রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

স্মরণ-বীথি

               স্মরণ-বীথি
                  দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

"কেউ ভোলে না কেউ ভোলে অতীত দিনের স্মৃতি,
কেউ দুঃখ লয়ে কাঁদে কেউ ভুলিতে গায় গীতি"
              --- -কাজী নজরুল ইসলাম।


সেদিনও শরৎ ছিল যে ভূবন ছেয়ে,
বউ কথা কও উঠেছিল গান গেয়ে,
কাশফুলবন দুলেছিল মৃদু বাতাসে,
মেঘ বলাকারা উড়েছিল নীল আকাশে,
আলোর সোহাগে বনবীথি ছিল উতরোল,
ভরা দিঘী-জলে ফুটেছিল শত শতদল।
ঝরা শিউলীর গন্ধ-বিভোর ভোরে -
আগমনী গান স্নিগ্ধ মাটির সুরে।

কিন্তু সেদিন বুঝি নাই তার ভাষা,
কোন্ সে নিয়তি কোন্ সে কুহকি আশা--
ভ্রূকুটি-ভঙ্গে ডাক দিল যেন স্বপনে  
হেথা নয়- হোথা নয়, নেই কিছু আর পিছনে।
এসেছি যেখানে সেখানে খুঁজেছি সুখ--
সুখে সুখী ভেবে সুখের হাসিতে ঢেকে রাখি সব দুখ।
বাহির অঙ্গে রাজকীয় বেশ অন্তর উপবাসী--
ব্যথার অশ্রু লুকানোর ছলে মুখে বিগলিত হাসি।

জীবনের দিন ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজ গোধূলি ,
মনে পড়ে সেই বিমল শরৎ ,শারদ-সুষমা সকলি।
মনে পড়ে সেই ভাঙা-ঘর,ঘর-ভাঙা ভরা জোছনা,
মনে পড়ে সেই দুগ্গাদিদির ছেঁড়া পিরাণের বেদনা।
ভুলতে পারিনি দুলু কুমারের দুর্গা গড়ার যাদু,
ছবি হয়ে ভাসে হৃদয় আকাশে আধ-নাঙা ঢাকী দাদু।
জমিদার ঘরে রেডিওতে বাজে‌ "মহিষাসুর-বিমর্দিনী",
ফেরিওয়ালার ঘন ঘন ডাক্, "আলতা সিঁদুর চিরুনী",

"লাগাস্-নে' মাটি নতুন জামায়",  বারবার বলে মা,
পরি আর খুলি, খুলি আর পরি নতুন-গন্ধী জামা।
ছুটে ছুটে যাই চণ্ডীতলায়, ছুটে ছুটে আসি ঘরে,
'হলো কি মায়ের নারকেল নাড়ু'? দেখে যাই বারে বারে।

কেন যে কেবলি সে-ছবি সকলি প্রতিমার মতো জাগে -
সুখের আগুনে দুখ-দীপ জ্বলে -- অনুতাপে,অনুরাগে ।
এ-কী বিস্ময়! অতৃপ্ত হৃদয়, নিজের সঙ্গে যুঝে' -
অভিমানি যেন অবোধ বালক, সুখ ফেলে দুখ খোঁজে।

শারদোৎসব
মহাষষ্ঠী
১১/১০/২০২১
ব্যাঙ্গালোর ।
______________________________________________

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...