(কলকাতার রাস্তায় হেঁটে হেঁটে যাই। যত রাত বাড়ে ততই ফুটপাথগুলোর দৃশ্য পাল্টে যায়। শিশু কিশোরদের বুকে জাপটে ধরে মায়েরা যেভাবে শুয়ে থাকে তা দেখি। একটি অসহায় কষ্টের অনুভূতি বুকে বয়ে ঘরে ফিরে আসি। অক্ষমতা ঢাকি কাগজে কলমে। )
পথের মা ও পথশিশু
ফুটপাথে দেখি ঘুমিয়ে রয়েছে
মায়ের বুকে ছেলে।
নিঃসাড় ঘুম শিশুর চোখে
মায়ের পাঁজর জ্বলে।
এই শিশুকাল পেলি ওরে বাপ্ --
পায়ের তলায় ঘর,
ভিড় রাস্তায় বুকে ধরে রাখি
নিত্য মরণ ডর।
তন্দ্রায় দেখি হোগলার কুঁড়ে,
ছেঁড়া-কাপড় দোলনা,
কেমনে গেল, কোথায় হারালো
ভাঙা-ফুটো দুটো খেলনা।
কোথায় সে জনা, কেন বা উধাও
আমি কেন বাঁচি প্রাণে,
যমের অরুচি হয়ে বেঁচে আছি
কুকুরে কাপড় টানে।
নাই পরিবার, নাই পরিজন
নাই স্নেহ মায়া দয়া।
এত যে মানুষ, এত বাড়ি গাড়ি
চোখে দেখি কালো ছায়া।
এমনি লক্ষ হারা-ঘর মা'রা
পড়ে আছে পথে পথে,
রেলপথ ধারে, মরা-নদী পাড়ে
বাদলে হিমেল রাতে।
হয়তো কোথাও ঝুপড়ি করেছে
ছিন্ন চটের গুহা,
তাও প্লাস্টিক -- ঠান্ডা গরম
কিছুই যায়না সহা।
সেখানেই মরে, মরে' মরে' বাঁচে
জীবন তাদের নাই।
শুধু দিনে রাতে উদর ভরাতে
এঁটো কাঁটা খুঁটে খায়।
হায় রে এ দেশ, মা-শিশুদের
জীবন্ত নরকবাস।
কোথাও বিলাস, কোথাও যুদ্ধ
বিপুল নিরাশ্বাস !
বুকে ক্ষয়রোগ, চোখেতে পিচুটি,
নগ্ন জীর্ণ দেহ,
নাইকো শিক্ষা, নাইকো পুষ্টি,
নাই সমাদর স্নেহ।
শুধু চেয়ে দেখে ভিখারিনী মা-কে
ন্যাকড়ার কঙ্কাল,
মৃত জীবনটা রাখার তাগিদে
ঘেঁটে মরে জঞ্জাল।
লেখায় ভাষণে, সভা, সেমিনারে
সহানুভূতির ঝুড়ি,
রাস্তার ধারে পড়ে থাকে তারা
--- সুতো ছেঁড়া ফাটা ঘুড়ি।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯/১২/২০২৩
কলকাতা
_______________________________________________
নির্মম বাস্তবতা
উত্তরমুছুন