছেন।"

অনাদিকালের ঈশ্বর-অন্বেষণের যে সাধনা তার মূল, লক্ষ্য ও পথ, ঋদ্ধি ও সিদ্ধি এবং অন্তিম অনুভব এই কথাগুলির মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ; প্রকাশ করেছেন স্বামী বিবেকানন্দ যিনি সর্বধর্মের মূলিভূত একত্বের, মানবতাবাদের জীবন্ত বিগ্রহ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ভাববসন্তান -- ঠিক তেমনি যেমন ছিলেন ব্যাসদেবের পুত্র শুকদেব। আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মজ্ঞান, আত্মোপলব্ধি এবং সকলের ভিতর আত্মদর্শন --- এই সাধনার ধর্মক্ষেত্রেই জ্যোতির্ময় মূর্তি ধারণ করে দন্ডায়মান আছেন মানুষের ঈশ্বর --আত্মবিস্মৃত আত্মহননের কুরুক্ষেত্রে নয়।

 
            " .... ‌নক্ষত্রের অক্ষৌহিণী হতে
অরণ্যের পতঙ্গ অবধি, মিলাইছে এক স্রোতে
সঙ্গীতের‌ তরঙ্গিণী বৈকুণ্ঠের শান্তিসিন্ধুপারে।"
‌‌                    'ভাষা ও ছন্দ', -- রবীন্দ্রনাথ।

বিশ্বের সকল দেশে, সকল সমাজে, সকল ঘরে, প্রতিটি মানুষের অন্তরে 'শান্তি' বিরাজ করুক।

                           (সমাপ্ত)

শ্রী দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫/০৩/২০২৬
কলকাতা।
____________________________________




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...