(১)
মাঝে মাঝে মনে হয়ে ধরিত্রীমায়ের কোলে বিরাজ -মান , চির -বহমান এই মানব - জীবন কে সম্বোধন করে বলি, "বড় বিস্ময় লাগে হেরি তোমারে। "
মানুষের জীবনে কত কী যে ঘটে যায় , কার সঙ্গে কার যে যোগ, কার যে বিয়োগ ঘটে যায়। কোন্ অভিশাপ আশীর্বাদ হয়ে, কোন্ আশীষ - বচন অভিসম্পাৎ হয়ে দেখা দেয়ে - তা কে বলতে পারে ? সে জ্যোতিষশাস্ত্র , তর্কশাস্ত্রের মীমাংসা মেনে চলেনা।
জীবনের পথ রহস্যময়তায় ঢাকা। সবার ক্ষেত্রে এ কথা খাটে কি না জানি না , তবে পূর্বাশার জীবনে তা , খাটে শুধু নয় - ঘটে চলেছে। অথচ পূর্বাশা তা জানে না। তার পরম শুভাকাঙ্খীও চাইবে সে যেন কোনো দিন তা না জানে।
সুবিশাল বাস ট্যার্মিনাসের ভেতর দিয়েই দুর্গাপুর স্টেশন ঢুকতে হয়ে। ইন্টার-প্লাটফর্ম ওভারব্রীজ ছাড়াও দুর্গাপুর স্টেশনে , এন্ট্রান্স - য়ের ডানদিকে, একটু ব্যবধানে আরেকটি ওভারব্রীজ আছে যেটি স্টেশনের পিছনের করঞ্জ বা করঙ্গপাড়া বাজার ছাড়াও, এই দিকের বিরাট জনবসতিকে ওপারের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
এই ব্রীজ ধরেই রোজ সে বাসস্ট্যান্ড আসে - রবিবার ছাড়া। যেই ব্রীজের শেষ সিড়িতে পা , অমনি তাকে ঘিরে ধ'রে "মা মা" - গোটা পাঁচেক বৃদ্ধা ভিখারিনী। আগে মোটগাঁট নিয়ে প্ল্যাটফর্মেই থাকতো তারা। এখন সৌন্দর্য্যায়নের 'দুর্ভাগ্যে' তাঁদের ঠাঁই হয়েছে এই সব রাস্তার মুখগুলিতে। পূর্বাশা যে কোন একটি বুড়ির হাতে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে বলে - "ভাগ করে নেবে।" তাদের আধ -ফোকলা কিংবা ফোকলা , লালশুকানো পচা মুখ আর পিচুটি - কাটা চোখে যতটা হাসি দেখানো যায় - তাই দেখিয়ে পূর্বাশা কে তারা বলে - "লছমী আমাদের। ভালো ক'রে যাবি।" এদের মধ্যে একজন উঠতে পারে না। তার বাঁপা কাটা। সে বসে বসেই কপালে হাত ঠেকায় - কাকে প্রণাম করে সেই জানে।
কেনই বা করে ?
পূর্বাশার মনটিও প্রসন্ন আনন্দে ভরে থাকে সারাদিন। এখন তো অনেকটাই পায়সা পাওয়া যায় স্কুলে। তারপর রবিবার দিন একটি টিউটোরিয়াল ক্লাসেও পড়ায় সে। পাড়া তেই।
রংটি ফর্সা না হলেও দেখতে সুন্দরই পূর্বাশা। ছিপছিপে গড়ন। সিন্থেটিক শাড়ীতে বেশ রোগাই লাগে। তবে মুখটি ভারি মিষ্টি। চোখদুটি দীঘল - মায়াভরা। এই বছর খানিক হল সে চাকরি পেয়েছে। বড়জোড়া হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অঙ্কের দিদিমনি। এই তার পথ। অবশ্য স্টেশনের ভেতর দিয়েও সে আস্তে পারে - স্টেশনের লোকেরা , মানে রেলকর্মচারী যারা তারা দেখেই তো তাকে - চেনেই তো। তবুও সে এই পথটিই ধরে। এ বুড়িগুলোর ওপর তার যেন কেমন প্রাণের টান। বড় করুনা হয় তাদের দেখলে।
স্টেশন - লাগোয়া করঙ্গপাড়ার হাটতলা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নতুন -গড়ে ওঠা সুকান্তপল্লিতে তাদের বাড়ী। বাবা বিবেক রায় দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টে বেশ উঁচু পোস্টেই চাকরি করতেন। মা ধরিত্রী দেবী একটি প্রাইভেট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতেন। কিন্তু পূর্বাশা আসার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। অবসর গ্রহনের পর এই সুকান্তপল্লীতে , নিজেরা বাড়ী তৈরি করে উঠে এসেছেন। জমি আগেই কেনা ছিল বিবেকবাবুর।
পূর্বাশা পড়াশোনায় বরাবরই ভাল। এমএসসি তে প্রথম শ্রেণী এবং এসএসসি তেও যথেষ্ট সাফল্য লাভ করে সে চাকরি পেয়েছে। পেয়েছে নয় , বলা যায় অধিকার করেছে নিজের যোগ্যতায়।
সুকান্তপল্লী থেকে স্টেশন পর্যন্ত সে রিক্স করে যায় আসে। তবে মাঝে মাঝে তার বন্ধু - শঙ্খ শুভ্র সেন তার জন্য স্টেশনের ঐ ব্রীজটির নীচে অপেক্ষা করে। বাইকে পৌঁছে দেয় বাড়ীতে। দুই ঘরের বাবা ও মায়েরা তা জানেন।
নিয়মের শৃঙ্খলায় বাঁধা , সহজ ,সরল ,সুপারিনামী জীবনছন্দ পূর্বাশার। ভাল লাগে। আবার ভয়ও হয়।
কিন্তু কেন যে ভয় , কিসের যে ভয় তা সে বুঝতে পারে না ; আবার বোঝাতেও পারেনা।
রংটি ফর্সা না হলেও দেখতে সুন্দরই পূর্বাশা। ছিপছিপে গড়ন। সিন্থেটিক শাড়ীতে বেশ রোগাই লাগে। তবে মুখটি ভারি মিষ্টি। চোখদুটি দীঘল - মায়াভরা। এই বছর খানিক হল সে চাকরি পেয়েছে। বড়জোড়া হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অঙ্কের দিদিমনি। এই তার পথ। অবশ্য স্টেশনের ভেতর দিয়েও সে আস্তে পারে - স্টেশনের লোকেরা , মানে রেলকর্মচারী যারা তারা দেখেই তো তাকে - চেনেই তো। তবুও সে এই পথটিই ধরে। এ বুড়িগুলোর ওপর তার যেন কেমন প্রাণের টান। বড় করুনা হয় তাদের দেখলে।
স্টেশন - লাগোয়া করঙ্গপাড়ার হাটতলা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নতুন -গড়ে ওঠা সুকান্তপল্লিতে তাদের বাড়ী। বাবা বিবেক রায় দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টে বেশ উঁচু পোস্টেই চাকরি করতেন। মা ধরিত্রী দেবী একটি প্রাইভেট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতেন। কিন্তু পূর্বাশা আসার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। অবসর গ্রহনের পর এই সুকান্তপল্লীতে , নিজেরা বাড়ী তৈরি করে উঠে এসেছেন। জমি আগেই কেনা ছিল বিবেকবাবুর।
পূর্বাশা পড়াশোনায় বরাবরই ভাল। এমএসসি তে প্রথম শ্রেণী এবং এসএসসি তেও যথেষ্ট সাফল্য লাভ করে সে চাকরি পেয়েছে। পেয়েছে নয় , বলা যায় অধিকার করেছে নিজের যোগ্যতায়।
সুকান্তপল্লী থেকে স্টেশন পর্যন্ত সে রিক্স করে যায় আসে। তবে মাঝে মাঝে তার বন্ধু - শঙ্খ শুভ্র সেন তার জন্য স্টেশনের ঐ ব্রীজটির নীচে অপেক্ষা করে। বাইকে পৌঁছে দেয় বাড়ীতে। দুই ঘরের বাবা ও মায়েরা তা জানেন।
নিয়মের শৃঙ্খলায় বাঁধা , সহজ ,সরল ,সুপারিনামী জীবনছন্দ পূর্বাশার। ভাল লাগে। আবার ভয়ও হয়।
কিন্তু কেন যে ভয় , কিসের যে ভয় তা সে বুঝতে পারে না ; আবার বোঝাতেও পারেনা।
(২)
বিয়ের বছর চারেক পর বর্ধমানের সুখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সুনির্মল সামন্ত যেদিন তাঁদের একসাথে বসিয়ে অনেক সান্ত্বনা, অনেক উপদেশ দেওয়ার পর খোলসা করলেন যে ধরিত্রী দেবীর সন্তান ধারণ সম্ভব নয় , সেদিন বিবেকবাবু দৃশ্যত অবিচলিত থাকলেও ধরিত্রী দেবী কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বর্ধমান স্টেশন থেকে দুর্গাপুর স্টেশন - এই একটি ঘন্টার মধ্যে বিবেক বাবুর মনে হয়েছিল হয়তো স্ত্রীকে তিনি হারিয়েই ফেলবেন। তাঁর চোখের জলের ধারা যেন আর থামবে না কোন দিন। বিবেকবাবু যতই তাকে মা সারদা , ভগিনী নিবেদিতা , মাদার টেরেসাদের জীবন ও জীবন কাহিনীর উদাহরণ দিতে থাকেন ততই দমকে দমকে ফুলে ফুলে ওঠে তাঁর বুক, ততই অশ্রুধারা স্রোতের মতো নামে।
বিবেকবাবুরা থাকতেন জয়দেব কলোনীতে। স্টেশন থেকে মিনি বাস চলে ঘন ঘন। কিন্তু এখন দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় আধ ঘন্টা। এমন অঝোরে বৃষ্টি। তার ওপর লোড শেড্ডিং। মাত্র দুটি এমার্জেন্সি লাইট টিম টিম করে জ্বলছে। তারা দাঁড়িয়ে আছেন তিন নম্বর প্লাটফর্মের শেষ প্রান্তে। কেননা লোকাল ট্রেনের শেষের কম্পার্টমেন্টেই উঠেছিলেন তারা। কিছুক্ষণ পর কেউ কেউ ছাতা নিয়ে, কেউ আবার ভিজতে ভিজতেই চলে গেলেন। জায়গা টা ফাঁকা। শুধু দশ - বার পা দূরে - যেখানে শেডটা শেষ হয়েছে সেখান থেকে একটি করুন কান্নার সুর আসছে ভেসে, তার সঙ্গে মাঝে মাঝে কি রকম থাপ্পড় মারার শব্দ।
বিবেকবাবু তার স্ত্রী কে বললেন - "চল তো , দেখে আসি।" বিবেকবাবুর মনে হয়েছিল এইসব প্লাটফর্মে থাকা, গৃহহীনদের দুঃখের ছবি দেখলে ধরিত্রী নিজের দুঃখ ভুলতে পারবে। কিন্তু ঘটলো যা, তা অভাবিত।
আলো আঁধারিতে ঠিক দেখা যায় না , তবুও যা দেখলেন তা মর্মান্তিক। একটি সদ্যজাত শিশু কে কোলের মধ্যে ঢুকিয়ে এক বুড়ি ক্রমাগত নিজের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করে যাচ্ছে, আর শিশুটি পাখি ছানার মতো দুটি ঠোঁট ফাঁক করে যেন তার অন্তিম কান্নাটি কাঁদছে।
বিবেকবাবু এবং ধরিত্রী দেবী দুজনেই খুবই কোমল মনের মানুষ। এ দৃশ্য তাঁদের সহ্যের অতীত। বিবেকবাবু জিজ্ঞাসা না করে থাকতে পারলেন না - "কী হয়েছে ? ওরকম করছো কেন ?"
বুড়ির কথায় যা বোঝা গেল তা হল - এই শিশুটি বুড়ির নাতনি। জন্ম হয়েছে স্টেশনের ওই ভাঙা গোদামঘরটিতে। তা হোক , এমন তো কতই হয়। কিন্তু বিপদ হয়েছে গতকাল। এক মাস না যেতেই তার মেয়ে উঠেছিল মাল গাড়ির ডিব্বায়। কয়লা পাড়তে। সেখান থেকে পড়ে গিয়ে , বাঁ পায়ের হাড় মাংস বাইরে। স্টেশন বাবু ভগবান - আজ সকালে তাকে কোন হাসপাতালে দিয়ে এসেছে। মেয়ের মরদ হয়ে এখন যে ছিল , সেই জুতা-পালিশ- ছোঁড়াটাও কাল রাত থেকেই বেপাত্তা। মেয়েও যে বাঁচবে তার কোন আশা নাই।
"ও বাবু , ও মা,এখন বল এই খানকি মাগীর বেদো বিটি নিয়ে কি করি ? আমার সঙ্গের যত ভিখারি আমাকে ছেড়ে অন্য দিকে চলে গেল। বলে গেল - ডি - ভি - সির খালে ফেলে দে। আমি পারছি নাই বাবু। আমি পারছি নাই। "
ধরিত্রী দেবী দুহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে আছেন স্বামী কে। কাঁপছেন।
"বুড়িমা, তুমি চুপ কর। আমাদের দিয়ে দাও। আমি এখন তোমাকে কিছু টাকা দিচ্ছি। কাল সন্ধ্যা বেলায় তুমি ঠিক এখানেই বসে থাকবে। আমি তোমাকে পাঁচ হাজার .......
বিবেকবাবুর কথা শেষ হতে সময় দিল না বুড়ি। শিশুটি কে আধা ভেজা প্লাটফর্মে ফেলে দিয়ে তাঁর দুই পায়ে মাথা রেখে পড়ে গেল।
"টাকা চাই না বাবু .... টাকা চাই না। নিয়ে যাও..... নিয়ে যাও। নিজের হাতে নিজের প্রথম বেটা মেরেছি .... আর বিটির বিটিকে মারতে দিও না বাবু............. ।
বুড়ির এ কান্না কান্না নয় - সারা জীবনের বাঁচার যন্ত্রণার হাহাকার।
(৩)
হাঁটতে হাঁটতে ভিন গলিতে ঢুকে গিয়েছিলাম। আবার যাত্রা - শুরুর পথের মোড়ে এসে দেখি সেই ব্রীজের সিঁড়ি বেয়ে নামছে পূর্বাশা। বেলা শেষে - ঘরের দিকে মুখ। পূজার ছুটি শেষ। আবার সেই একই রুটিন। আজ ফেরার পথে দেখল বুড়িগুলো ফুটো বস্তা , ছেঁড়া চট গায়ে দিয়ে বসেছে। বাতাসে একটু ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব।
হটাৎই পূর্বাশার মাথায় এল - ঠিক তো , কম্বল দেওয়া যায়। আসলে গত কয়েক মাস সে ভেবে এসেছিল পূজার সময় ঐ বুড়িদের নতুন কাপড় দেবে। কিন্তু দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি সঙ্কোচে। বাবা , মা বা শংখ - তাদের কাছে মনের এই ইচ্ছা বলতে গিয়েও বার বার যেন জিভটা আড়ষ্ট হয়ে এসেছে। তারা কী ভাবে নেবে ? এই ছিল সংকোচের কারণ - কেন না মা তো ভিখারী - বিশেষত মহিলা ভিখারিনী দেখলেই দরজা বন্ধ করে দেন ; আর শংখদের এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে তো সিকিউরিটি। ভিখারীদের প্রবেশ নিষেধ।
তার সেই ইচ্ছাটা পুরন হল না বলে সারাটা পূজায় তার মনে তেমন উচ্ছাস ছিল না। নুতন জামা , নুতন শাড়িগুলি পরেছিল বটে , তবে সে সব পোশাকের ঝলমলে রং মনের ওপর পড়েনি। তাই আজ এই নুতন ভাবনাটি তাকে চনমনে করে তুলল।
রিক্স স্ট্যান্ড যাবার আগে একটি কাপড়ের দোকানে ঢুকল পূর্বাশা। দোকানদারের সাথে কথা হল। দশটি কম্বল নেবে সে এবং সেগুলি স্টেশনের ওপর নিয়ে যাবার জন্য একজনকে সঙ্গে দিতে হবে।
পরের দিন স্কুলের অফিসে সকাল বেলা ফোন করে জানিয়ে দিল তার যেতে দেরী হবে। দোকান খুলতেও তো দেরী হতে পারে। আর স্কুল - থাকার দিনেই কাজটি করতে হবে। কাউকে জানাবে না সে। প্লাটফর্মের বুড়িগুলির প্রতি তার যে এই দুর্বলতা - তা যদি কারো হাসির খোরাক , বিদ্রুপের বস্তু হয় ! সে সইতে পারবে না।
আজ কালো চশমা চোখে দিয়ে বেরিয়েছে পূর্বাশা। ভেবেছিল ঐ বুড়িগুলির সামনে দাঁড়ালে তারা একটু চমকে উঠবে। আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকবে না। কিন্তু তা হল না। সে ব্রীজে উঠতেই তারা চিনেও নিয়েছে তাকে। দাঁড়িয়েও আছে অন্যান্য দিনের মতই।
পূর্বাশা দাঁড়ালো। পাশে একটি ছেলে মাথায় মঠ নিয়ে। বুড়িগুলোর চোখ যেন বিশ্বাস করতে পারছেনা।
তোমরা ক'জন আছো , মাসী ?
"মাসী?" বুড়িগুলো কী করবে ভেবে না পেয়ে হাত জোড় করে দাঁড়ালো। তারপর একজন সাহস করে বলল - আমরা পাঁচ জন তোমার পয়সা পাই ; তবে আরো দু - তিন জন আসে। ওই পয়সা তে সবাই মিলেই সকালে চা -কচুরি খাই , মা।
পা -কাটা বুড়ি টা লাঠি ভর দিয়ে একপায়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। একজন পিছন ফিরে ধমক দিলো - ওখানেই দাঁড়িয়ে থাক খুঁড়ি মাগী , আবার পড়বি।
পূর্বাশা চশমা টা খুলেছে। মুখে বিমল হাসি। ছেলেটাকে ইঙ্গিত করল মঠটি নামাতে। তারপর বলল - তোমরা পাঁচজন প্রত্যেকেই একটি করে কম্বল নাও। আর তোমাদের বন্ধু যারা আসে তাঁদেরও একটি করে দিও। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করো না। আমি আবার কখনো দিয়ে যাব।
একটি কম্বল নিজে হাতে করে পা কাটা বুড়িটার কাছে গেল পূর্বাশা। সামনে গিয়ে দেখে, তার পিচুটি ভরা , গর্তে ঢোকা চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। মুখের ভাবে না হাসি না কান্নার চিন্হ শুধু শুকনো ঠোঁট দুটি ফাঁক করা। লাঠিতে ভর দিয়েছে , তবুও কেঁপে কেঁপে উঠছে। পড়েই যাবে যেন।
মাসী , তুমি কাঁদছ কেন ?
বুড়ি লাঠি ছেড়ে দুহাত দিয়ে ছুঁতে গেল পূর্বাশাকে - পড়ে যায় যায় ............ মা ............ধরল পূর্বাশা .........তার মুখথেকে 'সী' - বেরোনোর আগেই অন্য বুড়িরা দৌড়ে এল।
- পোড়াকপালি , গতরখাকি , মরেও মরে না।
বুড়িকে তারা যত গাল পাড়ে বুড়ি ততই হাসতে থাকে , আর ভাসতে থাকে চোখের জলে।
'মা' ডাক শুনেছে সে - তাও আবার মেয়ের গলায় !
------------------------------------------------------------------------------------------------------
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন