বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০২২

চাই না এ আলো

চাই না এ আলো 

অজয় নদের স্রোতে ক্ষয়ে যাওয়া কূল 
সেখানে নির্জনে এক দেবতা দেউল। 
কালের চরণঘায়ে ভাঙা সে মন্দিরে
নীরব নিস্তব্ধ সন্ধ্যা নেমে আসে ধীরে। 
অন্ধকারে ভেঙ্গে যায় আলোকের খাঁচা, 
বাদুড়েরা জেগে ওঠে, চোখ খোলে পেঁচা। 
বৃদ্ধ শৃগাল, মহাশাক্ত,  নিশার ব্রাহ্মণ-- 
শিবলিঙ্গে শিবাম্বু ঢেলে শ্মশান চারণ। 
আধনাঙ্গা ভিখারীটা চুপি চুপি গিয়ে
ঢুকে পড়ে মন্দিরের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে। 
সেখানে একটি ঘর একান্তই তার, 
আঁধারের বন্ধু নিয়ে পেতেছে সংসার। 
সূর্যটা তার কাছে জ্যান্ত অভিশাপ, 
নগ্ন হয়ে যায় তার বুভুক্ষার পাপ। 
যত বেলা বাড়ে তত উদরের জ্বালা, 
চোখে পড়ে গৃহস্থের অন্নভরা থালা। 
সর্বগ্রাসী লালসার মূর্তি হয়ে ফেরে 
"দাও মা, দাও মা ভিক্ষা," দুয়ারে দুয়ারে। 
যখন এই দিন ডুবে রাতের কালোয় 
তখনই মুক্তি তার নির্লজ্জ 'আলোয়'। 
সত্যের উলঙ্গ রূপ তমসার কোলে, 
আঁতুর শিশুর মতো অকুন্ঠিত দোলে। 

দুলাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২৪শে জানুয়ারী, ২০২৩ 










২টি মন্তব্য:

  1. সত্যিই বুঝি নি।শিবাম্বু শিবলিঙ্গে কোন আশ্রয় হীন,অন্ন বস্ত্র হীন মানুষ দিতেই পারেন। কিন্তু ব্যঞ্জনাটি আমার কাছে দুর্বোধ্য।

    উত্তরমুছুন
  2. বাহবা বাঃ,, ইনক্রেডিবল্,,,,,,,,,,তাপস নায়েক সোনামুখী বাজার

    উত্তরমুছুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...