ভূমিকাটি অপ্রাসঙ্গিক। আজ, শুধু শান্তিনিকেতন বা রবীন্দ্রনাথ নামাঙ্কিত যত প্রতিষ্ঠান আছে, সর্বত্র বসন্ত উৎসব পালিত হচ্ছে । বাংলার প্রতিটি অঙ্গন আজ রঙের ও সঙ্গীতের বন্যায় পরিপ্লাবিত। শুধুমাত্র গীতবিতানে , প্রকৃতি' পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক গানগুলির মধ্যে বসন্তের গান আছে পাঁচানব্বইটি। তারপর গীতিনাট্য, কাব্যনাট্যে এবং মিশ্ররচনা মিলে এখনো পর্যন্ত (অনেকেই অবগত নন, রবীন্দ্রনাথের পান্ডুলিপিগুলির এক চতুর্থাংশ এখনও অ-সংগৃহীত
ও অপ্রকাশিত) প্রাপ্ত শ'দেড়েক। আর সচরাচর গীত হয় সাকুল্যে পনেরো থেকে কুড়িটি গান।
আরো একটি কথা প্রণিধানযোগ্য, সেটি হোল
গানগুলির সুর। এই সুরের মাধুর্য্য এমনই যে বাণীর ব্যঞ্জনা বোধের বাইরে থেকে যায়। শব্দগুলির নিহিতার্থ
অন্তরে অননুভুত রয়ে যায়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের "সুর ও বাণী" যদি যুগপৎ হৃদয়ঙ্গম হয় তবে বিমূর্ত 'আনন্দের' মূর্ত রূপটি 'দৃষ্টির সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইবে।'
_______________________________________
আনন্দ
খরা-ঝরা-মরা, নগ্ন-রুগ্ন-ভগ্ন দেশে
বিছায়ে দিয়েছ কবি স্বর্গের কুসুম।
পারিজাত মন্দারের গেঁথেছ মালিকা।
তোমার সে গীতিকুঞ্জে গন্ধর্ব অপ্সরা,
নৃত্যগীতে আনন্দের যে হিল্লোল তোলে–
দেবরাজ সভামঞ্চে করে নিবেদন,
সে আনন্দরাশি নিয়ে এলে এ বঙ্গের
অঙ্গনে অঙ্গনে। নৃত্যপরা মেনকা উর্বশী,
অঙ্গে অঙ্গে যৌবনের বিভঙ্গদোলায়
সুন্দরের করে আবাহন। সেই নৃত্যগীতে
অর্চনা করেছ কবি , বঙ্গভারতীর ।
আমরা পেয়েছি যে তা অনায়াসে –
বেদনার বিষকুম্ভ পান করে' নিজে,
সৃষ্টির অমৃত সবই দিয়ে গেলে শেষে।।
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
১৮/০৩/২০২২
কলকাতা ।
(ক্রমশঃ)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন