লিওর্নাদো দ্য ভিঞ্চি ও মাইকেলেঞ্জেলো ---
দুই সিন্ধুর দুই বিন্দু।
লিওর্নাদো দ্য ভিঞ্চির জন্ম হয় ১৪৫২ সালে এবং প্রয়াণ ১৫১৯ সালে।
ইউরোপের মধ্যযুগের অন্ধকারমুক্তির সঙ্কল্প নিয়ে সাধনার হোমকুণ্ড প্রজ্বলিত করেছিলেন যাঁরা ইতালির লিওর্নাদো দ্য ভিঞ্চি তাঁদের অন্যতম পুরোধা। এই মহান ঋত্বিক 'তমসো মা জ্যোতির্গময়' বলে' জ্ঞানের যে আলোক বর্তিকা তুলে ধরেছিলেন তা আজও প্রায় সাত সাতটি শতাব্দী পার হয়েও সমান দীপ্তিমান --- পণ্ডিত ও গবেষকদের প্রেরণার উৎস স্বরূপ। তার বহুমাত্রিক প্রতিভার মধ্যে যা তাঁকে কালাতিশায়ী অমরত্ব প্রদান করেছে তা হোল তাঁর শিল্পসৃষ্টি। তার মোনালিসা বিশ্বশিল্পের মহাবিস্ময়। শতকের পর শতক ধরে মোনালিসা বিস্ময়য়ের ঘোর জাগিয়ে রেখেছে দর্শকের দৃষ্টিতে। মোনালিসাকে বিষয় করে যত লেখা, যত আলোচনা, যত ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত হয়েছে তা একত্রীভূত করা সম্ভব হলে কয়েকটি মহাকাব্যের সৃষ্টি হবে।
মোনালিসা ছাড়াও আরো যে কাজগুলি জগৎ প্রসিদ্ধ সেগুলি লাষ্ট সাপার, স্যালভাতোর মান্ডি, ভাট্রুভিয়ান ম্যান, ভার্জিন অব দ্য রক্স, লেডি উইথ আর্মাইন, জিনেভারা দ্য বেঞ্চি এবং আরো আরো। তার শিল্পকর্মের, বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রসূত যন্ত্রের, শিল্পকর্মে জ্যামিতির ব্যবহার উচ্চ নবজাগরণের (High Renaissance)-র ইতিহাস গবেষকদের বিস্মিত করেছে, করছে আজও।
এই মহাশিল্পী মোনালিসা ছবিটি এঁকেছিলেন তাঁর পরিনত বয়সে -- ১৪৯৯ সালের পর যখন তিনি মিলান শহর থেকে আবার ফিরে আসেন ভেনিস শহরে। এই সময় গিওলিয়ানো দ্য মেডিসি নামের একজন শাসনকর্তার অনুরোধে, সেই শাসনকর্তারই প্রাক্তন প্রমিকা, (ফ্লোরেন্সের তৎকালীন এক ধনাঢ্য ব্যক্তি ফ্রান্সিসকো গিয়ান্ডোর সঙ্গে যার বিবাহ হয়ে যায়) ম্যাডোনা লিসার আদলে এই ছবিটি আঁকেন লিওর্নাদো।
এমন একটি ঐতিহাসিক তথ্য শুধুমাত্র তথ্যই।
মোনালিসা চিত্রটি প্রথম দর্শনে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক সাধারণ, আবেগ-উচ্ছ্বাসরহিত যুবতী নারী। দৈহিক গঠনে আছে আভরণহীন সুষমা। নিরলঙ্কৃত, কিছুটা অপরিমার্জিত আবরণ (পোশাক), হাতভর্তি ওড়না-সহ কুর্তা। মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মেলানো বেশবাস। বলিষ্ঠ সুন্দর লাবন্যময় হস্তযুগল পরস্পর --- বাম হস্তের উপর দক্ষিণ হস্ত আলতো করে রাখা। কিন্তু এমন সাধারণ এক যুবতী নারীর (প্রতিকৃতির) মুখ মণ্ডলের মধ্যে আপাত উদাসীন চোখ, টিকালো সুগঠিত নাক ও কোমল ওষ্ঠাধরের সরল ভঙ্গীমায় যে অত্যাশ্চার্য অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটেছে তা শতকের পর শতক ধরে বিশ্বব্যাপি দর্শকদের বিস্ময়ে অভিভূত করেছে, করে চলেছে। শিল্পীদের, শিল্পপ্রেমীদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে মোনালিসার ওষ্ঠাধরে স্ফুটনোন্মুখ চাপা হাসি ! সে কিসের ?কেন ? -- তা চির রহস্যাবৃত।
শিল্পী যখন তাঁর শিল্প সৃষ্টিতে নিমগ্ন থাকেন তখন,
"আপন মনের মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা
তুমি আমারই, তুমি আমারই, মম অসীম গগনবিহারী।"
শিল্প স্রষ্টা যাঁরা, তিনি সাহিত্য, ছবি, ভাস্কর্য, সুর ও বাণী -- যাই সৃষ্টি করুন, সেই সৃষ্টির মধ্যে জড়িয়ে থাকে তাঁর অন্তরের আনন্দরস --- সুখ-দুঃখ, প্রেম-দ্বেষ, বিরহ-মিলন, বাদী-বিবাদী ভাব সমন্বিত, আকুলতা-বিহ্বলতা-অন্বিত আনন্দরস। এই রস নিসঃরণ যখন অন্তরে জোয়ার এনে দেয়, বুকের পাড় ভেঙে বেরিয়ে আসে, তখন সেই রসই শিল্পীর তুলিতে রঙ, ভাস্করের হাতে ছেনি, সাহিত্যসাধকের হাতে কালি ও কলম। আর এই হৃদয়-নিঃসৃত বেদনাকে রূপে-রঙে, সুরে-বাণীতে প্রকাশ করবার আনন্দঘন ব্যাকুলতাই স্রষ্টার আস্বাদ্য।
মোনালিসা যখন শিল্পীর তুলির আঁচড়ে আঁচড়ে তিলে তিলে, শিল্পীর অন্তরের সেই আনন্দ-রস মেখে মেখে রূপ লাভ করছিল, তখন তো সে তাঁরই মানসী-প্রতিমা।
"মম হৃদয় রক্তরাগে তব চরণ দিয়েছি রাঙিয়া
অয়ি সন্ধ্যাস্বপনবিহারী।
তব অধর এঁকেছি সুধা বিষ এ মিশে
মম সুখ দুখ ভাঙিয়া ----
তুমি আমারি, তুমি আমারি, মম জীবনমরণবিহারী।।"
(রবীন্দ্রনাথ)
চার চারটি বছর গভীর ধ্যানে, নিবিড় একাগ্রতায় প্রভাতে সন্ধ্যায়, ঘুমে জাগরণে বুকের মধ্যে রেখে --- ভাঙা আর গড়া, গড়া আর ভাঙার যন্ত্রণা সইতে সইতে যে কল্পনার অরূপ-কে অপরূপা মূর্ত প্রতিমায় রূপান্তরিত করে দিয়ে গেলেন মহাশিল্পী সে এই চিরবিস্ময় মোনালিসা।
থাকুক্ বিহ্বলতার ঘোর যুগ যুগান্তরের মানুষের নিষ্পলক দৃষ্টিতে !
"নাই বা বুঝিলে তুমি মোরে।
চিরকাল চোখে চোখে নূতন নূতনালোকে
পাঠ করো রাত্রি দিন ধরে।
বুঝা যায় আধো প্রেম আধখানা মন ---
সমস্ত কে বুঝেছে কখন।।"
(দুর্বোধ --- রবীন্দ্রনাথ)
It is of no use to make me out,
It Is in vain searching me for.
See me anew, look at me in ever-changing light
Of Your feeling all day and all night.
One can have and find joy with a little
Fragment of one's heart ; but,
But the Whole remains in the dark --- invisible.
(Translated by-- Dulal ch. Bandyopadhyay)
সংযোজন
মোনালিসা ছবিটির আগে লিওর্নাদো মিলান শহরে মারিয়া দেল গ্রেজ নামে একটি গীর্জার দেওয়ালে এঁকেছিলেন শেষ নৈশভোজ (The Last Supper) ছবিটি, যার কথা না বললে মনে হয়, সিন্ধুর বিন্দুমাত্রও আস্বাদ পাওয়া হোল না।
মহান যীশু তাঁর মৃত্যুর (The Crucifixion) আগে তার বারো জন প্রিয় শিষ্যকে (The twelve Apostles) নৈশ ভোজ দিচ্ছেন। লিওর্নাদোর এই কাজটিও ঐতিহাসিক এবং ভূবনবিজয়ী শিল্পসৃষ্টি।
ঈশ্বরপুত্র জানতেন, বলেওছিলেন যে সেই সমবেত শিষ্যদের মধ্যেই একজন আছে যে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। তবু অবিচল, তবু উদাসীন, তবু নির্বিরোধ।
ক্ষমা ও প্রেমের মূর্ত রূপ, ঈশ্বরপুত্রের এই শেষ ভোজদানের ছবিটিতে মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সেবাদানের যে স্বর্গীয় 'শ্রী', যে সূর্যাস্তের রঙে রাঙানো ব্যাগ্রতা, যে বিদায়বেলার অন্তিম আকাঙ্ক্ষা অভিব্যক্ত হয়েছে, শিল্পীর হৃদয়মথিত রঙের উচ্ছ্বাসে ছবিটির প্রতি অনু পরমাণু (details) যে ভাবে --- কবিতার মত বাঙ্ময়, নিসর্গের মত প্রাণময় হয়ে উঠেছে তার বর্ণনা দেবার, ব্যাখ্যা দেবার ভাষা ভাষার অভিধানেও দুর্লভ। দৃষ্টি আর হৃদয়ের অনুভবের যুগলবন্দিতেই তা ধরা পড়ে। আর পূর্ণরূপে মানুষ হয়ে উঠতে পারলেই এমন নান্দনিক রসের ভোক্তা হতে পারে সেই মানুষী অবলোকন। স্রষ্টা যিনি তাঁকে ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য মনে হয়।
মানুষের অন্তরে হিংসা আর বিদ্বেষের যে পরাক্রান্ত শয়তানদের বাস দৈবপ্রেরিত মহামানব তাদেরকেও আবাহন করেছেন, প্রেমের রুটি আর আপন রক্তের কারণ সুধা দান করে বলছেন,
Take, eat ; This is my body of the bread ; and of the cup, drink of it all of you ; for this is my blood of the covenant, which is poured out for many for the forgiveness of sins.
শেষ নৈশভোজ ছবিটির যীশুর এই শাশ্বত, চিরন্তনী বাণীর বাকপ্রতীমা।
(জ্ঞাতব্য বিষয়
এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধটিতে মোনালিসার বেশবাসের বর্ণনায় 'মধ্যপ্রচ্য ও পাশ্চাত্যের' প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। সুধী পাঠকদের অবহিতির জন্য জানাই যে ইউরোপের মধ্যযুগীয় বীভৎসতার একটি কালান্তক উদাহরণ ধর্মযুদ্ধ (The Crusade war) যা পর্বে পর্বে সংঘটিত হয়েছিল প্রায় দুটি শতক ধরে, ১০৯৫ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১২৭২ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই যুদ্ধের চুড়ান্ত সর্বনাশা ফলাফল ও পরিণতি সত্ত্বেও, সামান্য হলেও ভালো কিছু প্রাপ্তির বিষয়ও ছিল। সে সবের অন্যতম 'একটি, ইউরোপ ভূখন্ডের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বানিজ্য ভিত্তিক যোগাযোগ। সেই বানিজ্যিক আদান প্রদানের সামগ্রীর মধ্যে এশিয়া অঞ্চলের বস্ত্র ও পোশাক ছিল ধনাঢ্য ইউরোপের অত্যন্ত জনপ্রিয়)।
____________________________________
মাইকেলেঞ্জেলোর 'লা পিয়েতা'
Michelangelo di Lodovico Buonarroti Simono
and his
La Pieta
মাইকেলেঞ্জেলোর জন্ম ১৪৭৫ খ্রীষ্টাব্দের ৬ই মার্চ, মৃত্যু ১৫৬৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ই ফেব্রুয়ারী। তিনি ছিলেন একাধারে ভাস্বর, চিত্রশিল্পী, স্থপতি এবং কবি। ইউরোপের নবজাগরণের সপ্তর্ষি মণ্ডলের এক অনন্য ঋষি, চিরভাস্বর।
তাঁর সৃষ্টির খতিয়ান সুদীর্ঘ। লরেঞ্জো দ্য মেডিসি, জুলিয়ান দ্য মেডিসির স্মৃতিস্তম্ভ, দ্য ম্যাডোনা এন্ড চাইল্ড, দ্য হোলি ফ্যামিলি, সিসটিন চ্যাপেলের প্রার্থনা গৃহের দেওয়ালে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ও বৃহত্তম ফ্রেস্কো 'লাষ্ট জাজমেন্ট ' বা 'শেষ বিচার ' ---- এ সকল শিল্পগুলির জ্যোতির্ময় বলয় পেরিয়ে রোমের সেন্ট পিটার্স গীর্জায় 'দ্য পিয়েতা'। তিনি বলতেন, "এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ ।"
'দ্য পিয়েতা' --- মা মেরীর কোলে মৃত যীশু।
যুবতী জননী --- তার কোলে পূর্ণায়বয়ব তরুন সন্তান।
"Eternal feminine holds us above." (Goethe).
মানুষী ভাষায় এমন কোন শব্দ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে শব্দের ব্যঞ্জনায় শিল্পী ভাস্কর মাইকেলেঞ্জেলোর এই বিস্ময় জাগানো ভাস্কর্যটির সৃজন মহিমার বর্ণনা দিতে পারে। এই সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র এটুকু বলা যায়,
হে স্রষ্টা, মানব হৃদয়ের শোক দুঃখ, আনন্দ বেদনা, বিরহ মিলনের বাণী যেখানে স্তব্ধ, প্রকাশের ভাষা যেখানে নির্বাক, ভালো মন্দ, সুন্দর অসুন্দরের বিচার যেখানে অকিঞ্চিৎকর, তুচ্ছ, অর্থহারা, তোমার এই সৃষ্টি সেই দিকচক্রবালের ও-প্রান্তে আরম্ভ হয়ে যাত্রা করেছে সুদূর অনন্তের সন্ধানে।
আমাদের মহাভারতের মহাউপন্যাস কাহিনীতে যুদ্ধশেষে কুরুক্ষেত্রের শব-আকীর্ণ রণাঙ্গণে কুমারীকালের সন্তান কর্ণের রণধূলিলাঞ্ছিত নিষ্প্রাণ দেহ দৃষ্টির গোচরে আসামাত্র মা কুন্তীর যে আত্মবৈকল্য ঘটেছিল, মহাকবি বেদব্যাসের লেখনীতে সে দৃশ্য উৎকীর্ণ আছে অর্ধস্ফুট মৌনতায়, আর যে কুমারী মাতা ত্রিশ বছর আগে, জেরুজালেম তীর্থযাত্রায় এক আস্তাবলে জন্ম দিয়েছিলেন যে শিশুটিকে (The Divine Lamb), আজ তার রক্তস্নাত মৃতদেহ নিয়ে বসে রয়েছেন প্রস্তরবৎ।
যিশুর বিচার থেকে তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যার সমস্ত ঘটনা ধরিত্রীর মত নীরব মৌনতায় প্রত্যক্ষ করে চলেছিলেন মা মেরী। তারপর সেই ষষ্ঠ শোক, (Sixth Sorrow.)
The descent of the lifeless body of Jesus from the cross and was placed in Mary's arms ; Eternal Motherhood embraces her dead son with a Love that is beyond words and grief.
এই ষষ্ঠ শোকের মূর্ত বিগ্রহ সৃষ্টি করলেন মাইকেলেঞ্জেলো, দ্য পিয়েতা। পাষাণেরও অভ্যন্তরে জেগে রইল চিরন্তন শোকের পাষাণ প্রতিমা মাতা মেরী--- কোলে নিয়ে মৃত ঈশ্বরের আশীর্বাদের সন্তান।
কবিতার ভাষায় হৃদয়মথিত আবেগ গাঢ় রূপে প্রকাশ পায়। তাই এই কবিতাটি,----
মাইকেলেঞ্জেলো ও দ্য পিয়েতা
ব্রুনেটে লাতিনি, সিসেরো, কভালকান্তি --কোথা তারা ?
কোথা তুমি দান্তে অলিগিরি, বোকাচ্চো গিয়োভান্নি ?
সুন্দরী ইতালির সখী সহচরী বিয়াত্রিস, লরা ?
প্রেমের নন্দনবনে শুদ্ধিলোক পারে, যেথা প্যারাডিসো
হেথা বুঝি আছে তারা শান্তি পারাবারে সাবিত্রীর মত
বিরহ-মিলনহারা অজরা অমরা সপ্তস্বর্গপুরে ?
রহস্যের মহাশিল্পী, নিয়ে তার মোনালিসা চিররুদ্ধবাক্,
দ্য ভিঞ্চি লিওর্নাদো। থাক্ তারা থাক্, থাক্ ভোরেশিও।
এসো তুমি ছন্নছাড়া আত্মভোলা মাইকেলেঞ্জেলো --
সৃষ্টি যার দেবতার আদালত,--- 'শেষের বিচার'।
মানব প্রেমের ভাষা পাষাণী লেখায়, উদাত্ত গম্ভীর ---
মানবতা মহাধর্ম --- জীবনের সুকঠিন সাধনার ধন।
ঈশ্বর মানব হলে তার যে বেদনা, তার ভার যত
বয়েছিলে বুকে, সৃষ্টি হোল অপূর্ব সৃজন -- দ্য পিয়েতা,
জননী মেরীর কোলে প্রাণহীন যীশু --- ঈশ্বর সন্তান ---
বিশ্বব্যপ্ত হাহারব, বিশ্বপ্লাবী অশ্রুজলরাশি হয়েছে পাষাণ।
যে বিপুল শোকচ্ছ্বাস ধরে না সাগর, রাখে না আকাশ,
ব্রহ্মাণ্ড ফিরায়ে দেয় যে মহা ক্রন্দন, চিরতরে সে বিষাদ
রেখে গেলে শোকের অহল্যা মূর্তি মা মেরীর কোলে ---
মাতৃরূপে জগদ্ধাত্রী বুকে ধরে বসে আছে জীবন্ত মরণ।
প্রস্তরীভূত অশ্রুধারা পাথর প্রতিমা, শোকস্তব্ধ হিয়া ---
এসো শিল্পী, পুনরভ্যুদয়ে এসো, কাঁদে ইতালিয়া।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৮-১০- ২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন