এই তো ছিলে তুমি মালঞ্চে আমার।
আনন্দের দিনে গেয়েছিলে গান -- সপ্তসুরে,
বিষাদে আমার পড়েছিল ঝরে
তোমার কন্ঠের সুধা --প্রবোধ রাগিনী।
স্মরণে মননে জাগে কতো কথা,
তোমার পাখার ছায়া একান্ত দুর্লক্ষ্য, হে পাখি,
তবু পুষ্পময় কাননের প্রতি কুঁড়ি জানে
সে ছায়ার স্নেহের করুণা, বাৎসল্যের মায়া।
নিজে তুমি সয়েছিলে দাবদাহ, সর্বনাশা ঝড়,
অবিরল ধারা শ্রাবণের, মর্মভেদী হিমানী বাতাস,
ভেঙে গেছে নীড় বারে বারে, হয়ে গেছে হারা
কোলের শাবক, মরণ-নিষাদ হরণ করেছে সাথী ;
তাও কেন উচ্ছলিত অতলান্ত মমতাসরসী ?
কোথা হতে পেয়েছিলে মাতৃত্বের অমৃত ভাণ্ডার ?
আজ সবই দিয়ে, শব হয়ে আছো শুয়ে
চিহ্নহীন বিলয়ের শূণ্য প্রতীক্ষায় ! তবে হোক্ তাই --
অনাদি কালের ক্রৌঞ্চজায়া, খণ্ডকালের এই মায়া
ছেড়ে দিয়ে যাও তুমি অনন্তের ঘরে।
তোমার স্মৃতির দীপখানি, নিবাত নিষ্কম্প শিখা--
আলোময়ী হয়ে থাক্ শোকের-শিশিরে-সিক্ত
ফুলেদের অন্তরে অন্তরে।
মাতৃহারা
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
০৪/০৬/২০২২
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন