বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

চিঠি

সুচরিতাসু পার্বতী ,

                ভুলিনি তোমাকে ;
কিন্তু ভুলে আছি। কেন জান ?
এখানে পুকুর পাড়ে নেই বটগাছ , বাঁশঝাড় 
এখানে নদীর তীরে নৌকা বাঁধা ঘাট ,
উদাত্ত , উন্মুক্ত মাঠ , বনাঞ্চলে ঢাকা দিক্চক্রবাল ,
তন্দ্রাচ্ছন্ন সন্ধ্যা কিংবা প্রাণময় প্রসন্ন সকাল -
কিছুই পাবেনা তুমি। 

              এযে ময়দানবের পুর। 
এখানে অসংখ্য যান , অনন্ত বাহন-স্রোত 
বহমান সারা রাত্রি , সারা দিনমান। 
ধূলি ধূমে সমাচ্ছন্ন প্রকৃতির ব্যর্থ আর্তনাদ। 
তারি মাঝে মুখে মেখে রং ,
বহুরূপী নাগরী , নাগর সখ্যতার অভিনয়ে 
লুটে নেয় নির্বোধের সহায় সম্বল। 
নীল আলোর স্বপ্নসৌধে নাচে স্বপ্নপরী 
দেহের বিভঙ্গে তোলে ঢেউ। 

               শকুনিমামারা 
খেলে পাশা। সে খেলায়ে হার - ই দস্তুর। 
শুধু এক দুটি দুর্যোধন আর দুঃশাসন 
জয় করে রাণী আর রাজার সম্পদ। 

তারপর একদিন অকস্মাৎ সেবাঙ্গনে ঢোকে 
নিদাগ চাদরে শুয়ে বুকে রাখে হাত। 
"কোথা তুমি মায়া মৃগ ? ক্লান্ত আমি , দাঁড়াও ক্ষণেক।" 
----"না।" 
দুদন্ড বসার আবেদন না-মঞ্জুর কালের কলমে। 

ঘণ্টাখানেক হল মেট্রোবিভ্রাট -- স্তব্ধ অধোগতি। 
মরণকে ভালোবেসে অনামী বিদেশী জনৈক উত্তীয় 
আমাদের ভীড় থেকে পালিয়েছে বলে' 
হটাৎই  পেলাম অবকাশ। তাই দুটো কথা -
আর বলি কাকে ? তোমাকেই জানিয়ে দিলাম। 
লাস্যময়ী চন্দ্রমুখী এখানে যে নাই তা তো নয়, 
আছে ; সর্বগ্রাসী প্রেম তার আলেয়ার শিখা। 
আপাতত তাই, স্তব্ধগতি যান্ত্রিক শকটে নিরুপায় 
আছি বসে। তোমায় পাবার আশা, জানি তাও, 
দূর-মরীচিকা ! 
ইতি -
পরবাসী দেবুদা (সোনার পুরের পাঠশালা - সাথী)। 

(পরিমার্জিত সংস্করণ) 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
২২/০৯/২০২২ 
কলকাতা।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

English version follows soon


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...