কয়লা খাদানের মালকাটা
(মরণের সাথে ঘর করে দুদিন বেঁচে নেওয়া। আলো নয়, অন্ধকার যাদের নিত্য সাথী ; স্বর্গ নয়, নরক যাদের ক্ষণ- জীবনের একমাত্র ঠাঁই -- জানতে চাও তাদের কথা ?)
আমি মালকাটা, মাল কাটি মরণ গুহায়।
কালো মাল, কালো অন্ধকার, টিম টিম বাতি,
লাগে যেন রাহুমুখে ঢুকেছে জোনাকি।
দিন তো আসে না এইখানে –
দিন কোথা কবর গাঁড়ায় ? গাঢ় রাত চিরকাল।
আমার বাতির আলা চক চক জ্বলে
সুড়ঙ্গের যেদিকে সেদিকে – মনে হয়
চিতার ছাইয়ের গাদা, মাঝে মাঝে জ্বলন্ত আঙ্গার।
মড়ার লালার মতো জলও ঝরে ; জল নয়,
কালো রক্তস্রাব সে যে মায়ের পেটের
যখন সে জ্বলেছিল হাজার বছর ধরে একা –
ফাটছিল, ফুটছিল নাঙ্গা সে গতর ।
সেই চিতা, সেই লহু, আধমরা আগুনের হাসি –
দেখি, ভয় পাই, গাঁইতি কাঁপে ডরে, কিন্তু নিরুপায়।
মদ-মাংস কেনা, লছমীকে রাখা, এতটুকু বাঁচা –
সকলই তো এই কালো মালে ; তারপরে
পুড়ে’ পুড়ে’ কিংবা চাপা পড়ে’ পাতালেই থাকা।
তবে বাবুরা তো বলে, খাদানে মরণ নাকি ভাল।
তেনারা তো পুণ্যিবান, সত্যি হয় তেনাদের কথা –
চিতার আগুন আর কবরের মাটি – দুইই পাওয়া হল।
(পুনঃপ্রকাশিত)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২১-৭-২০১৮
কলকাতা ।
বাস্তব সত্য
উত্তরমুছুন