বিদগ্ধ ও প্রজ্ঞাঋদ্ধ পাঠকবৃন্দ , তাঁরা জানেন
'আত্মাহুতির' নামান্তর যুদ্ধের 'শেষ পরিণাম' ! মহাকবি
বাল্মীকি , ব্যাসদেব , হোমার , ভার্জিল আর মহাকবি ও
নাট্যকার সেক্সপিয়ার – সকলেই তাঁদের অবিনশ্বর
সৃষ্টিগুলির শেষ পর্বে / অধ্যায়ে অননুকরণীয় ( তাঁদের পক্ষেই যা সম্ভব) ভাষায় মানুষের হিংসা-সম্ভূত আত্মহননের "শান্তিময়ী" সমাপ্তির চিত্র অঙ্কন
করে গিয়েছেন ।
বর্তমান কবিতাটিতে তারই নবতর অনুরণন ।
সভ্যতা – তুমি আত্মঘাতী !
তরুশূণ্য , তৃণশূণ্য বিষণ্ণ প্রান্তরে
ধূলিঘুর্ণী – উল্কাগতি প্রেতাত্মার মত
ছোটে দিশাহীন , ডাকিনীর মাঠে ।
হাজার হাজার অতৃপ্ত আত্মার আজ
অন্তিম সৎকার – উদ্দেশ্য আমার ।
পুরোহিত প্রতিনিধি , আমিই যাজ্ঞিক ,
আমি গণৎকার ।
দৃষ্টি মেলে চেয়ে দেখি দগ্ধ , কৃষ্ণরেখা –
আছে লেখা সভ্যতার শেষ পরিণাম ।
নদীতীরে, ভূধরে প্রান্তরে , গ্রামে গ্রামান্তরে
শহরে বন্দরে , প্রকাশ্যে গোপনে ,
অনুক্ষণ প্রতিক্ষণে নিরন্তর নরমেধ ।
স্তরিভূত রক্তের পোড়ামাটি রঙে
লেপা হয়ে পড়ে আছে গৃহহীন প্রাঙ্গনের
নিষ্প্রাণ পৃথিবী ।
অবাধ্য নরের , সু-বধ্য নারীর বিদেহী ক্রন্দন
শন্ শন্ বয়ে যায় অদৃশ্য হুতাশে !
কান পেতে শুনি , স্পর্শ করি , গণি –
উচ্চাবচ ঢিপি , টিলা ! দিনান্তের ছায়া
ঢেকে আছে যুগ যুগান্তের হরপ্পা ,
মহেঞ্জোদারো , মায়া , মেসোপটেমিয়া ।
'ফারাও' কবর হতে ইউফ্রেতিস , তাইগ্রিস ;
বামিয়ান হয়ে হোথা কুরুক্ষেত্র ভূমি ,
নালন্দা রাজগীর – 'জীবন্ত' সে ইতিবৃত্ত
নির্বাক শান্তির !
গণনায় আরো আসে উঠে –
মর্তে বসে স্বর্গের অভিলাষ যাবে টুটে !
অনু পরমাণুদের নিয়ে যত খেলা ,
মানুষের দেবতারে নিত্য অবহেলা ,
প্রেমহীন দানবের 'আত্ম'-হারা বিজয় উল্লাস ,
আকস্মাৎ স্তব্ধ হবে , হবে ইতিহাস !
'সভ্যতার' চিতা আপনার ভস্মে ঢাকা শ্মশান শয্যায়
পাবে ঠাঁই !
বসন্ত বাতাস বইবে কী আর , শেষ বাণী নিয়ে তার ,
'নাই নাই নাই' ! ?
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
০২/০৩/২০২২
ব্যাঙ্গালোর ।
_____________________________________________
Excellent indeed
উত্তরমুছুন