জন্মান্তরে শ্রীমতী
"মুক্তকৃপাণে পুররক্ষক তখনি ছুটিয়া আসি
শুধালো, কে তুই ওরে দর্মতি,
মরিবার তরে করিস আরতি ?
মধুর কণ্ঠে কহিল শ্রীমতী, আমি বুদ্ধের দাসী।"
------ রবীন্দ্রনাথ
ওখানে, আবর্জনাস্তুপে, উপেক্ষার নির্বাসনে
ভিক্ষুণী জবার ফুল নিটোল পাপড়ি মেলে
কেন যে রয়েছে ফুটে পরিপূর্ণ পঞ্চদলে,
বর্ষণস্নাত সুস্নিগ্ধ সন্ধ্যায় ? কোন্ প্রয়োজনে ?
হেতু তার খোঁজা অহেতুক। চল কাছে তার,
দেখি চেয়ে চেয়ে দুটি চোখ মেলে কিছুক্ষণ।
একি ! দেখি সে গাছের মূলে, ঝোপের আড়ালে
পরিত্যক্ত বুদ্ধের মর্মর মূর্তি -- অনাদৃত আছে বসে।
যে গৃহসজ্জায় ছিল তার শোভা, অন্য কিছু
আরো মনোলোভা বসেছে বা তারই সিংহাসনে।
তাই তার নির্বাসন। প্রাণহীন মূর্তির ঘোর বিড়ম্বনা !
চোখে এল জল ! মনে হোল এতো নয় শুধু এক
পাষাণ পুতুল ---মূর্ত মানবতা অনাদিকালের---
পবিত্র আসনে তাঁর বসেছে কি ক্রূর অহমিকা ?
মনে হোল তথাগত আজও নিমগ্ন তন্নিষ্ট ধ্যানে
পুতিগন্ধে, ক্লেদাক্ত বর্জ্যের ঝোপে আমাদেই
পাপের গ্লানিতে। আর এই প্রস্ফুটিত রক্তজবা
শ্রীমতী শ্রমনার নব অবতার, চিহ্নহীন বৌদ্ধস্তুপে,
চিরন্তন নারীত্বের অর্ঘ্যদান নিরঞ্জন বুদ্ধের চরণে।
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫-১০-২০২৪
ব্যাঙ্গালোর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন