সুচরিতাসু পার্বতী ,
ভুলিনি তোমাকে ;
কিন্তু ভুলে আছি। কেন জান ?
এখানে পুকুর পাড়ে নেই বটগাছ , বাঁশঝাড়
এখানে নদীর তীরে নৌকা বাঁধা ঘাট ,
উদাত্ত , উন্মুক্ত মাঠ , বনাঞ্চলে ঢাকা দিক্চক্রবাল ,
তন্দ্রাচ্ছন্ন সন্ধ্যা কিংবা প্রাণময় প্রসন্ন সকাল -
কিছুই পাবেনা তুমি।
এযে ময়দানবের পুর।
এখানে অসংখ্য যান , অনন্ত বাহন-স্রোত
বহমান সারা রাত্রি , সারা দিনমান।
ধূলি ধূমে সমাচ্ছন্ন প্রকৃতির ব্যর্থ আর্তনাদ।
তারি মাঝে মুখে মেখে রং ,
বহুরূপী নাগরী , নাগর সখ্যতার অভিনয়ে
লুটে নেয় নির্বোধের সহায় সম্বল।
নীল আলোর স্বপ্নসৌধে নাচে স্বপ্নপরী
দেহের বিভঙ্গে তোলে ঢেউ।
শকুনিমামারা
খেলে পাশা। সে খেলায়ে হার - ই দস্তুর।
শুধু এক দুটি দুর্যোধন আর দুঃশাসন
জয় করে রাণী আর রাজার সম্পদ।
তারপর একদিন অকস্মাৎ সেবাঙ্গনে ঢোকে
নিদাগ চাদরে শুয়ে বুকে রাখে হাত।
"কোথা তুমি মায়া মৃগ ? ক্লান্ত আমি , দাঁড়াও ক্ষণেক।"
----"না।"
দুদন্ড বসার আবেদন না-মঞ্জুর কালের কলমে।
ঘণ্টাখানেক হল মেট্রোবিভ্রাট -- স্তব্ধ অধোগতি।
মরণকে ভালোবেসে অনামী বিদেশী জনৈক উত্তীয়
আমাদের ভীড় থেকে পালিয়েছে বলে'
হটাৎই পেলাম অবকাশ। তাই দুটো কথা -
আর বলি কাকে ? তোমাকেই জানিয়ে দিলাম।
লাস্যময়ী চন্দ্রমুখী এখানে যে নাই তা তো নয়,
আছে ; সর্বগ্রাসী প্রেম তার আলেয়ার শিখা।
আপাতত তাই, স্তব্ধগতি যান্ত্রিক শকটে নিরুপায়
আছি বসে। তোমায় পাবার আশা, জানি তাও,
দূর-মরীচিকা !
ইতি -
পরবাসী দেবুদা (সোনার পুরের পাঠশালা - সাথী)।
(পরিমার্জিত সংস্করণ)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২২/০৯/২০২২
কলকাতা।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
English version follows soon
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন