বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২

রক্তনেশা

"হিংসা যেদিন যাইবে দুনিয়া ছাড়ি 
সব তরবারী হইবে সেদিন কাষ্ঠের তরবারী।" 
                                'গাথাঞ্জলি'– কালিদাস রায়। 

রক্তের নেশা শুধুমাত্র পশুদের আছে – 
তাই যদি হোত ভালো হতো না কি ? 
পশ্বাচার জেনে নিয়ে, কিম্বা নিয়ে পাঠ, 
পশুদের ডাক্তার এঁকে দিত বিভাজন রেখা। 
নররূপী শ্বাপদের শোণিত পিপাসা – 
মিটাতে কতনা যুদ্ধ, অস্ত্রশস্ত্র, মন্ত্র-তন্ত্র-ছল, 
বিজ্ঞানের বিপন্ন সাধনা, বিবেক-বিচারশূণ্য 
বুদ্ধি ও মননের একান্ত প্রয়াস, স্থির লক্ষ্যে
অবিচল – রক্ত চাই, চাই রক্ত আরো ! 
সে কোন্ সুদূর অতীত – পাথরের অস্ত্র হাতে 
হনন-সঙ্কল্প হোল শুরু। তারপর, আদি নর 
'বলি'র মন্ত্র নিল শিখে। এলো কাপালিক। 
নরবলি দাও ; পুণ্য নয় শুধু, শূণ্য থেকে
পূর্ণ হবে কর্মে, ধর্মে – অপ্রতিরোধ্য মহাশক্তি। 
কুরুক্ষেত্র – ধর্মক্ষেত্র – প্রতি যুগে, যুগান্তরে। 
নর-নারী-শিশু-বৃদ্ধ – যুদ্ধের‌ যুপকাষ্ঠে বলি– 
"এতো‌ রক্ত !" বৃদ্ধা ধাত্রী‌‌ ধরিত্রী জননী –
শ্যামল স্নেহাঞ্চলে‌ শোণিত ‌লাঞ্ছনা ! 
সভ্যতার আদি এবং অন্তিম পরিণাম ; 
রক্তপান মানুষের সত্য পরিচয় ? নাকি , 
রক্তদানে হবে তার প্রায়শ্চিত্য  শেষ ? 
অহিংসাব্রত পালন করবে নর সহস্রাব্দ কাল ?

দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় 
২৭/০৩/ '২২ 
পুরুলিয়া ।









কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recently published

অমূল্য

He ( Tagore) who sees all things in his own self and his own self in all things, he does not remain unrevealed.                     ...