রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

বর্ষা বাণী

'বর্ষা আসে' -- এমনিই বার্তা ভাসে আকাশে বাতাসে। 
দিগন্তে ইঙ্গিত হানে বিজলীর হাসি, বাজের হুঙ্কার, 
প্রবৃদ্ধ বলরাম দাঁ হাল বাঁধে, কোদালে দেয় শান। 
নিজ হাতে গরুকে খাওয়ায়, তারা তার সৃজনের সাথী। 
মনে মনে ঠিক করে কোন্ জমি, হবে কি ফসল। 
স্বপ্ন দেখে হেমন্তের স্বর্ণালী সন্ধ্যার, লক্ষ্মী প্রতিমার। 

খবর সত্যি হোল, এলো মেঘ দিক দিগন্ত জুড়ে, 
আগমনী শঙ্খ বাজে মুহুর্মুহু, প্রদীপের দীপ্ত শিখা জ্বলে। 
অজয়ে হড়পা বান, সরসী উত্তাল, বাদলে মাতাল বনভূমি। 
রক্তে সাগরের ঢেও বলরাম দাঁ-র, শিরায় শিরায় বহে নদী। 
না ফুরাতে রজনী-আঁধার ছুটে যায় মাঠে বলরাম। 
দিতে হবে আলের বাঁধন, ফাটলেতে, ফাটা ক্ষেতে তালি। 
মাঠে জল টলটল, মাটি ভিজে গলগল, ছলছল 
আঁখি জল---ঋতুমতী মেদিনীর অপূর্ব সে রূপ--- 
 ঝলমল ভোরের আলোয়! দেখে আশা মিটে না রামের। 

 নিরক্ষর কবি যে সে, কাব্যগ্রন্থ তার তৃণাঞ্চলা বসুধা সুন্দরী। 
মাঠ মাটি কাদা জলে, দীপ্র রৌদ্রে, বর্ষণধারায় 
হাল চলে বলরাম দাঁ-র। বীজ পড়ে, ধরিত্রী গর্ভিনী হয়, 
হাসে রাম-- শস্যশ্যামলা ভূমি তারই তো রচনা। 

এই কাব্য বিগত বর্ষার, আজ তার নাই কিছু আর। 
মরা গাছে, পোড়া ঘাসে, ধূলি ধূমে ওঠে হাহাকার ! 
পাথর ভাঙার কান্না ভূমি গর্ভ হতে -- কালের বিধান! 
 সভ্যতার রথচক্রঘায়ে রামের সে কাব্য আজ পাথর খাদান। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
০৬/০৬/২০২২ 
শিলিগুড়ি।















কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...