সুখ-১
সুখ শব্দটি উচ্চারণ করলেই প্রথমেই অতুলপ্রসাদের একটি গান মনে পড়ে যায়,
"সুখের কথা বলো না আর
বুঝেছি সুখ কেবল ফাঁকি।"
সুখের অবিরাম অন্বেষণে হতাশ একজনের মুখে এ কথা মানায় কিন্তু নবোদ্ভিন্ন-যৌবন কোন তরুণ এই কথা শুনে স্বেচ্ছায় দুঃখ দুর্দশার পথ বরণ করে, রাজকুমার সিদ্ধার্থের মত নিদ্রামগ্ন, শ্লথবস্ত্র, যৌবনবতী, সুন্দরী যশোধারা, হাসি-কান্নার দেয়ালা-দোলানো ঘুমন্ত সন্তান, পিতা-মাতা আর রাজ্যপাটের নিশ্চিত সুখ বিসর্জন দিয়ে রাত্রির অন্ধকারে, আরো অন্ধকারময় ভবিষ্যতের লক্ষ্যবিহীন মহানিষ্ক্রমনে গৃহত্যাগ করবে ? তরুণীদের কথা এর সঙ্গে যুক্ত করা হোল না এই কারণেই যে একটি নারীকেও, এ আমি আমার চোখের 'দিব্য' খেয়ে বলতে পারি, আমার দেখা এই সত্তর বছরের সজ্ঞান জীবনে, দেখিনি যে তিনি আত্মসুখের জন্য ব্রত পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম থাকতেই পারে, কিন্তু সকলেই প্রায় কৈশোর কাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পিতা, ভ্রাতা, স্বামী, পুত্র এমনকি বৃদ্ধ পুরুষ-আত্মীয়দের নিঃস্বার্থ সেবা করেই জীবন অতিবাহিত করেন। এই সেবাব্রতই তাঁদের সুখ। আমরা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, মেরি ব্রেকেনরিজ, ক্লারা বার্টন, মেরি এলিজা মাহোনি, মেরি সিকোল, ভার্জানিয়া অ্যাভেলন হেনডারসন প্রভৃতি বিশ্বের প্রাতঃস্মরণীয় শুশ্রুষাকারিণী (nurse)-দের নাম নিতে পারি, স্মরণে আনতে পারি মাদার টেরেসাদের মত অনাথ অনাথিনীদের মাতৃরূপিণীদের এবং ভগিনী নিবেদিতা, সারা বুল, মেরি ফ্রাঙ্কে, হেনরিয়েটা মুলার প্রভৃতির মত সেবাব্রতীদের কথা। এঁরা কি এমন 'সুখ' চেয়েছিলেন যে জীবন, যৌবন, অর্থ, বিলাস ও গৃহাভ্যন্তরের 'আরাম' --- সমস্তকিছু ত্যাগ করে অসুস্থ, যন্ত্রনাদগ্ধ, মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ, অসহায়, অবোধ, অশিক্ষা-কুশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষের মাঝখানে গিয়ে, তাদের দুঃসহ ব্যথার ও পীড়ার কষ্ট নিজের বলে বরণ করে নেওয়ার মধ্যেই কি তাঁরা সুখ খুঁজে পেয়েছিলেন ? এ কেমন সুখের সন্ধান ? এতো গেল কয়েকজন বিরল নারীর কথা। সাধারণ্যে আমরা কি দেখি ? প্রথমেই দেখি আমাদের মা'কে যিনি ভালোবাসার সুখ 'পেয়েছেন কি পাননি' -- সে বিচার না করে যখন থেকে গর্ভ ধারণ করেছেন তখন থেকেই তাঁর সুখ 'আমাকে' নিয়ে। দীর্ঘ ন' মাস, দশ মাস ধরে তাঁর দেহে আমি, দেহের নিত্য নিত্য 'অ-সুখের' বিড়ম্বনায় আমি, তাঁর স্বপ্নে-দুস্বপ্নে, আনন্দে-অবসাদে, আশায়-নৈরাশ্যে, স্বাদে-বিস্বাদে আমি। বিবমিষা, বমন, উপবাস, জাগরণ, ঘুমঘোর -- সবই আমারই জন্য। তারপর মৃত্যু যন্ত্রণার অধিক প্রসবযন্ত্রণা ! এরপর প্রসবোত্তর কালে 'আমি' নামক এই প্রাণীটির লালন পালন ও বছরের পর বছর পরিচর্যার সেবা দিয়ে একটি নবজীবন সৃজনের যে প্রাণপাত সাধনব্রত তারই মধ্যে জন্মদাত্রীর 'সুখ'। (এই জীবনাচরণের ব্যতিক্রম আছে এবং সে সবের কিছু উদাহরণ আলোচনার আরম্ভেই উপস্থাপনা করা হয়েছে)।
তাই, প্রথমেই আমি এই কথাটিই বলতে চেয়েছিলাম যে নারীজাতির জগতে সুখের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ ভিন্ন, স্বতন্ত্র ও 'মহাজাগতিক'। এই 'মহাজাগতিক' শব্দটি 'জননীদের' ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করার বাসনা। কেননা 'প্রসবযন্ত্রণা'কে আমরা বলতে পারি বিশ্বজগতের সৃজন বেদনার সমতুল। বেদান্ত বলেন,
আদিতে 'প্রাণ'ই ছিল এবং সেই মহাপ্রাণ বা এক ও অদ্বিতীয় 'মহাচৈতন্য'---- অবয়বহীন নিরাকার এমন এক শক্তি যাঁর সন্ধান, স্বভাব, স্পন্দন---এক কথায় তাঁর অস্তিত্ব মানুষের জ্ঞানের ও বোধের বাইরের বিষয় ; কেননা এই যে দ্যুলোক-ভূলোক পরিব্যপ্ত মহাবিশ্ব, তার মধ্যেই আমরা যারা আছি তারা সমস্তটা না চোখ দিয়ে দেখতে পারবো, না মন-বুদ্ধি-অনুভূতি দিয়ে আত্মস্থ করতে পারব। শিশুর কাছে মাতৃগর্ভের অন্ধকার সম্পর্কে যেমন অজ্ঞতা থাকে, জীবের কাছেও তেমনি ব্রহ্মাণ্ডের 'কামারশালা' এবং ব্রহ্মাণ্ডের অন্তরে তার সৃজনক্রিয়া বিষয়টি চির-অজ্ঞাত। বেদান্ত ওই আদি, নিরাকার অজ্ঞাত শক্তিটিকে বলছেন 'ব্রহ্ম'।
কঠ উপনিষদে পুত্র ও শিষ্য ভৃগুকে পিতা (যিনি আচার্যও) ব্রহ্মের স্বরূপ সম্বন্ধে বলছেন,
যতো বা ইমানি ভূতানি জায়ন্তে যেন জাতানি জীবন্তি।
যৎ প্রয়ন্তাভিসংবিশন্তি তৎ বিজিজ্ঞাসস্ব তৎ 'ব্রহ্মেতি'।।
(তৈত্তিরীয় উপনিষদ)।
'যা' থেকে (এই 'যা' একটি অবয়বহীন ধারণা) থেকে এই বিশ্বের সমস্ত কিছুর (প্রাণ অপ্রাণ) উৎপত্তি, যা এই সমস্ত কিছুর আশ্রয়, যার মধ্যে সমস্ত কিছু অস্তিত্বযুক্ত থাকে, যার মধ্যেই সমস্ত কিছুর লয় হয় (তাঁকে জানতে চাও), তিনিই ব্রহ্ম। 'তাঁকে জানতে চাও' -এমন আদেশ দিলেই তো আর হবে না ; তাঁকে জানার উপায় কি ? তার উত্তরে ব্রহ্মবিদ্যা-অন্বেষু শিষ্যকে আচার্য বলছেন,
'তপস্যা ব্রহ্ম বিজিজ্ঞাসস্ব, তপোব্রহ্মেতি।।' তপস্যাকেই ব্রহ্ম বলা হোল।
কিন্তু বেদ-বেদান্ত উক্ত এই যে ব্রহ্মজিজ্ঞাসা তাতে তো না হয় 'তপস্যা' বা কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনার মধ্যে দিয়ে নিবিড়, একাগ্রতায় দীর্ঘজীবন সাধনার মাধ্যমে ব্রহ্ম নামক পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলন হোল ; কিন্তু নিরাকার, নির্বিকার ব্রহ্ম বা পরমাত্মা বা চরাচর পরিব্যপ্ত 'মহাচৈতন্য' থেকে 'সৃষ্টি' নামক এই দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য ভূতজগতের জন্মের বিষয়টিকে তো আমাদের জীবৎকালে অস্বীকার করা যায় না। এইখানেই ভারতীয় দর্শনের আরেকটি বিস্ময়। ভারতবর্ষে বেদ, বেদান্ত, পুরাণ, এমনকি সর্বোপনিষদের সার গীতায় ব্রহ্মতত্ত্বের (যা পরম পুরুষেরই কথা বলে), তার বাইরেও নিরীশ্বরবাদ, অনাত্মার ধারণার জন্ম, প্রচার ও প্রসার প্রায় সমান্তরালভাবে প্রবহমান ছিল এবং আছে। সেটি হোল পুরুষ-প্রকৃতি তত্ত্ব। যা 'তন্ত্র' সাধনার কথা বলে। তাঁদের দর্শনশাস্ত্রগত সিদ্ধান্ত এই যে বেদান্ত দর্শন যদি নির্বিকার পুরুষের কথা বলেও তবুও প্রকৃতির বা নারীসত্তাকে অস্বীকার করার অর্থ সৃষ্টিকেই অস্বীকার করা। আদি সাংখ্যদর্শন বা পরবর্তী কালের সমস্ত তান্ত্রিকদর্শনের, উপ-তান্ত্রিক দর্শনের (বৌদ্ধ, জৈমিনী, বশিষ্ঠ, কপিল, পুরস্কৃত, ভার্গব, ভৃগু , শুক্র, বৃহস্পতি) স্রষ্টাগণ প্রকৃতিকেই সৃষ্টির উৎসরূপে প্রতিপন্ন করেছেন। সাংখ্য দর্শনের ভাষ্যেকার গৌড়পাদ 'সাংখ্যকারিকা'-য় লিখেছেন,
"যথা স্ত্রী-পুরুষ সংযোগাৎ সুতোৎপত্তিঃ তথা প্রধান পুরুষ সংযোগাৎ সর্গস্যোৎপত্তিঃ।।"
নারী ও পুরুষের সংযোগে যেমন সন্তানের জন্ম হয়, ঠিক তেমনি প্রধান পুরুষের (সঙ্গে প্রকৃতির) সংযোগের ফলে এই সৃষ্টির উৎপত্তি সম্ভাবিত হয়েছে। এই যদি শেষ মীমাংসা হয় তবে যে 'ব্রহ্মময়ী' এই বিশ্বচরাচরের জন্ম দিলেন, তাঁর 'শূন্যের' (নাগার্জুনের শূন্যতা), গর্ভ হতে প্রসব করার যন্ত্রনা আর এই মাটির পৃথিবীতে এক জননীর প্রসবযন্ত্রণার মধ্যে পার্থক্য কোথায় ?
"রূপহীন জ্ঞানাতীত ভীষণা শকতি
ধরেছে আমার কাছে জননীমৃরতি।।"
'জন্ম'-- রবীন্দ্রনাথ।
মাটির পৃথিবীতে জন্মদাত্রী মাতাই ওই 'রূপহীন জ্ঞানাতীত' বিশ্বজননীর মূর্ত মুর্তি। মরণযন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে আর্ত ক্রন্দন-ক্লিষ্ট সংসারের আঁতুর ঘরে সদ্যপ্রসবিনী জননী যখন তাঁর সৃষ্টির মুখ অবলোকন করেন তখন সেই বেদনাসিন্ধুমন্থনসঞ্জাত সৃষ্টির আনন্দই তাঁর সুখ।
এই যে দর্শনশাস্ত্রগত সুখের কথা হোল সেটি ধারণা করা আমাদের মতো সাধারণ পুরুষ মানুষের পক্ষে দুরূহই শুধু নয়, সম্পূর্ণ দুর্বোধ্য। বোধ্য হয়ে ওঠে একমাত্র জন্মদাত্রীর জন্মদান করবার সেই মুহূর্তটিতে যখন তিনি প্রাণান্তকর যন্ত্রণার ভিতর, মুহ্যমান নেত্রপাতে তাঁর সৃষ্টিকে অবলোকন করেন। এইখানে এই সত্যটি প্রতিষ্ঠা পায় যে 'দুঃসহ বেদনার তপস্যায়' সৃষ্টির আনন্দেই নিহিত রয়েছে চিরকালের সুখ। বেদান্তের এমন একটি ধারণাকে ধারণ করতে পারলেই দুঃখময় জগতে সুখের উপলব্ধি সম্ভব, অন্যথায় জীবের জীবন যেখানে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর ভয়ে নিরন্তর ভীত, সন্ত্রস্ত সেখানে সুখী হবার উপায় কোথায় ? 'ভোগবাদী' চিন্তায় এক ধরণের সুখানুভূতি আছে। তাই 'ভোগবাদ' এক ধরনের দর্শনে পরিণত হয়েছে। ধনসম্পদ আহরণ কর, ভোগ কর, ইন্দ্রিয়ের সকল কামনাগুলিকে পরিতৃপ্ত করার চেষ্টা কর। এবং সেই প্রয়াসের জন্য সৎ-অসৎ, শুভ-অশুভ, ন্যায়-অন্যায় বিচার বিসর্জন দিয়ে, পৃথিবীর ভূমিকে, মানবসমাজকে শাসনে, শোষণে নিষ্পিষ্ট নিপীড়িত করে সুখী হবার নিরন্তর প্রচেষ্টা তাই ভোগবাদী সুখ। এই সুখ আত্মসর্বস্ব, স্বার্থপরতায় সংকীর্ণ। এমন সুখ ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মাদকতায় তীব্র। অপরিত্যজ্য এবং এই 'সুখের' হঠাৎ বিদায় বা সমাপ্তি অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক। তাই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে মানুষের মনে হয়েছে, এই শিক্ষা লাভ করেছে মানুষ যে ব্যক্তিক সুখের সামগ্রী, উপাদান ও উৎস ভাগ নেওয়ার মধ্যেই সুখে বৃদ্ধি। অন্যকে সুখ দান করলেই নিজের সুখ গাঢ় হয়ে ওঠে। ঠিক এই কারণেই মানুষের সমাজে, সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় অনুষ্ঠানে এত আমন্ত্রণ নিয়ন্ত্রণ ও উৎসবের আয়োজন ও আপ্যায়ন।
ইন্দ্রিয় ভোগের জীবন সীমিত ও ক্ষণিক। বিষয়-বৈভব সংক্রান্ত শিক্ষার উদ্দেশ্য এক সীমিত জীবনাচরণ। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা গভীর অর্থবাহী যা মানব নামক প্রাণকে এক অনন্ত সত্ত্বার অনুভূতি দেয়। সকল প্রাণের সঙ্গে মিলনের যে আনন্দ তারই ভিতরে আছে আপন 'অনন্তসত্ত্বার' উপলব্ধি। এটি এমন এক আত্মসচেতনতা যা মানুষকে আপন ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা, ক্ষণিকতা থেকে মুক্ত করে' অস্তিত্বের অসীমতার দিকে নিয়ে যায়। বেদান্ত বলেন সংসারের সীমিত স্বার্থপরতার গণ্ডিকে অতিক্রম করাই মানুষের সংস্কারগত মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
"যো বৈ ভূমা তৎ সুখম্ না অল্পে সুখমস্তি।
ভূমৈব সুখম্ ভূমাত্বেব বিজিজ্ঞাসিতব্যম্।।"
------ ছান্দোগ্য উপনিষদ।
অনেকের মধ্যে, বিরাট জগতের মধ্যে নিজেকে যুক্ত করতে পারলে, নিজেকে ছড়িয়ে দিতে পারলে এমন এক মুক্তির স্বাদ পাওয়া যায় যা হারিয়ে যাওয়া থেকে, মৃত্যুভয় থেকে, নিজের অন্তরের ও বাহিরের ক্ষয় ক্ষতির আফশোস থেকে আলাদা। সেই স্বাদ স্বস্তি ও সান্ত্বনার অনুভূতি এবং তাইই প্রকৃত অর্থে সুখ। কবির কথায়,
"আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া।"
বেঁচে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য (কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও সত্য) প্রতিটি মুহূর্তে সুখের সন্ধান এবং এই সুখের পথে যা কিছু অন্তরায় সেগুলিকে হয় উপেক্ষা করা, নয় দূরে সরিয়ে রাখতে চাওয়া। কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতায়, তাও জ্ঞানত ষাট বছরের অভিজ্ঞতায়, দেখেছি সুখের প্রতিকূল বিষয়, সুখের বিরুদ্ধ ঘটনাপরম্পরাকে, অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক ও ভৌতিক বিপর্যয় সমূহকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না। সেসব অনিবার্য ও অনুপেক্ষণীয়। তার পরেও আছে স্বকৃত অপরাধের জন্য আত্মগ্লানি। এই অনুতাপ ও সন্তাপ-সম্ভূত আত্মগ্লানিই 'অসুখের' মর্মবিদারী কারণগুলির অন্যতম।
এ প্রসঙ্গে একটি গল্প নয়, স্বচক্ষে দেখা একটি জীবনের কথা বলি,
(ক্রমশঃ)
দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৮/০২/২০২৬
কলকাতা।
___________________________________
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন