"হিংসা যেদিন যাইবে দুনিয়া ছাড়ি
সব তরবারী হইবে সেদিন কাষ্ঠের তরবারী।"
'গাথাঞ্জলি'– কালিদাস রায়।
তাই যদি হোত ভালো হতো না কি ?
পশ্বাচার জেনে নিয়ে, কিম্বা নিয়ে পাঠ,
পশুদের ডাক্তার এঁকে দিত বিভাজন রেখা।
নররূপী শ্বাপদের শোণিত পিপাসা –
মিটাতে কতনা যুদ্ধ, অস্ত্রশস্ত্র, মন্ত্র-তন্ত্র-ছল,
বিজ্ঞানের বিপন্ন সাধনা, বিবেক-বিচারশূণ্য
বুদ্ধি ও মননের একান্ত প্রয়াস, স্থির লক্ষ্যে
অবিচল – রক্ত চাই, চাই রক্ত আরো !
সে কোন্ সুদূর অতীত – পাথরের অস্ত্র হাতে
হনন-সঙ্কল্প হোল শুরু। তারপর, আদি নর
'বলি'র মন্ত্র নিল শিখে। এলো কাপালিক।
নরবলি দাও ; পুণ্য নয় শুধু, শূণ্য থেকে
পূর্ণ হবে কর্মে, ধর্মে – অপ্রতিরোধ্য মহাশক্তি।
কুরুক্ষেত্র – ধর্মক্ষেত্র – প্রতি যুগে, যুগান্তরে।
নর-নারী-শিশু-বৃদ্ধ – যুদ্ধের যুপকাষ্ঠে বলি–
"এতো রক্ত !" বৃদ্ধা ধাত্রী ধরিত্রী জননী –
শ্যামল স্নেহাঞ্চলে শোণিত লাঞ্ছনা !
সভ্যতার আদি এবং অন্তিম পরিণাম ;
রক্তপান মানুষের সত্য পরিচয় ? নাকি ,
রক্তদানে হবে তার প্রায়শ্চিত্য শেষ ?
অহিংসাব্রত পালন করবে নর সহস্রাব্দ কাল ?
দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭/০৩/ '২২
পুরুলিয়া ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন