দুখির সুখের মরণ
প্লাটফর্ম ছ’নম্বর
শীতের সকাল।
উন্মাদ মুখরতা,
অস্থির পদভার জ্যান্ত জনতার।
তার-ই মাঝে চিৎ মেরে পড়ে আছে দুখি –
মরে গেছে ঠিক – তাইতো ! সঠিক ।
আহা রে মরণ ! বিজয় কেতন জীবনের ।
‘ছিল’ বলে’ দু’দিনের চিহ্ন রেখে যাওয়া।
মুক্তির নিশ্চিত পরিণাম এবং এ আশায় বেঁচে থাকা ;
সর্বরোগহর ভিষগ বটিকা
যার জোরে এতকাল প্রাণ বয়ে চলা –
ঝড়ে, জলে, তুষারে, বন্যায়, দাহে-দাবানলে,
মহাঘোর অন্ধকার মেঘে প্রত্যাশার বিদ্যুৎ ঝলক।
আহা মৃত্যু, স্বস্তির সরাইখানা পথভ্রষ্ট ক্লান্ত পথিকের ।
চরণের চারণের চরম বিশ্রাম।
এক বিন্দু জল – চাতক-চাওয়ার,
যদি ঝরে আকালের মেঘে,পড়ে ঠোঁটে ;
তারপর অচল অনড় শুয়ে পড়া —
শুধু ঘুম গভীর গহন !
দুঃস্বপ্নের ঘুম-কাড়া চাদরের ছেঁড়া ফাটা আলো
ঢেকে দেয় কালো যমদূত।
দুই
ঊষালগ্নে শান্ত অন্ধকারে
উলঙ্গ কাঠামো যাবে সরে।
আবার চটের শয্যা পাতা পরিপাটি –
দুঃখ-রাজার কোন উত্তরপুরুষ,নব অবতার।
আবারো মরণ চেয়ে মহাপরিনির্বাণ।
মৃত্যু দেবতার দান ,
তাই তিনি শাশ্বত, মহান।
‘মৃত্যু’ খাদ্যের ভান্ডার অফুরাণ ;
ঢুকে যাও একবার,
চাইতে হবে না আর, ‘দে মা খাবার।’
মরণ টাকার পুঁটলি ফকিরের,
আরামের নন্দনকানন,
স্বপ্নে-দেখা অমরার উন্মুক্ত দুয়ার।
চির শান্তি, চির তৃপ্তি, চিন্তা-হরা সুখের আগার।
মৃত্যুধনে ধনী ওরে রাজা, দুখি ,
শীতল চরণে তোর কোটি নমস্কার।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৪-০৪-২০২২
কলকাতা ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন