চাঁদ
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
গত কাল ছিল রাখী পূর্ণিমা।
সোনার থালার মতো চাঁদ,
ফিনফিনে মেঘের আস্তরণে
মুখ ঢেকে বসল এসে
পূব আকাশের ছাদনাতলার প্রান্তটিতে –
যেন লাজরাঙা কণেবৌ, লজ্জাবস্ত্রে মুখ ঢাকা,
জীবনের গোধূলী -বেলার মানসী সুন্দরী।
শুধু চেয়ে দেখা , চেয়ে থাকা কিছুক্ষণ ।
কথা তো হোল না তার সাথে ।
হবেই বা কেন ? কিন্তু হয়েছিলো ,একদিন নয় –
বহুদিন ধরে' , অস্তিত্বের প্রথম প্রহরে ।
ছিল না সে একা ,
আমিও না – দুজনার মাঝে ছিল
দূতী , হেমাঙ্গনা প্রেম ,সুর হয়ে বিনা তারে
হৃদয় বীণায় তার সঙ্গীত- ঝঙ্কার।
উন্মনা,আনমনা সেই আমি
আজ আর নেই –তাই অকস্মাৎ,
অচেনার ছলে গেল চলে
উড়ে-আসা মেঘের আড়ালে ।
আমার 'আমি'র এই জগত- সংসারে,
বিশ্ব চরাচরে ,অন্ধকারে
দাঁড়ায়ে রয়েছি আমি একা ।
যার পেতে দেখা
এতো পথ দেওয়া হোল পাড়ি,
কামনার শিখা যেন আলেয়া-আগুন
নিত্য জ্বালায়ে দুই চোখে,
মরীচিকা তৃষ্ণা নিয়ে বুকে ,
কোথায় সে হয়ে গেল হারা !
জীবনের সব চাওয়া ,
যতকিছু পাওয়া শূণ্য করে' লুকালো সে
তামসী মায়ায় , কোথাও কী আছে
তার রাজসিংহাসন ? নাকি প্রবঞ্চনা নিয়তির ?
নির্দয় ছলনা ! ভার বয়ে যার –
পরিক্লান্ত পথিকের মতো
পথ ও পাথেয়-হারা, দীন –
পথের বঞ্চনা সয়ে' পথেই বিলীন !
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২২/৮/'২১
কলকাতা ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন